ঢাকা ০৫:৪২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রতিকূলতার ভেতর দাঁড়িয়ে থাকা সাংবাদিকতার এক অনন্য পাঠশালা একই ঘটনায় দুটি করে হত্যা মামলা: হাসিনা-কাদেরসহ ৪৯৪ জনকে অব্যাহতি ছয় পেরিয়ে সাতে টিটিএন: তথ্য ও সত্যের মেলবন্ধন কক্সবাজারে প্রয়াত ইরানী নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনির গায়েবানা জানাজা চকরিয়ায় অবৈধ বালু উত্তোলন: অর্থদণ্ড, বালু ও সরঞ্জাম জব্দ ইরানের হামলায় আরব আমিরাতে এক বাংলাদেশিসহ নিহত ৩ গ্যাস পাম্পের আগুনে দগ্ধ আবু তাহের মারা গেছেন, মরদেহ কক্সবাজারের পথে জুলাই অভ্যুত্থানে পুলিশ নিহতের ঘটনা তদন্তের সুযোগ নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মেরিন ড্রাইভে জিপের ধাক্কায় প্রাণ গেল মোটরসাইকেল আরোহীর ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী-সেনাপ্রধান নিহত, নিশ্চিত করল তেহরান অগ্নিঝরা মার্চ: এ মাসেই জেগে উঠেছিল বাঙালি মার্চ মাসের জন্য অপরিবর্তিত জ্বালানি তেলের দাম আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি: চাপের মুখে মাথা নত না করা ইরানি নেতা শাহ আমানত বিমানবন্দর থেকে মধ্যপ্রাচ্যের ১০ ফ্লাইট বাতিল উত্তরসূরি ঠিক করে গেছেন খামেনি নিজেই, কে তিনি?
চাপ, হুমকি আর সত্যের পথে টিটিএনের ছয় বছর

প্রতিকূলতার ভেতর দাঁড়িয়ে থাকা সাংবাদিকতার এক অনন্য পাঠশালা

কলাম:

সাংবাদিকতা মানেই চ্যালেঞ্জিং একটি পেশা। সত্য তুলে ধরা, তথ্য যাচাই করা এবং জনস্বার্থ রক্ষা করা এইসব দায়িত্ব সাংবাদিকদের প্রতিনিয়ত কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি দাঁড় করায়। আর যখন সেই সাংবাদিকতা হয় মফস্বলে, তখন চ্যালেঞ্জের মাত্রা যেন আরও কয়েক গুণ বেড়ে যায়। সীমিত সুযোগ-সুবিধা, নানা ধরনের সামাজিক চাপ এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি, সবকিছু মিলিয়ে মফস্বলের সাংবাদিকদের পথচলা একদমই সহজ নয়।

জাতীয় আর ভূরাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল কক্সবাজার । সীমান্তবর্তী এলাকা, বিশাল রোহিঙ্গা ক্যাম্প এবং পর্যটননির্ভর অর্থনীতি; সব মিলিয়ে এই জেলাটি সব সময়ই সংবেদনশীল। কক্সবাজার ছোট একটি জেলা হলেও এখানে প্রতিনিয়ত মারামারি, খুন-খারাপি, জমি দখল, হামলা-মামলার মতো নানা ঘটনা ঘটে চলেছে। আর সামাজিক ও পারিবারিকভাবে মানুষেরা একে অপরের সঙ্গে কোনো না কোনোভাবে পরিচিত, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।

