শহরকে নতুন চোখে দেখা, অনুভব করা আর সেই অনুভূতিকে রঙে-রেখায় ফুটিয়ে তোলার এক ব্যতিক্রমী প্রয়াস, এই ধারণা নিয়েই কক্সবাজারে অনুষ্ঠিত হলো দিনব্যাপী আর্ট ক্যাম্প ‘আঁকো তোমার শহর’। শুক্রবার (১ মে) সকাল ৮টায় শহরের ঐতিহ্যবাহী শৈবাল হোটেলে অমরণি ফুল প্লাটফর্মের আয়োজনে শুরু হয় এ আয়োজন।
দিনজুড়ে চারটি ধাপে বিভক্ত ছিল কর্মসূচি ‘সাক্ষাৎ’, ‘গল্প, গান ও আলাপ’, ‘মুক্তাংকন’ এবং ‘সবাই মিলে বানাই’। প্রতিটি সেশনেই অংশগ্রহণকারীরা শিল্পের ভিন্ন ভিন্ন মাত্রা অন্বেষণের সুযোগ পান। কেউ নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন, কেউ সংগীত বা গল্পে মুগ্ধ করেছেন, আবার কেউ রঙ-তুলিতে তুলে ধরেছেন নিজের ভেতরের শহরকে।
ক্যাম্প শেষে অংশগ্রহণকারীদের আঁকা ছবি নিয়ে বিকেলে কক্সবাজার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অনুষ্ঠিত হয় প্রদর্শনী। সেখানে নানা বয়স ও পেশার মানুষের আঁকা চিত্রকর্মে ফুটে ওঠে শহরের বহুমাত্রিক রূপ—প্রকৃতি, মানুষ, স্মৃতি আর কল্পনার মেলবন্ধন।
আয়োজক অমরণি ফুলের উদ্যোক্তা ও ‘আঁকো তোমার শহর’-এর উদ্যোক্তা ইয়াসির আরাফাত বলেন, “সবাই আঁকতে পারে, যদি সে দেখতে জানে। দেখা শেখার একটি প্রাথমিক উপায় হলো আঁকা। আমরা সেই ভেতরের অনুভূতিকে বাইরে আনার একটা পথ তৈরি করতে চাই।”
তিনি জানান, উপলব্ধি, দেখা ও শোনার মধ্য দিয়ে মানুষের ভেতরে যে সৌন্দর্যের জন্ম হয়, সেটিকে বিভিন্ন আর্টফর্মে প্রকাশের চর্চাই এই কর্মশালার মূল উদ্দেশ্য।
তিনি আরও বলেন, “আমরা আমাদের শহরকে দেখার ও আঁকার মাধ্যমে এই যাত্রা শুরু করতে চাই। প্রতিদিন মনে মনে যে শহর আমরা আঁকি, সেটিকে এবার ক্যানভাসে তুলে ধরার চেষ্টা করছি।”
প্রথম পর্যায়ে ২০টি ওয়ার্কশপ আয়োজনের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। দীর্ঘমেয়াদে পাঁচ বছরে অন্তত ৫০ হাজার চিত্রকর্ম সংরক্ষণ করে একটি আর্কাইভ গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে আয়োজকদের। কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীদের আঁকার প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহ করা হয় এবং কর্মশালার পর আরও ১০টি চিত্রকর্ম আঁকার জন্য উৎসাহিত করা হয়, যা ভবিষ্যৎ আর্কাইভে যুক্ত হবে।
‘অমরণি ফুল’ প্লাটফর্মের দর্শন সম্পর্কে ইয়াসির আরাফাত বলেন, আবহমানতা ও বর্তমানের সংযোগই এই উদ্যোগের মূল ভাবনা। সাহিত্য, সংগীত, চিত্রকলা ও সিনেমা এই চারটি মাধ্যমের মাধ্যমে শিল্পকে শেখা এবং শহরের রূপকে নথিবদ্ধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
তিনি মনে করেন, মানুষের সঙ্গে মানুষের সংযোগ, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং শিল্পচর্চার মাধ্যমে একটি সৃজনশীল পরিমণ্ডল গড়ে তোলা সম্ভব। “এটা কোনো প্রচলিত স্কুল নয়, বরং এক ধরনের ‘যাপনের স্কুল’, যেখানে জীবনকেই শিল্পের দৃষ্টিতে দেখার চেষ্টা করা হবে,”—যোগ করেন তিনি।
এই ধরনের আয়োজন কক্সবাজারে শিল্পচর্চার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আব্দুর রশিদ মানিক 















