ঢাকা ০২:২৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ৩০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পিএমখালীতে সীমানা বিরোধে যুবককে কুপিয়ে হত্যা গর্জনিয়া ইউনিয়নের টোল-ট্যাক্স ৫ লাখ ৩০ হাজার টাকায় ইজারা পেলেন লুৎফুর রহমান রেন্ট বাইকের সাথে জড়িয়ে আছে কক্সবাজারের হাজারো মানুষ: তাদের পেটে লাথি দিবেন না- নয়ন মানবপাচারের অভিযোগে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ দেলোয়ার ও আক্তারের সীমিত জনবলেও তৎপর উখিয়া রেঞ্জ, বনউজাড় করতে গিয়ে ধরা পড়ল ২৬ রোহিঙ্গা বর্ষার আগেই শহরকে জলাবদ্ধতামুক্ত করতে মাঠ পর্যায়ে কঠোর অ্যাকশনে যাওয়ার নির্দেশ এমপি কাজলের টেকনাফ এখন ‘মৃত্যুপুরী’: সন্ত্রাস ও মাদক নির্মূলে যৌথ অভিযানের দাবিতে ছাত্র-জনতার মানববন্ধন টেকনাফে ৭.৬২ ক্যালিবার অস্ত্রসহ তিন ডাকাত আটক ৭ ইউনিয়ন নিয়ে নতুন ‘মাতামুহুরী’ উপজেলা গঠনের প্রস্তাব: প্রাক নিকার সভায় অন্তর্ভুক্ত প্রতারণার ফাঁদ ভাঙুন, মানব পাচার রুখুন সিএনজি তল্লাশিতে বিদেশি পিস্তল উদ্ধার, আটক ৩ লবণ মাঠে দূর্বৃত্তের তাণ্ডব,২ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি জামিনে মুক্ত হলেন বাউল শিল্পী আবুল সরকার বিয়ে করাটা ভুল সিদ্ধান্ত ছিল: অপু বিশ্বাস চৈত্র সংক্রান্তি: ইতিহাস, ঐতিহ্য ও বাঙালির সংস্কৃতির এক প্রাচীন ধারাবাহিকতা

উড্ডয়নকালে কেন একই খাবার দেয়া হয় না পাইলট ও কো-পাইলট কে?

আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলোর অজানা এক গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম হলো — বিমানের পাইলট ও কো-পাইলটকে একসাথে এক ধরনের খাবার দেওয়া হয় না।

কারণ? নিরাপত্তার স্বার্থে দুজনেই যেন একসাথে অসুস্থ না হন, বিশেষ করে খাদ্যে বিষক্রিয়ার (Food Poisoning) আশঙ্কা থাকলে। বিশ্বের অনেক শীর্ষস্থানীয় এয়ারলাইন্স যেমন ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ, জাপান এয়ারলাইন্স এবং এমিরেটস-এর মতো প্রতিষ্ঠান এই নিয়ম মেনে চলে। তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী, ক্যাপ্টেন এবং ফার্স্ট অফিসার (co-pilot) সম্পূর্ণ আলাদা খাবার গ্রহণ করেন — কখনো আলাদা রন্ধনশৈলীতে তৈরি, কখনো ভিন্ন উৎস থেকে আসা খাবার।

১৯৮২ সালে একটি ফ্লাইটে দুইজন পাইলটই একই খাবার গ্রহণ করেছিলেন, এবং সেই খাবারেই ছিলো সালমোনেলা ব্যাকটেরিয়া। দুজনেই কিছুক্ষণের মধ্যে বমি ও দুর্বলতায় ভুগতে শুরু করেন। ফ্লাইটটি শেষ পর্যন্ত সহকারী স্টাফদের সহায়তায় নিরাপদে অবতরণ করলেও, এই ঘটনা বিমান চলাচল জগতে এক বড় সতর্কতা তৈরি করে।

অন্যদিকে, জাপান এয়ারলাইন্স ২০১৩ সালে এক বিবৃতিতে জানায়, আন্তর্জাতিক রুটে ক্যাপ্টেন ও কো-পাইলটকে ভিন্ন মেন্যু থেকে খাবার বেছে নিতে বলা হয়। পাইলট যদি “জাপানিজ মিল” নেন, কো-পাইলটকে নিতে হবে “ওয়েস্টার্ন মিল”।

ফ্লাইটে দুইজন পাইলটই যদি একই উৎসের খাবার খান এবং তা দূষিত হয়, তাহলে উভয়েরই অসুস্থ হয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে।

