ঢাকা ১০:২৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৩০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ভোট দিলেন তারেক রহমান ‘ ইতিহাসের বাঁক বদলানো শুরু’ – সালাহউদ্দিন আহমদ কক্সবাজার -০৪: উখিয়া-টেকনাফের ভোটার কতো,ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র কয়টি? কক্সবাজার -০৩: সদর-রামু-ঈদগাঁওর ভোটার কতো,ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র কয়টি? কক্সবাজার-০২: মহেশখালী-কুতুবদিয়ায় ভোটার কতো,ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র কয়টি কক্সবাজার ০১- : চকরিয়া-পেকুয়া উপজেলায় ভোটার কতো, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র কয়টি? নির্বাচনকালীন সাংবাদিকদের সুরক্ষায় কক্সবাজারে ক্র্যাকের ‘জরুরি সহায়তা সেল’ গঠন প্রার্থীরা কে কোথায় ভোট দেবেন? কোনো অবস্থাতেই নির্বাচনের মাঠ ছাড়বে না জামায়াত গুলশানে ভোট দেবেন প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচনে নারীদের নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অংশগ্রহণ চায় জাতিসংঘ টেকনাফে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের নির্বাচনী কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ নির্বাচন সামনে রেখে কক্সবাজারে সম্মুখ সারির ৬জুলাই যোদ্ধার ছাত্রদলে যোগদান ​কক্সবাজার-৩ আসনে জগদীশ বড়ুয়ার সমর্থন প্রত্যাহার করলো লেবার পার্টি পর্যবেক্ষক ও গণমাধ্যমকর্মী কেন্দ্রে স্বাধীনভাবে তথ্য সংগ্রহ করতে পারবে

ইউএনও’র উদ্যোগ : অবশেষে বুশরার হার্টের ছিদ্র সরাতে অপারেশন হচ্ছে

বুশরা, বয়স সাড়ে ৫ বছর। তার হার্টে ছিদ্র। যার অপারেশন না করালে যেকোনো সময় চলে যাবে না ফেরার দেশে।

বুশরার বাড়ী সদর উপজেলার ঝিলংজার দক্ষিন হাজী পাড়ায়। বাবা বেলান হোসেন কৃষি কাজ করে। নুন আনতে পান্তা ফুরোয় সংসারে। মেয়ের হার্টের ছিদ্র অপারেশন করাতে আর্থিক সাহায্যের আবেদন নিয়ে বুশরার মা মরিয়ম খাতুন হাজির হয় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নীলুফার ইয়াসমিন চৌধুরীর কার্যালয়ে।

দিনটি ১৭ নভেম্বর। আর্থিক সাহায্যের আবেদন নিয়ে মায়ের সাথে আসা ছোট্ট মেয়েটিকে দেখে কেমন জানি নিজের ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠে এই ভেবে যে, মাত্র ৩ থেকে ৪ লাখ টাকার জন্যে এই শিশুটি ধুঁকে ধুঁকে মরবে? কথা গুলো বলছিলেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নীলুফার ইয়াসমিন চৌধুরী।

তিনি জানান,” উপজেলা পরিষদ থেকে এতো টাকা দেয়ার সুযোগ নেই। তারপর শুরু হলো খোঁজ, দীর্ঘ ১০ দিন ধরে বিভিন্ন জায়গা,বিভিন্ন মানুষ, বিভিন্ন এনজিও কে বলা হলো। অবশেষে একটি এনজিও রাজী হলো বুশরার চিকিৎসার দায়িত্ব নিতে। এনজিওটি বুশরাকে ঢাকার হার্ট ফাউন্ডেশনে নিয়ে গিয়ে অপারেশন করাবে বলে আশ্বস্ত করেছে”।

বুশরার মা মরিয়ম খাতুন টিটিএনকে জানান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার উদ্যোগের কারণে মেয়ের চিকিৎসার কাজ শুরু হয়েছে, ইতোমধ্যে এনজিওর কর্মকর্তাদের সাথে দেখা হয়েছে,চিকিৎসার কাগজপত্র দেয়া হয়েছে। তারা দ্রুত বাকী কাজ গুলো সম্পন্ন করবে বলে জানিয়েছে।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নীলুফার ইয়াসমিন চৌধুরীর প্রতি বুশরার মায়ের কৃতজ্ঞতার যেনো শেষ নেই।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সরাকরি ফেসবুক একাউন্টের পোস্টে লিখেছেন তার এই অভিজ্ঞতার কথা। তার অফিসে আসা বুশরাকে কাছে ডাকলেন,পাশে দাঁড়ালেন। মানবিক এমন আরো গল্পের শিরোনাম হোক, শাসক নয় সেবক হোক প্রশাসনের কর্তারা এমনটাই বলছেন সচেতন মানুষেরা।