এমন বাস্তবতায় আজকে থেকে ৬ বছর আগে টিটিএন সুচনা হয়। তখন কক্সবাজারে অনলাইন সাংবাদিকতা কিংবা মোবাইল সাংবাদিকতার এত প্রসার ছিল না। ভিডিও ভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম হিসেবে প্রথম টিটিএন এর যাত্রা শুরু হয় । এই পথচলার অর্ধযুগ খুব একটা সহজ ছিল না। খুব কাছ থেকে দেখেছি সংবাদ মাধ্যম হিসেবে টিটিএন যখন কোনো ঘটনা তুলে ধরে; তখন নানা ধরনের চাপ, অনুরোধ আর হুমকি সামলাতে হয়। ভুক্তভোগী আর অভিযুক্ত, দুই পক্ষের বক্তব্য তুলে ধরা সাংবাদিকতার নৈতিক দায়িত্ব। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, অনেক সময় নিরপেক্ষভাবে সংবাদ প্রকাশ করতে গিয়ে টিটিএন বিনা কারণেই মানুষের শত্রুতে পরিণত হয়। ভুল বোঝাবুঝি, গুজব এবং আবেগপ্রবণ প্রতিক্রিয়ার কারণে সংবাদ মাধ্যমে টিটিএন’কে প্রায়ই অনাকাঙ্ক্ষিত ঝুঁকির মুখে পড়তে হয়েছে।

প্রতিষ্ঠার অল্প কিছু সময় পরই আমি টিটিএন-এর সঙ্গে যুক্ত হই, যদিও এর অনেক আগেই আমার সাংবাদিকতার পথচলা শুরু হয়েছিল। টিটিএন আমার কাছে শুধু একটি কর্মস্থল ছিল না, বরং একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। সাংবাদিকতার পাঠ আমি এখান থেকেই পূর্ণতা পেয়েছি। এই প্ল্যাটফর্মে কাজ করতে গিয়ে আমি মাদকের অপব্যবহার, মাদক ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য, প্রশাসনের চোখ রাঙানি এবং সমাজের নানা অসংগতির বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে কাজ করেছি। একই সঙ্গে জনকল্যাণমুখী বিভিন্ন উদ্যোগ, রোহিঙ্গা সংকট, সীমান্ত অস্থিরতা এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নানা বিষয় নিয়েও নিয়মিত কাজ করার সুযোগ হয়েছে।

কাজ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছি, মিথ্যা মামলায় জড়ানো হয়েছে, পেয়েছি অসংখ্য হুমকি-ধামকি আর জীবনের ঝুঁকি তো ছিলই প্রতিনিয়ত। তবুও সত্য ও জনস্বার্থের পক্ষে কাজ করার অঙ্গীকার থেকে কখনো সরে আসিনি। প্রতিটি বাধা আমাকে আরও দৃঢ় করেছে এবং সাংবাদিকতা পেশার প্রতি আমার দায়বদ্ধতা আরও গভীর করেছে। টিটিএন থেকে সাংবাদিকতার পাঠ নিয়ে মফস্বল থেকে আজ দেশের প্রথম সারির গণমাধ্যমে কাজ করছি। প্রতিনিয়ত তীব্র প্রতিযোগিতার এই অঙ্গনে নিজের অবস্থান ধরে রাখতে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি এবং পেশাগত উৎকর্ষ অর্জনের লক্ষ্যে নিরন্তর পরিশ্রম করে যাচ্ছি।

সমসাময়িক চ্যালেঞ্জ :

প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার মাধ্যমে টিটিএন কক্সবাজারে শহরের সীমানা পেরিয়ে একেবারে প্রত্যন্ত অঞ্চলে পৌঁছে যায়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি মানুষের আস্থার নির্ভরযোগ্য জায়গায় পরিণত হয়। দিন যত গড়িয়েছে, টিটিএনকে ঘিরে মানুষের প্রত্যাশার পারদও ততই বেড়েছে। সাথে ছিল মানুষের অনুরোধ, চাপ আর হুমকি ধামকি।

মফস্বলের নানান অনুরোধ, চাপ এবং হুমকি ধামকি সামলাতে গিয়ে টিটিএনকে অনেক সময়ই কিছু মানুষের কাছে কিংবা সমাজের নির্দিষ্ট অংশের কাছে শত্রুতে পরিণত হতে হয়েছে। আর এর মূল্যও প্রায়শই চুকাতে হয়েছে। কিন্তু সাংবাদিকতার বস্তুনিষ্ঠতার মানদণ্ডে সবসময় অটল ও অবিচল থেকেছে কক্সবাজারের প্রত্যেক শ্রেণির মানুষের কাছে অন্যতম জনপ্রিয়, বহুল প্রচারিত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম ‘দ্যা ট্যারিটোরিয়াল নিউজ (টিটিএন)। মানুষের আস্থা ও গ্রহণযোগ্যতার প্রমাণ হিসেবে এই মাধ্যমটিকে ঘিরে রয়েছে শত শত উদাহরণ।

