ঢাকা ০২:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
​রোহিঙ্গা ও স্থানীয়দের জন্য অস্ট্রেলিয়ার সাড়ে ২৫ মিলিয়ন ডলার অনুদান কূটনীতিক প্রক্রিয়ায় বেনজীরকে ফেরত আনার চেষ্টা চলছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পরিবেশ সংরক্ষণে নাগরিক হিসেবে সকলের দায়িত্ব রয়েছে: প্রধানমন্ত্রী জুলাই সনদের প্রত্যেকটি অক্ষরকে বাস্তবায়ন করতে চায় সরকার: তথ্যমন্ত্রী আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইনস্টিটিউটের উদ্বোধন করলেন সেনাপ্রধান প্যারাসেইলিং দুর্ঘটনায় পর্যটক মৃত্যুর ঘটনায় ফরিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা ক্ষমতাচ্যুতির দুই বছর: ৫ আগস্ট ‘ভার্চুয়ালি সামনে আসছেন’ হাসিনা নিখোঁজ রাজমিস্ত্রীর সন্ধান চেয়ে পরিবারের আকুতি পালংখালী তে যুবদল নেতার ‘মাদক’ সিন্ডিকেট! ৫০ হাজার ইয়াবা ছিনতাই প্যারাসেইলিং দুর্ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার নির্দেশ মন্ত্রীর ১০ বছরে ১৯টি দুর্ঘটনা শেষে মৃত্যু, লাইসেন্স ছাড়া চলছিল কক্সবাজারের প্যারাসেইলিং বিকেএসপিতে মহেশখালীর ইয়াসেরের মৃত্যুতে মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি: ৭ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দেয়ার নির্দেশ কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কে ডাকাতি, বিকাশ কর্মীদের ৬০ লাখ টাকা লুট : গুলিবিদ্ধ ১ গর্জনিয়ার পোয়াংগেরখিলে শিক্ষার্থীদের হাতে চারা বিতরণ করলেন রামুর ইউএনও মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি অনুকূলে এলে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন: মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত

জেলায় নেই সরকারি ডায়ালাইসিস / টেকনাফের রাজিয়ার পাশে দাঁড়ালেন চট্টগ্রামের ডিসি

  • টিটিএন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১২:০৫:৫৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ ডিসেম্বর ২০২৫
  • 344

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার ১নং হোয়াইক্যং ইউনিয়নের বাসিন্দা বিধবা রাজিয়া বেগম। তার দুটি কিডনিই বিকল হয়ে পড়েছে। বর্তমানে সপ্তাহে তিনটি ডায়ালাইসিস করাই তার বেঁচে থাকার একমাত্র উপায়।

কিন্তু কক্সবাজার জেলায় সরকারিভাবে ডায়ালাইসিস করার কোনো ব্যবস্থা না থাকায় বিপাকে পড়েছে পরিবারটি।

​শহরের বেসরকারি হাসপাতালে প্রতিবার ডায়ালাইসিসে খরচ হচ্ছে ৬ হাজার টাকা, যা এই দরিদ্র পরিবারের পক্ষে বহন করা অসম্ভব। অর্থাভাবে নিয়মিত ডায়ালাইসিস করতে না পারায় রাজিয়ার অবস্থা যখন সংকটাপন্ন, তখন তার ভাই কলেজছাত্র ওমর ফারুক নিরুপায় হয়ে গত ৯ ডিসেম্বর চট্টগ্রামে ছুটে আসেন।

তিনি সাক্ষাৎ করেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার সাথে। এ সময় জেলা প্রশাসক ফারুকের কাছ থেকে বোন রাজিয়ার অসুস্থতার কথা শোনেন। তাৎক্ষণিকভাবে তিনি জেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন এবং জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালককে রাজিয়াকে সহায়তার জন্য লিখিত সুপারিশ করেন।

​জেলা প্রশাসকের সেই সুপারিশ নিয়ে ফারুক চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের কিডনি ডায়ালাইসিস ইউনিটে যোগাযোগ করেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দ্রুত রাজিয়ার ডায়ালাইসিস প্রক্রিয়া শুরু করে।

ফারুক জানান, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা এবং সরকারি বিধি মোতাবেক ২০ হাজার টাকা এক কালীন জমা দেওয়ার পর ডায়ালাইসিসের তারিখ দেওয়া হবে। সেখানে প্রতি ডায়ালাইসিসে খরচ হবে মাত্র ৫০০ টাকা।

রোববার (২১ ডিসেম্বর) ফারুক আবারও জেলা প্রশাসকের সাথে দেখা করে আর্থিক সহায়তার অনুরোধ করলে ডিসি তাকে তাৎক্ষণিক সহায়তা প্রদান করেন। অন্য জেলার বাসিন্দা হওয়া সত্ত্বেও বোনের চিকিৎসার জন্য তিনবার ডিসির সাক্ষাৎ ও সহযোগিতা পেয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন ফারুক।

