ঢাকা ০৪:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
টেকনাফে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের নির্বাচনী কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ নির্বাচন সামনে রেখে কক্সবাজারে সম্মুখ সারির ৬জুলাই যোদ্ধার ছাত্রদলে যোগদান ​কক্সবাজার-৩ আসনে জগদীশ বড়ুয়ার সমর্থন প্রত্যাহার করলো লেবার পার্টি পর্যবেক্ষক ও গণমাধ্যমকর্মী কেন্দ্রে স্বাধীনভাবে তথ্য সংগ্রহ করতে পারবে নির্বাচন: কেন্দ্রে যাচ্ছে ব্যালট পেপার ৪ টি আসনে কেন্দ্র ৫৯৮,কক্ষ ৩,৬৮৯, পোলিং প্রিসাইডিং ১২,২৫১,আইনশৃঙ্খলা সদস্য ১৩,৪৯৯ চকরিয়া-পেকুয়া : অভিজ্ঞের সাথে নতুনের লড়াই কক্সবাজারের ডিককুলে যৌথবাহিনীর অভিযান: অস্ত্রসহ সন্ত্রাসী আটক ১ বছরে প্রধান উপদেষ্টার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৬১ লাখ ৪ হাজার টাকার বেশি নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক না কেন মেনে নেওয়ার আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার দুই প্রার্থীর পক্ষ নেওয়া চার ‘আলোচিত’ নামে তোলপাড় ভোটের সমীকরণ! ​নির্বাচনী নিরাপত্তায় ঈদগাঁওতে যৌথ টহল নির্বাচন ঘিরে কক্সবাজারে সেনাবাহিনীর শক্ত অবস্থান-নির্ভয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহবান নির্বাচন ঘিরে কক্সবাজারে ‘জেলা সেন্ট্রাল কমান্ড সেন্টার’ পোস্টাল ভোট সম্পন্ন: কক্সবাজার–৩ এ সবচেয়ে বেশি ভোটগ্রহণ

কমান্ডার সোবাহান যে বীরের কন্ঠে আসে কক্সবাজার মুক্তির ঘোষনা…

কন্ঠে তার ঝরছিলো আগুন। চোখ দুটো ভীষণ তীক্ষ্ণতায় চেয়ে আছে পাতাকার লাল বৃত্তের দিকে। তারপর দৃপ্ত কন্ঠে প্রদীপ্ত উচ্চারণ কক্সবাজার কে শত্রু মুক্ত ঘোষনার। এরপর উত্তোনল করা হয় পতাকা।

১৯৭১ সালের ১২ ডিসেম্বর কক্সবাজার মুক্ত দিবস। এদিন বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুস সোবাহান শহরের পাবলিক হল মাঠ (যা আজ শহীদ দৌলত ময়দান নামে পরিচিত) কক্সবাজার কে শত্রুমুক্ত ঘোষনা করেন।

সেদিন চারটি গাড়িযোগে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে কক্সবাজার শহরে পৌঁছান ক্যাপ্টেন আবদুস সোবাহানের নেতৃত্বে বীর মুক্তিযোদ্ধারা। আব্দুস সেবাহান ছিলেন ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে কর্মরত সেনা সদস্য, দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হলে তিনি পাকিস্তানি সেনাবাহিনী থেকে পালিয়ে এসে যোগ দেন মুক্তিযুদ্ধে। বান্দরবান ও কক্সবাজারের সাব সেক্টর কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। স্বাধীনতার পরে আব্দুস সোবাহান সেনাবাহিনীর অনারারী ক্যাপ্টেন হিসেবে পদোন্নতি লাভ করেন।