আমি জানি না কতজন সাংবাদিক ক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জ করে সাংবাদিকতায় টিকে থাকতে পারেন। তবে শতভাগ নিশ্চিত হয়ে বলা যায়, এই সময়ে এসে ক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে কোনো গণমাধ্যমের টিকে থাকা অত্যন্ত কঠিন। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সবাই কোনো না কোনো এজেন্ডা বাস্তবায়নে বাধ্য হয়। আর বিষয়টি যদি মফস্বলের সংবাদমাধ্যমের ক্ষেত্রে হয়, তাহলে সেই চ্যালেঞ্জ আরও বহুগুণ কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, একসময় সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হতো, তারা আওয়ামী লীগের দালালি করে। সময়ের পালাবদলে এখন আবার একই সাংবাদিকদের বিরুদ্ধেই শোনা যায় বিএনপির দালালি করার অভিযোগ। অর্থাৎ, পক্ষপাতের তকমা বদলায়, কিন্তু সাংবাদিকদের প্রতি এই ধরনের সন্দেহ ও অভিযোগ যেন থেকেই যায়। বাস্তবতা হলো, সাংবাদিকতা করতে গেলেই কোনো না কোনো পক্ষের অসন্তোষের মুখে পড়তে হবেই।

সবশেষে বলতে চাই, টিটিএন কেবল একটি সংবাদমাধ্যম নয়, এটি সাংবাদিক তৈরির এক প্রাণবন্ত পাঠশালা। এখান থেকে কাজের হাতেখড়ি নেওয়া অসংখ্য সাংবাদিক আজ দেশের প্রথম সারির গণমাধ্যমে, এমনকি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও সাফল্যের সঙ্গে নিজেদের অবস্থান দৃঢ় করেছেন। মেধা, দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের স্বাক্ষর রেখে তারা গড়ে তুলেছেন স্বতন্ত্র পরিচয়। এই অর্জনই প্রমাণ করে টিটিএন শুধু সংবাদ প্রকাশ করেনি, বরং সৃষ্টি করেছে সক্ষম, সচেতন ও আত্মবিশ্বাসী সাংবাদিকের একটি শক্তিশালী প্রজন্ম। আর এই প্রজন্মই আগামীর সাংবাদিকতায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। আর সমৃদ্ধ হবে কক্সবাজারের টিটিএন।

সানজীদুল আলম সজীব,

নিউজরুম এডিটর,ডিবিসি নিউজ,ঢাকা।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

প্রতিকূলতার ভেতর দাঁড়িয়ে থাকা সাংবাদিকতার এক অনন্য পাঠশালা

This will close in 6 seconds

চাপ, হুমকি আর সত্যের পথে টিটিএনের ছয় বছর

প্রতিকূলতার ভেতর দাঁড়িয়ে থাকা সাংবাদিকতার এক অনন্য পাঠশালা

আপডেট সময় : ০৩:৪৭:১৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬

কলাম:

সাংবাদিকতা মানেই চ্যালেঞ্জিং একটি পেশা। সত্য তুলে ধরা, তথ্য যাচাই করা এবং জনস্বার্থ রক্ষা করা এইসব দায়িত্ব সাংবাদিকদের প্রতিনিয়ত কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি দাঁড় করায়। আর যখন সেই সাংবাদিকতা হয় মফস্বলে, তখন চ্যালেঞ্জের মাত্রা যেন আরও কয়েক গুণ বেড়ে যায়। সীমিত সুযোগ-সুবিধা, নানা ধরনের সামাজিক চাপ এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি, সবকিছু মিলিয়ে মফস্বলের সাংবাদিকদের পথচলা একদমই সহজ নয়।

