ঢাকা ০২:৪৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
অন্যের দুর্দশার খবর লিখি, আমাদের দুর্দশা লিখবে কে? তাজমিনের মৃত্যু :রাজুর বিরুদ্ধে মামলা রেকর্ডের নির্দেশ আদালতের রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান চায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি ভূমধ্যসাগরীয় খাবার নিয়ে ওশ্যান প্যারাডাইসে ১০ দিনের ‘মেডিটেরেনিয়ান ফুড ফেস্টিভ্যাল’ ঈদগাঁওয়ে অগ্নিকাণ্ডে ৩ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভস্মীভূত, ক্ষতি অর্ধকোটি টাকা লোহাগাড়ায় ব্যবসায়ীকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ, স্বামীকে অক্ষত ফেরত চেয়ে স্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন শারদীয় দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে কক্সবাজার বিশেষ নিরাপত্তা জোরদার করেছে এসআরবি-১৫ টেকনাফ ও উখিয়ার সীমান্তবর্তী পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে রামুর সেক্টর কমান্ডার শারদীয় দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে কক্সবাজার বিশেষ নিরাপত্তা জোরদার করেছে এসআরবি-১৫ লামায় বিদায়ী ইউএনও মঈন উদ্দিনকে প্রেসক্লাবের বিদায় সংবর্ধনা প্রশাসন-গণমাধ্যমের সমন্বয়ে জনসেবা গতিশীল হবে- উখিয়া প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দের সঙ্গে ইউএনওর মতবিনিময় পেকুয়ায় করাতকলে অভিযান, মেশিন ও গাছ জব্দ কয়েক যুগেও লাগেনি উন্নয়নের ছোঁয়া , দুর্ভোগে দুই গ্রামের হাজার মানুষ পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রণালয় পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী বিশ্ববাজারে কমলো জ্বালানি তেলের দাম

রামু সহিংসতার ১৪ বছর: বিচারের দীর্ঘসূত্রতায় বাড়ছে হতাশা

  • তৌফিক লিপু
  • আপডেট সময় : ০৯:২০:৩১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • 210

রাতের আঁধারে কক্সবাজারের রামুর শত বছরের প্রাচীন বৌদ্ধবিহার ও বসতিতে এক ভয়াবহ হামলা ও তাণ্ডব চালায় দুর্বৃত্তরা। ঘটনার ১৪ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও শেষ হয়নি সেই হামলার বিচারপ্রক্রিয়া। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বদলালেও বিচারের ধীরগতি নিয়ে স্থানীয় বৌদ্ধপল্লীর বাসিন্দাদের কাটেনি হতাশা।

​সেদিন এক বৌদ্ধ যুবক, উত্তম বড়ুয়ার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে পবিত্র ধর্মীয় গ্রন্থ অবমাননার একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। হামলায় ধ্বংস করা হয় রামু কেন্দ্রীয় সীমা বিহারসহ ১৮টি প্রাচীন বৌদ্ধবিহার ও বেশ কিছু বসতঘর। পুড়িয়ে দেওয়া হয় ঐতিহাসিক ধর্মীয় নিদর্শন।

​কক্সবাজার বৌদ্ধ সুরক্ষা পরিষদের নেতা ও সীমা বিহারের প্রজ্ঞানন্দ ভিক্ষু জানান, চোখের সামনে শতবছরের ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক ঐতিহ্য কীভাবে ধ্বংস করা হয়েছিল, তা এখনও তাদের স্মৃতিতে অম্লান। বিচারিক প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতার কারণে সাক্ষীদের আগ্রহ কমে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ঘটনার ১৪ বছর অতি দীর্ঘ সময়। স্থানীয়দের আস্থা ফেরাতে দ্রুততম সময়ে এই বিচার কাজ সম্পন্ন করা জরুরি।

​কক্সবাজার-৩ (সদর ও রামু) আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল মনে করেন, বিগত সময়ে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিকভাবে অনেক নির্দোষ মানুষকে হয়রানি করা হয়েছিল। ঘটনার সঠিক সত্য তুলে আনতে এবং প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করতে তিনি পুরো মামলাটির পুনঃতদন্তের দাবি জানান।

​মামলার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মোহাম্মদ ইউনুছ জানান, সাক্ষীদের অনাগ্রহ বা আদালতে না আসার কারণেই মূলত রায় ঘোষণায় বিলম্ব হচ্ছে। সরকারপক্ষের চেষ্টা রয়েছে দ্রুত সময়ের মধ্যে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ করে মামলাটির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করা।