তাঁর লেখা ‘মুক্তিযুদ্ধে কক্সবাজার-বান্দরবান’ গ্রন্থে তিনি লেখেছেন, ‘১২ ডিসেম্বর, ১৯৭১। আমরা কক্সবাজার শহর দখল করার উদ্দেশ্য চারটি বাসে করে পালং আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় ক্যাম্প হতে সকাল ১০টায় যাত্রা শুরু করি। রেডক্রস কর্মকর্তা প্রদত্ত সাদা জিপ, কপিল উদ্দিন চৌধুরী (রত্নাপালং) ও জনাব জিয়াউদ্দিন চৌধুরী (রত্নাপালং) আমাদের চারটি বাস জোগাড় করে দেন। আমাদের যাত্রাপথে কোনো কোনো স্থানে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তার সহযোগীরা উৎপেতে থাকতে পারে এবং অতর্কিত হামলা করতে পারে আশঙ্কা করে অস্ত্রের নল গাড়ির বাহিরের দিকে রেখে সামনে এগুতে থাকি। সেই দিন ছিল মরিচ্যা বাজারের সাপ্তাহিক হাটবার। লোকে লোকারণ্য, আমরা যখন কোটবাজার ও মরিচ্যা বাজারের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিলাম, তখন রাস্তার দু-পাশে হাজার হাজার লোক দণ্ডায়মান হয়ে দুই হাত ওপরে তুলে আমাদের স্বাগত জানায়। তাদের মুখে ছিলো জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু, জয় মুক্তিযোদ্ধা ইত্যাদি গগণবিদারী শ্লোগান। অত্যন্ত সতর্কতার সাথে আমরা বাধাহীনভাবে লিংক রোড পর্যন্ত পৌঁছি। শুনলাম লিংক রোডের দক্ষিণে পাহাড়ে পাকহানাদারবাহিনী অবস্থান করছে। রেকি করে দেখলাম তাদের কোনো অস্তিত্ব নেই। অতঃপর হাশেমিয়া মাদ্রাসা পর্যন্ত যাবার পর আমার সহযোদ্ধাদের ৪টি গ্রুপে বিভক্ত করি। যাতে কক্সবাজার এলাকা সহজে ঘেরাও করা সম্ভব হয়। গ্রুপগুলোর অবস্থান হচ্ছে যথাক্রমে-১ম গ্রুপ: (আমি নিজে) সোজা রাস্তা দিয়ে পশ্চিম দিকে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত। ২য় গ্রুপ: হাশেমিয়া মাদ্রাসার পশ্চিম পার্শ্ব দিয়ে দক্ষিণে কিছুদূর গিয়ে পশ্চিম দিকের রাডার স্টেশন পর্যন্ত। ৩য় গ্রুপ: হাশেমিয়া মাদ্রাসা থেকে কিছুদূর পশ্চিমে গিয়ে দক্ষিণে কক্সবাজার রাডার স্টেশন পর্যন্ত। ৪র্থ গ্রুপ: হাশেমিয়া মাদ্রাসা থেকে সোজাসুজি উত্তর দিকে কিছুদূর গিয়ে বাঁকখালীর পাশ দিয়ে এয়ারপোর্ট পর্যন্ত।’

আমাদের আসার সংবাদ শোনার সাথে সাথে বাঁধ ভাঙা জোয়ারের মতো হাজার হাজার মুক্তিকামী জনতা পাবলিক লাইব্রেরির মাঠে উপস্থিত হয়। এ যেন মানুষেরই সমুদ্র। তাদের আহাজারিতে আকাশ-বাতাস প্রকম্পিত হলো। স্বজন হারানোর ব্যথা প্রকাশ করতে গিয়ে অনেকে মাটিতে গড়াগড়ি খাচ্ছেন। আমি কাকে রেখে কার কথা শুনবো খুঁজে পাচ্ছিলাম না। তাদের সান্ত্বনা দেবার ভাষাও আমার জানা নেই। শুধু স্বাধীন হওয়ার আশ্বাস দিয়ে যাচ্ছিলাম। অতঃপর নূর হোটেলের সামনে একটি লম্বা কাঠ দিয়ে আমাকে জিপের ওপর দাঁড় করানো হলো, জনতার উদ্দেশ্যে কিছু বলার জন্য। তাৎক্ষণিকভাবে কী বলবো ভেবে পাচ্ছিলাম না। তবু যতটুকু পেরেছি তাদের সান্ত্বনা দিতে চেষ্টা করেছি।’

