ঢাকা ০২:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ৩০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জামিনে মুক্ত হলেন বাউল শিল্পী আবুল সরকার বিয়ে করাটা ভুল সিদ্ধান্ত ছিল: অপু বিশ্বাস চৈত্র সংক্রান্তি: ইতিহাস, ঐতিহ্য ও বাঙালির সংস্কৃতির এক প্রাচীন ধারাবাহিকতা ইন্টারনেট সস্তা না হলে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব নয় : বিটিআরসি চেয়ারম্যান ভোরে ফুল তুলতে যাওয়া বৃদ্ধকে জবাই করে হত্যা, অভিযুক্তের আত্মসমর্পণ বাংলা বছরের শেষদিন— চৈত্র সংক্রান্তি আজ তীব্র গরমেও পর্যটকের ঢল, নোনাজলে খুঁজছে স্বস্তি দুই খুন ভাবিয়ে তুলেছে খোদ পুলিশকে চট্টগ্রামে কিশোর গ্যাংয়ের হাতে খুন হলো চকরিয়ার কিশোর সাজিদ সাংগঠনিক গতি বাড়াতে এমজেএ কক্সবাজারের সভা, নতুন সদস্য আহ্বান ও উপ-কমিটি গঠন কুতুবদিয়ায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পুকুরে বরযাত্রীর গাড়ি, শিশুসহ ৪জন আহত নতুন গণমাধ্যম নিয়ে আসছেন সাকিব রামুতে গৃহকর্মীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার টেকনাফে পূর্ব শত্রুতার জেরে বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ টেকনাফ ও ইনানী থেকে সাগর পথে মালয়েশিয়া যাত্রা: আন্দামান সাগরে ট্রলারডুবি,উদ্ধার ৯, নিখোঁজ ২ শতাধিক

খেজুর দিয়ে ইফতার করলে যে উপকার

খেজুর দিয়ে ইফতার করলে যে উপকার

মহান আল্লাহর একটি অপূর্ব সৃষ্টি খেজুর। সুস্বাদু এ ফলটি খাবার হিসেবেও স্বাস্থ্যসম্মত এবং ভিটামিনসমৃদ্ধ। দৈনন্দিন জীবনের খাদ্য ঘাটতির চাহিদা পরিপূরক, জাদু ও বিষ প্রতিরোধক খাবার এটি। পবিত্র রমজানে সারা দিনের রোজার ক্লান্তি শেষে ইফতারে দুয়েকটি খেজুরে খেলে দুর্বলতা কেটে যায়। ইফতারিতে খেজুর খাওয়া সুন্নত। রাসুল (সা.) খেজুর দিয়ে ইফতার করতেন। হাদিস শরিফেও খেজুর দিয়ে ইফতার করার নির্দেশ রয়েছে।

খেজুর দিয়ে ইফতার করার ব্যাপারে হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যখন তোমাদের কেউ ইফতার করে, সে যেন খেজুর দ্বারা করে। কেননা তাতে বরকত ও কল্যাণ রয়েছে।’ (মেশকাত: ১৮৯৩)। অন্য হাদিসে রয়েছে, আনাস বিন মালেক (রা.) বর্ণনা করেছেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) নামাজের আগে কয়েকটি কাঁচা খেজুর খেয়ে ইফতার করতেন। যদি কাঁচা খেজুর না থাকত, তাহলে শুকনো খেজুর দিয়ে। যদি শুকনো খেজুরও না থাকত, তাহলে কয়েক ঢোক পানি দিয়ে।’ (তিরমিজি: ৬৩২)।

শুধু রমজানই নয়, অন্যান্য দিনেও খেজুর শরীরের বিশেষ পুষ্টিদানকারী খাবার। হজরত সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.) বর্ণনা করেছেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি প্রতিদিন সকালে সাতটি আজওয়া খেজুর খাবে, বিষ ও জাদু তার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না।’ (বোখারি ও মুসলিম)। সুতরাং পুষ্টিগুণে ভরপুর এবং হাদিসের নির্দেশনায় খেজুর মানুষের জন্য অনেক উপকারী।

