ঢাকা ১২:৪৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬, ১২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কুতুবদিয়া বিএনপির উদ্যোগে মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপন স্বাধীনতা দিবসে কক্সবাজারে খেলাঘরের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান জনগণের স্বাধীনতা আজ ক্ষমতাসীনদের হাতে বন্দী- হামিদুর রহমান আযাদ কক্সবাজার সৈকতে গোসলে নেমে পর্যটকের মৃত্যু রামুতে বর্ণিল আয়োজনে উদযাপিত হলো স্বাধীনতা দিবস স্বাধীনতা দিবসে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনায় এমপি শাহজাহান চৌধুরী -মুক্তিযোদ্ধাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে শ্রদ্ধা নিবেদন ও কুচকাওয়াজ: কক্সবাজারে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালন কবিতা চত্বর থেকে নবজাতকের মর’দেহ উদ্ধার স্বাধীনতা দিবসে শহীদদের প্রতি সাংবাদিক সংসদ কক্সবাজারের শ্রদ্ধা, পুষ্পস্তবক অর্পণ বাসের ধাক্কায় দুই মোটরসাইকেল আরোহী নিহত স্বাধীনতা দিবসে শহীদদের প্রতি সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠীর শ্রদ্ধা, পুষ্পস্তবক অর্পণ জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদন মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস আজ “বিজয় বয়ে এনেছিলে স্বাধীনতা তুমি” কক্সবাজারে এক ব্যক্তির মৃত্যু ঘিরে রহস্য,অতিরিক্ত মদ্যপানে বলে ধারণা স্থানীয়দের

কক্সবাজারের আকাশে ‘ব্লাড মুন’

বিশ্বের দীর্ঘতম অবিচ্ছেদ্য সমুদ্রসৈকত খ্যাত পর্যটন নগরী কক্সবাজারের আকাশে দেখা গেল এক অপূর্ব মহাজাগতিক দৃশ্য। বছরের প্রথম পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ। সন্ধ্যার পর সূর্যাস্তের আবহে সমুদ্রের গর্জনের সঙ্গে লাল আভায় উদ্ভাসিত চাঁদ যেন অন্য এক স্বর্গীয় আবহ তৈরি করে। জ্যোতির্বিজ্ঞানের ভাষায় এ দৃশ্যকে বলা হয় ‘ব্লাড মুন’।

জানা গেছে, যখন পৃথিবী সূর্য ও চাঁদের ঠিক মাঝখানে অবস্থান নেয়, তখন পৃথিবীর ছায়ায় পুরোপুরি ঢেকে যায় চাঁদ। সূর্যের আলো সরাসরি চাঁদে পৌঁছাতে না পেরে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল ঘুরে প্রতিফলিত হয়ে চাঁদের ওপর পড়ে। এর ফলে চাঁদ ধারণ করে গাঢ় লাল বর্ণ। মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা (NASA) জানিয়েছে, ২০২৮ সালের আগে এমন পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ আর দেখার সুযোগ মিলবে না।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কক্সবাজারে দিনের আলো ম্লান হয়ে সূর্যাস্তের পরপরই দিগন্তে দেখা যায় লালচে আভা। কিছুক্ষণ পর স্পষ্ট হয়ে ওঠে পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণের দৃশ্য। সমুদ্রসৈকতে ঘুরতে আসা পর্যটক ও স্থানীয়রা থেমে গিয়ে উপভোগ করেন এই বিরল মুহূর্ত। অনেকে মোবাইল ফোনে ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন।

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের লাবণী পয়েন্টে চন্দ্রগ্রহণের দৃশ্য দেখে মুঠোফোনে ধারণ করেছেন স্থানীয় তরুণ মো. আবছার। তিনি বলেন, “চাঁদের এমন লাল রং আগে দেখিনি। প্রথমে অবাক হয়েছিলাম। পরে জানতে পারি চন্দ্রগ্রহণ হচ্ছে। সঙ্গে সঙ্গে ছবি ও ভিডিও ধারণ করি।”

সমুদ্রসৈকতে উপস্থিত অনেকেই জানান, ঢেউয়ের শব্দ আর লাল চাঁদের মায়াবী আলো মিলিয়ে এক অনন্য পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। এমন দৃশ্য দীর্ঘ সময় ধরে স্থায়ী হওয়ায় উপভোগের সুযোগ পান সবাই।

