ঢাকা ০৩:৫৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২৬, ২১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চট্টগ্রামে দরবেশকাটা সমিতির দোয়া ও ইফতার মাহফিল রাশিয়ার ফাঁদে ট্রাম্প! মধ্যপ্রাচ্যের নতুন ‘বাদশা’ ইরান? কলাতলীর সংঘর্ষের কারণ কি? সেন্ট মার্টিনের কাছে ধরা পড়ল পাঁচ মণ ওজনের বোল মাছ, বিক্রি ২ লাখ ৫৫ হাজার টাকায় রো‌হিঙ্গা‌দের ২৬ লাখ মার্কিন ডলারের সহায়তা দি‌চ্ছে জাপান নিজের পুরস্কার উৎসর্গ করলেন দর্শকদের উখিয়া–টেকনাফ জাতীয়তাবাদী ছাত্র ফোরামের ইফতার ও দোয়া মাহফিল সাবেক এমপি আবদুর রহমান বদির জামিন স্থগিত ঘুষের টাকা ফেরত চাওয়ায় মা-মেয়েকে মারধর, পরে ১ মাসের জেল রামুতে সংবাদ সংগ্রহকালে ডাকাত মালেকের হামলায় ৪ সাংবাদিক আহত উখিয়ার থাইংখালীতে পাহাড় কেটে সাবাড়, ড্রাম ট্রাক আটক মাদকের বিরুদ্ধে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশনা- ইয়াবা ও দুই সঙ্গীসহ পুলিশের জালে যুবদল নেতা সাংবাদিক আনিস আলমগীরের হাইকোর্টে জামিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হওয়ার পর প্রথমবার কক্সবাজারে আসছেন সালাহউদ্দিন আহমদ খালেদা জিয়াসহ যারা পাচ্ছেন ‘স্বাধীনতা পুরস্কার’

হত্যার ৮ ঘন্টার ব্যবধানে তিন সহোদরসহ গ্রেফতার চার

কক্সবাজার শহরে ইজিবাইক চালককে পিটিয়ে ও ছুরিকাঘাত করে হত্যার আট ঘন্টা ব্যবধানে জড়িত তিন সহোদর সহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব। এসময় তাদের কাছ থেকে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ছোরাসহ বেশ কিছু আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি ও ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

র‍্যাব জানিয়েছে, গ্রেপ্তাররা সকলেই ইজিবাইক চালক এবং সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের সদস্য। তারা ইজিবাইক চালক পেশার আড়ালে ছিনতাইসহ নানা অপরাধ সংঘটনের সাথে জড়িত।

সোমবার বিকালে র‍্যাব-১৫ এর কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান, ব্যাটালিয়নটির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম।

এঘটনায় আটকরা হল, কক্সবাজার পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের হালিমা পাড়ার মোহাম্মদ হোসেন ওরফে মাছনের ছেলে মো. মোস্তফা, মো. আনোয়ার ও মো. ইমরান এবং ১ নম্বর ওয়ার্ডের কুতুবদিয়া পাড়ার বাসিন্দা মো. করিম।ঘটনায় নিহত মুজিবুর রহমান (৩৫) কক্সবাজার পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের হালিমা পাড়ার বাসিন্দা আব্দুল জলিলের ছেলে।

লে. কর্নেল কামরুল ইসলাম বলেন, কিছুদিন আগে কিস্তিতে নেওয়া মো. আনোয়ারের মালিকানাধীন একটি ইজিবাইক চুরির ঘটনা ঘটে। আর সেই ইজিবাইকটি মুজিবুর রহমান চোর চক্রের কাছ থেকে ৫ হাজার টাকার বিনিময়ে ছাড়িয়ে আনে। পরে গাড়ীটি ওই টাকাগুলো পরিশোধের শর্তে আনোয়ার কাছে হস্তান্তর করে। টাকাগুলো পরিশোধ না করায় আনোয়ারকে মুজিবুর রহমান চাপ প্রয়োগ করে। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। রোববার সন্ধ্যায় কক্সবাজার পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বউবাজার এলাকায় জনৈক ইয়াছিন আরাফাতের ইজিবাইকের গ্যারেজে পূর্ব শত্রুতার জেরে মুজিবুর রহমানকে অতর্কিত অবস্থায় মোস্তফা, আনোয়ার ও ইমরানসহ আরও কয়েকজন মিলে মারধর শুরু করে। এক পর্যায়ে হামলাকারিদের উপর্যুপরি কয়েকটি ছুরিকাঘাতে মুজিবুর রহমান আহত হয়। পরে তাকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