খেজুর দিয়ে ইফতার করার উপকারিতা হলো—১. কয়েকটি খেজুরই সাময়িক ক্ষুধা নিবারণে সহায়তা করে; ২. খেজুরে প্রচুর পরিমাণ ক্যালরি থাকায় দুর্বল স্বাস্থ্যের অধিকারী, সামান্য পরিশ্রমেই যারা পেরেশান হয়ে যায়, ইফতারে খেজুর খেলে তাদের দুর্বলতা কেটে যায় এবং রোজা রাখা সহজ হয়; ৩. শিশুর প্রয়োজনীয় পুষ্টির জন্য মায়ের বুকের দুধ বৃদ্ধিতে খেজুর কার্যকর ভূমিকা রাখে। ফলে শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানো মায়েদের স্বাভাবিকভাবে রোজা রাখা সহজ হয়; ৪. খেজুর হৃদরোগ, জ্বর ও পেটের পীড়ায় উপকারী এবং বলবর্ধক ওষুধ হিসেবে কাজ করে। ক্ষুধামান্দ্য ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূরীকরণে খেজুরবিশেষ উপকারী; ৫. খেজুর পেটের গ্যাস, শ্লেষ্মা, কফ দূর করে, শুষ্ক কাশি, অ্যাজমা ও গ্যাসের জন্যও উপকারী; ৬. রোজাদারের পেট খালি থাকায় শরীরে গ্লুকোজের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। খেজুর সেটা দ্রুত পূরণে সাহায্য করে।

বলা হয়ে থাকে, বছরে যতগুলো দিন আছে, খেজুরে তার চেয়েও বেশি গুণ রয়েছে। খেজুর যেমনি সুস্বাদু তেমনি পুষ্টিকর ফল। খেজুর খাওয়ার বৈজ্ঞানিক কারণ অনেক। যেমন—খেজুরের পুষ্টিগুণ প্রচুর। খেজুরে সুগারের পরিমাণ এত বেশি থাকে যে, এক কামড়েই অনেকটা এনার্জি পাওয়া যায়। এর মধ্যে আয়রন, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ফাইবার, গ্লুকোজ, ম্যাগনেশিয়াম ও সুক্রোজ থাকে। যে কারণে খেজুর খাওয়ার মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যে শরীরে এনার্জি বেড়ে যায়। সারা দিন উপোস করে শরীরে যে ক্লান্তি আসে, তা দূর করে এনার্জি জোগাতে সাহায্য করে খেজুর। রোজা রাখলে সাধারণত অ্যাসিডিটি হয়। যার থেকে অস্বস্তি হতে থাকে। খেজুর শরীরে অ্যাসিডের মাত্রা বশে রেখে অস্বস্তি কমায়। সারা দিন না খেয়ে থাকলে খাওয়ার সময় বেশি খেয়ে ফেলার প্রবণতা তৈরি হয়। তাই খেজুর খেয়ে রোজা ভাঙলে এর মধ্যে থাকা জটিল কার্বোহাইড্রেট হজম হতে বেশি সময় নেয়। ফাইবার থাকার কারণে পেট ভরা লাগে। তাই বেশি খাওয়ার আগেই পেট ভরে যায়। অনেকক্ষণ না খেয়ে থাকলে তা পৌষ্টিকতন্ত্রের কার্যকারিতায় ব্যাঘাত ঘটায়। কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যাও হতে পারে। খেজুর শরীরে উৎসেচক ক্ষরণে সাহায্য করে। ফলে হজম ভালো হয়।

মহান রব আমাদের রমজানে স্বস্তি ও সুস্থতা দান করুন। আমিন।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

জামিনে মুক্ত হলেন বাউল শিল্পী আবুল সরকার

খেজুর দিয়ে ইফতার করলে যে উপকার

আপডেট সময় : ১০:৩০:৫৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৭ মার্চ ২০২৫

মহান আল্লাহর একটি অপূর্ব সৃষ্টি খেজুর। সুস্বাদু এ ফলটি খাবার হিসেবেও স্বাস্থ্যসম্মত এবং ভিটামিনসমৃদ্ধ। দৈনন্দিন জীবনের খাদ্য ঘাটতির চাহিদা পরিপূরক, জাদু ও বিষ প্রতিরোধক খাবার এটি। পবিত্র রমজানে সারা দিনের রোজার ক্লান্তি শেষে ইফতারে দুয়েকটি খেজুরে খেলে দুর্বলতা কেটে যায়। ইফতারিতে খেজুর খাওয়া সুন্নত। রাসুল (সা.) খেজুর দিয়ে ইফতার করতেন। হাদিস শরিফেও খেজুর দিয়ে ইফতার করার নির্দেশ রয়েছে।

