ঢাকা ১০:৩০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
দুই বিতর্কিত অভিযান / যেকারণে কক্সবাজারে অধিনায়কসহ ৩ শতাধিক র‍্যাব সদস্য বদলি জরুরি ফ্লাইটে তারেক রহমানের দেশে ‘ফেরার’ গুঞ্জন! ইয়াবা পৌঁছে দিলেই ৩০ হাজার টাকা!বিজিবির হাতে আটক চালক-সিএনজি জব্দ.. ছুটির দিনেই সমাগম , চলতি পর্যটন মৌসুমে কক্সবাজারে ভীড় কম টেকনাফের গোদারবিলে আগ্নেয়াস্ত্রসহ যুবক আটক খালেদা জিয়ার অবস্থা অত্যন্ত সংকটময় : মির্জা ফখরুল ‘আমাদের দেশে ভিন্নমত প্রকাশ করলে তাকে শত্রু হিসেবে দেখা হয়’ শহরে দেশীয় তৈরি এলজি ও কার্তুজসহ ৩ যুবক গ্রেফতার ক্ষমতায় এলে বিএনপিসহ সবাইকে নিয়েই দেশ পরিচালনা করবো : জামায়াত আমির ঘূর্ণিঝড় ডিটওয়াহ ভারতের দিকে এগোচ্ছে, বাংলাদেশে যেমন থাকবে আবহাওয়া ‘বাংলাদেশে পাটভিত্তিক উৎপাদনে বড় বিনিয়োগে আগ্রহী চীন’ প্রত্যর্পণ শুরু হবে সাজাপ্রাপ্ত সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামালকে দিয়ে: প্রেস সচিব ‘যে যুবক বেড়ে উঠেছে আল্লাহর ইবাদতে’ চকরিয়ায় দু’র্ধ’র্ষ ডা কা তি / লুটের শি কা র ৪ সাংবাদিক ও ২ রাজনীতিবিদ মহেশখালীতে কোস্ট গার্ডের অভিযানে দেশীয় অস্ত্র-গোলাবারুদসহ কারিগর আটক

ইউএনও’র উদ্যোগ : অবশেষে বুশরার হার্টের ছিদ্র সরাতে অপারেশন হচ্ছে

বুশরা, বয়স সাড়ে ৫ বছর। তার হার্টে ছিদ্র। যার অপারেশন না করালে যেকোনো সময় চলে যাবে না ফেরার দেশে।

বুশরার বাড়ী সদর উপজেলার ঝিলংজার দক্ষিন হাজী পাড়ায়। বাবা বেলান হোসেন কৃষি কাজ করে। নুন আনতে পান্তা ফুরোয় সংসারে। মেয়ের হার্টের ছিদ্র অপারেশন করাতে আর্থিক সাহায্যের আবেদন নিয়ে বুশরার মা মরিয়ম খাতুন হাজির হয় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নীলুফার ইয়াসমিন চৌধুরীর কার্যালয়ে।

দিনটি ১৭ নভেম্বর। আর্থিক সাহায্যের আবেদন নিয়ে মায়ের সাথে আসা ছোট্ট মেয়েটিকে দেখে কেমন জানি নিজের ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠে এই ভেবে যে, মাত্র ৩ থেকে ৪ লাখ টাকার জন্যে এই শিশুটি ধুঁকে ধুঁকে মরবে? কথা গুলো বলছিলেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নীলুফার ইয়াসমিন চৌধুরী।

তিনি জানান,” উপজেলা পরিষদ থেকে এতো টাকা দেয়ার সুযোগ নেই। তারপর শুরু হলো খোঁজ, দীর্ঘ ১০ দিন ধরে বিভিন্ন জায়গা,বিভিন্ন মানুষ, বিভিন্ন এনজিও কে বলা হলো। অবশেষে একটি এনজিও রাজী হলো বুশরার চিকিৎসার দায়িত্ব নিতে। এনজিওটি বুশরাকে ঢাকার হার্ট ফাউন্ডেশনে নিয়ে গিয়ে অপারেশন করাবে বলে আশ্বস্ত করেছে”।

বুশরার মা মরিয়ম খাতুন টিটিএনকে জানান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার উদ্যোগের কারণে মেয়ের চিকিৎসার কাজ শুরু হয়েছে, ইতোমধ্যে এনজিওর কর্মকর্তাদের সাথে দেখা হয়েছে,চিকিৎসার কাগজপত্র দেয়া হয়েছে। তারা দ্রুত বাকী কাজ গুলো সম্পন্ন করবে বলে জানিয়েছে।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নীলুফার ইয়াসমিন চৌধুরীর প্রতি বুশরার মায়ের কৃতজ্ঞতার যেনো শেষ নেই।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সরাকরি ফেসবুক একাউন্টের পোস্টে লিখেছেন তার এই অভিজ্ঞতার কথা। তার অফিসে আসা বুশরাকে কাছে ডাকলেন,পাশে দাঁড়ালেন। মানবিক এমন আরো গল্পের শিরোনাম হোক, শাসক নয় সেবক হোক প্রশাসনের কর্তারা এমনটাই বলছেন সচেতন মানুষেরা।

