ঢাকা ০৬:২৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬, ২৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গর্জনিয়ায় মোটরসাইকেল চালক সমিতির ইফতার মাহফিল চকরিয়ায় গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে স্থলমাইন বিস্ফোরণ : উড়ে গেল কাঠুরিয়ার পা ভিন্ন আবহে আরেকটি ৭ মার্চ মাল্টিমিডিয়া জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন কক্সবাজারের আহবায়ক কমিটি গঠিত – আহবায়ক: মোজাম্মেল হক, সদস্য সচিব: আরোজ ফারুক ‘আমার মত অনেক মেয়ে আপেল মাহমুদের কাছে নির্যাতিত’ -লাইলা পরী পেকুয়ায় মা–মেয়ের এক মাসের কারাদণ্ডের অন্তরালে “নব্য জাহেলিয়াত থেকে মুক্তির জন্য ইসলামী অনুশাসনের বিকল্প নেই – আনোয়ারী সিবিআইইউতে বিবিএ ডিপার্টমেন্টের উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত জ্বালানি তেল বিক্রির সীমা বেঁধে দিল বিপিসি রামুতে সরঞ্জাম ও জাল টাকাসহ যুবক আটক সাগরপাড়ে প্রশান্তির ইফতার রত্নগর্ভা রিজিয়া আহমেদ স্মরণে ফেইম ফাউন্ডেশনের ইফতার ও ঈদসামগ্রী বিতরণ ইফতারে দই-চিড়া কেন খাবেন? আরকান আর্মির হাতে আটক তিন বাংলাদেশিকে ফেরত আনল বিজিবি

কক্সবাজার বিমানবন্দর: আতংক আকাশে নয়, মাটিতে!

আকাশে নয়, এবার আতঙ্ক নেমে এলো রানওয়েতে। দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন শহর কক্সবাজারের বিমানবন্দরে গত শনিবার সন্ধ্যায় উড্ডয়নের ঠিক আগ মুহূর্তে রানওয়েতে ঢুকে পড়ে একটি কুকুর। এতে বেসরকারি এয়ারলাইন এয়ার এস্ট্রার একটি ফ্লাইটের সঙ্গে ধাক্কা লেগে কুকুরটি মারা যায় এবং ফ্লাইটটি এক ঘণ্টারও বেশি সময় বিলম্বিত হয়। যাত্রীদের মধ্যে দেখা দেয় চরম আতঙ্ক।

কুকুরের ধাক্কায় থমকে যায় উড্ডয়ন-

বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, ওই ফ্লাইটে ৭২ জন যাত্রী ছিলেন। কুকুরের সঙ্গে ধাক্কা লাগার পর পাইলট সঙ্গে সঙ্গে উড়োজাহাজ থামিয়ে দেন। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা পরে মৃত কুকুরটি সরিয়ে ফেললে রাত ৮টার দিকে ফ্লাইটটি ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়।

পুনরাবৃত্ত ঘটনার পরও স্থায়ী সমাধান নেই-

স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, এটি নতুন কোনো ঘটনা নয়। এর আগেও কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়েতে কুকুর, গরু, এমনকি ছাগল প্রবেশ করে উড়োজাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করেছে। ২০২১ সালে একইভাবে রানওয়েতে উড়োজাহাজের ধাক্কায় মারা যায় দুটি গরু। অথচ এখনো পর্যন্ত নেই কোনো নির্ভরযোগ্য প্রাণী নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা।

নিরাপত্তা হুমকিতে বিমান চলাচল-

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) স্বীকার করেছে, কক্সবাজার বিমানবন্দরে জনবল সংকট ও আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাবে নিয়মিত প্যাট্রোলিং করা সম্ভব হয় না। ফলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা থেকে শুরু করে প্রাণী নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে না। কুকুর বা অন্য বন্যপ্রাণীর উপস্থিতি আন্তর্জাতিক উড়োজাহাজ চলাচলের জন্য ভয়াবহ হুমকি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

অ্যাভিয়েশন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, আইকাওর (ICAO) নির্দেশনা অনুযায়ী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোতে ‘বার্ড শুটার’ ও প্রাণী তাড়ানোর আধুনিক যন্ত্রপাতি থাকা আবশ্যক। অথচ কক্সবাজার বিমানবন্দরে এখনো নেই কোনো বার্ড শুটার কিংবা কুকুর বা পাখি তাড়ানোর বিশেষ প্রযুক্তি।