খেজুর দিয়ে ইফতার করার ব্যাপারে হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যখন তোমাদের কেউ ইফতার করে, সে যেন খেজুর দ্বারা করে। কেননা তাতে বরকত ও কল্যাণ রয়েছে।’ (মেশকাত: ১৮৯৩)। অন্য হাদিসে রয়েছে, আনাস বিন মালেক (রা.) বর্ণনা করেছেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) নামাজের আগে কয়েকটি কাঁচা খেজুর খেয়ে ইফতার করতেন। যদি কাঁচা খেজুর না থাকত, তাহলে শুকনো খেজুর দিয়ে। যদি শুকনো খেজুরও না থাকত, তাহলে কয়েক ঢোক পানি দিয়ে।’ (তিরমিজি: ৬৩২)।

শুধু রমজানই নয়, অন্যান্য দিনেও খেজুর শরীরের বিশেষ পুষ্টিদানকারী খাবার। হজরত সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.) বর্ণনা করেছেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি প্রতিদিন সকালে সাতটি আজওয়া খেজুর খাবে, বিষ ও জাদু তার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না।’ (বোখারি ও মুসলিম)। সুতরাং পুষ্টিগুণে ভরপুর এবং হাদিসের নির্দেশনায় খেজুর মানুষের জন্য অনেক উপকারী।

খেজুর দিয়ে ইফতার করার উপকারিতা হলো—১. কয়েকটি খেজুরই সাময়িক ক্ষুধা নিবারণে সহায়তা করে; ২. খেজুরে প্রচুর পরিমাণ ক্যালরি থাকায় দুর্বল স্বাস্থ্যের অধিকারী, সামান্য পরিশ্রমেই যারা পেরেশান হয়ে যায়, ইফতারে খেজুর খেলে তাদের দুর্বলতা কেটে যায় এবং রোজা রাখা সহজ হয়; ৩. শিশুর প্রয়োজনীয় পুষ্টির জন্য মায়ের বুকের দুধ বৃদ্ধিতে খেজুর কার্যকর ভূমিকা রাখে। ফলে শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানো মায়েদের স্বাভাবিকভাবে রোজা রাখা সহজ হয়; ৪. খেজুর হৃদরোগ, জ্বর ও পেটের পীড়ায় উপকারী এবং বলবর্ধক ওষুধ হিসেবে কাজ করে। ক্ষুধামান্দ্য ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূরীকরণে খেজুরবিশেষ উপকারী; ৫. খেজুর পেটের গ্যাস, শ্লেষ্মা, কফ দূর করে, শুষ্ক কাশি, অ্যাজমা ও গ্যাসের জন্যও উপকারী; ৬. রোজাদারের পেট খালি থাকায় শরীরে গ্লুকোজের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। খেজুর সেটা দ্রুত পূরণে সাহায্য করে।

বলা হয়ে থাকে, বছরে যতগুলো দিন আছে, খেজুরে তার চেয়েও বেশি গুণ রয়েছে। খেজুর যেমনি সুস্বাদু তেমনি পুষ্টিকর ফল। খেজুর খাওয়ার বৈজ্ঞানিক কারণ অনেক। যেমন—খেজুরের পুষ্টিগুণ প্রচুর। খেজুরে সুগারের পরিমাণ এত বেশি থাকে যে, এক কামড়েই অনেকটা এনার্জি পাওয়া যায়। এর মধ্যে আয়রন, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ফাইবার, গ্লুকোজ, ম্যাগনেশিয়াম ও সুক্রোজ থাকে। যে কারণে খেজুর খাওয়ার মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যে শরীরে এনার্জি বেড়ে যায়। সারা দিন উপোস করে শরীরে যে ক্লান্তি আসে, তা দূর করে এনার্জি জোগাতে সাহায্য করে খেজুর। রোজা রাখলে সাধারণত অ্যাসিডিটি হয়। যার থেকে অস্বস্তি হতে থাকে। খেজুর শরীরে অ্যাসিডের মাত্রা বশে রেখে অস্বস্তি কমায়। সারা দিন না খেয়ে থাকলে খাওয়ার সময় বেশি খেয়ে ফেলার প্রবণতা তৈরি হয়। তাই খেজুর খেয়ে রোজা ভাঙলে এর মধ্যে থাকা জটিল কার্বোহাইড্রেট হজম হতে বেশি সময় নেয়। ফাইবার থাকার কারণে পেট ভরা লাগে। তাই বেশি খাওয়ার আগেই পেট ভরে যায়। অনেকক্ষণ না খেয়ে থাকলে তা পৌষ্টিকতন্ত্রের কার্যকারিতায় ব্যাঘাত ঘটায়। কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যাও হতে পারে। খেজুর শরীরে উৎসেচক ক্ষরণে সাহায্য করে। ফলে হজম ভালো হয়।

মহান রব আমাদের রমজানে স্বস্তি ও সুস্থতা দান করুন। আমিন।