প্রাথমিক শিক্ষায় সঙ্গীত ও শারীরিক শিক্ষা শিক্ষক পদ পুনর্বহালের দাবিতে কক্সবাজারে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (৭ নভেম্বর) বিকেল ৪টায় কক্সবাজার পৌরসভা চত্বরে ‘কক্সবাজারের বিক্ষুব্ধ শিল্পীবৃন্দ’-এর ব্যানারে এ কর্মসূচি আয়োজন করেন জেলার শিল্পী সমাজ ও সংস্কৃতিমনা মানুষজন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, প্রাথমিক স্তর থেকে সঙ্গীত ও শারীরিক শিক্ষা বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত শিশুদের সৃজনশীল বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করবে। এই সিদ্ধান্ত কেবল শিক্ষাব্যবস্থার জন্য নয়, সমাজের জন্যও ক্ষতিকর বলে মন্তব্য করেন তারা।
জেলা উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সাধারণ সম্পাদক সৌরভ দেব বলেন, “সুরের সঙ্গে থাকা মানুষ খুন করে না, অপরাধপ্রবণ হয় না—সে মানবিক হয়। তাই মানবিক প্রজন্ম গড়ে তুলতে হলে শিশুদের মনে সুকুমার বৃত্তি গড়ে দিতে হবে। সংগীত, চারুকলা ও নৃত্যের মতো সৃজনশীল শিক্ষাকে প্রাথমিক পর্যায়ে বাধ্যতামূলক করা জরুরি।”
জেলা খেলাঘর আসরের সাধারণ সম্পাদক এম জসিমউদ্দীন বলেন, “শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতির ভিত্তির ওপরই সভ্যতা টিকে থাকে। প্রাথমিক শিক্ষা থেকে সঙ্গীত বাদ দিলে সেই ভিত্তিই দুর্বল হয়ে পড়বে।”
উদীচীর কোষাধ্যক্ষ তর্পনা দে বলেন, “বিজ্ঞান যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি সঙ্গীত ও শারীরিক শিক্ষাও সমান প্রয়োজনীয়। এগুলো বাদ দেওয়া মানে শিশুদের সৃজনশীলতা ও সংবেদনশীলতা নষ্ট করা।”
সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠীর সভাপতি খোরশেদ আলম হুঁশিয়ারি দেন, শিশুদের মানসিক ও মানবিক বিকাশের স্বার্থে দ্রুত সঙ্গীত ও শারীরিক শিক্ষা শিক্ষক পদ পুনর্বহাল করতে হবে; অন্যথায় আন্দোলন আরও বিস্তৃত করা হবে।
সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠীর সাধারণ সম্পাদক মনির মোবারকের সঞ্চালনায় কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় যুব ইউনিয়নের সভাপতি খান আসাদুজ্জামান মাসুম, জেলা খেলাঘরের সভাপতি সুবিমল পাল পান্না, ছাত্র ইউনিয়নের সংগঠক মো. আরিফসহ জেলার বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের শিল্পী, শিক্ষক ও সংস্কৃতিপ্রেমীরা অংশ নেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক : 