যাত্রীদের আতঙ্ক ও ক্ষোভ-

একজন যাত্রী বলেন, ‘‘শনিবার বিমান হঠাৎ থেমে গেলে মনে হয়েছিল বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটেছে। পরে শুনলাম কুকুরের সঙ্গে ধাক্কা লেগেছে- তখন খুবই ভয় পেয়েছিলাম।’’

ব্যবস্থাপনার নাজুক অবস্থা-

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, কক্সবাজার বিমানবন্দর ঘিরে সুরক্ষা প্রাচীরের ঘাটতি, এলোমেলো নির্মাণকাজ ও ঠিকাদারি জটিলতা পরিস্থিতি আরও সংকটময় করে তুলেছে। ১৮৯ জন আনসার নিয়োজিত থাকলেও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। সন্ধ্যার পর পর্যাপ্ত আলো না থাকা, পুরোনো যন্ত্রপাতি ও রাডার সমস্যাও নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলেছে।

কর্তৃপক্ষের ভাষ্য-

বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক গোলাম মর্তুজা বলেন, ‘‘কয়েকটি কুকুর রানওয়েতে ঢুকে পড়ে। দেয়ালের কিছু অংশে নির্মাণকাজ চলায় সেগুলো ফাঁক দিয়ে আসে। মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে বার্ড শুটার আমাদের নেই। এয়ারফোর্স মাঝে মাঝে শুট করে।’’

তিনি আরও বলেন, ‘‘কোনো ক্ষয়ক্ষতি না হওয়ায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়নি। তবে পরবর্তী ঝুঁকি এড়াতে কুকুর তাড়ানো ও দেয়াল মেরামতের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’’

‘সেফটি ফার্স্ট’–তবু নেই নিরাপত্তার নিশ্চয়তা

ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) মো. কামরুল ইসলাম বলেন, ‘‘সব বিমানবন্দরে বার্ড শুটার থাকা বাধ্যতামূলক। শুধু ঢাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করলেই চলবে না। যাত্রী, পাইলট ও ক্রুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব।’’

ট্যাগ :
আপলোডকারীর তথ্য

Mohammad Noman

মোহাম্মেদ নোমান কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলার একজন তরুণ ও প্রতিশ্রুতিশীল সাংবাদিক। তিনি স্থানীয় সংবাদমাধ্যম টিটিএন কক্সবাজার এর মাধ্যমে সাংবাদিকতায় যুক্ত হয়ে মাঠপর্যায়ে বিভিন্ন সামাজিক, মানবিক ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে প্রতিবেদন করে পরিচিতি অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি দেশের জনপ্রিয় টেলিভিশন চ্যানেল এনটিভি অনলাইন এর টেকনাফ প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সাংবাদিকতার মাধ্যমে সীমান্তাঞ্চল টেকনাফের জনজীবন, উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও মানবিক বিষয়গুলো জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরার ক্ষেত্রে তিনি সক্রিয় ভূমিকা রেখে চলেছেন। সততা, দায়িত্ববোধ ও মাঠভিত্তিক অনুসন্ধানী কাজের মাধ্যমে তিনি স্থানীয় সাংবাদিকতায় একটি সম্ভাবনাময় নাম হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার পথে এগিয়ে চলেছেন।

গর্জনিয়ায় মোটরসাইকেল চালক সমিতির ইফতার মাহফিল

কক্সবাজার বিমানবন্দর: আতংক আকাশে নয়, মাটিতে!

