ঢাকা ০৮:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা ফাইনাল দেখতে চাই -কক্সবাজারে ক্রীড়ামন্ত্রী কুতুবদিয়ায় উদ্ভাবনী চিন্তা, বিজ্ঞানচর্চা এবং উদ্যোক্তা মনোভাব বিকাশে দিনব্যাপী কর্মসূচি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এনজিওর প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে আগুন, ক্ষতি প্রায় ১২ লাখ টাকা কক্সবাজারে ১২ ঘন্টার সফরে ১১ কর্মসূচীতে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী নিজের দোকানে ফাঁসিতে ঝুলেছে মুজিব: পরকিয়া ও টাকার লেনদেন বলছে স্থানীয়রা প্রধানমন্ত্রীর কাছে ফতেখাঁরকুলকে পৌরসভা করার দাবি জানালেন ছাত্রনেতা বাসেত মির্জা বৃহত্তর মনোহরখালী ঐক্য পরিষদের জার্সি উন্মোচন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত প্রধানমন্ত্রীর সফর, ছয় মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী কক্সবাজারে স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও আলোর মূখ দেখেনি উখিয়ারঘোনা-গর্জনিয়া সড়ক : লাখো মানুষের ভোগান্তি কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নতুন চেয়ারম্যান জসিম বিশ্বকাপে নামার আগে আর্জেন্টিনা শিবিরে দুঃসংবাদ দাপট দেখিয়ে বিশ্বকাপে যাত্রা শুরু করল মেক্সিকো কউকের নতুন চেয়ারম্যান পেকুয়ার প্রকৌশলী মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন ফুটবল বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শুরু প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ

ঘুষ মামলার আসামি অনিক দে’র ‘ভালো পোস্টিং’: স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন

কক্সবাজার জেলা প্রশাসনে যেন এক অদ্ভুত সমীকরণ কাজ করছে। ভূমি অধিগ্রহণে ঘুষ দাবির মামলার আসামি থাকা অবস্থাতেই অনিক দে নামের এক কর্মকর্তাকে রাজস্ব শাখার মতো সংবেদনশীল দপ্তরে পদায়ন করা হয়েছে। বিষয়টি প্রশাসনের ভেতরে-বাইরে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২০ এপ্রিল জারি করা এক অফিস আদেশে অনিক দে বাবুসহ কয়েকজন কর্মচারীকে বদলি করা হয়। আদেশে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) মো. শাহিদুল আলমের স্বাক্ষর রয়েছে এবং এতে জেলা প্রশাসকের অনুমোদনের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। ওই আদেশ অনুযায়ী, অনিক দেকে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) এর গোপনীয় শাখার উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

তবে এই পদায়নের সময়কালই প্রশ্ন তুলেছে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে। কারণ, এর মধ্যেই কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আবদুর রহিম একটি ঘুষ দাবির মামলা আমলে নেন। যেখানে অনিক দে তৃতীয় নম্বর আসামি। প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্তে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ইমরান হোসেন সজীব, সাবেক অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) নাজিম উদ্দিন আহমদ এবং নিম্নমান সহকারী মোহাম্মদ এমরান।

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম জানান, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) কক্সবাজার জেলা শাখার আহ্বায়ক প্রফেসর আখতার আলমের আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত মামলাটি গ্রহণ করেন।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ২০১৯ সালে মহেশখালীর বাসিন্দা ছৈয়দ নুরকে ১৫ লাখ টাকা ধার দেন প্রফেসর আখতার আলম। পরে আদালতের নির্দেশে ওই অর্থ আদায়ের জন্য জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ শাখায় আবেদন করা হলে টাকা ছাড়ে গড়িমসি করা হয়। একপর্যায়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রাপ্য অর্থ ছাড়ের বিপরীতে ১০ শতাংশ হারে প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এরপর পুনরায় আদালতের শরণাপন্ন হলে বিচারক নথি তলব করে মামলাটি আমলে নেন।

বাদী প্রফেসর আখতার আলম বলেন, “ন্যায়বিচারের আশায় আদালতে গিয়েছি। আদালতের সিদ্ধান্তে আমি সন্তুষ্ট।”

কিন্তু প্রশাসনিক বাস্তবতায় যেন ভিন্ন চিত্র। অভিযোগ থাকা অবস্থায় কোনো বিভাগীয় ব্যবস্থা নয়, বরং আরও গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পদায়ন নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

তাদের ভাষ্য, অনিক দে দীর্ঘদিন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এর গোপনীয় শাখায় দায়িত্ব পালনকালে ভূমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত অর্থ ছাড়ে নানা অনিয়মে জড়িত ছিলেন। দালালচক্রের সঙ্গে যোগসাজশ করে ঘুষ আদায়, ভুক্তভোগীদের হয়রানি এবং টাকা আটকে রাখার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