সাংবাদিক সম্মেলনে র্যাবের এ কর্মকর্তা বলেন, রাতে ঘটনাটি অবহিত হওয়ার পর র্যাব ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে। এক পর্যায়ে মধ্যরাতে কক্সবাজার শহরের লাইট হাউজ পাড়া এলাকায় মো. আনোয়ারকে বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে। এসময় তার হেফাজত থেকে দেশিয় তৈরী একটি বন্দুক ও ৭ টি গুলি উদ্ধার করা হয়। পরে গ্রেপ্তার আসামির স্বীকারোক্তি মতে, সোমবার ভোর রাতে টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর থেকে আত্মগোপন অবস্থায় মো.  মোস্তফা ও তার ভাই ইমরানকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় মোস্তফার হেফাজত থেকে হত্যাকাণ্ডের ব্যবহৃত ছোরাটিও উদ্ধার হয়।

কামরুল ইসলাম আরও বলেন, ঘটনায় জড়িত তিন আসামিকে গ্রেপ্তারের পর র্যাবের আরেকটি দল সোমবার ভোর রাতে কক্সবাজার শহরের কুতুবদিয়া পাড়ায় পৃথক একটি অভিযান চালায়। এসময় তাদের সহযোগী মো. করিম নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এতে তার কাছ থেকে দেশিয় তৈরী একটি বন্দুক উদ্ধার করা হয়। এছাড়া গ্রেপ্তার আসামিদের স্বীকারোক্তি মতে ভোর রাতে শহরের তারবনিয়ারছড়া এলাকায় সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের গোপন আস্তানা জনৈক সাদ্দাম হোসেনের বাড়ীতে অভিযান চালায় র‍্যাব। এতে র‍্যাব সদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে সাদ্দাম হোসেন পালিয়ে যায়। পরে তার বাসায় তল্লাশী চালিয়ে ৯ টি লম্বা কিরিচ ও ৪ টি ছোরা উদ্ধার করা হয়েছে।

র‍্যাব জানিয়েছে, গ্রেপ্তার আসামিরা সকলে পেশায় ইজিবাইক চালক এবং সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের সদস্য। তারা ইজিবাইক চালক পেশার আড়ালে পর্যটন শহরে ছিনতাই ও অপহরণসহ নানা অপরাধ সংঘটনের সাথে জড়িত। তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে এসব অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে কক্সবাজার সদর থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।

ট্যাগ :

হত্যার ৮ ঘন্টার ব্যবধানে তিন সহোদরসহ গ্রেফতার চার

আপডেট সময় : ০৬:৫৯:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ মার্চ ২০২৫

কক্সবাজার শহরে ইজিবাইক চালককে পিটিয়ে ও ছুরিকাঘাত করে হত্যার আট ঘন্টা ব্যবধানে জড়িত তিন সহোদর সহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব। এসময় তাদের কাছ থেকে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ছোরাসহ বেশ কিছু আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি ও ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

র‍্যাব জানিয়েছে, গ্রেপ্তাররা সকলেই ইজিবাইক চালক এবং সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের সদস্য। তারা ইজিবাইক চালক পেশার আড়ালে ছিনতাইসহ নানা অপরাধ সংঘটনের সাথে জড়িত।

সোমবার বিকালে র‍্যাব-১৫ এর কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান, ব্যাটালিয়নটির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম।