ওই দিন তাঁর দেয়া বক্তব্যের একটি অংশে তিনি বলেছিলেন উল্লেখ করে লেখা হয়েছে, ‘আপনারা যাদের হারিয়েছেন তাদের জন্য মন খারাপ করবেন না। বরং তাদের মৃত্যু নিয়ে গর্ববোধ করুন। মনে রাখবেন তারা স্বাধীনতার জন্য শহীদ হয়েছেন। তারা চির অমর, এই সেই কক্সবাজার যেখানে ছাত্রনেতা সুভাসকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে পাষণ্ডরা। এই সেই কক্সবাজার, যেখানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রনেতা ফরহাদকে মূর্মুষ অবস্থায় তার দেহ কুকুর বিড়ালে ছিঁড়ে ছিঁড়ে খেয়েছে। এই সেই কক্সবাজার, যেখানে অ্যাডভোকেট পীযুষ চৌধুরীর শ্রদ্ধেয় পিতা অ্যাডভোকেট জ্ঞানেন্দ্র লাল চৌধুরীকে ঘর থেকে ধরে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
তাদেরই প্রাণের বিনিময়ে, তাজা রক্তের বিনিময়ে, পাকহানাদারবাহিনীর দখলমুক্ত আজকে আমাদের কক্সবাজার, বাঙালিদের কক্সবাজার। সমগ্র বাঙালি জাতির পক্ষ থেকে আমি এই বীর শহীদ ও দেশপ্রেমিক মানুষের আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করছি”।

২০২৪ সালের ১২ জানুয়ারী ৮২ বছর বয়সে বীর মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন আব্দুস সোবাহান চলে যান না ফেরার দেশে। নীজ বাড়ি উখিয়ার হলদিয়া পালংয়ের পশ্চিম মরিচ্যার পারিবারিক কবরস্থানে শায়িত আছেন।

মৃত্যুর কিছুদিন আগে টিটিএন কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন,১৯৭১ সালের ১২ ডিসেম্বর সাদা জীপের উপর দাঁড়িয়ে ঘোষনা করি কক্সবাজার আজ থেকে মুক্ত। সব থানাসহ পুরো কক্সবাজার মুক্তিবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে। আর কোনো দুঃশ্চিন্তা নেই।

তিনি নেই, আছে শুধু কালের স্বাক্ষী পাবলিক হলের মাঠ আর ইতিহাসের পাঠ থেকে বারবার ভেসে সেই বীরের কন্ঠস্বর আর সমুদ্র জনপদের মুক্তির বারতা।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

টেকনাফে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের নির্বাচনী কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ

This will close in 6 seconds

কমান্ডার সোবাহান যে বীরের কন্ঠে আসে কক্সবাজার মুক্তির ঘোষনা…

আপডেট সময় : ১২:০৪:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর ২০২৫

কন্ঠে তার ঝরছিলো আগুন। চোখ দুটো ভীষণ তীক্ষ্ণতায় চেয়ে আছে পাতাকার লাল বৃত্তের দিকে। তারপর দৃপ্ত কন্ঠে প্রদীপ্ত উচ্চারণ কক্সবাজার কে শত্রু মুক্ত ঘোষনার। এরপর উত্তোনল করা হয় পতাকা।

১৯৭১ সালের ১২ ডিসেম্বর কক্সবাজার মুক্ত দিবস। এদিন বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুস সোবাহান শহরের পাবলিক হল মাঠ (যা আজ শহীদ দৌলত ময়দান নামে পরিচিত) কক্সবাজার কে শত্রুমুক্ত ঘোষনা করেন।

