ঢাকা ০২:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
খালেদা জিয়াকে দেখতে গিয়ে যা বললেন এনসিপি নেতারা দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ একক নিয়ন্ত্রণাধীন নয়: তারেক রহমান সাগরে ঘূর্ণিঝড় ‘ডিটওয়াহ’, মাছ ধরা ট্রলারকে উপকূলে থাকার নির্দেশ ইনজুরি নিয়েই মাঠে নেইমার, গোল-অ্যাসিস্টে জয় পেল সান্তোস ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে তফসিল: সিইসি খালেদা জিয়ার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন রাষ্ট্রপতি দুই বিতর্কিত অভিযান / যেকারণে কক্সবাজারে অধিনায়কসহ ৩ শতাধিক র‍্যাব সদস্য বদলি জরুরি ফ্লাইটে তারেক রহমানের দেশে ‘ফেরার’ গুঞ্জন! ইয়াবা পৌঁছে দিলেই ৩০ হাজার টাকা!বিজিবির হাতে আটক চালক-সিএনজি জব্দ.. ছুটির দিনেই সমাগম , চলতি পর্যটন মৌসুমে কক্সবাজারে ভীড় কম টেকনাফের গোদারবিলে আগ্নেয়াস্ত্রসহ যুবক আটক খালেদা জিয়ার অবস্থা অত্যন্ত সংকটময় : মির্জা ফখরুল ‘আমাদের দেশে ভিন্নমত প্রকাশ করলে তাকে শত্রু হিসেবে দেখা হয়’ শহরে দেশীয় তৈরি এলজি ও কার্তুজসহ ৩ যুবক গ্রেফতার ক্ষমতায় এলে বিএনপিসহ সবাইকে নিয়েই দেশ পরিচালনা করবো : জামায়াত আমির

টেকনাফে বিজিবির মানবপাচার বিরোধী অভিযান: ৮ রোহিঙ্গা উদ্ধার, আটক ৪

কক্সবাজারের টেকনাফে সাগর পথে পাচারের সময় আটজন রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

এ সময় মানব পাচারকারী চক্রের চারজন সদস্যকে আটক করা হয়।

সোমবার (১৭ নভেম্বর) দিবাগত রাতে বিজিবির ২ ব্যাটালিয়নের একটি বিশেষ দল সাবরাং ইউনিয়নের পানছড়ি এলাকায় মানবপাচারবিরোধী এই অভিযান চালায়।

বিজিবি জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় সক্রিয় মানব পাচারকারী চক্র সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছিল।

বিজিবি সদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে পাচারকারী চক্রের কয়েকজন পালিয়ে যায়। এসময় ঘটনাস্থল থেকে চারজনকে আটক করা হয়। তারা হলো—
আসমা (১৯), শাবনূর (২০), জহুরা (৪৩) ও সাহারা খাতুন (৬২)।

আটককৃতরা সাবরাং ইউনিয়নের পানছড়ি পাড়ার বাসিন্দা।

পলাতক আসামির মধ্যে আছেন একই এলাকার আব্দুল মোতালেব ওরফে কালা বদ্দা (৩০)।

অভিযানে আটজন ভুক্তভোগীকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

তাঁদের মধ্যে ছয়জন নারী এবং দুই শিশু।

বিজিবি জানায়, তারা সবাই বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা।

উদ্ধারকৃতরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বিজিবিকে জানায়, পাচারকারীদের সহযোগীরা তাঁদের উচ্চ বেতনের চাকরি, সহজে বিদেশ যাওয়ার সুযোগ এবং ভবিষ্যৎ আয়ের মাধ্যমে খরচ পরিশোধের প্রলোভন দেখায়।

পরে সুযোগ বুঝে পাচারকারী চক্র তাঁদের বাড়ি বা নিরাপদ আশ্রয়ে আটকে রাখে এবং সাগর পথে পাঠানোর প্রস্তুতি নিত।

বিজিবি জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে পাহাড়ি এলাকা দিয়ে পাচারের পথ কঠিন হয়ে পড়ায় চক্রটি এখন লোকালয় ব্যবহার করছে।

আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে পাচারকারীদের সক্রিয় নেটওয়ার্ক সম্পর্কে নতুন তথ্য পাওয়া গেছে বলে তারা জানিয়েছে।

২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিকুর রহমান, পিএসসি বলেন,
“মানব পাচার সংঘবদ্ধ অপরাধ। সীমান্ত এলাকায় পাহাড় থেকে সমুদ্র—কোথাও অপরাধীদের জন্য নিরাপদ জায়গা থাকতে দেওয়া হবে না। পাচার প্রতিরোধে আমাদের নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

গ্রেপ্তার হওয়া চারজনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তাঁদের স্থানীয় থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

উদ্ধার হওয়া আটজনকে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দেওয়া হবে।

সীমান্ত সুরক্ষা ও মানব পাচার প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে বিজিবি।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

খালেদা জিয়াকে দেখতে গিয়ে যা বললেন এনসিপি নেতারা

This will close in 6 seconds

টেকনাফে বিজিবির মানবপাচার বিরোধী অভিযান: ৮ রোহিঙ্গা উদ্ধার, আটক ৪

আপডেট সময় : ০৩:৩৩:২৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৫

কক্সবাজারের টেকনাফে সাগর পথে পাচারের সময় আটজন রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

এ সময় মানব পাচারকারী চক্রের চারজন সদস্যকে আটক করা হয়।

সোমবার (১৭ নভেম্বর) দিবাগত রাতে বিজিবির ২ ব্যাটালিয়নের একটি বিশেষ দল সাবরাং ইউনিয়নের পানছড়ি এলাকায় মানবপাচারবিরোধী এই অভিযান চালায়।

বিজিবি জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় সক্রিয় মানব পাচারকারী চক্র সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছিল।

বিজিবি সদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে পাচারকারী চক্রের কয়েকজন পালিয়ে যায়। এসময় ঘটনাস্থল থেকে চারজনকে আটক করা হয়। তারা হলো—
আসমা (১৯), শাবনূর (২০), জহুরা (৪৩) ও সাহারা খাতুন (৬২)।

আটককৃতরা সাবরাং ইউনিয়নের পানছড়ি পাড়ার বাসিন্দা।

পলাতক আসামির মধ্যে আছেন একই এলাকার আব্দুল মোতালেব ওরফে কালা বদ্দা (৩০)।

অভিযানে আটজন ভুক্তভোগীকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

তাঁদের মধ্যে ছয়জন নারী এবং দুই শিশু।

বিজিবি জানায়, তারা সবাই বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা।

উদ্ধারকৃতরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বিজিবিকে জানায়, পাচারকারীদের সহযোগীরা তাঁদের উচ্চ বেতনের চাকরি, সহজে বিদেশ যাওয়ার সুযোগ এবং ভবিষ্যৎ আয়ের মাধ্যমে খরচ পরিশোধের প্রলোভন দেখায়।

পরে সুযোগ বুঝে পাচারকারী চক্র তাঁদের বাড়ি বা নিরাপদ আশ্রয়ে আটকে রাখে এবং সাগর পথে পাঠানোর প্রস্তুতি নিত।

বিজিবি জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে পাহাড়ি এলাকা দিয়ে পাচারের পথ কঠিন হয়ে পড়ায় চক্রটি এখন লোকালয় ব্যবহার করছে।

আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে পাচারকারীদের সক্রিয় নেটওয়ার্ক সম্পর্কে নতুন তথ্য পাওয়া গেছে বলে তারা জানিয়েছে।

২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিকুর রহমান, পিএসসি বলেন,
“মানব পাচার সংঘবদ্ধ অপরাধ। সীমান্ত এলাকায় পাহাড় থেকে সমুদ্র—কোথাও অপরাধীদের জন্য নিরাপদ জায়গা থাকতে দেওয়া হবে না। পাচার প্রতিরোধে আমাদের নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

গ্রেপ্তার হওয়া চারজনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তাঁদের স্থানীয় থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

উদ্ধার হওয়া আটজনকে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দেওয়া হবে।

সীমান্ত সুরক্ষা ও মানব পাচার প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে বিজিবি।