ঢাকা ০২:৫১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মানবতার আয়োজনে মানববর্জ্যে পরিবেশের বাজছে বারোটা! ‌আপা-ভাইয়া বনাম “স্যার-ম্যডাম”: আমলাতন্ত্রের ভাষায় ঔপনিবেশিকতার দীর্ঘ ছায়া নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত থেকে তিন কোটি টাকার ইয়াবা উদ্ধার নেতৃত্বের দৌড়ে এগিয়ে যারা টেকনাফে শীঘ্রই কমিটি পাচ্ছে ছাত্রদল গলায় চানাচুর আঁটকে শিশু আবিদের মৃত্যু উখিয়া ও টেকনাফ সীমান্তে পৃথক অভিযান: ৫ লাখ ৭২ হাজার ইয়াবাসহ আটক ১ ফুটবল বিশ্বকাপ: হিসাব–নিকাশে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে কারা বিশ্ব পরিবেশ দিবসেই মহেশখালীতে পুড়ছে প্যারাবন: নির্বিকার বনবিভাগ ও প্রশাসন প্রায় সাত বছর পর রূপালী পর্দায় সিনেমা দেখার সুযোগ পেল কক্সবাজারের মানুষ, আধুনিক সিনেমা হলের দাবি রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখবে তুরস্ক, উখিয়া ক্যাম্প পরিদর্শনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান আর্জেন্টিনার নীল-সাদা রঙে রাঙল টেকনাফ যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষায় কক্সবাজারের সন্তান শামীমুর রহমান ২০২৬ বিশ্বকাপের চূড়ান্ত সময়সূচি ২৪ ঘন্টার ব্যবধানে মা ও ছেলের মৃত্যু: এলাকায় শোকের ছায়া কক্সবাজারে মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৬.৩ ডিগ্রি, দাবদাহে বিপর্যস্ত জনজীবন

ইউএনও’র উদ্যোগ : অবশেষে বুশরার হার্টের ছিদ্র সরাতে অপারেশন হচ্ছে

বুশরা, বয়স সাড়ে ৫ বছর। তার হার্টে ছিদ্র। যার অপারেশন না করালে যেকোনো সময় চলে যাবে না ফেরার দেশে।

বুশরার বাড়ী সদর উপজেলার ঝিলংজার দক্ষিন হাজী পাড়ায়। বাবা বেলান হোসেন কৃষি কাজ করে। নুন আনতে পান্তা ফুরোয় সংসারে। মেয়ের হার্টের ছিদ্র অপারেশন করাতে আর্থিক সাহায্যের আবেদন নিয়ে বুশরার মা মরিয়ম খাতুন হাজির হয় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নীলুফার ইয়াসমিন চৌধুরীর কার্যালয়ে।

দিনটি ১৭ নভেম্বর। আর্থিক সাহায্যের আবেদন নিয়ে মায়ের সাথে আসা ছোট্ট মেয়েটিকে দেখে কেমন জানি নিজের ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠে এই ভেবে যে, মাত্র ৩ থেকে ৪ লাখ টাকার জন্যে এই শিশুটি ধুঁকে ধুঁকে মরবে? কথা গুলো বলছিলেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নীলুফার ইয়াসমিন চৌধুরী।

তিনি জানান,” উপজেলা পরিষদ থেকে এতো টাকা দেয়ার সুযোগ নেই। তারপর শুরু হলো খোঁজ, দীর্ঘ ১০ দিন ধরে বিভিন্ন জায়গা,বিভিন্ন মানুষ, বিভিন্ন এনজিও কে বলা হলো। অবশেষে একটি এনজিও রাজী হলো বুশরার চিকিৎসার দায়িত্ব নিতে। এনজিওটি বুশরাকে ঢাকার হার্ট ফাউন্ডেশনে নিয়ে গিয়ে অপারেশন করাবে বলে আশ্বস্ত করেছে”।

বুশরার মা মরিয়ম খাতুন টিটিএনকে জানান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার উদ্যোগের কারণে মেয়ের চিকিৎসার কাজ শুরু হয়েছে, ইতোমধ্যে এনজিওর কর্মকর্তাদের সাথে দেখা হয়েছে,চিকিৎসার কাগজপত্র দেয়া হয়েছে। তারা দ্রুত বাকী কাজ গুলো সম্পন্ন করবে বলে জানিয়েছে।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নীলুফার ইয়াসমিন চৌধুরীর প্রতি বুশরার মায়ের কৃতজ্ঞতার যেনো শেষ নেই।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সরাকরি ফেসবুক একাউন্টের পোস্টে লিখেছেন তার এই অভিজ্ঞতার কথা। তার অফিসে আসা বুশরাকে কাছে ডাকলেন,পাশে দাঁড়ালেন। মানবিক এমন আরো গল্পের শিরোনাম হোক, শাসক নয় সেবক হোক প্রশাসনের কর্তারা এমনটাই বলছেন সচেতন মানুষেরা।

