ঢাকা ০৯:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ৩০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সীমিত জনবলেও তৎপর উখিয়া রেঞ্জ, বনউজাড় করতে গিয়ে ধরা পড়ল ২৬ রোহিঙ্গা বর্ষার আগেই শহরকে জলাবদ্ধতামুক্ত করতে মাঠ পর্যায়ে কঠোর অ্যাকশনে যাওয়ার নির্দেশ এমপি কাজলের টেকনাফ এখন ‘মৃত্যুপুরী’: সন্ত্রাস ও মাদক নির্মূলে যৌথ অভিযানের দাবিতে ছাত্র-জনতার মানববন্ধন টেকনাফে ৭.৬২ ক্যালিবার অস্ত্রসহ তিন ডাকাত আটক ৭ ইউনিয়ন নিয়ে নতুন ‘মাতামুহুরী’ উপজেলা গঠনের প্রস্তাব: প্রাক নিকার সভায় অন্তর্ভুক্ত প্রতারণার ফাঁদ ভাঙুন, মানব পাচার রুখুন সিএনজি তল্লাশিতে বিদেশি পিস্তল উদ্ধার, আটক ৩ লবণ মাঠে দূর্বৃত্তের তাণ্ডব,২ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি জামিনে মুক্ত হলেন বাউল শিল্পী আবুল সরকার বিয়ে করাটা ভুল সিদ্ধান্ত ছিল: অপু বিশ্বাস চৈত্র সংক্রান্তি: ইতিহাস, ঐতিহ্য ও বাঙালির সংস্কৃতির এক প্রাচীন ধারাবাহিকতা ইন্টারনেট সস্তা না হলে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব নয় : বিটিআরসি চেয়ারম্যান ভোরে ফুল তুলতে যাওয়া বৃদ্ধকে জবাই করে হত্যা, অভিযুক্তের আত্মসমর্পণ বাংলা বছরের শেষদিন— চৈত্র সংক্রান্তি আজ তীব্র গরমেও পর্যটকের ঢল, নোনাজলে খুঁজছে স্বস্তি

‘হঠাৎ’ চাহিদা বাড়ায় সারাদিনের তেল শেষ হচ্ছে তিন ঘণ্টায়: জ্বালানি মন্ত্রী

‘হঠাৎ’ জ্বালানি তেলের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় আগে সারাদিনে পাম্পগুলো যে পরিমাণ তেল বিক্রি করত তা তিন ঘন্টাতেই শেষ হয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

তিনি বলেন, “হঠাৎ করে এমন ডিমান্ড বেড়ে গেছে যে যারা নাকি সারাদিনে যে তেল বিক্রি করত, সেই তেল ৩ ঘণ্টায় সে শেষ করে ফেলছে। ন্যাচারালি তেল শেষ হয়ে যাবে তো।”

সারাদিনে তেলের চাহিদা কতটুকু জানতে চাইলে এ বিষয়ে তা কাছে ‘হিসাব নাই’ বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

ঈদের ছুটি শেষে মঙ্গলবার প্রথম কার্যদিবসে সচিবালয়ে ইরান যুদ্ধের প্রভাবে সৃষ্ট জ্বালানি তেলের সংকট নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছিলেন জ্বালানি মন্ত্রী।

ঈদের আগে জ্বালানি তেল দেওয়ার ক্ষেত্রে রেশনিং তুলে দেওয়ার পর পরিস্থিতির একটু উন্নতি হলেও ঈদের দিন রাতে থেকেই তা আরও নাজুক হয়ে পড়েছে।

সরবরাহ সংকটে রাজধানীর পেট্রোল পাম্পগুলোতে দিন-রাত গাড়ির দীর্ঘ সারি আরও দীর্ঘ হচ্ছে। তেল না পেয়ে ফিরেও যেতে হচ্ছে অনেক গাড়ি চালককে। পরিস্থিতি সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন পাম্পের কর্মীরা। তেল নিতে আসা ব্যক্তিদের সঙ্গে শোরগোল, কথা কাটাকাটির মত ঘটনা ঘটছে প্রায়ই।

ঈদের দুদিন পর সোমবার দিনের বেলা ও সন্ধ্যায় রাজধানীর পেট্রোল পাম্পগুলোতে ছিল দীর্ঘ লাইন। মোটরসাইকেল ও গাড়ি চালকদের লাইন ধরে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। আগের দিন গভীর রাতেও ছিল একই চিত্র।

গাড়ির দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে মঙ্গলবার সকালেও। রাজধানীর পরীবাগে পেট্রোল পাম্পের সামনে থেকে যে লাইন গিয়ে ঠেকেছে প্রায় শাহবাগ পর্যন্ত।

এমন পরিস্থিতির কারণ হিসেবে পেট্রোল পাম্পগুলোর তরফে চাহিদা অনুযায়ী তেল না পাওয়ার কথা বলা হচ্ছে। সংকট আরও বাড়তে পারে এমন আশঙ্কায় ক্রেতারাও অতিরিক্ত তেল কিনছেন। এতে চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে ফারাক তৈরি হচ্ছে।

