ঢাকা ০৩:২২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৩০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শাহজাহান চৌধুরীর তাক লাগানো বিজয় ‘আল্লাহ হলেন সহায়’ ‘পরীক্ষিত সন্তান’ কাজলের বাজিমাত দুই দ্বীপে তৃতীয়বার ভিড়ল আলমগীর ফরিদের জয়ের তরী! ‘বিএনপি বিজয় উল্লাস করবে না, দায়িত্ব বেশি’ – ৪র্থ বার জয়ের পর সালাহউদ্দিন আহমদ কক্সবাজারে ভোট গ্রহন হয়েছে ৫০ শতাংশ কক্সবাজার-১ আসনে ঐতিহাসিক বিজয়: সালাহউদ্দিন আহমেদকে ফুলেল শুভেচ্ছা লায়ন মোহাম্মদ মুজিবুর রহমানের কক্সবাজারের ৪ টি আসনেই বিএনপির জয় জয়কার.. ১৭ বছর পর সংসদে ফিরছেন লুৎফুর রহমান কাজল দুপুর ২টা পর্যন্ত ভোট পড়েছে ৪৭.৯১ শতাংশ : ইসি সচিব সিইসির সঙ্গে বৈঠকে ১১ দলীয় জোট দুপুর ২টা পর্যন্ত সারাদেশে ৪৮৬টি বিশৃঙ্খলা, জালভোট ৫৯টি রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় কঠোর সেনাবাহিনী, মোড়ে মোড়ে তল্লাশি ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং হলে ফলাফল না মানার হুঁশিয়ারি মির্জা আব্বাসের একে অপরকে জড়িয়ে ধরলেন শাহজাহান ও আনোয়ারী ভোট দিলেন সেনাপ্রধান

বাঁকখালী তীরে মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ: সময়ের নির্মম অথচ বাস্তব প্রতিচ্ছবি..

কক্সবাজারের বাঁকখালী নদী দখলমুক্ত করতে চলছে ব্যাপক উচ্ছেদ অভিযান। দিনভর নদীর তীরে ভাঙনের শব্দে কেঁপে উঠছে এলাকা। বহু বছরের গড়ে ওঠা ঘরবাড়ি মুহূর্তেই পরিণত হচ্ছে ধ্বংসস্তূপে। ভাঙা দেয়ালের পাশে দাঁড়িয়ে কেউ শোকে অশ্রু ফেলছে, কেউ আবার চিৎকার করে বলছে—“আমরা তো খতিয়ানভুক্ত জমির মালিক, ঘর না ভেঙে আমাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করুন।”

এদিকে ভাঙন ঠেকাতে স্থানীয়দের প্রবল প্রতিরোধও চোখে পড়েছে। কেউ সড়ক অবরোধ করেছে, কেউ ঠেলাগাড়ি ফেলে পথ রুদ্ধ করেছে, আবার কেউ খননযন্ত্র ঘিরে দাঁড়িয়ে দিয়েছে প্রতিবাদের দেয়াল। অনেকের কণ্ঠে শোনা যাচ্ছে হতাশা—“রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিলেন, অথচ আমরা যারা এখানে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে আছি, আমাদেরই উচ্ছেদ করছেন। পুনর্বাসন ছাড়া ঘর হারানো মানে মৃত্যু।”

অভিযানের এ অস্থির মুহূর্তে অন্য প্রান্তে দেখা যায় ভিন্ন দৃশ্য। নদীর ধারে শরতের আগমনী বার্তায় ফুটে থাকা কাশবনে জড়ো হয়েছে তরুণ-তরুণী, পরিবার ও পর্যটকরা। কারো হাতে ক্যামেরা, কারো হাতে মোবাইল। কাশফুলের সাদা সমুদ্রকে পেছনে রেখে চলছে হাসি-আনন্দে ভরা ছবি তোলা। কেউ প্রেমময় ভঙ্গিতে পোজ দিচ্ছে, কেউবা বন্ধুদের সঙ্গে মেতে উঠেছে নিছক আনন্দে।