তিনি বলেন, স্যার অত্যন্ত ব্যস্ত থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘ সময় আমার কষ্টের কথা শুনেছেন এবং চিকিৎসার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক রুমা ভট্টাচার্য বলেন, ডিসি মহোদয়ের রেফারেন্স দেওয়া রোগীর আবেদনটি অনুমোদিত হয়েছে। আবেদনের ফর্মে দেওয়া ফোন নম্বরে ওয়ার্ড থেকে যোগাযোগ করা হয়েছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ব্যাংকে জমা দিয়ে আগামী ৬ মাসের জন্য ডায়ালাইসিস ইউনিটে ভর্তি হতে পারবেন। নিয়ম অনুযায়ী ৬ মাস পর এটি পুনরায় নবায়ন করতে হবে।

​চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন জেলা প্রশাসকের এই উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, একজন ডিসি হিসেবে নয়, একজন মানুষ হিসেবে এটি তার অনন্য মানবিক গুণাবলি।

​এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, প্রশাসনিক কাজের ফাঁকে এমন মানবিক কাজের সুযোগ পেলে আমি অসহায় নাগরিকদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করি।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

​রোহিঙ্গা ও স্থানীয়দের জন্য অস্ট্রেলিয়ার সাড়ে ২৫ মিলিয়ন ডলার অনুদান

জেলায় নেই সরকারি ডায়ালাইসিস / টেকনাফের রাজিয়ার পাশে দাঁড়ালেন চট্টগ্রামের ডিসি

আপডেট সময় : ১২:০৫:৫৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ ডিসেম্বর ২০২৫

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার ১নং হোয়াইক্যং ইউনিয়নের বাসিন্দা বিধবা রাজিয়া বেগম। তার দুটি কিডনিই বিকল হয়ে পড়েছে। বর্তমানে সপ্তাহে তিনটি ডায়ালাইসিস করাই তার বেঁচে থাকার একমাত্র উপায়।

কিন্তু কক্সবাজার জেলায় সরকারিভাবে ডায়ালাইসিস করার কোনো ব্যবস্থা না থাকায় বিপাকে পড়েছে পরিবারটি।

​শহরের বেসরকারি হাসপাতালে প্রতিবার ডায়ালাইসিসে খরচ হচ্ছে ৬ হাজার টাকা, যা এই দরিদ্র পরিবারের পক্ষে বহন করা অসম্ভব। অর্থাভাবে নিয়মিত ডায়ালাইসিস করতে না পারায় রাজিয়ার অবস্থা যখন সংকটাপন্ন, তখন তার ভাই কলেজছাত্র ওমর ফারুক নিরুপায় হয়ে গত ৯ ডিসেম্বর চট্টগ্রামে ছুটে আসেন।

তিনি সাক্ষাৎ করেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার সাথে। এ সময় জেলা প্রশাসক ফারুকের কাছ থেকে বোন রাজিয়ার অসুস্থতার কথা শোনেন। তাৎক্ষণিকভাবে তিনি জেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন এবং জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালককে রাজিয়াকে সহায়তার জন্য লিখিত সুপারিশ করেন।

​জেলা প্রশাসকের সেই সুপারিশ নিয়ে ফারুক চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের কিডনি ডায়ালাইসিস ইউনিটে যোগাযোগ করেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দ্রুত রাজিয়ার ডায়ালাইসিস প্রক্রিয়া শুরু করে।

ফারুক জানান, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা এবং সরকারি বিধি মোতাবেক ২০ হাজার টাকা এক কালীন জমা দেওয়ার পর ডায়ালাইসিসের তারিখ দেওয়া হবে। সেখানে প্রতি ডায়ালাইসিসে খরচ হবে মাত্র ৫০০ টাকা।

রোববার (২১ ডিসেম্বর) ফারুক আবারও জেলা প্রশাসকের সাথে দেখা করে আর্থিক সহায়তার অনুরোধ করলে ডিসি তাকে তাৎক্ষণিক সহায়তা প্রদান করেন। অন্য জেলার বাসিন্দা হওয়া সত্ত্বেও বোনের চিকিৎসার জন্য তিনবার ডিসির সাক্ষাৎ ও সহযোগিতা পেয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন ফারুক।

তিনি বলেন, স্যার অত্যন্ত ব্যস্ত থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘ সময় আমার কষ্টের কথা শুনেছেন এবং চিকিৎসার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক রুমা ভট্টাচার্য বলেন, ডিসি মহোদয়ের রেফারেন্স দেওয়া রোগীর আবেদনটি অনুমোদিত হয়েছে। আবেদনের ফর্মে দেওয়া ফোন নম্বরে ওয়ার্ড থেকে যোগাযোগ করা হয়েছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ব্যাংকে জমা দিয়ে আগামী ৬ মাসের জন্য ডায়ালাইসিস ইউনিটে ভর্তি হতে পারবেন। নিয়ম অনুযায়ী ৬ মাস পর এটি পুনরায় নবায়ন করতে হবে।

​চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন জেলা প্রশাসকের এই উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, একজন ডিসি হিসেবে নয়, একজন মানুষ হিসেবে এটি তার অনন্য মানবিক গুণাবলি।

​এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, প্রশাসনিক কাজের ফাঁকে এমন মানবিক কাজের সুযোগ পেলে আমি অসহায় নাগরিকদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করি।