সচিবালয়ে তেলের পাম্পগুলো রেশনিং করার ব্যাখ্যা তুলে ধরে জ্বালানি মন্ত্রী বলেন, “প্রবলেমটা হচ্ছিল যে সকাল বেলা, আগে যেমন ট্যাংক লরি ওরা ভরত, সারাদিন তেল থাকত, উদ্বৃত্ত থাকত।

“কিন্তু সারাদিন এরকম লাইন দিয়ে বিক্রি করার পর উদ্বৃত্ত থাকে না এবং আমাদের ডিপোগুলো থেকে তেল যে ট্যাংক দিয়ে পৌঁছাতে টাইম লাগে। সেইজন্য সকালবেলা আর্লি মর্নিংয়ে থাকে না, পরে তো থাকে।”

সারাদিনই তেলের সংকট দেখা যাচ্ছে তুলে ধরলে, এর জবাবে মন্ত্রী বলেন, “ইউ হ্যাভ টু আন্ডারস্ট্যান্ড ওয়ান থিং। ডিমান্ড আর স্টক।”

সংকট নিরসনে গত ৬ মার্চ সরকার পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল বিক্রিতে সীমা আরোপ করে। পরে ঈদযাত্রা ও সেচ মৌসুমের চাহিদার কথা ভেবে সেই সীমা তুলে নেওয়া হয়।

এর আগে সোমবার নিজ বাসবভনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জনগণকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে জ্বালানি মন্ত্রী টুকু বলেন, “তেল যেটুকু প্রয়োজন, সেটুকুই নেন। তেলের সমস্যা হবে না।”

তেল পাম্পগুলো ব্যাংক বন্ধ থাকায় পে অর্ডার করতে না পারায় তেল সরবারাহে ঘাটতি তৈরির কথা বললেও মঙ্গলবার এ বিষয়ে তথ্য না থাকার কথা বলেন মন্ত্রী।

তিনি বলেন, “একটু আন্ডারস্ট্যান্ড করতে হবে যে হঠাৎ করে মানুষ হুমড়ি খেয়ে পড়ছে তেল পেট্রোল পাম্পে। আমাদের তো একটা প্রসেসে পেট্রোল পাম্প চলে। আমরা যেভাবে তেল দেই সেভাবে তেল যায়। সেই নিয়ম এখন ভেঙে পড়েছে সেই নিয়মটা।

“যে এত ভিড় এত তেল পেট্রোল পাম্পে যা দেওয়া হয় প্রতিদিন, সেটা সব সময় যা দেওয়া হয় সেটাই থাকে, কিন্তু গ্রাহক তো বেড়ে গেছে। স্বাভাবিক তেলের তো লাইন থাকবে, পাবে না তো, স্বাভাবিক এটা তো। অস্বাভাবিক কিছু না তো।”

তার ভাষ্য, “১০ জনের খাওয়ার যদি একজন খেয়ে ফেলে তবে তাই হবে। এখন একই লোক যদি ১০টা পাম্প ঘুরে ঘুরে তেল ট্যাঙ্ক ভরে তবে তাই হবে।

“সেজন্য তো আমরা যারা গাড়ি মালিক তাদের কো-অপারেশন চাচ্ছি আমরা।”

এজন্য সরকারের যা যা দায়িত্ব পালন করা দরকার সেটা ‘আমরা পালন করা হবে’ বলেও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

সূত্র: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

সীমিত জনবলেও তৎপর উখিয়া রেঞ্জ, বনউজাড় করতে গিয়ে ধরা পড়ল ২৬ রোহিঙ্গা

‘হঠাৎ’ চাহিদা বাড়ায় সারাদিনের তেল শেষ হচ্ছে তিন ঘণ্টায়: জ্বালানি মন্ত্রী

আপডেট সময় : ১২:৩৫:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬

‘হঠাৎ’ জ্বালানি তেলের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় আগে সারাদিনে পাম্পগুলো যে পরিমাণ তেল বিক্রি করত তা তিন ঘন্টাতেই শেষ হয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

তিনি বলেন, “হঠাৎ করে এমন ডিমান্ড বেড়ে গেছে যে যারা নাকি সারাদিনে যে তেল বিক্রি করত, সেই তেল ৩ ঘণ্টায় সে শেষ করে ফেলছে। ন্যাচারালি তেল শেষ হয়ে যাবে তো।”

সারাদিনে তেলের চাহিদা কতটুকু জানতে চাইলে এ বিষয়ে তা কাছে ‘হিসাব নাই’ বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

ঈদের ছুটি শেষে মঙ্গলবার প্রথম কার্যদিবসে সচিবালয়ে ইরান যুদ্ধের প্রভাবে সৃষ্ট জ্বালানি তেলের সংকট নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছিলেন জ্বালানি মন্ত্রী।

ঈদের আগে জ্বালানি তেল দেওয়ার ক্ষেত্রে রেশনিং তুলে দেওয়ার পর পরিস্থিতির একটু উন্নতি হলেও ঈদের দিন রাতে থেকেই তা আরও নাজুক হয়ে পড়েছে।