আপডেট সময় : ০৬:১১:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ অগাস্ট ২০২৫

আকাশে নয়, এবার আতঙ্ক নেমে এলো রানওয়েতে। দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন শহর কক্সবাজারের বিমানবন্দরে গত শনিবার সন্ধ্যায় উড্ডয়নের ঠিক আগ মুহূর্তে রানওয়েতে ঢুকে পড়ে একটি কুকুর। এতে বেসরকারি এয়ারলাইন এয়ার এস্ট্রার একটি ফ্লাইটের সঙ্গে ধাক্কা লেগে কুকুরটি মারা যায় এবং ফ্লাইটটি এক ঘণ্টারও বেশি সময় বিলম্বিত হয়। যাত্রীদের মধ্যে দেখা দেয় চরম আতঙ্ক।

কুকুরের ধাক্কায় থমকে যায় উড্ডয়ন-

বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, ওই ফ্লাইটে ৭২ জন যাত্রী ছিলেন। কুকুরের সঙ্গে ধাক্কা লাগার পর পাইলট সঙ্গে সঙ্গে উড়োজাহাজ থামিয়ে দেন। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা পরে মৃত কুকুরটি সরিয়ে ফেললে রাত ৮টার দিকে ফ্লাইটটি ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়।

পুনরাবৃত্ত ঘটনার পরও স্থায়ী সমাধান নেই-

স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, এটি নতুন কোনো ঘটনা নয়। এর আগেও কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়েতে কুকুর, গরু, এমনকি ছাগল প্রবেশ করে উড়োজাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করেছে। ২০২১ সালে একইভাবে রানওয়েতে উড়োজাহাজের ধাক্কায় মারা যায় দুটি গরু। অথচ এখনো পর্যন্ত নেই কোনো নির্ভরযোগ্য প্রাণী নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা।

নিরাপত্তা হুমকিতে বিমান চলাচল-

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) স্বীকার করেছে, কক্সবাজার বিমানবন্দরে জনবল সংকট ও আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাবে নিয়মিত প্যাট্রোলিং করা সম্ভব হয় না। ফলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা থেকে শুরু করে প্রাণী নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে না। কুকুর বা অন্য বন্যপ্রাণীর উপস্থিতি আন্তর্জাতিক উড়োজাহাজ চলাচলের জন্য ভয়াবহ হুমকি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

অ্যাভিয়েশন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, আইকাওর (ICAO) নির্দেশনা অনুযায়ী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোতে ‘বার্ড শুটার’ ও প্রাণী তাড়ানোর আধুনিক যন্ত্রপাতি থাকা আবশ্যক। অথচ কক্সবাজার বিমানবন্দরে এখনো নেই কোনো বার্ড শুটার কিংবা কুকুর বা পাখি তাড়ানোর বিশেষ প্রযুক্তি।

যাত্রীদের আতঙ্ক ও ক্ষোভ-

একজন যাত্রী বলেন, ‘‘শনিবার বিমান হঠাৎ থেমে গেলে মনে হয়েছিল বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটেছে। পরে শুনলাম কুকুরের সঙ্গে ধাক্কা লেগেছে- তখন খুবই ভয় পেয়েছিলাম।’’

ব্যবস্থাপনার নাজুক অবস্থা-

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, কক্সবাজার বিমানবন্দর ঘিরে সুরক্ষা প্রাচীরের ঘাটতি, এলোমেলো নির্মাণকাজ ও ঠিকাদারি জটিলতা পরিস্থিতি আরও সংকটময় করে তুলেছে। ১৮৯ জন আনসার নিয়োজিত থাকলেও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। সন্ধ্যার পর পর্যাপ্ত আলো না থাকা, পুরোনো যন্ত্রপাতি ও রাডার সমস্যাও নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলেছে।

কর্তৃপক্ষের ভাষ্য-

বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক গোলাম মর্তুজা বলেন, ‘‘কয়েকটি কুকুর রানওয়েতে ঢুকে পড়ে। দেয়ালের কিছু অংশে নির্মাণকাজ চলায় সেগুলো ফাঁক দিয়ে আসে। মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে বার্ড শুটার আমাদের নেই। এয়ারফোর্স মাঝে মাঝে শুট করে।’’

তিনি আরও বলেন, ‘‘কোনো ক্ষয়ক্ষতি না হওয়ায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়নি। তবে পরবর্তী ঝুঁকি এড়াতে কুকুর তাড়ানো ও দেয়াল মেরামতের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’’

‘সেফটি ফার্স্ট’–তবু নেই নিরাপত্তার নিশ্চয়তা

ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) মো. কামরুল ইসলাম বলেন, ‘‘সব বিমানবন্দরে বার্ড শুটার থাকা বাধ্যতামূলক। শুধু ঢাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করলেই চলবে না। যাত্রী, পাইলট ও ক্রুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব।’’