এ বিষয়ে কক্সবাজার আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ আব্দুল হান্নান মুঠোফোনে বলেন, “আমিও চন্দ্রগ্রহণের দৃশ্য দেখেছি। তবে এ ধরনের জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক বিষয়গুলো সাধারণত ঢাকা থেকে সমন্বয় করা হয়। আমাদের কাছে আলাদা কোনো তথ্য আসেনি।”

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় কক্সবাজারের খোলা আকাশ ও সমুদ্রতট থেকে চন্দ্রগ্রহণের দৃশ্য ছিল আরও স্পষ্ট ও মনোমুগ্ধকর। পর্যটননগরী কক্সবাজারে এমন বিরল মহাজাগতিক ঘটনার সাক্ষী হয়ে আনন্দিত স্থানীয় বাসিন্দা ও দর্শনার্থীরা।

ট্যাগ :

কুতুবদিয়া বিএনপির উদ্যোগে মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপন

কক্সবাজারের আকাশে ‘ব্লাড মুন’

আপডেট সময় : ১২:১৬:৫১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬

বিশ্বের দীর্ঘতম অবিচ্ছেদ্য সমুদ্রসৈকত খ্যাত পর্যটন নগরী কক্সবাজারের আকাশে দেখা গেল এক অপূর্ব মহাজাগতিক দৃশ্য। বছরের প্রথম পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ। সন্ধ্যার পর সূর্যাস্তের আবহে সমুদ্রের গর্জনের সঙ্গে লাল আভায় উদ্ভাসিত চাঁদ যেন অন্য এক স্বর্গীয় আবহ তৈরি করে। জ্যোতির্বিজ্ঞানের ভাষায় এ দৃশ্যকে বলা হয় ‘ব্লাড মুন’।

জানা গেছে, যখন পৃথিবী সূর্য ও চাঁদের ঠিক মাঝখানে অবস্থান নেয়, তখন পৃথিবীর ছায়ায় পুরোপুরি ঢেকে যায় চাঁদ। সূর্যের আলো সরাসরি চাঁদে পৌঁছাতে না পেরে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল ঘুরে প্রতিফলিত হয়ে চাঁদের ওপর পড়ে। এর ফলে চাঁদ ধারণ করে গাঢ় লাল বর্ণ। মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা (NASA) জানিয়েছে, ২০২৮ সালের আগে এমন পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ আর দেখার সুযোগ মিলবে না।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কক্সবাজারে দিনের আলো ম্লান হয়ে সূর্যাস্তের পরপরই দিগন্তে দেখা যায় লালচে আভা। কিছুক্ষণ পর স্পষ্ট হয়ে ওঠে পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণের দৃশ্য। সমুদ্রসৈকতে ঘুরতে আসা পর্যটক ও স্থানীয়রা থেমে গিয়ে উপভোগ করেন এই বিরল মুহূর্ত। অনেকে মোবাইল ফোনে ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন।

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের লাবণী পয়েন্টে চন্দ্রগ্রহণের দৃশ্য দেখে মুঠোফোনে ধারণ করেছেন স্থানীয় তরুণ মো. আবছার। তিনি বলেন, “চাঁদের এমন লাল রং আগে দেখিনি। প্রথমে অবাক হয়েছিলাম। পরে জানতে পারি চন্দ্রগ্রহণ হচ্ছে। সঙ্গে সঙ্গে ছবি ও ভিডিও ধারণ করি।”

সমুদ্রসৈকতে উপস্থিত অনেকেই জানান, ঢেউয়ের শব্দ আর লাল চাঁদের মায়াবী আলো মিলিয়ে এক অনন্য পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। এমন দৃশ্য দীর্ঘ সময় ধরে স্থায়ী হওয়ায় উপভোগের সুযোগ পান সবাই।

এ বিষয়ে কক্সবাজার আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ আব্দুল হান্নান মুঠোফোনে বলেন, “আমিও চন্দ্রগ্রহণের দৃশ্য দেখেছি। তবে এ ধরনের জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক বিষয়গুলো সাধারণত ঢাকা থেকে সমন্বয় করা হয়। আমাদের কাছে আলাদা কোনো তথ্য আসেনি।”

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় কক্সবাজারের খোলা আকাশ ও সমুদ্রতট থেকে চন্দ্রগ্রহণের দৃশ্য ছিল আরও স্পষ্ট ও মনোমুগ্ধকর। পর্যটননগরী কক্সবাজারে এমন বিরল মহাজাগতিক ঘটনার সাক্ষী হয়ে আনন্দিত স্থানীয় বাসিন্দা ও দর্শনার্থীরা।