জাতীয় আর ভূরাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল কক্সবাজার । সীমান্তবর্তী এলাকা, বিশাল রোহিঙ্গা ক্যাম্প এবং পর্যটননির্ভর অর্থনীতি; সব মিলিয়ে এই জেলাটি সব সময়ই সংবেদনশীল। কক্সবাজার ছোট একটি জেলা হলেও এখানে প্রতিনিয়ত মারামারি, খুন-খারাপি, জমি দখল, হামলা-মামলার মতো নানা ঘটনা ঘটে চলেছে। আর সামাজিক ও পারিবারিকভাবে মানুষেরা একে অপরের সঙ্গে কোনো না কোনোভাবে পরিচিত, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।

এমন বাস্তবতায় আজকে থেকে ৬ বছর আগে টিটিএন সুচনা হয়। তখন কক্সবাজারে অনলাইন সাংবাদিকতা কিংবা মোবাইল সাংবাদিকতার এত প্রসার ছিল না। ভিডিও ভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম হিসেবে প্রথম টিটিএন এর যাত্রা শুরু হয় । এই পথচলার অর্ধযুগ খুব একটা সহজ ছিল না। খুব কাছ থেকে দেখেছি সংবাদ মাধ্যম হিসেবে টিটিএন যখন কোনো ঘটনা তুলে ধরে; তখন নানা ধরনের চাপ, অনুরোধ আর হুমকি সামলাতে হয়। ভুক্তভোগী আর অভিযুক্ত, দুই পক্ষের বক্তব্য তুলে ধরা সাংবাদিকতার নৈতিক দায়িত্ব। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, অনেক সময় নিরপেক্ষভাবে সংবাদ প্রকাশ করতে গিয়ে টিটিএন বিনা কারণেই মানুষের শত্রুতে পরিণত হয়। ভুল বোঝাবুঝি, গুজব এবং আবেগপ্রবণ প্রতিক্রিয়ার কারণে সংবাদ মাধ্যমে টিটিএন’কে প্রায়ই অনাকাঙ্ক্ষিত ঝুঁকির মুখে পড়তে হয়েছে।

প্রতিষ্ঠার অল্প কিছু সময় পরই আমি টিটিএন-এর সঙ্গে যুক্ত হই, যদিও এর অনেক আগেই আমার সাংবাদিকতার পথচলা শুরু হয়েছিল। টিটিএন আমার কাছে শুধু একটি কর্মস্থল ছিল না, বরং একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। সাংবাদিকতার পাঠ আমি এখান থেকেই পূর্ণতা পেয়েছি। এই প্ল্যাটফর্মে কাজ করতে গিয়ে আমি মাদকের অপব্যবহার, মাদক ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য, প্রশাসনের চোখ রাঙানি এবং সমাজের নানা অসংগতির বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে কাজ করেছি। একই সঙ্গে জনকল্যাণমুখী বিভিন্ন উদ্যোগ, রোহিঙ্গা সংকট, সীমান্ত অস্থিরতা এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নানা বিষয় নিয়েও নিয়মিত কাজ করার সুযোগ হয়েছে।

কাজ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছি, মিথ্যা মামলায় জড়ানো হয়েছে, পেয়েছি অসংখ্য হুমকি-ধামকি আর জীবনের ঝুঁকি তো ছিলই প্রতিনিয়ত। তবুও সত্য ও জনস্বার্থের পক্ষে কাজ করার অঙ্গীকার থেকে কখনো সরে আসিনি। প্রতিটি বাধা আমাকে আরও দৃঢ় করেছে এবং সাংবাদিকতা পেশার প্রতি আমার দায়বদ্ধতা আরও গভীর করেছে। টিটিএন থেকে সাংবাদিকতার পাঠ নিয়ে মফস্বল থেকে আজ দেশের প্রথম সারির গণমাধ্যমে কাজ করছি। প্রতিনিয়ত তীব্র প্রতিযোগিতার এই অঙ্গনে নিজের অবস্থান ধরে রাখতে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি এবং পেশাগত উৎকর্ষ অর্জনের লক্ষ্যে নিরন্তর পরিশ্রম করে যাচ্ছি।

