মহেশখালী উপজেলার ধলঘাটা ইউনিয়নে বিরোধপূর্ণ জমি দখল নিতে পার্শ্ববর্তী কালারমার ছড়া ইউনিয়ন থেকে অস্ত্রধারী অর্ধশত সন্ত্রাসী তান্ডব চালিয়েছে। এসময় চাষীদের লবণ উৎপাদনের পলিথিন কেটে ও লবণ উৎপাদনের মাঠ নষ্ট করে দেয়া হয়। এতে চাষিদের কয়েক লক্ষ টাকার ক্ষতি সাধন হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ক্ষতিগ্রস্ত চাষিরা জানান, গত ৩১ ডিসেম্বর আনুমানিক দুপুর ২টার দিকে কালারমার ছাড়া থেকে কুহেলিয়া নদী হয়ে ৩টি বোটে করে ৪০-৫০ জনের একদল অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী এসে তাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে লবণ মাঠ থেকে তুলে দেন এবং লবণ মাঠের পলিথিন ও লবণের মাঠ কেটে দিয়ে লাখ লাখ টাকার ক্ষতি করেছে।
চাষীরা বলেন, তাদের সাথে যদি জমি নিয়ে বিরোধ থাকে তাহলে তারা কাগজ পত্র বিবেচনা করে সেটা সমাধান করতে পারে। এভাবে লবণ উৎপাদনের মৌসুমে আমাদের পেটে লাথি মেরে পথে বসিয়ে দিচ্ছে। আমরা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি৷
সূত্রে জানা যায়, ধলঘাটা ইউনিয়নের পানির ছড়া এলাকায় মোজাহের মিয়া গং ও মহেশখালীর পাহারাজা বেগম গং (প্রকাশ সালেহ আহমদ গং)এর মধ্যে প্রায় ১০ একর লবণের জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে আদালতে মামলা হলে রায় অনুযায়ী ভোগদখলে ছিলেন মোজাহের মিয়া গং। কিন্তু মামলা চলমান থাকা অবস্থায় অবৈধভাবে দখল নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে পাহারাজা বেগম গং এর লোকজন। এতে মোজাহের গং থেকে দীর্ঘদিন ধরে জমি বর্গা নিয়ে লাখ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে চাষাবাদ করে আসা লবণ চাষীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
ভুক্তভোগীদের পক্ষে আবুল কাসেম বলেন, আমাদের দীর্ঘদিনের ভোগ দখলে থাকা জমি হঠাৎ করে কালারমার ছড়া এলাকার ৪০-৫০ জন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী এসে লবণ মাঠ দখলে নিতে চেষ্টা করে। আমাদের সর্বোচ্চ আদালতের ডিক্রি থাকা সত্ত্বেও তারা অবৈধভাবে দখল নিতে মরিয়া। এমনকি অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের দিয়ে চাষিদের হত্যার হুমকি দিচ্ছে। আমরা বিষয়টি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
এ বিষয়ে মহেশখালী থানার ওসি কাইছার হামিদ বলেন- লবণ মাঠ নিয়ে বিরোধ থাকলে কাগজ পত্র পর্যালোচনা বা আদালতের মাধ্যমে বিষয়টি উভয়পক্ষ মীমাংসা করতে পারে। এসুযোগে কেউ যদি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।