বিমানের মাঝ আকাশে পাইলট-সহ পুরো ককপিট টিমের অসুস্থ হওয়া মানে বিপদের শঙ্কা, এমনকি দুর্ঘটনাও ঘটতে পারে। সেজন্য এই নীতি গোপনে হলেও বহু বছর ধরে কার্যকর রয়েছে।

এভিয়েশন বিশেষজ্ঞদের মতে, “বিমানের প্রতিটি বিষয়েই রয়েছে নিরাপত্তার উপর বাড়তি গুরুত্ব। খাবার সম্পর্কেও এমন নীতিমালা কেবলমাত্র যাত্রী নয়, বরং পুরো ফ্লাইট পরিচালনার নিরাপত্তাও নিশ্চিত করে।”

যাত্রীদের সেবা ও পাইলটদের সুস্থতা — উভয়ই এভিয়েশন সেক্টরে গুরুত্বপূর্ণ। তাই ক্যাপ্টেন ও কো-পাইলটের খাবার আলাদা রাখা যেন এক নীরব কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নীতি হয়ে উঠেছে আধুনিক বিমান পরিবহনে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

পিএমখালীতে সীমানা বিরোধে যুবককে কুপিয়ে হত্যা

উড্ডয়নকালে কেন একই খাবার দেয়া হয় না পাইলট ও কো-পাইলট কে?

আপডেট সময় : ০২:২৩:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ জুন ২০২৫

আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলোর অজানা এক গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম হলো — বিমানের পাইলট ও কো-পাইলটকে একসাথে এক ধরনের খাবার দেওয়া হয় না।

কারণ? নিরাপত্তার স্বার্থে দুজনেই যেন একসাথে অসুস্থ না হন, বিশেষ করে খাদ্যে বিষক্রিয়ার (Food Poisoning) আশঙ্কা থাকলে। বিশ্বের অনেক শীর্ষস্থানীয় এয়ারলাইন্স যেমন ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ, জাপান এয়ারলাইন্স এবং এমিরেটস-এর মতো প্রতিষ্ঠান এই নিয়ম মেনে চলে। তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী, ক্যাপ্টেন এবং ফার্স্ট অফিসার (co-pilot) সম্পূর্ণ আলাদা খাবার গ্রহণ করেন — কখনো আলাদা রন্ধনশৈলীতে তৈরি, কখনো ভিন্ন উৎস থেকে আসা খাবার।

১৯৮২ সালে একটি ফ্লাইটে দুইজন পাইলটই একই খাবার গ্রহণ করেছিলেন, এবং সেই খাবারেই ছিলো সালমোনেলা ব্যাকটেরিয়া। দুজনেই কিছুক্ষণের মধ্যে বমি ও দুর্বলতায় ভুগতে শুরু করেন। ফ্লাইটটি শেষ পর্যন্ত সহকারী স্টাফদের সহায়তায় নিরাপদে অবতরণ করলেও, এই ঘটনা বিমান চলাচল জগতে এক বড় সতর্কতা তৈরি করে।

অন্যদিকে, জাপান এয়ারলাইন্স ২০১৩ সালে এক বিবৃতিতে জানায়, আন্তর্জাতিক রুটে ক্যাপ্টেন ও কো-পাইলটকে ভিন্ন মেন্যু থেকে খাবার বেছে নিতে বলা হয়। পাইলট যদি “জাপানিজ মিল” নেন, কো-পাইলটকে নিতে হবে “ওয়েস্টার্ন মিল”।

ফ্লাইটে দুইজন পাইলটই যদি একই উৎসের খাবার খান এবং তা দূষিত হয়, তাহলে উভয়েরই অসুস্থ হয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে।

বিমানের মাঝ আকাশে পাইলট-সহ পুরো ককপিট টিমের অসুস্থ হওয়া মানে বিপদের শঙ্কা, এমনকি দুর্ঘটনাও ঘটতে পারে। সেজন্য এই নীতি গোপনে হলেও বহু বছর ধরে কার্যকর রয়েছে।

এভিয়েশন বিশেষজ্ঞদের মতে, “বিমানের প্রতিটি বিষয়েই রয়েছে নিরাপত্তার উপর বাড়তি গুরুত্ব। খাবার সম্পর্কেও এমন নীতিমালা কেবলমাত্র যাত্রী নয়, বরং পুরো ফ্লাইট পরিচালনার নিরাপত্তাও নিশ্চিত করে।”

যাত্রীদের সেবা ও পাইলটদের সুস্থতা — উভয়ই এভিয়েশন সেক্টরে গুরুত্বপূর্ণ। তাই ক্যাপ্টেন ও কো-পাইলটের খাবার আলাদা রাখা যেন এক নীরব কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নীতি হয়ে উঠেছে আধুনিক বিমান পরিবহনে।