ঢাকা ০৬:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৫, ১৪ ভাদ্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আঞ্চলিক হুমকিতে রুপ নিচ্ছে রোহিঙ্গা সংকট- পররাষ্ট্র উপদেষ্টা আইন অমান্য করে মিয়ানমারে প্রবেশের চেষ্টা – ১২২ জেলে আটক করলো কোস্টগার্ড চকরিয়ায় নদীতে গোসলে নেমে কিশোরীর মৃ’ত্যু: জীবিত উদ্ধার দুই সুপ্রভাত কক্সবাজারের সম্মেলন ও কাউন্সিল-২৫ সম্পন্ন: নতুন নেতৃত্বে অগ্রযাত্রার প্রত্যয় উখিয়ায় সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে দুই কিশোর নিখোঁজ গণতান্ত্রিক উত্তরণের রোডম্যাপের জন্য অপেক্ষা করছি : মির্জা ফখরুল দলীয় সদস্য পদ নবায়ন করলেন সাবেক এমপি কাজল কবিতা চত্বরে এনজিও কর্মীর ল্যাপটপ-মোবাইল ছিনিয়ে নিলো ‘ছিনতাই চক্র’ কক্সবাজার ডিসি গোল্ডকাপ – ৯ উপজেলার ফুটবল লড়াই ১ সেপ্টেম্বর শুরু চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে মৃত্যু’র মিছিল থামছে না, চকরিয়ায় ব্যবসায়ী নিহত কক্সবাজার শহরের একাধিক এলাকায় ৭ ঘণ্টা বিদ্যুৎ বন্ধ থাকবে শুক্রবার জাতীয়ভাবে লালনের তিরোধান দিবস উদযাপিত হবে: উপদেষ্টা ফারুকী ৩ দিনের সফরে কক্সবাজার আসছেন উপদেষ্টা সাখাওয়াত: যোগ দেবেন বাঁকখালী নদী দখলমুক্তকরনের সভায় নির্বাচনী রোডম্যাপে জাতির প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে – বিবিসিকে বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ কক্সবাজারে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু হলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও পর্যটক বাড়বে: পর্যটন উপদেষ্টা

জাতীয়ভাবে লালনের তিরোধান দিবস উদযাপিত হবে: উপদেষ্টা ফারুকী

  • টিটিএন ডেস্ক:
  • আপডেট সময় : ০৬:৫৯:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৫
  • 152

বাংলাদেশের অন্যতম সংগীতসাধক, দার্শনিক লালন সাঁইয়ের তিরোধান দিবসকে ‘জাতীয় দিবস’ হিসেবে উদযাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বিষয়টি জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দীর্ঘ একটি পোস্টে তিনি বিলুপ্ত ঔপনিবেশিক আধিপত্যবাদের উদাহরণ টেনে সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা বলেন, একটা দেশকে ফিজিক্যাল কলোনি বানানোর আগে প্রথম যে কাজটা করতে হয়—সেটা হচ্ছে তাকে ইন্টেলেকচুয়াল কলোনিতে রূপান্তরিত করা। তাকে প্রতিনিয়ত বোঝানো যে, তোমার কোনো সংস্কৃতি নাই। থাকলেও তোমার সংস্কৃতি লো কালচার (নিচুমানের সংস্কৃতি)।

তিনি বলেন, যেমন ধরেন ‌‘লালনের গান’। হেজেমনিক কালচারের (আধিপত্যবাদের সংস্কৃতি) ফ্রেমের সাথে মিলছে না বলে এটাকে হাই আর্ট (উচ্চমার্গীয় শিল্প) মানতে পারল না আমাদের উপনিবেশিক মন। ভদ্রসমাজ তখন চিন্তা করল এটাকে নিয়ে কী করা যায়? সহজ সমাধান হিসেবে ট‍্যাগ দিয়ে দিল ‘ফোক’।

মানে মেইনস্ট্রিম (মূলধারা) না, সাব-কালচার (উপ-সংস্কৃতি)। তারপর ধরেন রক মিউজিক। এটা নিয়েও ভদ্রসমাজ বিপদে পড়ে গেল। একেতো তাদের সেট করা ‘হেজেমনিক ফ্রেমে’ হাই আর্ট হিসাবে ধরা যাচ্ছে না। সহজ সমাধান করল ট‍্যাগ দিয়ে ‘অপসংস্কৃতি’। এইভাবে আমাদের রাষ্ট্র বা এস্টাবলিশমেন্ট (বিদ্যমান প্রথা) চিরকাল আমাদের গৌরবময় ঐশ্বর্যগুলোকে রাষ্ট্রীয় উদযাপন ও স্বীকৃতির বাইরে রেখেছে।