​উল্লেখ্য, রামুর বৌদ্ধবিহার ও বসতিতে তাণ্ডবের ঘটনায় ৩৭৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা মিলিয়ে প্রায় ১৫ হাজার ১৮২ জনের বিরুদ্ধে মোট ১৯টি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। পরবর্তীতে একটি মামলা বাদীর আবেদনে প্রত্যাহার করা হয়। বাকি ১৮টি মামলায় পুলিশ ৯৪৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে। বর্তমানে এসব মামলার আসামিরা সবাই জামিনে রয়েছে।

​এদিকে, যে ফেসবুক পোস্টের সূত্র ধরে রামুর এই সহিংসতার সূত্রপাত হয়েছিল, সেই উত্তম বড়ুয়া বর্তমানে পরিবারের সঙ্গে ফ্রান্সে বসবাস করছেন।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

অন্যের দুর্দশার খবর লিখি, আমাদের দুর্দশা লিখবে কে?

রামু সহিংসতার ১৪ বছর: বিচারের দীর্ঘসূত্রতায় বাড়ছে হতাশা

আপডেট সময় : ০৯:২০:৩১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাতের আঁধারে কক্সবাজারের রামুর শত বছরের প্রাচীন বৌদ্ধবিহার ও বসতিতে এক ভয়াবহ হামলা ও তাণ্ডব চালায় দুর্বৃত্তরা। ঘটনার ১৪ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও শেষ হয়নি সেই হামলার বিচারপ্রক্রিয়া। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বদলালেও বিচারের ধীরগতি নিয়ে স্থানীয় বৌদ্ধপল্লীর বাসিন্দাদের কাটেনি হতাশা।

​সেদিন এক বৌদ্ধ যুবক, উত্তম বড়ুয়ার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে পবিত্র ধর্মীয় গ্রন্থ অবমাননার একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। হামলায় ধ্বংস করা হয় রামু কেন্দ্রীয় সীমা বিহারসহ ১৮টি প্রাচীন বৌদ্ধবিহার ও বেশ কিছু বসতঘর। পুড়িয়ে দেওয়া হয় ঐতিহাসিক ধর্মীয় নিদর্শন।

​কক্সবাজার বৌদ্ধ সুরক্ষা পরিষদের নেতা ও সীমা বিহারের প্রজ্ঞানন্দ ভিক্ষু জানান, চোখের সামনে শতবছরের ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক ঐতিহ্য কীভাবে ধ্বংস করা হয়েছিল, তা এখনও তাদের স্মৃতিতে অম্লান। বিচারিক প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতার কারণে সাক্ষীদের আগ্রহ কমে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ঘটনার ১৪ বছর অতি দীর্ঘ সময়। স্থানীয়দের আস্থা ফেরাতে দ্রুততম সময়ে এই বিচার কাজ সম্পন্ন করা জরুরি।

​কক্সবাজার-৩ (সদর ও রামু) আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল মনে করেন, বিগত সময়ে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিকভাবে অনেক নির্দোষ মানুষকে হয়রানি করা হয়েছিল। ঘটনার সঠিক সত্য তুলে আনতে এবং প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করতে তিনি পুরো মামলাটির পুনঃতদন্তের দাবি জানান।

​মামলার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মোহাম্মদ ইউনুছ জানান, সাক্ষীদের অনাগ্রহ বা আদালতে না আসার কারণেই মূলত রায় ঘোষণায় বিলম্ব হচ্ছে। সরকারপক্ষের চেষ্টা রয়েছে দ্রুত সময়ের মধ্যে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ করে মামলাটির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করা।

​উল্লেখ্য, রামুর বৌদ্ধবিহার ও বসতিতে তাণ্ডবের ঘটনায় ৩৭৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা মিলিয়ে প্রায় ১৫ হাজার ১৮২ জনের বিরুদ্ধে মোট ১৯টি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। পরবর্তীতে একটি মামলা বাদীর আবেদনে প্রত্যাহার করা হয়। বাকি ১৮টি মামলায় পুলিশ ৯৪৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে। বর্তমানে এসব মামলার আসামিরা সবাই জামিনে রয়েছে।

​এদিকে, যে ফেসবুক পোস্টের সূত্র ধরে রামুর এই সহিংসতার সূত্রপাত হয়েছিল, সেই উত্তম বড়ুয়া বর্তমানে পরিবারের সঙ্গে ফ্রান্সে বসবাস করছেন।