একাধিক ভুক্তভোগী বলেন, “যে কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষের মামলা আছে, তাকে আবার রাজস্ব শাখায় বসানো মানে জনগণের সঙ্গে এক ধরনের তামাশা করা।”

প্রশাসনের ভেতরেও এ নিয়ে অস্বস্তি রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, “এ ধরনের পদায়ন জনমনে ভুল বার্তা দেয়। অভিযোগ থাকলে আগে সেটার নিষ্পত্তি হওয়া উচিত ছিল।”

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযুক্ত অনিক দে’র ব্যবহৃত মোবাইলে একাধিকবার কল করেও সাড়া পাওয়া যায়নি।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা ফাইনাল দেখতে চাই -কক্সবাজারে ক্রীড়ামন্ত্রী

ঘুষ মামলার আসামি অনিক দে’র ‘ভালো পোস্টিং’: স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন

আপডেট সময় : ১০:৫২:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

কক্সবাজার জেলা প্রশাসনে যেন এক অদ্ভুত সমীকরণ কাজ করছে। ভূমি অধিগ্রহণে ঘুষ দাবির মামলার আসামি থাকা অবস্থাতেই অনিক দে নামের এক কর্মকর্তাকে রাজস্ব শাখার মতো সংবেদনশীল দপ্তরে পদায়ন করা হয়েছে। বিষয়টি প্রশাসনের ভেতরে-বাইরে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২০ এপ্রিল জারি করা এক অফিস আদেশে অনিক দে বাবুসহ কয়েকজন কর্মচারীকে বদলি করা হয়। আদেশে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) মো. শাহিদুল আলমের স্বাক্ষর রয়েছে এবং এতে জেলা প্রশাসকের অনুমোদনের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। ওই আদেশ অনুযায়ী, অনিক দেকে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) এর গোপনীয় শাখার উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

তবে এই পদায়নের সময়কালই প্রশ্ন তুলেছে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে। কারণ, এর মধ্যেই কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আবদুর রহিম একটি ঘুষ দাবির মামলা আমলে নেন। যেখানে অনিক দে তৃতীয় নম্বর আসামি। প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্তে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ইমরান হোসেন সজীব, সাবেক অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) নাজিম উদ্দিন আহমদ এবং নিম্নমান সহকারী মোহাম্মদ এমরান।

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম জানান, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) কক্সবাজার জেলা শাখার আহ্বায়ক প্রফেসর আখতার আলমের আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত মামলাটি গ্রহণ করেন।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ২০১৯ সালে মহেশখালীর বাসিন্দা ছৈয়দ নুরকে ১৫ লাখ টাকা ধার দেন প্রফেসর আখতার আলম। পরে আদালতের নির্দেশে ওই অর্থ আদায়ের জন্য জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ শাখায় আবেদন করা হলে টাকা ছাড়ে গড়িমসি করা হয়। একপর্যায়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রাপ্য অর্থ ছাড়ের বিপরীতে ১০ শতাংশ হারে প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এরপর পুনরায় আদালতের শরণাপন্ন হলে বিচারক নথি তলব করে মামলাটি আমলে নেন।

বাদী প্রফেসর আখতার আলম বলেন, “ন্যায়বিচারের আশায় আদালতে গিয়েছি। আদালতের সিদ্ধান্তে আমি সন্তুষ্ট।”

কিন্তু প্রশাসনিক বাস্তবতায় যেন ভিন্ন চিত্র। অভিযোগ থাকা অবস্থায় কোনো বিভাগীয় ব্যবস্থা নয়, বরং আরও গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পদায়ন নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

তাদের ভাষ্য, অনিক দে দীর্ঘদিন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এর গোপনীয় শাখায় দায়িত্ব পালনকালে ভূমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত অর্থ ছাড়ে নানা অনিয়মে জড়িত ছিলেন। দালালচক্রের সঙ্গে যোগসাজশ করে ঘুষ আদায়, ভুক্তভোগীদের হয়রানি এবং টাকা আটকে রাখার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

একাধিক ভুক্তভোগী বলেন, “যে কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষের মামলা আছে, তাকে আবার রাজস্ব শাখায় বসানো মানে জনগণের সঙ্গে এক ধরনের তামাশা করা।”

প্রশাসনের ভেতরেও এ নিয়ে অস্বস্তি রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, “এ ধরনের পদায়ন জনমনে ভুল বার্তা দেয়। অভিযোগ থাকলে আগে সেটার নিষ্পত্তি হওয়া উচিত ছিল।”

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযুক্ত অনিক দে’র ব্যবহৃত মোবাইলে একাধিকবার কল করেও সাড়া পাওয়া যায়নি।