ঢাকা ০৬:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৬ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম উদ্ধার ইয়ুথ ক্রিকেট লীগ উদ্বোধবকালে জেলা প্রশাসক-সরকার ক্রীড়ার উন্নয়নে কাজ করছে গণভোট বাতিল হলে কি সংসদ সদস্য পদ বাতিল হবে? উখিয়ায় বন্দুকসহ কিশোর আটক এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ থেকে পাওয়া যাবে হামের টিকা : স্বাস্থ্যমন্ত্রী গণভোট বাতিল হলে নির্বাচিত সংসদ আইনগত হুমকির মুখে পড়বে: শিশির মনির জুবিনের পর রাহুলের পানিতে মৃত্যু, ভাইরাল সেই গান ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক লে. ক. আফজাল নাছের গ্রেপ্তার তেল মজুদ ও পাচারের তথ্য দিলে লাখ টাকা পুরস্কার ৩০ এপ্রিল থেকে শুরু হচ্ছে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ ক্রীড়া কার্ড ও ভাতা কার্যক্রম উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রীর স্নেহের ছায়া আমার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি: মির্জা ফখরুল সংসদে বিল আকারে উঠছে না গণভোট : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উখিয়া উপজেলা: সংকট ও আগামীর সম্ভাবনা হোয়ানক ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছেন ছাত্রনেতা শাইনুর হোছাইন

গণভোট বাতিল হলে কি সংসদ সদস্য পদ বাতিল হবে?

গণভোট বাতিল হলে সংসদ সদস্যদের পদ স্বয়ংক্রিয় ভাবে “অবৈধ” বা বাতিল হয়ে যায় না।

এটি বুঝতে হলে সংবিধানের মৌলিক কাঠামোটা পরিষ্কার করা জরুরি। সংসদ সদস্যদের বৈধতা কোথা থেকে আসে? সংসদ সদস্য (এমপি) তাদের বৈধতা পায়; জনগণের ভোট থেকে, নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে ঘোষিত ফলাফল থেকে, সংবিধানের বিধান অনুযায়ী শপথ গ্রহণের মাধ্যমে। অর্থাৎ তাদের ম্যান্ডেট সরাসরি নির্বাচন প্রক্রিয়া থেকে আসে, গণভোট থেকে নয়।

গণভোট সাধারণত; একটি নির্দিষ্ট ইস্যুতে জনগণের মতামত জানার পদ্ধতি, আইন বা সংবিধান পরিবর্তনের সহায়ক মাধ্যম কিন্তু, গণভোট সংসদ গঠন করে না, এমপি নির্বাচিত করে না।

যদি কোনো কারণে গণভোট বাতিল হয়, অথবা আদালত দ্বারা অবৈধ ঘোষণা হয় তাহলে এর প্রভাব হবে শুধুমাত্র সেই গণভোট-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের উপর। এর ফলে; সংসদ ভেঙে যাবে না, এমপিদের পদ বাতিল হবে না, সরকারের বৈধতা স্বয়ংক্রিয় ভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হবে না।

সংবিধান অনুযায়ী সংসদ সদস্য পদ বাতিল হয় নির্দিষ্ট কারণে, যেমন, পদত্যাগ, দলত্যাগ (অনুচ্ছেদ ৭০ অনুযায়ী), অযোগ্যতা (দণ্ড, নাগরিকত্ব ইত্যাদি), নির্বাচন বাতিল (নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল বা আদালতের মাধ্যমে)। গণভোট বাতিল এই তালিকায় নেই।

গুরুত্বপূর্ণ ব্যতিক্রম (যদি থাকে), তবে একটি বিশেষ পরিস্থিতি হতে পারে, যদি প্রমাণিত হয়: গণভোটের সাথে সংসদ নির্বাচন সরাসরি যুক্ত ছিল বা কোনো সাংবিধানিক কাঠামো ভেঙে নির্বাচন হয়েছে তাহলে আদালত বৃহত্তর সাংবিধানিক প্রশ্ন তুলতে পারে। কিন্তু এটিও সরাসরি নয়, আদালতের সিদ্ধান্ত ছাড়া এমপি পদ বাতিল হবে না।

