ঢাকা ১০:১১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২৬, ২২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আজান পর্যন্ত সেহরি খেলে রোজা হবে কি না, জেনে নিন চট্টগ্রামে দরবেশকাটা সমিতির দোয়া ও ইফতার মাহফিল রাশিয়ার ফাঁদে ট্রাম্প! মধ্যপ্রাচ্যের নতুন ‘বাদশা’ ইরান? কলাতলীর সংঘর্ষের কারণ কি? সেন্ট মার্টিনের কাছে ধরা পড়ল পাঁচ মণ ওজনের বোল মাছ, বিক্রি ২ লাখ ৫৫ হাজার টাকায় রো‌হিঙ্গা‌দের ২৬ লাখ মার্কিন ডলারের সহায়তা দি‌চ্ছে জাপান নিজের পুরস্কার উৎসর্গ করলেন দর্শকদের উখিয়া–টেকনাফ জাতীয়তাবাদী ছাত্র ফোরামের ইফতার ও দোয়া মাহফিল সাবেক এমপি আবদুর রহমান বদির জামিন স্থগিত ঘুষের টাকা ফেরত চাওয়ায় মা-মেয়েকে মারধর, পরে ১ মাসের জেল রামুতে সংবাদ সংগ্রহকালে ডাকাত মালেকের হামলায় ৪ সাংবাদিক আহত উখিয়ার থাইংখালীতে পাহাড় কেটে সাবাড়, ড্রাম ট্রাক আটক মাদকের বিরুদ্ধে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশনা- ইয়াবা ও দুই সঙ্গীসহ পুলিশের জালে যুবদল নেতা সাংবাদিক আনিস আলমগীরের হাইকোর্টে জামিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হওয়ার পর প্রথমবার কক্সবাজারে আসছেন সালাহউদ্দিন আহমদ

সৈকতে বিজয়ের স্মৃতি আর উৎসবের রং : নারী উদ্যোক্তাদের সৃজনশীল প্রয়াস

  • আফজারা
  • আপডেট সময় : ০৭:৩৩:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫
  • 286

বিজয়ের চেতনায় রাঙা লাল-সবুজের ডিসেম্বর। সমুদ্রের ঢেউয়ের ছন্দে ছন্দ মিলিয়ে উৎসবের আমেজ কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের লাবণী পয়েন্টে। মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে এখানে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী বিজয় মেলা—যেখানে ইতিহাস, সংস্কৃতি আর উদ্যোক্তাদের সৃজনশীলতায় মিলেছে বিজয়ের আনন্দ।

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সমুদ্র সৈকতের লাবণী পয়েন্টে ১৬ থেকে ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত তিন দিনব্যাপী বিজয় মেলার আয়োজন করা হয়েছে। ১৬ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় আনুষ্ঠানিকভাবে মেলার শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নান। উদ্বোধনের পরপরই শুরু হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, যেখানে গান, নৃত্য ও আবৃত্তিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো মেলা প্রাঙ্গণ।

কক্সবাজার উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের অংশগ্রহণে মেলায় ২০টিরও বেশি স্টল স্থান পেয়েছে। স্টলগুলোতে রয়েছে বাহারি খাবার, কাপড়, শীতের শাল, হাতে তৈরি কাঁথা ও নানান শৈল্পিক পণ্য। দর্শনার্থীদের বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে রয়েছে বিখ্যাত ‘রাজা মামার চা’-এর স্টল, যেখানে ভিড় চোখে পড়ার মতো।

মেলার স্টলগুলোতে অংশগ্রহণকারী বেশিরভাগই নারী উদ্যোক্তা, যাদের নিজস্ব অনলাইন পেইজ ও উদ্যোগ রয়েছে। ‘বন্ধুতা’ নামের একটি পেইজের উদ্যোক্তা ফাতেমা ইসলাম জানান, তিনি কাপড়, মুক্তার তৈরি জুয়েলারি ও নিজের হাতে তৈরি গুড়া মসলা নিয়ে এই মেলায় অংশগ্রহণ করেছেন। তিনি বলেন,
“বিজয় মেলায় অংশ নিতে পেরে খুব ভালো লাগছে। এমন আয়োজন আমাদের মতো উদ্যোক্তাদের পণ্য মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার বড় সুযোগ তৈরি করে দেয়। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে কাজ করার অনুপ্রেরণা পাচ্ছি।”

