রাতে পোহালেই কক্সবাজারের শহীদ দৌলত ময়দানে শুরু হচ্ছে পাঁচ দিনব্যাপী ‘মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা–২০২৫’।
মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে ১৭ ডিসেম্বর থেকে ২১ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে এই আয়োজন। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, ইতিহাস ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগ নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতেই প্রতি বছরের মতো এবারও এ মেলার আয়োজন করেছে মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা উদযাপন পরিষদ।
মেলা ঘিরে ইতোমধ্যে কক্সবাজার শহরে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। শহীদ দৌলত ময়দানে নির্মাণ করা হয়েছে মঞ্চ ও বিভিন্ন প্রদর্শনী স্টল।
এবারের মেলায় সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় অংশ নেবে কক্সবাজারের ২০টি সাংস্কৃতিক সংগঠন। সংগীত, নৃত্য, নাটক, গণসংগীত, আবৃত্তি ও দেশাত্মবোধক পরিবেশনার মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও চেতনাকে তুলে ধরা হবে।
১৭ ডিসেম্বর বিকাল ৩ টা আয়োজনের উদ্বোধন করবেন একাত্তরের অকুতোভয় বীর মুক্তিযোদ্ধারা। আয়োজকরা জানান, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের হাত ধরেই বিজয় মেলার সূচনা নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার প্রতীক হয়ে থাকবে।
মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা উদযাপন পরিষদের চেয়ারম্যান আশরাফুল হুদা ছিদ্দিকী জামশেদ জানান, মেলা সফল করতে ইতোমধ্যে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, “বিজয় মেলা শুধু উৎসব নয়, এটি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষণ ও প্রজন্মান্তরে পৌঁছে দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।”
এর আগে শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) কক্সবাজার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ‘মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা–২০২৫’–এর পোস্টার উন্মোচন করা হয়।
বিজয় মেলা মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরার পাশাপাশি ইতিহাস বিকৃতি রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে জানান মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা উদযাপন পরিষদের আহবায়ক সুবিমল পাল পান্না।
সাজসজ্জা উপকমিটির আহ্বায়ক সৌরভ দেব জানান, এবারের মঞ্চসজ্জায় মুক্তিযুদ্ধকালীন নানা ঘটনাবলি, প্রতীক ও স্মৃতিচিহ্নকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
মঞ্চ ও পুরো মেলা প্রাঙ্গণ এমনভাবে সাজানো হয়েছে, যেন দর্শনার্থীরা মুক্তিযুদ্ধের সময়ের আবহ অনুভব করতে পারেন।
আয়োজকরা জানান, মেলা চলাকালে আইনশৃঙ্খলা ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তারা আশা প্রকাশ করেন, পাঁচ দিনব্যাপী এই আয়োজন মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে আরও দৃঢ় করবে এবং সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে বিজয় মেলা হয়ে উঠবে এক অনন্য মিলনমেলা।
বার্তা পরিবেশক 






