গণভোট একটি রাজনৈতিক ও নীতিগত প্রক্রিয়া, আর সংসদ সদস্যদের বৈধতা একটি সংবিধানিক ও নির্বাচনী প্রক্রিয়া। দুইটি আলাদা জিনিস। তাই, গণভোট বাতিল হলে সংসদ সদস্যদের পদ বাতিল হবে এইটা সত্য নয়। “মিথ বনাম বাস্তবতা” এক নয়।

ট্যাগ :

গণভোট বাতিল হলে কি সংসদ সদস্য পদ বাতিল হবে?

আপডেট সময় : ০৫:০৬:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬

গণভোট বাতিল হলে সংসদ সদস্যদের পদ স্বয়ংক্রিয় ভাবে “অবৈধ” বা বাতিল হয়ে যায় না।

এটি বুঝতে হলে সংবিধানের মৌলিক কাঠামোটা পরিষ্কার করা জরুরি। সংসদ সদস্যদের বৈধতা কোথা থেকে আসে? সংসদ সদস্য (এমপি) তাদের বৈধতা পায়; জনগণের ভোট থেকে, নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে ঘোষিত ফলাফল থেকে, সংবিধানের বিধান অনুযায়ী শপথ গ্রহণের মাধ্যমে। অর্থাৎ তাদের ম্যান্ডেট সরাসরি নির্বাচন প্রক্রিয়া থেকে আসে, গণভোট থেকে নয়।

গণভোট সাধারণত; একটি নির্দিষ্ট ইস্যুতে জনগণের মতামত জানার পদ্ধতি, আইন বা সংবিধান পরিবর্তনের সহায়ক মাধ্যম কিন্তু, গণভোট সংসদ গঠন করে না, এমপি নির্বাচিত করে না।

যদি কোনো কারণে গণভোট বাতিল হয়, অথবা আদালত দ্বারা অবৈধ ঘোষণা হয় তাহলে এর প্রভাব হবে শুধুমাত্র সেই গণভোট-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের উপর। এর ফলে; সংসদ ভেঙে যাবে না, এমপিদের পদ বাতিল হবে না, সরকারের বৈধতা স্বয়ংক্রিয় ভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হবে না।

সংবিধান অনুযায়ী সংসদ সদস্য পদ বাতিল হয় নির্দিষ্ট কারণে, যেমন, পদত্যাগ, দলত্যাগ (অনুচ্ছেদ ৭০ অনুযায়ী), অযোগ্যতা (দণ্ড, নাগরিকত্ব ইত্যাদি), নির্বাচন বাতিল (নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল বা আদালতের মাধ্যমে)। গণভোট বাতিল এই তালিকায় নেই।

গুরুত্বপূর্ণ ব্যতিক্রম (যদি থাকে), তবে একটি বিশেষ পরিস্থিতি হতে পারে, যদি প্রমাণিত হয়: গণভোটের সাথে সংসদ নির্বাচন সরাসরি যুক্ত ছিল বা কোনো সাংবিধানিক কাঠামো ভেঙে নির্বাচন হয়েছে তাহলে আদালত বৃহত্তর সাংবিধানিক প্রশ্ন তুলতে পারে। কিন্তু এটিও সরাসরি নয়, আদালতের সিদ্ধান্ত ছাড়া এমপি পদ বাতিল হবে না।

গণভোট একটি রাজনৈতিক ও নীতিগত প্রক্রিয়া, আর সংসদ সদস্যদের বৈধতা একটি সংবিধানিক ও নির্বাচনী প্রক্রিয়া। দুইটি আলাদা জিনিস। তাই, গণভোট বাতিল হলে সংসদ সদস্যদের পদ বাতিল হবে এইটা সত্য নয়। “মিথ বনাম বাস্তবতা” এক নয়।