বুশরা সুস্থ হয়ে উঠবে। হাসিতে ভরে উঠবে তার মুখ। এমন আশায় বুক বাঁধছেন তার মা-বাবা।

এদিকে এই প্রতিবেদন যখন লেখা হচ্ছে তার কিছুক্ষন আগে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নীলুফার ইয়াসমিন চৌধুরীর বদলির আদেশ হয়েছে।তিনি হয়ত চলে যাবেন। তবে এই মানিবক কর্মপ্রয়াসের ধারাবাহিকতা অক্ষুন্ন থাকুবে এমনটাই প্রত্যাশা সদর উপজেলার মানুষের।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

This will close in 6 seconds

ইউএনও’র উদ্যোগ : অবশেষে বুশরার হার্টের ছিদ্র সরাতে অপারেশন হচ্ছে

আপডেট সময় : ০৮:৩৬:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ নভেম্বর ২০২৫

বুশরা, বয়স সাড়ে ৫ বছর। তার হার্টে ছিদ্র। যার অপারেশন না করালে যেকোনো সময় চলে যাবে না ফেরার দেশে।

বুশরার বাড়ী সদর উপজেলার ঝিলংজার দক্ষিন হাজী পাড়ায়। বাবা বেলান হোসেন কৃষি কাজ করে। নুন আনতে পান্তা ফুরোয় সংসারে। মেয়ের হার্টের ছিদ্র অপারেশন করাতে আর্থিক সাহায্যের আবেদন নিয়ে বুশরার মা মরিয়ম খাতুন হাজির হয় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নীলুফার ইয়াসমিন চৌধুরীর কার্যালয়ে।

দিনটি ১৭ নভেম্বর। আর্থিক সাহায্যের আবেদন নিয়ে মায়ের সাথে আসা ছোট্ট মেয়েটিকে দেখে কেমন জানি নিজের ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠে এই ভেবে যে, মাত্র ৩ থেকে ৪ লাখ টাকার জন্যে এই শিশুটি ধুঁকে ধুঁকে মরবে? কথা গুলো বলছিলেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নীলুফার ইয়াসমিন চৌধুরী।

তিনি জানান,” উপজেলা পরিষদ থেকে এতো টাকা দেয়ার সুযোগ নেই। তারপর শুরু হলো খোঁজ, দীর্ঘ ১০ দিন ধরে বিভিন্ন জায়গা,বিভিন্ন মানুষ, বিভিন্ন এনজিও কে বলা হলো। অবশেষে একটি এনজিও রাজী হলো বুশরার চিকিৎসার দায়িত্ব নিতে। এনজিওটি বুশরাকে ঢাকার হার্ট ফাউন্ডেশনে নিয়ে গিয়ে অপারেশন করাবে বলে আশ্বস্ত করেছে”।

বুশরার মা মরিয়ম খাতুন টিটিএনকে জানান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার উদ্যোগের কারণে মেয়ের চিকিৎসার কাজ শুরু হয়েছে, ইতোমধ্যে এনজিওর কর্মকর্তাদের সাথে দেখা হয়েছে,চিকিৎসার কাগজপত্র দেয়া হয়েছে। তারা দ্রুত বাকী কাজ গুলো সম্পন্ন করবে বলে জানিয়েছে।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নীলুফার ইয়াসমিন চৌধুরীর প্রতি বুশরার মায়ের কৃতজ্ঞতার যেনো শেষ নেই।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সরাকরি ফেসবুক একাউন্টের পোস্টে লিখেছেন তার এই অভিজ্ঞতার কথা। তার অফিসে আসা বুশরাকে কাছে ডাকলেন,পাশে দাঁড়ালেন। মানবিক এমন আরো গল্পের শিরোনাম হোক, শাসক নয় সেবক হোক প্রশাসনের কর্তারা এমনটাই বলছেন সচেতন মানুষেরা।

বুশরা সুস্থ হয়ে উঠবে। হাসিতে ভরে উঠবে তার মুখ। এমন আশায় বুক বাঁধছেন তার মা-বাবা।

এদিকে এই প্রতিবেদন যখন লেখা হচ্ছে তার কিছুক্ষন আগে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নীলুফার ইয়াসমিন চৌধুরীর বদলির আদেশ হয়েছে।তিনি হয়ত চলে যাবেন। তবে এই মানিবক কর্মপ্রয়াসের ধারাবাহিকতা অক্ষুন্ন থাকুবে এমনটাই প্রত্যাশা সদর উপজেলার মানুষের।