ঢাকা ০৮:০১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ১৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
এআরএ-আরএসও সংঘর্ষ, সীমান্তে আতঙ্ক ট্রাকের ধাক্কায় রোহিঙ্গা শিশুর মৃত্যু উখিয়ায় গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার “অধ্যক্ষ স.আ.ম. শামসুল হুদা চৌধুরী” যার আলোয় আলোকিত জনপদ নতুন কুড়িঁ স্পোর্টস উদ্বোধন উপলক্ষে মতবিনিময় সভা: জেলায় নিবন্ধন করেছে ৩ হাজার ৩৫২ জন কক্সবাজারে নানান আয়োজনে মহান মে দিবস পালিত ১৩ মাস পর টেকনাফ স্থলবন্দরে সীমান্ত বাণিজ্য শুরু: মিয়ানমার থেকে এলো কাঠ বোঝাই বোট কক্সবাজারে এসএসসি পরীক্ষার ভুয়া প্রশ্নপত্র ফাঁস ও ডিজিটাল প্রতারণা চক্রের হোতা গ্রেফতার শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিতে বদ্ধপরিকর সরকার: রাষ্ট্রপতি দুপুরের মধ্যে কক্সবাজারসহ ১৭ অঞ্চলে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের পূর্বাভাস শুভ বুদ্ধপূর্ণিমা আজ মহান মে দিবস আজ : শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের দিন প্রবাসীর পাঠানো মালামাল আত্মসাতের অভিযোগ, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রহমতুল্লাহ ও তার স্ত্রী’র চকরিয়ায় পা’চা’রচ’ক্রের নারী সদ’স্য গ্রে’প্তা’র শুভ বুদ্ধ পূর্ণিমা: কক্সবাজারে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও সদ্ধর্ম সভার ব্যাপক প্রস্তুতি

সাংবাদিককে ফাঁসাতে কক্সবাজার মাদকদ্রব্য অধিদপ্তরের লাইভ নাটক!

কক্সবাজারে এক সাংবাদিককে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (এডি) এ, কে, এম দিদারুল আলমের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, আটক এক আসামিকে শিখিয়ে স্থানীয় অনলাইন চ্যানেল ডেকে লাইভ সম্প্রচার করা হয়েছে, যা কক্সবাজার মাদকদ্রব্য অধিদপ্তরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ঘটেছে।

রবিবার (৯ মার্চ) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সাংবাদিক শাহিন মাহমুদ রাসেল তার ফেসবুকে একটি ভিডিও পোস্ট করেন। সেখানে এক নারী অভিযোগ করেন যে, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা দিদারুল আলম তার স্বামীকে (সিএনজি চালক বজল করিম) মাদকের মামলায় ফাঁসিয়ে দিয়েছেন। পোস্টের ক্যাপশনে সাংবাদিক রাসেল লেখেন,
“অপকর্মে মশগুল মাদকদ্রব্যের এডি দিদারুল। মাদক দিয়ে ফাঁসিয়ে দেওয়া সিএনজি চালক বজল করিমের স্ত্রী রাশেদার আহাজারি!!”

সাংবাদিক শাহীন মাহমুদ রাসেল জানান, এক সিএনজি চালককে (বজল করিম) কোনো মাদক ছাড়াই দীর্ঘক্ষণ আটক রাখা হয়েছিল। এ বিষয়ে সহকারী পরিচালক দিদারুল আলমের সঙ্গে ফোনে কথা হলে বাকবিতণ্ডা হয়, তখন দিদারুল তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। কিছুক্ষণ পর চালকের স্ত্রী রাসেলকে ফোন করে জানান, তার স্বামীকে আর ছাড়বে না বলে কর্মকর্তারা হুমকি দিয়েছেন।

এরপর রাসেল ওই নারীর ভিডিও বক্তব্য ফেসবুকে পোস্ট করলেই তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু হয়। মাত্র দুই ঘণ্টার ব্যবধানে রাত সাড়ে ৯টায় মাদকদ্রব্য অধিদপ্তরের কার্যালয়ে আগে থেকে আটক থাকা এক আসামিকে শিখিয়ে সাংবাদিক রাসেলের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেওয়ানো হয় এবং সেটি লাইভ সম্প্রচার করা হয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো অপরাধী শত্রুতাবশত বা কারো দ্বারা প্ররোচিত হয়ে যে কারো নাম বলতে পারে। তাই এমন অভিযোগ যাচাই না করে প্রচার করা আইনসম্মত নয়।

