রমজান মাস কেবল ধর্মীয় ইবাদতের মাস নয়, এটি সামাজিকভাবে মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করার এবং চারিত্রিক পরিবর্তনের একটি শক্তিশালী মাধ্যম। সমাজে সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ব বজায় রাখতে রমজানের ভূমিকা অপরিসীম।
রমজানের সামাজিক গুরুত্বের মূল দিকগুলো হলো:
১. সাম্য ও সহমর্মিতা প্রতিষ্ঠা
সারা দিন অভুক্ত থাকার মাধ্যমে একজন সচ্ছল ব্যক্তি ক্ষুধার কষ্ট অনুভব করতে পারেন। এটি তাকে সমাজের দরিদ্র ও অনাহারী মানুষের প্রতি সহানুভূতিশীল হতে শেখায়। ফলে ধনী-দরিদ্রের মধ্যকার ব্যবধান কমে আসে এবং মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত হয়।
২. ভ্রাতৃত্ব ও সামাজিক বন্ধন বৃদ্ধি
ইফতার মাহফিলগুলো সামাজিক মিলনের বড় একটি মাধ্যম। পরিবার, আত্মীয়-স্বজন এবং প্রতিবেশীদের নিয়ে একসাথে ইফতার করার ফলে পারস্পরিক সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়। মসজিদে তারাবিহর নামাজে এলাকার মানুষ একত্রিত হওয়ার ফলে সামাজিক যোগাযোগ ও সম্প্রীতি বৃদ্ধি পায়।
৩. পরোপকার ও দানশীলতা (জাকাত ও ফিতরা)
রমজান মাসে মুসলিমরা তাদের আয়ের একটি অংশ জাকাত ও ফিতরা হিসেবে দরিদ্রদের মাঝে বিলিয়ে দেন। এটি সমাজের অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা করে এবং অভাবী মানুষের মুখে হাসি ফোটায়।
৪. অপরাধ প্রবণতা হ্রাস
রমজান মানুষের আত্মশুদ্ধির মাস। রোজা রাখার ফলে মানুষের মধ্যে ধৈর্য, সহনশীলতা এবং নৈতিকতা বৃদ্ধি পায়। এ মাসে মানুষ সাধারণত মিথ্যা বলা, গালিগালাজ বা ঝগড়া-বিবাদ থেকে দূরে থাকে, যা সমাজে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সাহায্য করে।
৫. শৃঙ্খলাবোধ ও সময়ানুবর্তিতা
সেহরি থেকে শুরু করে ইফতার পর্যন্ত প্রতিটি কাজ একটি নির্দিষ্ট সময়ে সম্পন্ন করতে হয়। এই কঠোর সময়ানুবর্তিতা রোজা পালনকারীদের ব্যক্তিগত জীবনে যেমন শৃঙ্খলা আনে, তেমনি সামাজিকভাবেও নিয়ম মেনে চলার অভ্যাস তৈরি করে।
নোমান অরুপ 






















