ঢাকা ০১:২৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ৩০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রেন্ট বাইকের সাথে জড়িয়ে আছে কক্সবাজারের হাজারো মানুষ: তাদের পেটে লাথি দিবেন না- নয়ন মানবপাচারের অভিযোগে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ দেলোয়ার ও আক্তারের সীমিত জনবলেও তৎপর উখিয়া রেঞ্জ, বনউজাড় করতে গিয়ে ধরা পড়ল ২৬ রোহিঙ্গা বর্ষার আগেই শহরকে জলাবদ্ধতামুক্ত করতে মাঠ পর্যায়ে কঠোর অ্যাকশনে যাওয়ার নির্দেশ এমপি কাজলের টেকনাফ এখন ‘মৃত্যুপুরী’: সন্ত্রাস ও মাদক নির্মূলে যৌথ অভিযানের দাবিতে ছাত্র-জনতার মানববন্ধন টেকনাফে ৭.৬২ ক্যালিবার অস্ত্রসহ তিন ডাকাত আটক ৭ ইউনিয়ন নিয়ে নতুন ‘মাতামুহুরী’ উপজেলা গঠনের প্রস্তাব: প্রাক নিকার সভায় অন্তর্ভুক্ত প্রতারণার ফাঁদ ভাঙুন, মানব পাচার রুখুন সিএনজি তল্লাশিতে বিদেশি পিস্তল উদ্ধার, আটক ৩ লবণ মাঠে দূর্বৃত্তের তাণ্ডব,২ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি জামিনে মুক্ত হলেন বাউল শিল্পী আবুল সরকার বিয়ে করাটা ভুল সিদ্ধান্ত ছিল: অপু বিশ্বাস চৈত্র সংক্রান্তি: ইতিহাস, ঐতিহ্য ও বাঙালির সংস্কৃতির এক প্রাচীন ধারাবাহিকতা ইন্টারনেট সস্তা না হলে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব নয় : বিটিআরসি চেয়ারম্যান ভোরে ফুল তুলতে যাওয়া বৃদ্ধকে জবাই করে হত্যা, অভিযুক্তের আত্মসমর্পণ

বিশ্ব নার্স দিবস আজ

আজ পালিত হচ্ছে বিশ্ব নার্স দিবস। এবারের প্রতিপাদ্য ‘আমাদের নার্সরা আমাদের ভবিষ্যৎ : নার্সদের যত্ন অর্থনীতিকে শক্তিশালী করে’।

দেশে নিবন্ধিত নার্স আছেন এক লাখ তিন হাজার ১৫১ জন। অথচ জনসংখ্যা অনুপাতে প্রয়োজন তিন লাখের বেশি নার্স।

ফলে প্রয়োজনের মাত্র ৩৪ শতাংশ নার্স দিয়ে চলছে দেশের স্বাস্থ্যসেবা, যা সেবার মানে চরম সংকট তৈরি করছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এতে শুধু রোগীরাই সঠিক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে না, একেকজন নার্সকে গড়ে দ্বিগুণের বেশি কাজ করতে হচ্ছে। তাতে চাপ বাড়ছে তাঁদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও।

উল্টো চিত্র : বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, একজন চিকিৎসকের বিপরীতে তিনজন নার্স থাকা আদর্শ।

কিন্তু বাংলাদেশে চিত্রটা প্রায় উল্টো—একজন নার্সকে কাজ করতে হয় তিনজন চিকিৎসকের সঙ্গে। আবার প্রতি পাঁচজন রোগীর জন্য একজন নার্স থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে একজন নার্সকে সামলাতে হয় শতাধিক রোগী। এতে কাজের চাপ যেমন বাড়ছে, তেমনি স্বাস্থ্যসেবার মানও প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।

সংকটের গভীরে অবহেলা : সোসাইটি ফর নার্সেস সেফটি অ্যান্ড রাইটসের (এসএনএসআর) মহাসচিব সাব্বির মাহমুদ তিহান বলেন, চিকিৎসকদের তুলনায় নার্সদের প্রতি মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি এখনো বৈষম্যমূলক।

তাঁর ভাষায়, ‘পেশাটি অবহেলিত। বেতন কাঠামো নিম্নমানের, পদোন্নতি নেই, অবসরে যাচ্ছেন অনেকে চাকরির শুরুর পদেই। ৯০ শতাংশ নার্সের জন্য নেই আবাসনব্যবস্থা। ঝুঁকি ভাতা এখনো চালু হয়নি। ধোলাই ভাতা মাত্র ২১৯ টাকা!’

সাব্বির মাহমুদ তিহান বলেন, নার্সিং ইনস্টিটিউটগুলোতেও ঘাটতি।

অনেক প্রতিষ্ঠান সিনিয়র স্টাফ নার্সদের দিয়েই চলছে, যাঁরা অধ্যাপক বা প্রভাষকের দায়িত্ব পালন করছেন সংযুক্তি হিসেবে। যদিও গত বছর কিছু প্রভাষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
সংকটের পরিসংখ্যান : এসএনএসআরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে চিকিৎসক আছেন প্রায় এক লাখ ৩৪ হাজার। সে অনুযায়ী নার্স দরকার চার লাখ দুই হাজার। তবে নিবন্ধিত নার্স আছেন মাত্র এক লাখ ১০ হাজার, ঘাটতি প্রায় দুই লাখ ৯২ হাজার। প্রতিবছর সরকারি-বেসরকারি নার্সিং ইনস্টিটিউটে ৩৬ হাজার শিক্ষার্থী ভর্তি হলেও গড়ে মাত্র ১২ হাজার পেশায় যুক্ত হন।

‘দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেই’

বাংলাদেশ নার্সেস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি খান মো. গোলাম মোরশেদ বলেন, ‘রাষ্ট্রের কোনো সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা নেই। নার্স তৈরি হচ্ছে, কিন্তু কাজে লাগানো যাচ্ছে না।’ তিনি বলেন, ২০২১ সালের পর থেকে সরকারি চাকরিতে নার্স নিয়োগ বন্ধ। বিদেশে নার্সের চাহিদা থাকলেও উপযুক্ত নীতিমালা ও আইনি কাঠামোর অভাবে পাঠানো যাচ্ছে না।

গোলাম মোরশেদ আরো বলেন, ‘যথাযথ বেতন কাঠামো, মানসম্মত শিক্ষা এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নিশ্চিত না করলে নার্স সংকট নিরসন সম্ভব নয়।’

ধীরগতির উদ্যোগ

বাংলাদেশ নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কাউন্সিলের (বিএনএমসি) রেজিস্ট্রার হালিমা আক্তার বলেন, ‘নার্স সংকট দীর্ঘদিনের। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর ও কাউন্সিল একসঙ্গে কাজ করছে। তবে চাহিদার তুলনায় নার্স তৈরির হার অনেক কম। বিদেশে চাহিদা বাড়ায় সংকট আরো প্রকট হচ্ছে।’

স্বাস্থ্য খাত সংস্কার কমিশন এই সংকট নিরসনে বেশ কিছু সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে নার্সিং ও মিডওয়াইফারি শিক্ষাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা, গ্লোবাল কম্পিটেন্সি ফ্রেমওয়ার্ক গ্রহণ, নিয়মিত অ্যাক্রেডিটেশন ও মূল্যায়ন, নীতিমালাবহির্ভূত প্রতিষ্ঠান বন্ধ এবং মানসম্পন্ন প্রশিক্ষণের জন্য নিরীক্ষা ও অডিট কার্যক্রম চালু।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বাস্থ্য খাতের মূল ভিত্তি হিসেবে নার্সদের উপযুক্ত স্বীকৃতি ও মর্যাদা না দিলে শুধু সেবার মান নয়, পুরো ব্যবস্থাপনা হুমকির মুখে পড়বে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

রেন্ট বাইকের সাথে জড়িয়ে আছে কক্সবাজারের হাজারো মানুষ: তাদের পেটে লাথি দিবেন না- নয়ন

বিশ্ব নার্স দিবস আজ

আপডেট সময় : ১২:৪৭:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ মে ২০২৫

আজ পালিত হচ্ছে বিশ্ব নার্স দিবস। এবারের প্রতিপাদ্য ‘আমাদের নার্সরা আমাদের ভবিষ্যৎ : নার্সদের যত্ন অর্থনীতিকে শক্তিশালী করে’।

দেশে নিবন্ধিত নার্স আছেন এক লাখ তিন হাজার ১৫১ জন। অথচ জনসংখ্যা অনুপাতে প্রয়োজন তিন লাখের বেশি নার্স।

ফলে প্রয়োজনের মাত্র ৩৪ শতাংশ নার্স দিয়ে চলছে দেশের স্বাস্থ্যসেবা, যা সেবার মানে চরম সংকট তৈরি করছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এতে শুধু রোগীরাই সঠিক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে না, একেকজন নার্সকে গড়ে দ্বিগুণের বেশি কাজ করতে হচ্ছে। তাতে চাপ বাড়ছে তাঁদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও।

উল্টো চিত্র : বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, একজন চিকিৎসকের বিপরীতে তিনজন নার্স থাকা আদর্শ।

কিন্তু বাংলাদেশে চিত্রটা প্রায় উল্টো—একজন নার্সকে কাজ করতে হয় তিনজন চিকিৎসকের সঙ্গে। আবার প্রতি পাঁচজন রোগীর জন্য একজন নার্স থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে একজন নার্সকে সামলাতে হয় শতাধিক রোগী। এতে কাজের চাপ যেমন বাড়ছে, তেমনি স্বাস্থ্যসেবার মানও প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।

সংকটের গভীরে অবহেলা : সোসাইটি ফর নার্সেস সেফটি অ্যান্ড রাইটসের (এসএনএসআর) মহাসচিব সাব্বির মাহমুদ তিহান বলেন, চিকিৎসকদের তুলনায় নার্সদের প্রতি মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি এখনো বৈষম্যমূলক।

তাঁর ভাষায়, ‘পেশাটি অবহেলিত। বেতন কাঠামো নিম্নমানের, পদোন্নতি নেই, অবসরে যাচ্ছেন অনেকে চাকরির শুরুর পদেই। ৯০ শতাংশ নার্সের জন্য নেই আবাসনব্যবস্থা। ঝুঁকি ভাতা এখনো চালু হয়নি। ধোলাই ভাতা মাত্র ২১৯ টাকা!’

সাব্বির মাহমুদ তিহান বলেন, নার্সিং ইনস্টিটিউটগুলোতেও ঘাটতি।

অনেক প্রতিষ্ঠান সিনিয়র স্টাফ নার্সদের দিয়েই চলছে, যাঁরা অধ্যাপক বা প্রভাষকের দায়িত্ব পালন করছেন সংযুক্তি হিসেবে। যদিও গত বছর কিছু প্রভাষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
সংকটের পরিসংখ্যান : এসএনএসআরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে চিকিৎসক আছেন প্রায় এক লাখ ৩৪ হাজার। সে অনুযায়ী নার্স দরকার চার লাখ দুই হাজার। তবে নিবন্ধিত নার্স আছেন মাত্র এক লাখ ১০ হাজার, ঘাটতি প্রায় দুই লাখ ৯২ হাজার। প্রতিবছর সরকারি-বেসরকারি নার্সিং ইনস্টিটিউটে ৩৬ হাজার শিক্ষার্থী ভর্তি হলেও গড়ে মাত্র ১২ হাজার পেশায় যুক্ত হন।

‘দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেই’

বাংলাদেশ নার্সেস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি খান মো. গোলাম মোরশেদ বলেন, ‘রাষ্ট্রের কোনো সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা নেই। নার্স তৈরি হচ্ছে, কিন্তু কাজে লাগানো যাচ্ছে না।’ তিনি বলেন, ২০২১ সালের পর থেকে সরকারি চাকরিতে নার্স নিয়োগ বন্ধ। বিদেশে নার্সের চাহিদা থাকলেও উপযুক্ত নীতিমালা ও আইনি কাঠামোর অভাবে পাঠানো যাচ্ছে না।

গোলাম মোরশেদ আরো বলেন, ‘যথাযথ বেতন কাঠামো, মানসম্মত শিক্ষা এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নিশ্চিত না করলে নার্স সংকট নিরসন সম্ভব নয়।’

ধীরগতির উদ্যোগ

বাংলাদেশ নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কাউন্সিলের (বিএনএমসি) রেজিস্ট্রার হালিমা আক্তার বলেন, ‘নার্স সংকট দীর্ঘদিনের। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর ও কাউন্সিল একসঙ্গে কাজ করছে। তবে চাহিদার তুলনায় নার্স তৈরির হার অনেক কম। বিদেশে চাহিদা বাড়ায় সংকট আরো প্রকট হচ্ছে।’

স্বাস্থ্য খাত সংস্কার কমিশন এই সংকট নিরসনে বেশ কিছু সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে নার্সিং ও মিডওয়াইফারি শিক্ষাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা, গ্লোবাল কম্পিটেন্সি ফ্রেমওয়ার্ক গ্রহণ, নিয়মিত অ্যাক্রেডিটেশন ও মূল্যায়ন, নীতিমালাবহির্ভূত প্রতিষ্ঠান বন্ধ এবং মানসম্পন্ন প্রশিক্ষণের জন্য নিরীক্ষা ও অডিট কার্যক্রম চালু।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বাস্থ্য খাতের মূল ভিত্তি হিসেবে নার্সদের উপযুক্ত স্বীকৃতি ও মর্যাদা না দিলে শুধু সেবার মান নয়, পুরো ব্যবস্থাপনা হুমকির মুখে পড়বে।