এই ঘটনার বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা ও সেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (ডিএনসি) কাজী গোলাম তওসিফ বলেন,
“এ ধরনের ঘটনা ঘটে থাকলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আপনারা লিখিত অভিযোগ দিন, আমি ডিজিকে বলে দিচ্ছি, দ্রুত আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।”

এদিকে, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) মমতাজ তানভীর এবং চট্টগ্রাম বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক মো. জাহিদ হোসেন মোল্লা বলেন, “কোনো আসামি আদালতে স্বীকারোক্তি না দিলে বা রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে অন্য কারও নাম উল্লেখ না করলে তাকে আসামি করা যায় না। পাবলিক প্লেসে স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে কাউকে অভিযুক্ত করাও আইনসিদ্ধ নয়। বিষয়টি আমরা গুরুত্ব সহকারে দেখছি।”

এডি দিদারুল আলম ২০১৩ সাল থেকে একই পদে দায়িত্বে রয়েছেন।

ঘটনার বিষয়ে কক্সবাজারের বিভিন্ন সাংবাদিক ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশন এবং ডয়েচ ভেলের কক্সবাজার প্রতিনিধি তৌফিকুল ইসলাম লিপু মনে করেন, সরকারি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের কর্মকর্তাদের এমন কর্মকাণ্ড রাষ্ট্রের জন্য পীড়াদায়ক। আইন রক্ষা যাদের কাঁধে তারাই আইনের ব্যত্যয় ঘটালে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেয়া জরুরি। এছাড়া সাংবাদিককে নাটক সাজিয়ে অপরাধী বানানোর চেষ্টাও নিন্দনীয়।

দৈনিক ইত্তেফাক ও জাগো নিউজ-এর কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি সাইদ আলমগীর বলেন, “একজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এমন নাটক সাজানো চরম অন্যায়। আমরা চাই, তদন্ত করে এর সঠিক বিচার করা হোক।”

দৈনিক যুগান্তর-এর কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি জসিম উদ্দিন বলেন, “একজন সরকারি কর্মকর্তার এমন কর্মকাণ্ড মেনে নেওয়া যায় না। দিদারুল আলমের আগের অপকর্মগুলোর তদন্ত হওয়া উচিত।”

কক্সবাজার জেলা প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক ও দৈনিক মেহেদী পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক মো. নাজিম উদ্দিন বলেন, “সাংবাদিকরা যদি মিথ্যা মামলার শিকার হন, তাহলে মুক্ত গণমাধ্যম হুমকির মুখে পড়বে। প্রশাসনের উচিত নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া।”

দৈনিক সকালের সময়-এর কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি সাহেদ ফেরদৌস হিরো বলেন, “প্রশাসনের উচিত সাংবাদিকদের হয়রানি না করে প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া। এই ধরনের ঘটনা সাংবাদিকতার স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ।”

স্থানীয় সাংবাদিক মহল ও সচেতন মহল এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দিদারুল আলমের অপসারণের দাবি জানিয়েছেন।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

এআরএ-আরএসও সংঘর্ষ, সীমান্তে আতঙ্ক

সাংবাদিককে ফাঁসাতে কক্সবাজার মাদকদ্রব্য অধিদপ্তরের লাইভ নাটক!

আপডেট সময় : ০২:৩০:৫২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ মার্চ ২০২৫

কক্সবাজারে এক সাংবাদিককে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (এডি) এ, কে, এম দিদারুল আলমের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, আটক এক আসামিকে শিখিয়ে স্থানীয় অনলাইন চ্যানেল ডেকে লাইভ সম্প্রচার করা হয়েছে, যা কক্সবাজার মাদকদ্রব্য অধিদপ্তরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ঘটেছে।

রবিবার (৯ মার্চ) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সাংবাদিক শাহিন মাহমুদ রাসেল তার ফেসবুকে একটি ভিডিও পোস্ট করেন। সেখানে এক নারী অভিযোগ করেন যে, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা দিদারুল আলম তার স্বামীকে (সিএনজি চালক বজল করিম) মাদকের মামলায় ফাঁসিয়ে দিয়েছেন। পোস্টের ক্যাপশনে সাংবাদিক রাসেল লেখেন,
“অপকর্মে মশগুল মাদকদ্রব্যের এডি দিদারুল। মাদক দিয়ে ফাঁসিয়ে দেওয়া সিএনজি চালক বজল করিমের স্ত্রী রাশেদার আহাজারি!!”

