রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) ফুসফুস ও হৃদ্যন্ত্রে সংক্রমণ নিয়ে চিকিৎসাধীন আছেন বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া।
খালেদা জিয়াকে দেখতে শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) রাত ১১টা ৩৮ মিনিটে এভারকেয়ার হাসপাতালে আসেন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, তিনি রাত ১২টা ৬ মিনিটে হাসপাতাল ত্যাগ করেন।
বিকেল চারটা থেকে হাসপাতালে অবস্থান করছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি দুপুরে চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে গণমাধ্যমকে জানান, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা ভালো নয়।
রাত ১২টার পর হাসপাতালে ফটকে অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদের আবদুল মঈন খান বলেন, ‘মেডিকেল বোর্ড বসেছিল, বোর্ড তাঁর (খালেদা জিয়া) সর্বশেষ অবস্থা পর্যালোচনা করেছে এবং যা যা করা দরকার, তারা ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।’
এদিকে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে গত কয়েকদিন ধরে লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরা নিয়ে আলোচনা চলছে।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর বলছে, নিরাপত্তাজনিত কারণে সুনির্দিষ্ট তারিখ এখনো জানা না গেলেও দেশে বিএনপির পক্ষ থেকে তার আবাসন ও কার্যালয় ব্যবস্থা করা হয়েছে।
তবে শুক্রবার থেকে মা খালেদা জিয়ার শারীরিক পরিস্থিতি হঠাৎ অবনতির দিকে যাওয়ায় ‘যে কোন মূহুর্তে জরুরি ফ্লাইটে লন্ডন থেকে তারেক রহমান দেশে ফিরতে পারেন’ এমন খবর কূটনৈতিক পাড়ায় ছড়িয়েছে।
এ লক্ষে বিএনপির শীর্ষ স্থানীয় কয়েকজন নেতা সরকার ও লন্ডনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছেন বলে অসমর্থিত সূত্র জানিয়েছে।
তবে এখন পর্যন্ত, এবিষয়ে বিএনপি বা খালেদা জিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোন বক্তব্য গণমাধ্যমে দেওয়া হয়নি।
যদিও বিএনপির একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র সম্প্রতি জানিয়েছে, দেশে ফিরে এলে গুলশান-২-এর এভিনিউ রোডের ১৯৬ নম্বর বাড়িতে থাকবেন তারেক রহমান।
সূত্রমতে, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের থাকার জন্য ওই বাড়িতে সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে।
অন্তবর্তী সরকার সম্প্রতি গুলশানের ১৯৬ নম্বর বাড়িটির নামজারি সম্পন্ন করে সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র খালেদা জিয়ার হাতে বুঝিয়ে দিয়েছে। এই বাড়ির পাশের ‘ফিরোজা’ ভবনেই থাকেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া।
১৯৮১ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাতের পর তদানীন্তন সরকার তার স্ত্রী খালেদা জিয়াকে এ বাড়িটি বরাদ্দ দেন। এরপর দীর্ঘদিন ব্রিটিশ-আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশের কাছে ভাড়া ছিল বাড়িটি।
বিএনপির অপর আরেকটি সূত্র জানায়, চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়েই তারেক রহমান অফিস করবেন। তার বসার উপযোগী করে ইতিমধ্যে কক্ষটি সাজানো হচ্ছে।
খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত নিরাপত্তাবাহিনী সিএসএফ-ই তারেক রহমানের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে।
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক 