একই জায়গায় এ দুই ছবি যেন জীবনের নির্মম বৈপরীত্য। একদিকে ঘর হারানোর বেদনায় বুকভাঙা কান্না, অন্যদিকে ধ্বংসস্তূপ থেকে কয়েক গজ দূরেই হাসি-খুশির উল্লাসে ছবি তোলার ভিড়। প্রকৃতির সৌন্দর্য ও মানব জীবনের বেদনা একই নদীর তীরে একসাথে মিলেমিশে গেছে।

এ যেন মুদ্রার এপিঠ আর ওপিঠ। বাঁকখালীর বুকে একসাথে দাঁড়িয়ে আছে কান্না আর হাসি, ধ্বংস আর সৃষ্টির ছবি—সময়ের নির্মম অথচ বাস্তব প্রতিচ্ছবি।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

This will close in 6 seconds

বাঁকখালী তীরে মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ: সময়ের নির্মম অথচ বাস্তব প্রতিচ্ছবি..

আপডেট সময় : ০৮:৫০:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫

কক্সবাজারের বাঁকখালী নদী দখলমুক্ত করতে চলছে ব্যাপক উচ্ছেদ অভিযান। দিনভর নদীর তীরে ভাঙনের শব্দে কেঁপে উঠছে এলাকা। বহু বছরের গড়ে ওঠা ঘরবাড়ি মুহূর্তেই পরিণত হচ্ছে ধ্বংসস্তূপে। ভাঙা দেয়ালের পাশে দাঁড়িয়ে কেউ শোকে অশ্রু ফেলছে, কেউ আবার চিৎকার করে বলছে—“আমরা তো খতিয়ানভুক্ত জমির মালিক, ঘর না ভেঙে আমাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করুন।”

এদিকে ভাঙন ঠেকাতে স্থানীয়দের প্রবল প্রতিরোধও চোখে পড়েছে। কেউ সড়ক অবরোধ করেছে, কেউ ঠেলাগাড়ি ফেলে পথ রুদ্ধ করেছে, আবার কেউ খননযন্ত্র ঘিরে দাঁড়িয়ে দিয়েছে প্রতিবাদের দেয়াল। অনেকের কণ্ঠে শোনা যাচ্ছে হতাশা—“রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিলেন, অথচ আমরা যারা এখানে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে আছি, আমাদেরই উচ্ছেদ করছেন। পুনর্বাসন ছাড়া ঘর হারানো মানে মৃত্যু।”

অভিযানের এ অস্থির মুহূর্তে অন্য প্রান্তে দেখা যায় ভিন্ন দৃশ্য। নদীর ধারে শরতের আগমনী বার্তায় ফুটে থাকা কাশবনে জড়ো হয়েছে তরুণ-তরুণী, পরিবার ও পর্যটকরা। কারো হাতে ক্যামেরা, কারো হাতে মোবাইল। কাশফুলের সাদা সমুদ্রকে পেছনে রেখে চলছে হাসি-আনন্দে ভরা ছবি তোলা। কেউ প্রেমময় ভঙ্গিতে পোজ দিচ্ছে, কেউবা বন্ধুদের সঙ্গে মেতে উঠেছে নিছক আনন্দে।

একই জায়গায় এ দুই ছবি যেন জীবনের নির্মম বৈপরীত্য। একদিকে ঘর হারানোর বেদনায় বুকভাঙা কান্না, অন্যদিকে ধ্বংসস্তূপ থেকে কয়েক গজ দূরেই হাসি-খুশির উল্লাসে ছবি তোলার ভিড়। প্রকৃতির সৌন্দর্য ও মানব জীবনের বেদনা একই নদীর তীরে একসাথে মিলেমিশে গেছে।

এ যেন মুদ্রার এপিঠ আর ওপিঠ। বাঁকখালীর বুকে একসাথে দাঁড়িয়ে আছে কান্না আর হাসি, ধ্বংস আর সৃষ্টির ছবি—সময়ের নির্মম অথচ বাস্তব প্রতিচ্ছবি।