বুশরা সুস্থ হয়ে উঠবে। হাসিতে ভরে উঠবে তার মুখ। এমন আশায় বুক বাঁধছেন তার মা-বাবা।

এদিকে এই প্রতিবেদন যখন লেখা হচ্ছে তার কিছুক্ষন আগে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নীলুফার ইয়াসমিন চৌধুরীর বদলির আদেশ হয়েছে।তিনি হয়ত চলে যাবেন। তবে এই মানিবক কর্মপ্রয়াসের ধারাবাহিকতা অক্ষুন্ন থাকুবে এমনটাই প্রত্যাশা সদর উপজেলার মানুষের।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

দুই বিতর্কিত অভিযান / যেকারণে কক্সবাজারে অধিনায়কসহ ৩ শতাধিক র‍্যাব সদস্য বদলি

This will close in 6 seconds

ইউএনও’র উদ্যোগ : অবশেষে বুশরার হার্টের ছিদ্র সরাতে অপারেশন হচ্ছে

আপডেট সময় : ০৮:৩৬:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ নভেম্বর ২০২৫

বুশরা, বয়স সাড়ে ৫ বছর। তার হার্টে ছিদ্র। যার অপারেশন না করালে যেকোনো সময় চলে যাবে না ফেরার দেশে।

বুশরার বাড়ী সদর উপজেলার ঝিলংজার দক্ষিন হাজী পাড়ায়। বাবা বেলান হোসেন কৃষি কাজ করে। নুন আনতে পান্তা ফুরোয় সংসারে। মেয়ের হার্টের ছিদ্র অপারেশন করাতে আর্থিক সাহায্যের আবেদন নিয়ে বুশরার মা মরিয়ম খাতুন হাজির হয় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নীলুফার ইয়াসমিন চৌধুরীর কার্যালয়ে।

দিনটি ১৭ নভেম্বর। আর্থিক সাহায্যের আবেদন নিয়ে মায়ের সাথে আসা ছোট্ট মেয়েটিকে দেখে কেমন জানি নিজের ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠে এই ভেবে যে, মাত্র ৩ থেকে ৪ লাখ টাকার জন্যে এই শিশুটি ধুঁকে ধুঁকে মরবে? কথা গুলো বলছিলেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নীলুফার ইয়াসমিন চৌধুরী।

তিনি জানান,” উপজেলা পরিষদ থেকে এতো টাকা দেয়ার সুযোগ নেই। তারপর শুরু হলো খোঁজ, দীর্ঘ ১০ দিন ধরে বিভিন্ন জায়গা,বিভিন্ন মানুষ, বিভিন্ন এনজিও কে বলা হলো। অবশেষে একটি এনজিও রাজী হলো বুশরার চিকিৎসার দায়িত্ব নিতে। এনজিওটি বুশরাকে ঢাকার হার্ট ফাউন্ডেশনে নিয়ে গিয়ে অপারেশন করাবে বলে আশ্বস্ত করেছে”।

বুশরার মা মরিয়ম খাতুন টিটিএনকে জানান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার উদ্যোগের কারণে মেয়ের চিকিৎসার কাজ শুরু হয়েছে, ইতোমধ্যে এনজিওর কর্মকর্তাদের সাথে দেখা হয়েছে,চিকিৎসার কাগজপত্র দেয়া হয়েছে। তারা দ্রুত বাকী কাজ গুলো সম্পন্ন করবে বলে জানিয়েছে।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নীলুফার ইয়াসমিন চৌধুরীর প্রতি বুশরার মায়ের কৃতজ্ঞতার যেনো শেষ নেই।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সরাকরি ফেসবুক একাউন্টের পোস্টে লিখেছেন তার এই অভিজ্ঞতার কথা। তার অফিসে আসা বুশরাকে কাছে ডাকলেন,পাশে দাঁড়ালেন। মানবিক এমন আরো গল্পের শিরোনাম হোক, শাসক নয় সেবক হোক প্রশাসনের কর্তারা এমনটাই বলছেন সচেতন মানুষেরা।

বুশরা সুস্থ হয়ে উঠবে। হাসিতে ভরে উঠবে তার মুখ। এমন আশায় বুক বাঁধছেন তার মা-বাবা।

এদিকে এই প্রতিবেদন যখন লেখা হচ্ছে তার কিছুক্ষন আগে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নীলুফার ইয়াসমিন চৌধুরীর বদলির আদেশ হয়েছে।তিনি হয়ত চলে যাবেন। তবে এই মানিবক কর্মপ্রয়াসের ধারাবাহিকতা অক্ষুন্ন থাকুবে এমনটাই প্রত্যাশা সদর উপজেলার মানুষের।