সমসাময়িক চ্যালেঞ্জ :

প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার মাধ্যমে টিটিএন কক্সবাজারে শহরের সীমানা পেরিয়ে একেবারে প্রত্যন্ত অঞ্চলে পৌঁছে যায়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি মানুষের আস্থার নির্ভরযোগ্য জায়গায় পরিণত হয়। দিন যত গড়িয়েছে, টিটিএনকে ঘিরে মানুষের প্রত্যাশার পারদও ততই বেড়েছে। সাথে ছিল মানুষের অনুরোধ, চাপ আর হুমকি ধামকি।

মফস্বলের নানান অনুরোধ, চাপ এবং হুমকি ধামকি সামলাতে গিয়ে টিটিএনকে অনেক সময়ই কিছু মানুষের কাছে কিংবা সমাজের নির্দিষ্ট অংশের কাছে শত্রুতে পরিণত হতে হয়েছে। আর এর মূল্যও প্রায়শই চুকাতে হয়েছে। কিন্তু সাংবাদিকতার বস্তুনিষ্ঠতার মানদণ্ডে সবসময় অটল ও অবিচল থেকেছে কক্সবাজারের প্রত্যেক শ্রেণির মানুষের কাছে অন্যতম জনপ্রিয়, বহুল প্রচারিত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম ‘দ্যা ট্যারিটোরিয়াল নিউজ (টিটিএন)। মানুষের আস্থা ও গ্রহণযোগ্যতার প্রমাণ হিসেবে এই মাধ্যমটিকে ঘিরে রয়েছে শত শত উদাহরণ।

আমি জানি না কতজন সাংবাদিক ক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জ করে সাংবাদিকতায় টিকে থাকতে পারেন। তবে শতভাগ নিশ্চিত হয়ে বলা যায়, এই সময়ে এসে ক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে কোনো গণমাধ্যমের টিকে থাকা অত্যন্ত কঠিন। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সবাই কোনো না কোনো এজেন্ডা বাস্তবায়নে বাধ্য হয়। আর বিষয়টি যদি মফস্বলের সংবাদমাধ্যমের ক্ষেত্রে হয়, তাহলে সেই চ্যালেঞ্জ আরও বহুগুণ কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, একসময় সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হতো, তারা আওয়ামী লীগের দালালি করে। সময়ের পালাবদলে এখন আবার একই সাংবাদিকদের বিরুদ্ধেই শোনা যায় বিএনপির দালালি করার অভিযোগ। অর্থাৎ, পক্ষপাতের তকমা বদলায়, কিন্তু সাংবাদিকদের প্রতি এই ধরনের সন্দেহ ও অভিযোগ যেন থেকেই যায়। বাস্তবতা হলো, সাংবাদিকতা করতে গেলেই কোনো না কোনো পক্ষের অসন্তোষের মুখে পড়তে হবেই।

সবশেষে বলতে চাই, টিটিএন কেবল একটি সংবাদমাধ্যম নয়, এটি সাংবাদিক তৈরির এক প্রাণবন্ত পাঠশালা। এখান থেকে কাজের হাতেখড়ি নেওয়া অসংখ্য সাংবাদিক আজ দেশের প্রথম সারির গণমাধ্যমে, এমনকি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও সাফল্যের সঙ্গে নিজেদের অবস্থান দৃঢ় করেছেন। মেধা, দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের স্বাক্ষর রেখে তারা গড়ে তুলেছেন স্বতন্ত্র পরিচয়। এই অর্জনই প্রমাণ করে টিটিএন শুধু সংবাদ প্রকাশ করেনি, বরং সৃষ্টি করেছে সক্ষম, সচেতন ও আত্মবিশ্বাসী সাংবাদিকের একটি শক্তিশালী প্রজন্ম। আর এই প্রজন্মই আগামীর সাংবাদিকতায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। আর সমৃদ্ধ হবে কক্সবাজারের টিটিএন।

সানজীদুল আলম সজীব,

নিউজরুম এডিটর,ডিবিসি নিউজ,ঢাকা।