এঘটনায় আটকরা হল, কক্সবাজার পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের হালিমা পাড়ার মোহাম্মদ হোসেন ওরফে মাছনের ছেলে মো. মোস্তফা, মো. আনোয়ার ও মো. ইমরান এবং ১ নম্বর ওয়ার্ডের কুতুবদিয়া পাড়ার বাসিন্দা মো. করিম।ঘটনায় নিহত মুজিবুর রহমান (৩৫) কক্সবাজার পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের হালিমা পাড়ার বাসিন্দা আব্দুল জলিলের ছেলে।

লে. কর্নেল কামরুল ইসলাম বলেন, কিছুদিন আগে কিস্তিতে নেওয়া মো. আনোয়ারের মালিকানাধীন একটি ইজিবাইক চুরির ঘটনা ঘটে। আর সেই ইজিবাইকটি মুজিবুর রহমান চোর চক্রের কাছ থেকে ৫ হাজার টাকার বিনিময়ে ছাড়িয়ে আনে। পরে গাড়ীটি ওই টাকাগুলো পরিশোধের শর্তে আনোয়ার কাছে হস্তান্তর করে। টাকাগুলো পরিশোধ না করায় আনোয়ারকে মুজিবুর রহমান চাপ প্রয়োগ করে। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। রোববার সন্ধ্যায় কক্সবাজার পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বউবাজার এলাকায় জনৈক ইয়াছিন আরাফাতের ইজিবাইকের গ্যারেজে পূর্ব শত্রুতার জেরে মুজিবুর রহমানকে অতর্কিত অবস্থায় মোস্তফা, আনোয়ার ও ইমরানসহ আরও কয়েকজন মিলে মারধর শুরু করে। এক পর্যায়ে হামলাকারিদের উপর্যুপরি কয়েকটি ছুরিকাঘাতে মুজিবুর রহমান আহত হয়। পরে তাকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

সাংবাদিক সম্মেলনে র্যাবের এ কর্মকর্তা বলেন, রাতে ঘটনাটি অবহিত হওয়ার পর র্যাব ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে। এক পর্যায়ে মধ্যরাতে কক্সবাজার শহরের লাইট হাউজ পাড়া এলাকায় মো. আনোয়ারকে বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে। এসময় তার হেফাজত থেকে দেশিয় তৈরী একটি বন্দুক ও ৭ টি গুলি উদ্ধার করা হয়। পরে গ্রেপ্তার আসামির স্বীকারোক্তি মতে, সোমবার ভোর রাতে টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর থেকে আত্মগোপন অবস্থায় মো.  মোস্তফা ও তার ভাই ইমরানকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় মোস্তফার হেফাজত থেকে হত্যাকাণ্ডের ব্যবহৃত ছোরাটিও উদ্ধার হয়।

কামরুল ইসলাম আরও বলেন, ঘটনায় জড়িত তিন আসামিকে গ্রেপ্তারের পর র্যাবের আরেকটি দল সোমবার ভোর রাতে কক্সবাজার শহরের কুতুবদিয়া পাড়ায় পৃথক একটি অভিযান চালায়। এসময় তাদের সহযোগী মো. করিম নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এতে তার কাছ থেকে দেশিয় তৈরী একটি বন্দুক উদ্ধার করা হয়। এছাড়া গ্রেপ্তার আসামিদের স্বীকারোক্তি মতে ভোর রাতে শহরের তারবনিয়ারছড়া এলাকায় সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের গোপন আস্তানা জনৈক সাদ্দাম হোসেনের বাড়ীতে অভিযান চালায় র‍্যাব। এতে র‍্যাব সদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে সাদ্দাম হোসেন পালিয়ে যায়। পরে তার বাসায় তল্লাশী চালিয়ে ৯ টি লম্বা কিরিচ ও ৪ টি ছোরা উদ্ধার করা হয়েছে।

র‍্যাব জানিয়েছে, গ্রেপ্তার আসামিরা সকলে পেশায় ইজিবাইক চালক এবং সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের সদস্য। তারা ইজিবাইক চালক পেশার আড়ালে পর্যটন শহরে ছিনতাই ও অপহরণসহ নানা অপরাধ সংঘটনের সাথে জড়িত। তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে এসব অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে কক্সবাজার সদর থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।