উখিয়ার কুতুপালং ক্যাম্পের তালিকাভুক্ত ইয়াবা ব্যবসায়ী রোহিঙ্গা অলি উল্লাহর সন্ধানে নেমেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এই অলিউল্লাহর নেতৃত্বে গড়ে উঠেছে একটি শক্তিশালী ইয়াবা সিন্ডিকেট,এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে একাধিক সূত্রে।
ক্যাম্প–১ ইস্ট ও আশপাশের এলাকায় অলি উল্লাহ আরকান আর্মির সহায়তা গড়ে তুলেছে শক্তিশালী ইয়াবা নেটওয়ার্ক। মিয়ানমারের আরাকান রাজ্যের দাইজ্জার রিয়াজিদ্দিন্না কুমার পাড়া এলাকার মৃত রুস্তম আলীর ছেলে অলি উল্লাহ বর্তমানে কুতুপালং ক্যাম্প–১ ওয়ান ই ব্লক বি–সি এর ২ নম্বর সেডে থাকেন।
তার ইশারায় আরকান আর্মির সহায়তায় মিয়ানমার থেকে নিয়মিতভাবে বড় আকারের ইয়াবার চালান আসে এবং তা ক্যাম্প হয়ে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে,এমন অভিযোগ জানিয়েছেন স্থানীয় ও রোহিঙ্গারা।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, অলি উল্লাহ স্থানীয় এখলাস মিয়ার মেয়ে মোমিনা আক্তারকে বিয়ে করতে প্রথমে তার আগের সংসার ভাঙার পাঁয়তারা করে। পরে তিনি মোমিনার নামে পশ্চিমপাড়ায় জমিসহ একটি আলিশান বাড়ি ক্রয় করেন।
বাড়িটিতে রয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরা, কাঁটাতারের প্রাচীর এবং কথিত একটি গোপন সুড়ঙ্গপথ,আইন শৃংখলা বাহিনী আসলে বা প্রয়োজন হলে যা দিয়ে অলি উল্লাহ পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে।
ক্যাম্প-১ ইস্টের রোহিঙ্গা আবু তৈয়বকে ১০ হাজার পিস ইয়াবা দিয়ে ফাঁসিয়ে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে অলি উল্লাহর বিরুদ্ধে। এরপর ভয়ভীতি দেখিয়ে পরিবারের সদস্যদের ব্লক ছাড়তে বাধ্য করা হয়।
অলি উল্লাহর নির্দেশে কুতুপালং পশ্চিম পাড়ার একরাম এবং লম্বাশিয়ার মুফিজ মিলে আবু তৈয়বের বাবা হারুনকে ধরে নিয়ে রাতভর নির্যাতন করে। ভুক্তভোগী পরিবার বলছে, নির্যাতনের ভয়েই তারা নিজেদের বাড়িতে ফিরতে পারছে না।
স্থানীয় আলাউদ্দিন জানান, কুতুপালং হিন্দুপাড়া এলাকায় এক রোহিঙ্গার কাছ থেকে উখিয়া থানা পুলিশ ১০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছিল এবং ঘটনাস্থলের কাছাকাছি অলি উল্লাহকেও দেখা যায়।
অন্যদিকে, র্যাব–১৫ কুতুপালং পশ্চিম পাড়ার হেলাল উদ্দিনের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ৮৯ হাজার ৬০০ পিস ইয়াবা, ১৬ লাখ টাকা, মোবাইল ও পাসপোর্ট উদ্ধার করে। অভিযানের কিছুদিন পর র্যাব–১৫’র প্রায় ৪০০ সদস্যের একযোগে বদলি নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা চলছে।
একরাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,
“আমি এখন কৃষিকাজ করি। অলির সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই”।অন্যদিকে মফিজ দাবি করেন, “আমি বিগত দিনে আওয়ামী লীগ করেছি বলে এখন আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে”।
এদিকে অলি উল্লাহকে খোঁজার পরও সন্ধান এবং ফোন নাম্বার না পাওয়াতে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয় নি।
১৪ এপিবিএন-এর দায়িত্বশীল কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর জানে আলম জানান,”অলি উল্লাহ বড় ধরনের মাদককারবারি। আমরা তার বাড়িতে একাধিকবার অভিযান চালিয়েছি, কিন্তু পাইনি। তিনি বর্তমানে পলাতক। তাকে পাওয়া মাত্র গ্রেফতার করা হবে”।
সম্প্রতি টেকনাফ সীমান্তে অস্থিরতা শুরু হলে এপারে আরকান আর্মির সাথে জড়িত অরাজকতাকারীদের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছ যৌথবাহিনী।
বিজিবির রামু সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদ জানান, সীমান্তে অরাজকতাকারীদের কোন ছাড় নেই, বিজিবি ইতিমধ্যে কঠোর তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে। সাড়াশি অভিযানের মাধ্যমে অরাজকতাকারীদের আইনের আওতায় আনা হবে।
প্রসঙ্গত গত রোবরাব ১১ জানুয়ারি টেকনাফ সীমান্তে গুলিবিদ্ধ হয় হুজাইফা আফনান, ১২ বছরের এই শিশু বর্তমানে ঢাকায় চিকিৎসাধীন। পরদিন ১২ জানুয়ারি হানিফ নামে স্থানীয় এক যুবকের পা মাইন বিস্ফোরণে বিচ্ছিন্ন হয়।
রিপোর্টারের নাম 

