সেদিন চারটি গাড়িযোগে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে কক্সবাজার শহরে পৌঁছান ক্যাপ্টেন আবদুস সোবাহানের নেতৃত্বে বীর মুক্তিযোদ্ধারা। আব্দুস সেবাহান ছিলেন ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে কর্মরত সেনা সদস্য, দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হলে তিনি পাকিস্তানি সেনাবাহিনী থেকে পালিয়ে এসে যোগ দেন মুক্তিযুদ্ধে। বান্দরবান ও কক্সবাজারের সাব সেক্টর কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। স্বাধীনতার পরে আব্দুস সোবাহান সেনাবাহিনীর অনারারী ক্যাপ্টেন হিসেবে পদোন্নতি লাভ করেন।

তাঁর লেখা ‘মুক্তিযুদ্ধে কক্সবাজার-বান্দরবান’ গ্রন্থে তিনি লেখেছেন, ‘১২ ডিসেম্বর, ১৯৭১। আমরা কক্সবাজার শহর দখল করার উদ্দেশ্য চারটি বাসে করে পালং আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় ক্যাম্প হতে সকাল ১০টায় যাত্রা শুরু করি। রেডক্রস কর্মকর্তা প্রদত্ত সাদা জিপ, কপিল উদ্দিন চৌধুরী (রত্নাপালং) ও জনাব জিয়াউদ্দিন চৌধুরী (রত্নাপালং) আমাদের চারটি বাস জোগাড় করে দেন। আমাদের যাত্রাপথে কোনো কোনো স্থানে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তার সহযোগীরা উৎপেতে থাকতে পারে এবং অতর্কিত হামলা করতে পারে আশঙ্কা করে অস্ত্রের নল গাড়ির বাহিরের দিকে রেখে সামনে এগুতে থাকি। সেই দিন ছিল মরিচ্যা বাজারের সাপ্তাহিক হাটবার। লোকে লোকারণ্য, আমরা যখন কোটবাজার ও মরিচ্যা বাজারের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিলাম, তখন রাস্তার দু-পাশে হাজার হাজার লোক দণ্ডায়মান হয়ে দুই হাত ওপরে তুলে আমাদের স্বাগত জানায়। তাদের মুখে ছিলো জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু, জয় মুক্তিযোদ্ধা ইত্যাদি গগণবিদারী শ্লোগান। অত্যন্ত সতর্কতার সাথে আমরা বাধাহীনভাবে লিংক রোড পর্যন্ত পৌঁছি। শুনলাম লিংক রোডের দক্ষিণে পাহাড়ে পাকহানাদারবাহিনী অবস্থান করছে। রেকি করে দেখলাম তাদের কোনো অস্তিত্ব নেই। অতঃপর হাশেমিয়া মাদ্রাসা পর্যন্ত যাবার পর আমার সহযোদ্ধাদের ৪টি গ্রুপে বিভক্ত করি। যাতে কক্সবাজার এলাকা সহজে ঘেরাও করা সম্ভব হয়। গ্রুপগুলোর অবস্থান হচ্ছে যথাক্রমে-১ম গ্রুপ: (আমি নিজে) সোজা রাস্তা দিয়ে পশ্চিম দিকে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত। ২য় গ্রুপ: হাশেমিয়া মাদ্রাসার পশ্চিম পার্শ্ব দিয়ে দক্ষিণে কিছুদূর গিয়ে পশ্চিম দিকের রাডার স্টেশন পর্যন্ত। ৩য় গ্রুপ: হাশেমিয়া মাদ্রাসা থেকে কিছুদূর পশ্চিমে গিয়ে দক্ষিণে কক্সবাজার রাডার স্টেশন পর্যন্ত। ৪র্থ গ্রুপ: হাশেমিয়া মাদ্রাসা থেকে সোজাসুজি উত্তর দিকে কিছুদূর গিয়ে বাঁকখালীর পাশ দিয়ে এয়ারপোর্ট পর্যন্ত।’

আমাদের আসার সংবাদ শোনার সাথে সাথে বাঁধ ভাঙা জোয়ারের মতো হাজার হাজার মুক্তিকামী জনতা পাবলিক লাইব্রেরির মাঠে উপস্থিত হয়। এ যেন মানুষেরই সমুদ্র। তাদের আহাজারিতে আকাশ-বাতাস প্রকম্পিত হলো। স্বজন হারানোর ব্যথা প্রকাশ করতে গিয়ে অনেকে মাটিতে গড়াগড়ি খাচ্ছেন। আমি কাকে রেখে কার কথা শুনবো খুঁজে পাচ্ছিলাম না। তাদের সান্ত্বনা দেবার ভাষাও আমার জানা নেই। শুধু স্বাধীন হওয়ার আশ্বাস দিয়ে যাচ্ছিলাম। অতঃপর নূর হোটেলের সামনে একটি লম্বা কাঠ দিয়ে আমাকে জিপের ওপর দাঁড় করানো হলো, জনতার উদ্দেশ্যে কিছু বলার জন্য। তাৎক্ষণিকভাবে কী বলবো ভেবে পাচ্ছিলাম না। তবু যতটুকু পেরেছি তাদের সান্ত্বনা দিতে চেষ্টা করেছি।’

ওই দিন তাঁর দেয়া বক্তব্যের একটি অংশে তিনি বলেছিলেন উল্লেখ করে লেখা হয়েছে, ‘আপনারা যাদের হারিয়েছেন তাদের জন্য মন খারাপ করবেন না। বরং তাদের মৃত্যু নিয়ে গর্ববোধ করুন। মনে রাখবেন তারা স্বাধীনতার জন্য শহীদ হয়েছেন। তারা চির অমর, এই সেই কক্সবাজার যেখানে ছাত্রনেতা সুভাসকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে পাষণ্ডরা। এই সেই কক্সবাজার, যেখানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রনেতা ফরহাদকে মূর্মুষ অবস্থায় তার দেহ কুকুর বিড়ালে ছিঁড়ে ছিঁড়ে খেয়েছে। এই সেই কক্সবাজার, যেখানে অ্যাডভোকেট পীযুষ চৌধুরীর শ্রদ্ধেয় পিতা অ্যাডভোকেট জ্ঞানেন্দ্র লাল চৌধুরীকে ঘর থেকে ধরে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
তাদেরই প্রাণের বিনিময়ে, তাজা রক্তের বিনিময়ে, পাকহানাদারবাহিনীর দখলমুক্ত আজকে আমাদের কক্সবাজার, বাঙালিদের কক্সবাজার। সমগ্র বাঙালি জাতির পক্ষ থেকে আমি এই বীর শহীদ ও দেশপ্রেমিক মানুষের আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করছি”।

২০২৪ সালের ১২ জানুয়ারী ৮২ বছর বয়সে বীর মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন আব্দুস সোবাহান চলে যান না ফেরার দেশে। নীজ বাড়ি উখিয়ার হলদিয়া পালংয়ের পশ্চিম মরিচ্যার পারিবারিক কবরস্থানে শায়িত আছেন।

মৃত্যুর কিছুদিন আগে টিটিএন কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন,১৯৭১ সালের ১২ ডিসেম্বর সাদা জীপের উপর দাঁড়িয়ে ঘোষনা করি কক্সবাজার আজ থেকে মুক্ত। সব থানাসহ পুরো কক্সবাজার মুক্তিবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে। আর কোনো দুঃশ্চিন্তা নেই।

তিনি নেই, আছে শুধু কালের স্বাক্ষী পাবলিক হলের মাঠ আর ইতিহাসের পাঠ থেকে বারবার ভেসে সেই বীরের কন্ঠস্বর আর সমুদ্র জনপদের মুক্তির বারতা।