আসন্ন জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন যখন দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নতির আশ্বাস দিচ্ছেন, ঠিক তখনই রাজধানী ও বিভাগীয় শহরে একের পর এক রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় জনমনে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সোমবার (২২ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁও মেইল প্রসেসিং সেন্টারে প্রবাসী ভোটিং কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে সিইসি বলেন, “নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসবে, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তত উন্নত হবে। প্রার্থী ও ভোটারদের ভয়ও কেটে যাবে।” ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডে জনমনে কিছুটা আতঙ্ক তৈরি হয়েছে স্বীকার করলেও তিনি দাবি করেন, সামগ্রিকভাবে নির্বাচনি পরিবেশ বজায় রয়েছে এবং ভোট উৎসবে কোনো বাধা নেই।
কিন্তু সিইসির এই বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টা আগেই খুলনায় ঘটে যায় আরেকটি গুরুতর রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) খুলনা বিভাগীয় প্রধান এবং এনসিপি শ্রমিক শক্তির কেন্দ্রীয় সংগঠক ও মোতালেব শিকদারকে মাথায় গুলি করা হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সংগঠক ডা. মাহমুদা মিতু।
এই ঘটনার সূত্র ধরে আবারও সামনে আসে রাজধানীতে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের স্মৃতি। গত ১২ ডিসেম্বর পুরানা পল্টনে গুলিবিদ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরে তার মৃত্যু হয়। নির্বাচনকালীন সময়ে একের পর এক শীর্ষ রাজনৈতিক কর্মীকে লক্ষ্য করে হামলার ঘটনা ভোটারদের নিরাপত্তা ও নির্ভীক অংশগ্রহণ নিয়ে শংকা দেখা দিতে পারে।
যদিও সিইসি দাবি করছেন, নির্বাচন কমিশন, রাজনৈতিক দল ও ভোটাররা সবাই নির্বাচন নিয়ে ঐক্যবদ্ধ এবং পোস্টাল ও হাইব্রিড ভোটিং ব্যবস্থায় বাংলাদেশ নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে যাচ্ছে, তবে মাঠের বাস্তবতা ভিন্ন বার্তা দিচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, রাজনৈতিক সহিংসতা ও প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা অব্যাহত থাকলে ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক কাটানো কঠিন হয়ে পড়বে।
ভোটের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আশ্বাস আর বাস্তব ঘটনার এই বৈপরীত্যই এখন নির্বাচনী পরিবেশের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।
সায়ন্তন ভট্টাচার্য 





