সাংবাদিক শাহীন মাহমুদ রাসেল জানান, এক সিএনজি চালককে (বজল করিম) কোনো মাদক ছাড়াই দীর্ঘক্ষণ আটক রাখা হয়েছিল। এ বিষয়ে সহকারী পরিচালক দিদারুল আলমের সঙ্গে ফোনে কথা হলে বাকবিতণ্ডা হয়, তখন দিদারুল তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। কিছুক্ষণ পর চালকের স্ত্রী রাসেলকে ফোন করে জানান, তার স্বামীকে আর ছাড়বে না বলে কর্মকর্তারা হুমকি দিয়েছেন।

এরপর রাসেল ওই নারীর ভিডিও বক্তব্য ফেসবুকে পোস্ট করলেই তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু হয়। মাত্র দুই ঘণ্টার ব্যবধানে রাত সাড়ে ৯টায় মাদকদ্রব্য অধিদপ্তরের কার্যালয়ে আগে থেকে আটক থাকা এক আসামিকে শিখিয়ে সাংবাদিক রাসেলের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেওয়ানো হয় এবং সেটি লাইভ সম্প্রচার করা হয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো অপরাধী শত্রুতাবশত বা কারো দ্বারা প্ররোচিত হয়ে যে কারো নাম বলতে পারে। তাই এমন অভিযোগ যাচাই না করে প্রচার করা আইনসম্মত নয়।

এই ঘটনার বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা ও সেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (ডিএনসি) কাজী গোলাম তওসিফ বলেন,
“এ ধরনের ঘটনা ঘটে থাকলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আপনারা লিখিত অভিযোগ দিন, আমি ডিজিকে বলে দিচ্ছি, দ্রুত আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।”

এদিকে, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) মমতাজ তানভীর এবং চট্টগ্রাম বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক মো. জাহিদ হোসেন মোল্লা বলেন, “কোনো আসামি আদালতে স্বীকারোক্তি না দিলে বা রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে অন্য কারও নাম উল্লেখ না করলে তাকে আসামি করা যায় না। পাবলিক প্লেসে স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে কাউকে অভিযুক্ত করাও আইনসিদ্ধ নয়। বিষয়টি আমরা গুরুত্ব সহকারে দেখছি।”

এডি দিদারুল আলম ২০১৩ সাল থেকে একই পদে দায়িত্বে রয়েছেন।

ঘটনার বিষয়ে কক্সবাজারের বিভিন্ন সাংবাদিক ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশন এবং ডয়েচ ভেলের কক্সবাজার প্রতিনিধি তৌফিকুল ইসলাম লিপু মনে করেন, সরকারি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের কর্মকর্তাদের এমন কর্মকাণ্ড রাষ্ট্রের জন্য পীড়াদায়ক। আইন রক্ষা যাদের কাঁধে তারাই আইনের ব্যত্যয় ঘটালে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেয়া জরুরি। এছাড়া সাংবাদিককে নাটক সাজিয়ে অপরাধী বানানোর চেষ্টাও নিন্দনীয়।

দৈনিক ইত্তেফাক ও জাগো নিউজ-এর কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি সাইদ আলমগীর বলেন, “একজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এমন নাটক সাজানো চরম অন্যায়। আমরা চাই, তদন্ত করে এর সঠিক বিচার করা হোক।”

দৈনিক যুগান্তর-এর কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি জসিম উদ্দিন বলেন, “একজন সরকারি কর্মকর্তার এমন কর্মকাণ্ড মেনে নেওয়া যায় না। দিদারুল আলমের আগের অপকর্মগুলোর তদন্ত হওয়া উচিত।”

কক্সবাজার জেলা প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক ও দৈনিক মেহেদী পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক মো. নাজিম উদ্দিন বলেন, “সাংবাদিকরা যদি মিথ্যা মামলার শিকার হন, তাহলে মুক্ত গণমাধ্যম হুমকির মুখে পড়বে। প্রশাসনের উচিত নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া।”

দৈনিক সকালের সময়-এর কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি সাহেদ ফেরদৌস হিরো বলেন, “প্রশাসনের উচিত সাংবাদিকদের হয়রানি না করে প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া। এই ধরনের ঘটনা সাংবাদিকতার স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ।”

স্থানীয় সাংবাদিক মহল ও সচেতন মহল এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দিদারুল আলমের অপসারণের দাবি জানিয়েছেন।