অন্যদিকে, হোমমেড খাবার নিয়ে কাজ করা ‘ঘরোয়া স্বাদ’ পেইজের উদ্যোক্তা আফরিন সুমিও মেলায় অংশগ্রহণ করেছেন। তিনি বলেন,“ঘরে তৈরি খাবারের প্রতি মানুষের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। বিজয় মেলায় এসে সরাসরি ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পাচ্ছি, তাদের প্রতিক্রিয়া জানছি। আশা করছি এমন আয়োজন আমাদের উদ্যোগকে আরও এগিয়ে নিতে সহায়ক হবে।”

বিজয়ের স্মৃতি আর উৎসবের রঙে মোড়ানো এই মেলা শুধু কেনাকাটার আয়োজন নয়—এটি একাত্তরের চেতনায় ফিরে যাওয়ার এক মিলনমেলা। সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, নারী উদ্যোক্তাদের সৃজনশীল উদ্যোগ আর দর্শনার্থীদের প্রাণচাঞ্চল্যে লাবণী পয়েন্টের বিজয় মেলা পরিণত হয়েছে আনন্দ, ঐতিহ্য আর গৌরবের এক অনন্য উৎসবে।

ট্যাগ :

সৈকতে বিজয়ের স্মৃতি আর উৎসবের রং : নারী উদ্যোক্তাদের সৃজনশীল প্রয়াস

আপডেট সময় : ০৭:৩৩:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫

বিজয়ের চেতনায় রাঙা লাল-সবুজের ডিসেম্বর। সমুদ্রের ঢেউয়ের ছন্দে ছন্দ মিলিয়ে উৎসবের আমেজ কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের লাবণী পয়েন্টে। মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে এখানে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী বিজয় মেলা—যেখানে ইতিহাস, সংস্কৃতি আর উদ্যোক্তাদের সৃজনশীলতায় মিলেছে বিজয়ের আনন্দ।

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সমুদ্র সৈকতের লাবণী পয়েন্টে ১৬ থেকে ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত তিন দিনব্যাপী বিজয় মেলার আয়োজন করা হয়েছে। ১৬ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় আনুষ্ঠানিকভাবে মেলার শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নান। উদ্বোধনের পরপরই শুরু হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, যেখানে গান, নৃত্য ও আবৃত্তিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো মেলা প্রাঙ্গণ।

কক্সবাজার উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের অংশগ্রহণে মেলায় ২০টিরও বেশি স্টল স্থান পেয়েছে। স্টলগুলোতে রয়েছে বাহারি খাবার, কাপড়, শীতের শাল, হাতে তৈরি কাঁথা ও নানান শৈল্পিক পণ্য। দর্শনার্থীদের বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে রয়েছে বিখ্যাত ‘রাজা মামার চা’-এর স্টল, যেখানে ভিড় চোখে পড়ার মতো।

মেলার স্টলগুলোতে অংশগ্রহণকারী বেশিরভাগই নারী উদ্যোক্তা, যাদের নিজস্ব অনলাইন পেইজ ও উদ্যোগ রয়েছে। ‘বন্ধুতা’ নামের একটি পেইজের উদ্যোক্তা ফাতেমা ইসলাম জানান, তিনি কাপড়, মুক্তার তৈরি জুয়েলারি ও নিজের হাতে তৈরি গুড়া মসলা নিয়ে এই মেলায় অংশগ্রহণ করেছেন। তিনি বলেন,
“বিজয় মেলায় অংশ নিতে পেরে খুব ভালো লাগছে। এমন আয়োজন আমাদের মতো উদ্যোক্তাদের পণ্য মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার বড় সুযোগ তৈরি করে দেয়। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে কাজ করার অনুপ্রেরণা পাচ্ছি।”

অন্যদিকে, হোমমেড খাবার নিয়ে কাজ করা ‘ঘরোয়া স্বাদ’ পেইজের উদ্যোক্তা আফরিন সুমিও মেলায় অংশগ্রহণ করেছেন। তিনি বলেন,“ঘরে তৈরি খাবারের প্রতি মানুষের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। বিজয় মেলায় এসে সরাসরি ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পাচ্ছি, তাদের প্রতিক্রিয়া জানছি। আশা করছি এমন আয়োজন আমাদের উদ্যোগকে আরও এগিয়ে নিতে সহায়ক হবে।”

বিজয়ের স্মৃতি আর উৎসবের রঙে মোড়ানো এই মেলা শুধু কেনাকাটার আয়োজন নয়—এটি একাত্তরের চেতনায় ফিরে যাওয়ার এক মিলনমেলা। সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, নারী উদ্যোক্তাদের সৃজনশীল উদ্যোগ আর দর্শনার্থীদের প্রাণচাঞ্চল্যে লাবণী পয়েন্টের বিজয় মেলা পরিণত হয়েছে আনন্দ, ঐতিহ্য আর গৌরবের এক অনন্য উৎসবে।