আজকের ক্যাবিনেট মিটিংয়ে লালন সাঁইয়ের তিরোধান দিবসকে জাতীয় দিবস হিসেবে উদযাপনের সিদ্ধান্ত হয়েছে—এই কথা জানিয়ে মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বলেন, চব্বিশ পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রের দায় হচ্ছে বাংলাদেশের জনগণের চর্চা এবং অংশগ্রহণে যে সংস্কৃতি আন্তর্জাতিক মানের হয়ে উঠেছে সেটাকে উদযাপন করা। এই উদযাপন জাতিকে আত্মবিশ্বাসী ও আত্মমর্যাদাপূর্ণ করে তোলে।

পাশাপাশি এই উদযাপন বাইরের দুনিয়ায় আমাদের নিজেদের কালচারাল আইডেন্টিটি (সাংস্কৃতিক পরিচয়) তৈরিতে সাহায্য করে। এর প্রথম ধাপ হিসাবে আজকে (২৮ আগস্ট) ক‍্যাবিনেটে লালনের তিরোধান দিবসকে ‘ক’ শ্রেণির জাতীয় দিবস হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছে। একই সাথে আরও কয়েকজন কালচারাল আইকন এবং কনটেমপোরারি মাস্টারকে (সমসাময়িক বিদ্বজ্জন) নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এস এম সুলতানের জন্মদিনকে ‘ক’ শ্রেণির জাতীয় দিবস হিসেবে উদযাপনের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এর পাশাপাশি আলোচনা করেছি, স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশের বড় কালচারাল ফেনোমেনাগুলো নিয়ে। যেমন হুমায়ূন আহমেদ। আমার মনে হয় না তার চেয়ে বেশি প্রভাব আমাদের লেখকদের মধ‍্যে কেউ রাখতে পেরেছেন। আলোচনা করেছি বাংলাদেশি রক আইকনদের উদযাপন করার বিষয়ে।’

সবশেষে কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী বব ডিলানের একটি গানের কথা জুড়ে দিয়ে এই উপদেষ্টা বলেন, লালন উদযাপন করা দিয়ে আমরা রবীন্দ্র-নজরুলের বাইরে তাকাতে শুরু করলাম। এটা কেবল শুরু। আমি নিশ্চিত সেদিন বেশি দূরে না যখন কনটেমপোরারি মাস্টার আর্টিস্টদেরও আমরা সেলিব্রেট করব রাষ্ট্রীয়ভাবে। ধরা যাক, আইয়ুব বাচ্চুর কথাই। বাংলাদেশের এমন কোনো বর্গকিলোমিটার এলাকা পাওয়া যাবে না যেখানে তার গান বাজে নাই। তার মানের মিউজিশিয়ান যেকোনো দেশের জন্যই গর্বের। তার জন্মদিন রাষ্ট্রীয়ভাবে উদযাপন করতে মৃত‍্যুর কত শ’ বছর পর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে? দ্য আনসার, মাই ফ্রেন্ড, ইজ ব্লোয়িং ইন দ্য উইন্ড (বন্ধু, সেই উত্তর বাতাসে ভেসে বেড়ায়)।

উল্লেখ্য, আগামী ১৭ অক্টোবর হলো লালন সাঁইয়ের তিরোধান দিবস। ১৮৯০ সালের এই দিনে কুষ্টিয়ার কুমারখালীর ছেঁউড়িয়ার নিজ আখড়ায় মৃত্যুবরণ করেন তিনি।

সূত্র: যমুনা টিভি

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

আঞ্চলিক হুমকিতে রুপ নিচ্ছে রোহিঙ্গা সংকট- পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

This will close in 6 seconds

জাতীয়ভাবে লালনের তিরোধান দিবস উদযাপিত হবে: উপদেষ্টা ফারুকী

আপডেট সময় : ০৬:৫৯:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৫

বাংলাদেশের অন্যতম সংগীতসাধক, দার্শনিক লালন সাঁইয়ের তিরোধান দিবসকে ‘জাতীয় দিবস’ হিসেবে উদযাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বিষয়টি জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দীর্ঘ একটি পোস্টে তিনি বিলুপ্ত ঔপনিবেশিক আধিপত্যবাদের উদাহরণ টেনে সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা বলেন, একটা দেশকে ফিজিক্যাল কলোনি বানানোর আগে প্রথম যে কাজটা করতে হয়—সেটা হচ্ছে তাকে ইন্টেলেকচুয়াল কলোনিতে রূপান্তরিত করা। তাকে প্রতিনিয়ত বোঝানো যে, তোমার কোনো সংস্কৃতি নাই। থাকলেও তোমার সংস্কৃতি লো কালচার (নিচুমানের সংস্কৃতি)।

তিনি বলেন, যেমন ধরেন ‌‘লালনের গান’। হেজেমনিক কালচারের (আধিপত্যবাদের সংস্কৃতি) ফ্রেমের সাথে মিলছে না বলে এটাকে হাই আর্ট (উচ্চমার্গীয় শিল্প) মানতে পারল না আমাদের উপনিবেশিক মন। ভদ্রসমাজ তখন চিন্তা করল এটাকে নিয়ে কী করা যায়? সহজ সমাধান হিসেবে ট‍্যাগ দিয়ে দিল ‘ফোক’।

মানে মেইনস্ট্রিম (মূলধারা) না, সাব-কালচার (উপ-সংস্কৃতি)। তারপর ধরেন রক মিউজিক। এটা নিয়েও ভদ্রসমাজ বিপদে পড়ে গেল। একেতো তাদের সেট করা ‘হেজেমনিক ফ্রেমে’ হাই আর্ট হিসাবে ধরা যাচ্ছে না। সহজ সমাধান করল ট‍্যাগ দিয়ে ‘অপসংস্কৃতি’। এইভাবে আমাদের রাষ্ট্র বা এস্টাবলিশমেন্ট (বিদ্যমান প্রথা) চিরকাল আমাদের গৌরবময় ঐশ্বর্যগুলোকে রাষ্ট্রীয় উদযাপন ও স্বীকৃতির বাইরে রেখেছে।

আজকের ক্যাবিনেট মিটিংয়ে লালন সাঁইয়ের তিরোধান দিবসকে জাতীয় দিবস হিসেবে উদযাপনের সিদ্ধান্ত হয়েছে—এই কথা জানিয়ে মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বলেন, চব্বিশ পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রের দায় হচ্ছে বাংলাদেশের জনগণের চর্চা এবং অংশগ্রহণে যে সংস্কৃতি আন্তর্জাতিক মানের হয়ে উঠেছে সেটাকে উদযাপন করা। এই উদযাপন জাতিকে আত্মবিশ্বাসী ও আত্মমর্যাদাপূর্ণ করে তোলে।

পাশাপাশি এই উদযাপন বাইরের দুনিয়ায় আমাদের নিজেদের কালচারাল আইডেন্টিটি (সাংস্কৃতিক পরিচয়) তৈরিতে সাহায্য করে। এর প্রথম ধাপ হিসাবে আজকে (২৮ আগস্ট) ক‍্যাবিনেটে লালনের তিরোধান দিবসকে ‘ক’ শ্রেণির জাতীয় দিবস হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছে। একই সাথে আরও কয়েকজন কালচারাল আইকন এবং কনটেমপোরারি মাস্টারকে (সমসাময়িক বিদ্বজ্জন) নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এস এম সুলতানের জন্মদিনকে ‘ক’ শ্রেণির জাতীয় দিবস হিসেবে উদযাপনের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এর পাশাপাশি আলোচনা করেছি, স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশের বড় কালচারাল ফেনোমেনাগুলো নিয়ে। যেমন হুমায়ূন আহমেদ। আমার মনে হয় না তার চেয়ে বেশি প্রভাব আমাদের লেখকদের মধ‍্যে কেউ রাখতে পেরেছেন। আলোচনা করেছি বাংলাদেশি রক আইকনদের উদযাপন করার বিষয়ে।’

সবশেষে কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী বব ডিলানের একটি গানের কথা জুড়ে দিয়ে এই উপদেষ্টা বলেন, লালন উদযাপন করা দিয়ে আমরা রবীন্দ্র-নজরুলের বাইরে তাকাতে শুরু করলাম। এটা কেবল শুরু। আমি নিশ্চিত সেদিন বেশি দূরে না যখন কনটেমপোরারি মাস্টার আর্টিস্টদেরও আমরা সেলিব্রেট করব রাষ্ট্রীয়ভাবে। ধরা যাক, আইয়ুব বাচ্চুর কথাই। বাংলাদেশের এমন কোনো বর্গকিলোমিটার এলাকা পাওয়া যাবে না যেখানে তার গান বাজে নাই। তার মানের মিউজিশিয়ান যেকোনো দেশের জন্যই গর্বের। তার জন্মদিন রাষ্ট্রীয়ভাবে উদযাপন করতে মৃত‍্যুর কত শ’ বছর পর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে? দ্য আনসার, মাই ফ্রেন্ড, ইজ ব্লোয়িং ইন দ্য উইন্ড (বন্ধু, সেই উত্তর বাতাসে ভেসে বেড়ায়)।

উল্লেখ্য, আগামী ১৭ অক্টোবর হলো লালন সাঁইয়ের তিরোধান দিবস। ১৮৯০ সালের এই দিনে কুষ্টিয়ার কুমারখালীর ছেঁউড়িয়ার নিজ আখড়ায় মৃত্যুবরণ করেন তিনি।

সূত্র: যমুনা টিভি