বুশরা সুস্থ হয়ে উঠবে। হাসিতে ভরে উঠবে তার মুখ। এমন আশায় বুক বাঁধছেন তার মা-বাবা।

এদিকে এই প্রতিবেদন যখন লেখা হচ্ছে তার কিছুক্ষন আগে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নীলুফার ইয়াসমিন চৌধুরীর বদলির আদেশ হয়েছে।তিনি হয়ত চলে যাবেন। তবে এই মানিবক কর্মপ্রয়াসের ধারাবাহিকতা অক্ষুন্ন থাকুবে এমনটাই প্রত্যাশা সদর উপজেলার মানুষের।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

মানবতার আয়োজনে মানববর্জ্যে পরিবেশের বাজছে বারোটা!

ইউএনও’র উদ্যোগ : অবশেষে বুশরার হার্টের ছিদ্র সরাতে অপারেশন হচ্ছে

আপডেট সময় : ০৮:৩৬:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ নভেম্বর ২০২৫

বুশরা, বয়স সাড়ে ৫ বছর। তার হার্টে ছিদ্র। যার অপারেশন না করালে যেকোনো সময় চলে যাবে না ফেরার দেশে।

বুশরার বাড়ী সদর উপজেলার ঝিলংজার দক্ষিন হাজী পাড়ায়। বাবা বেলান হোসেন কৃষি কাজ করে। নুন আনতে পান্তা ফুরোয় সংসারে। মেয়ের হার্টের ছিদ্র অপারেশন করাতে আর্থিক সাহায্যের আবেদন নিয়ে বুশরার মা মরিয়ম খাতুন হাজির হয় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নীলুফার ইয়াসমিন চৌধুরীর কার্যালয়ে।

দিনটি ১৭ নভেম্বর। আর্থিক সাহায্যের আবেদন নিয়ে মায়ের সাথে আসা ছোট্ট মেয়েটিকে দেখে কেমন জানি নিজের ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠে এই ভেবে যে, মাত্র ৩ থেকে ৪ লাখ টাকার জন্যে এই শিশুটি ধুঁকে ধুঁকে মরবে? কথা গুলো বলছিলেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নীলুফার ইয়াসমিন চৌধুরী।

তিনি জানান,” উপজেলা পরিষদ থেকে এতো টাকা দেয়ার সুযোগ নেই। তারপর শুরু হলো খোঁজ, দীর্ঘ ১০ দিন ধরে বিভিন্ন জায়গা,বিভিন্ন মানুষ, বিভিন্ন এনজিও কে বলা হলো। অবশেষে একটি এনজিও রাজী হলো বুশরার চিকিৎসার দায়িত্ব নিতে। এনজিওটি বুশরাকে ঢাকার হার্ট ফাউন্ডেশনে নিয়ে গিয়ে অপারেশন করাবে বলে আশ্বস্ত করেছে”।

বুশরার মা মরিয়ম খাতুন টিটিএনকে জানান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার উদ্যোগের কারণে মেয়ের চিকিৎসার কাজ শুরু হয়েছে, ইতোমধ্যে এনজিওর কর্মকর্তাদের সাথে দেখা হয়েছে,চিকিৎসার কাগজপত্র দেয়া হয়েছে। তারা দ্রুত বাকী কাজ গুলো সম্পন্ন করবে বলে জানিয়েছে।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নীলুফার ইয়াসমিন চৌধুরীর প্রতি বুশরার মায়ের কৃতজ্ঞতার যেনো শেষ নেই।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সরাকরি ফেসবুক একাউন্টের পোস্টে লিখেছেন তার এই অভিজ্ঞতার কথা। তার অফিসে আসা বুশরাকে কাছে ডাকলেন,পাশে দাঁড়ালেন। মানবিক এমন আরো গল্পের শিরোনাম হোক, শাসক নয় সেবক হোক প্রশাসনের কর্তারা এমনটাই বলছেন সচেতন মানুষেরা।

বুশরা সুস্থ হয়ে উঠবে। হাসিতে ভরে উঠবে তার মুখ। এমন আশায় বুক বাঁধছেন তার মা-বাবা।

এদিকে এই প্রতিবেদন যখন লেখা হচ্ছে তার কিছুক্ষন আগে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নীলুফার ইয়াসমিন চৌধুরীর বদলির আদেশ হয়েছে।তিনি হয়ত চলে যাবেন। তবে এই মানিবক কর্মপ্রয়াসের ধারাবাহিকতা অক্ষুন্ন থাকুবে এমনটাই প্রত্যাশা সদর উপজেলার মানুষের।