সরবরাহ সংকটে রাজধানীর পেট্রোল পাম্পগুলোতে দিন-রাত গাড়ির দীর্ঘ সারি আরও দীর্ঘ হচ্ছে। তেল না পেয়ে ফিরেও যেতে হচ্ছে অনেক গাড়ি চালককে। পরিস্থিতি সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন পাম্পের কর্মীরা। তেল নিতে আসা ব্যক্তিদের সঙ্গে শোরগোল, কথা কাটাকাটির মত ঘটনা ঘটছে প্রায়ই।

ঈদের দুদিন পর সোমবার দিনের বেলা ও সন্ধ্যায় রাজধানীর পেট্রোল পাম্পগুলোতে ছিল দীর্ঘ লাইন। মোটরসাইকেল ও গাড়ি চালকদের লাইন ধরে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। আগের দিন গভীর রাতেও ছিল একই চিত্র।

গাড়ির দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে মঙ্গলবার সকালেও। রাজধানীর পরীবাগে পেট্রোল পাম্পের সামনে থেকে যে লাইন গিয়ে ঠেকেছে প্রায় শাহবাগ পর্যন্ত।

এমন পরিস্থিতির কারণ হিসেবে পেট্রোল পাম্পগুলোর তরফে চাহিদা অনুযায়ী তেল না পাওয়ার কথা বলা হচ্ছে। সংকট আরও বাড়তে পারে এমন আশঙ্কায় ক্রেতারাও অতিরিক্ত তেল কিনছেন। এতে চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে ফারাক তৈরি হচ্ছে।

সচিবালয়ে তেলের পাম্পগুলো রেশনিং করার ব্যাখ্যা তুলে ধরে জ্বালানি মন্ত্রী বলেন, “প্রবলেমটা হচ্ছিল যে সকাল বেলা, আগে যেমন ট্যাংক লরি ওরা ভরত, সারাদিন তেল থাকত, উদ্বৃত্ত থাকত।

“কিন্তু সারাদিন এরকম লাইন দিয়ে বিক্রি করার পর উদ্বৃত্ত থাকে না এবং আমাদের ডিপোগুলো থেকে তেল যে ট্যাংক দিয়ে পৌঁছাতে টাইম লাগে। সেইজন্য সকালবেলা আর্লি মর্নিংয়ে থাকে না, পরে তো থাকে।”

সারাদিনই তেলের সংকট দেখা যাচ্ছে তুলে ধরলে, এর জবাবে মন্ত্রী বলেন, “ইউ হ্যাভ টু আন্ডারস্ট্যান্ড ওয়ান থিং। ডিমান্ড আর স্টক।”

সংকট নিরসনে গত ৬ মার্চ সরকার পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল বিক্রিতে সীমা আরোপ করে। পরে ঈদযাত্রা ও সেচ মৌসুমের চাহিদার কথা ভেবে সেই সীমা তুলে নেওয়া হয়।

এর আগে সোমবার নিজ বাসবভনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জনগণকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে জ্বালানি মন্ত্রী টুকু বলেন, “তেল যেটুকু প্রয়োজন, সেটুকুই নেন। তেলের সমস্যা হবে না।”

তেল পাম্পগুলো ব্যাংক বন্ধ থাকায় পে অর্ডার করতে না পারায় তেল সরবারাহে ঘাটতি তৈরির কথা বললেও মঙ্গলবার এ বিষয়ে তথ্য না থাকার কথা বলেন মন্ত্রী।

তিনি বলেন, “একটু আন্ডারস্ট্যান্ড করতে হবে যে হঠাৎ করে মানুষ হুমড়ি খেয়ে পড়ছে তেল পেট্রোল পাম্পে। আমাদের তো একটা প্রসেসে পেট্রোল পাম্প চলে। আমরা যেভাবে তেল দেই সেভাবে তেল যায়। সেই নিয়ম এখন ভেঙে পড়েছে সেই নিয়মটা।

“যে এত ভিড় এত তেল পেট্রোল পাম্পে যা দেওয়া হয় প্রতিদিন, সেটা সব সময় যা দেওয়া হয় সেটাই থাকে, কিন্তু গ্রাহক তো বেড়ে গেছে। স্বাভাবিক তেলের তো লাইন থাকবে, পাবে না তো, স্বাভাবিক এটা তো। অস্বাভাবিক কিছু না তো।”

তার ভাষ্য, “১০ জনের খাওয়ার যদি একজন খেয়ে ফেলে তবে তাই হবে। এখন একই লোক যদি ১০টা পাম্প ঘুরে ঘুরে তেল ট্যাঙ্ক ভরে তবে তাই হবে।

“সেজন্য তো আমরা যারা গাড়ি মালিক তাদের কো-অপারেশন চাচ্ছি আমরা।”

এজন্য সরকারের যা যা দায়িত্ব পালন করা দরকার সেটা ‘আমরা পালন করা হবে’ বলেও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

সূত্র: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম