ঢাকা ০৪:০৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কক্সবাজার -০৪: উখিয়া-টেকনাফের ভোটার কতো,ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র কয়টি? কক্সবাজার -০৩: সদর-রামু-ঈদগাঁওর ভোটার কতো,ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র কয়টি? কক্সবাজার-০২: মহেশখালী-কুতুবদিয়ায় ভোটার কতো,ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র কয়টি কক্সবাজার ০১- : চকরিয়া-পেকুয়া উপজেলায় ভোটার কতো, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র কয়টি? নির্বাচনকালীন সাংবাদিকদের সুরক্ষায় কক্সবাজারে ক্র্যাকের ‘জরুরি সহায়তা সেল’ গঠন প্রার্থীরা কে কোথায় ভোট দেবেন? কোনো অবস্থাতেই নির্বাচনের মাঠ ছাড়বে না জামায়াত গুলশানে ভোট দেবেন প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচনে নারীদের নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অংশগ্রহণ চায় জাতিসংঘ টেকনাফে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের নির্বাচনী কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ নির্বাচন সামনে রেখে কক্সবাজারে সম্মুখ সারির ৬জুলাই যোদ্ধার ছাত্রদলে যোগদান ​কক্সবাজার-৩ আসনে জগদীশ বড়ুয়ার সমর্থন প্রত্যাহার করলো লেবার পার্টি পর্যবেক্ষক ও গণমাধ্যমকর্মী কেন্দ্রে স্বাধীনভাবে তথ্য সংগ্রহ করতে পারবে নির্বাচন: কেন্দ্রে যাচ্ছে ব্যালট পেপার ৪ টি আসনে কেন্দ্র ৫৯৮,কক্ষ ৩,৬৮৯, পোলিং প্রিসাইডিং ১২,২৫১,আইনশৃঙ্খলা সদস্য ১৩,৪৯৯

বিজয়ের আনন্দে মুখরিত কক্সবাজার

৫৪ তম বিজয় দিবসে দেশের পর্যটন রাজধানী খ্যাত কক্সবাজার পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে। মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) সরকারি ছুটির দিনে দেশের বিভিন্নপ্রান্ত থেকে ছুটে এসেছেন বিপুল পরিমাণ পর্যটক।

বিশ্বের অন্যতম দীর্ঘ সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে সকাল থেকেই মানুষের ভীড় লক্ষ্য করা গেছে, পড়ন্ত সন্ধ্যায় কলাতলী,লাবণী ও সুগন্ধা পয়েন্টে সমাগম ছিলো চোখে পড়ার মতো।

বিজয় দিবস উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের বিশেষ আয়োজনের মধ্যে সৈকতের লাবণী পয়েন্টে সার্ফিং ও জেটস্কি প্রদর্শনী দর্শনার্থীদের নজর কেড়েছে।

এছাড়াও সন্ধ্যায় সৈকতের লাবনী পয়েন্টে শুরু হয়েছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং উদ্বোধন করা হয়েছে তিন দিনব্যাপী বিজয় মেলা। রাতে উন্মুক্ত স্থানে রয়েছে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র প্রদর্শনী।

জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নান বলেন,’ কক্সবাজারে উৎসবমুখর পরিবেশে বিজয় দিবস উদযাপিত হচ্ছে, বিপুল জনসমাগম হয়েছে। জনসাধারণ ও আগত পর্যটকদের বিজয় উদযাপন যেন নিরাপদ-নির্বিঘ্নে হয় সে লক্ষ্যে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।’

কক্সবাজার ভ্রমণের পাশাপাশি বিজয়ের এই আনন্দ উদযাপন আগত পর্যটকদের মাঝে যোগ করেছে ভিন্ন মাত্রা। বরিশালের পিরোজপুরে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন মাসুমুল কবির, সহকর্মীদের সাথে নিয়ে এসেছেন বেড়াতে।

তিনি বলেন, ‘ দেশের মধ্যে ঘুরতে আসার সেরা স্থান হচ্ছে কক্সবাজার। অফিসের কলিগদের নিয়ে এসেছি ভালো লাগছেই, আজকে বিজয় দিবস চারদিকে যেন উৎসবমুখর পরিবেশ।’

সৈকতে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অবলোকনে তৃপ্তি পেলেও ব্যবস্থাপনা ও অতিরিক্ত খরচ নিয়ে কিছু পর্যটকদের মাঝে অসন্তুষ্টি দেখা গেছে।

ঢাকার বাড্ডা থেকে আসা আরিফুজ্জামান বলেন, ‘ কক্সবাজারকে কেন ব্যয়বহুল শহর বলা হয় এখানে এসে বুঝলাম, রুমের ভাড়া থেকে শুরু করে সবকিছুর দাম বেশি। তার উপর অটোভাড়া দিতে দিতে শেষ হয়ে যাচ্ছি আর বিচে নানারকম উৎপাত তো আছেই, এসব নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের কঠোর হওয়া উচিত।’

পর্যটন মৌসুমে ডিসেম্বরের শুরু দিকে পর্যটক কিছুটা কম থাকলেও মাসের মাঝ সময়ে এসে দিন দিন সে সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় চাঙ্গা হয়ে উঠেছে পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসা খাত, ব্যস্ত সময় পার করছেন ব্যবসায়ীরা।

হোটেল মোটেল মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার বলেন, ‘ আজকে কোথাও রুম খালি নাই বললেই চলে, ২৫ ডিসেম্বরও একি অবস্থা হবে। ছুটির দিনে চাপ বেশি থাকে, এই মৌসুমের শুরুতে কম আসলেও এখন ঠিকই বিপুল সংখ্যক পর্যটক আসছেন। ‘

হোটেল রুমের অতিরিক্ত ভাড়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ সমিতির আওতাধীন সকল হোটেলকে নির্দেশনা দেওয়া আছে যেন অতিরিক্ত ভাড়া নিয়ে বা অন্য কোনভাবে পর্যটকদের হয়রানি করা না হয়। আমরা চাই কক্সবাজার আরো পর্যটকবান্ধব হয়ে উঠুক।’

পর্যটক ভোগান্তি রোধের পাশাপাশি সার্বিক নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে টুরিস্ট পুলিশ নিয়মিত তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার রিজিয়নের অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ।

তিনি বলেন, ‘আমাদের ফার্স্ট প্রায়োরিটি হচ্ছে পর্যটকদের জন্য হয়রানিমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা আর সে লক্ষ্যেই আমরা নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের কাচ কেউ কোন অভিযোগ বা সহযোগিতা চাইলে আমরা দ্রুত সাড়া দিচ্ছি।’

পর্যটকদের জন্য নির্ধারিত হেল্পলাইন- ০১৩২০১৬০০০০ নাম্বারে যোগাযোগ করলে টুরিস্ট পুলিশের সহায়তা পাওয়া যাবে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

কক্সবাজার -০৪: উখিয়া-টেকনাফের ভোটার কতো,ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র কয়টি?

This will close in 6 seconds

বিজয়ের আনন্দে মুখরিত কক্সবাজার

আপডেট সময় : ০৭:০৬:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫

৫৪ তম বিজয় দিবসে দেশের পর্যটন রাজধানী খ্যাত কক্সবাজার পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে। মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) সরকারি ছুটির দিনে দেশের বিভিন্নপ্রান্ত থেকে ছুটে এসেছেন বিপুল পরিমাণ পর্যটক।

বিশ্বের অন্যতম দীর্ঘ সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে সকাল থেকেই মানুষের ভীড় লক্ষ্য করা গেছে, পড়ন্ত সন্ধ্যায় কলাতলী,লাবণী ও সুগন্ধা পয়েন্টে সমাগম ছিলো চোখে পড়ার মতো।

বিজয় দিবস উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের বিশেষ আয়োজনের মধ্যে সৈকতের লাবণী পয়েন্টে সার্ফিং ও জেটস্কি প্রদর্শনী দর্শনার্থীদের নজর কেড়েছে।

এছাড়াও সন্ধ্যায় সৈকতের লাবনী পয়েন্টে শুরু হয়েছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং উদ্বোধন করা হয়েছে তিন দিনব্যাপী বিজয় মেলা। রাতে উন্মুক্ত স্থানে রয়েছে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র প্রদর্শনী।

জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নান বলেন,’ কক্সবাজারে উৎসবমুখর পরিবেশে বিজয় দিবস উদযাপিত হচ্ছে, বিপুল জনসমাগম হয়েছে। জনসাধারণ ও আগত পর্যটকদের বিজয় উদযাপন যেন নিরাপদ-নির্বিঘ্নে হয় সে লক্ষ্যে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।’

কক্সবাজার ভ্রমণের পাশাপাশি বিজয়ের এই আনন্দ উদযাপন আগত পর্যটকদের মাঝে যোগ করেছে ভিন্ন মাত্রা। বরিশালের পিরোজপুরে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন মাসুমুল কবির, সহকর্মীদের সাথে নিয়ে এসেছেন বেড়াতে।

তিনি বলেন, ‘ দেশের মধ্যে ঘুরতে আসার সেরা স্থান হচ্ছে কক্সবাজার। অফিসের কলিগদের নিয়ে এসেছি ভালো লাগছেই, আজকে বিজয় দিবস চারদিকে যেন উৎসবমুখর পরিবেশ।’

সৈকতে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অবলোকনে তৃপ্তি পেলেও ব্যবস্থাপনা ও অতিরিক্ত খরচ নিয়ে কিছু পর্যটকদের মাঝে অসন্তুষ্টি দেখা গেছে।

ঢাকার বাড্ডা থেকে আসা আরিফুজ্জামান বলেন, ‘ কক্সবাজারকে কেন ব্যয়বহুল শহর বলা হয় এখানে এসে বুঝলাম, রুমের ভাড়া থেকে শুরু করে সবকিছুর দাম বেশি। তার উপর অটোভাড়া দিতে দিতে শেষ হয়ে যাচ্ছি আর বিচে নানারকম উৎপাত তো আছেই, এসব নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের কঠোর হওয়া উচিত।’

পর্যটন মৌসুমে ডিসেম্বরের শুরু দিকে পর্যটক কিছুটা কম থাকলেও মাসের মাঝ সময়ে এসে দিন দিন সে সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় চাঙ্গা হয়ে উঠেছে পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসা খাত, ব্যস্ত সময় পার করছেন ব্যবসায়ীরা।

হোটেল মোটেল মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার বলেন, ‘ আজকে কোথাও রুম খালি নাই বললেই চলে, ২৫ ডিসেম্বরও একি অবস্থা হবে। ছুটির দিনে চাপ বেশি থাকে, এই মৌসুমের শুরুতে কম আসলেও এখন ঠিকই বিপুল সংখ্যক পর্যটক আসছেন। ‘

হোটেল রুমের অতিরিক্ত ভাড়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ সমিতির আওতাধীন সকল হোটেলকে নির্দেশনা দেওয়া আছে যেন অতিরিক্ত ভাড়া নিয়ে বা অন্য কোনভাবে পর্যটকদের হয়রানি করা না হয়। আমরা চাই কক্সবাজার আরো পর্যটকবান্ধব হয়ে উঠুক।’

পর্যটক ভোগান্তি রোধের পাশাপাশি সার্বিক নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে টুরিস্ট পুলিশ নিয়মিত তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার রিজিয়নের অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ।

তিনি বলেন, ‘আমাদের ফার্স্ট প্রায়োরিটি হচ্ছে পর্যটকদের জন্য হয়রানিমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা আর সে লক্ষ্যেই আমরা নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের কাচ কেউ কোন অভিযোগ বা সহযোগিতা চাইলে আমরা দ্রুত সাড়া দিচ্ছি।’

পর্যটকদের জন্য নির্ধারিত হেল্পলাইন- ০১৩২০১৬০০০০ নাম্বারে যোগাযোগ করলে টুরিস্ট পুলিশের সহায়তা পাওয়া যাবে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।