ঢাকা ১১:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নাইক্ষ্যংছড়িতে সেতুর রেলিং থেকে পড়ে যুবকের প্রাণহানি কক্সবাজারে আসছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী এবং প্রতিমন্ত্রী: পরিদর্শন করবেন এসপিএমসহ মেগা প্রকল্প ঈদগাঁও উপজেলা অনলাইন প্রেসক্লাবের অফিস উদ্বোধন ঈদগাঁও উপজেলা অনলাইন প্রেসক্লাবের অফিস উদ্বোধন লামায় মাতামুহুরি নদীতে গোসলে নেমে এক পর্যটকের মৃত্যু সীমান্তে বিজিবির মানবিক উদ্যোগ কক্সবাজার সরকারি কলেজে চালু হলো গনিত ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ে মাস্টার্স কোর্স নৌবাহিনীর অভিযানে ৭২ হাজার ইয়াবা উদ্ধার, আটক ২ পাকস্থলীতে ইয়াবা, দুই যুবক আটক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খুঁটিতে ধাক্কা, পিকআপের যাত্রী নিহত ঋণের বোঝা,পারিবারিক কলহ,রামুতে ওড়না পেঁচিয়ে যুবকের আত্মহত্যা! কক্সবাজার-মহেশখালী সেতু নির্মাণের কাজ শীঘ্রই শুরু হবে-সেতু সচিব… আ.লীগ সরকারের রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কক্সবাজার উপকূলে শত পরিবারে কান্না আন্দামান সাগরে ট্রলারডুবি,নিখোঁজ পেকুয়ার ১২জন

রামুতে হাতকড়া পরে মায়ের জানাজায় আসা সেই দুই সহোদর হারালেন বাবাকেও

আড়াই মাস ধরে কারাগারে বন্দি রামুর দক্ষিন মিঠাছড়ি ইউনিয়নের আপন দুই ভাই ফরিদুল আলম (৪৩) ও মোহাম্মদ ইসমাইল (৩৮)। বার্ধক্যজনিত কারণে গত শনিবার সকালে তাদের মা মোস্তফা বেগমের (৮০) মৃত্যু হয়। মায়ের জানাজা ও দাফনে অংশ নিতে পাঁচ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি মেলে। পুলিশি পাহারায় মাকে শেষবিদায় জানান দুই ভাই। তারা মায়ের জানাজা ও দাফনে হাতকড়া পরেই অংশ নেন। এর পর ফের কারাগারে পাঠানো হয়।

মায়ের জানাজা পড়ার দুই দিনের ব্যবধানে এবার তাঁদের বাবা নুর আহমদও (৯০) মারা গেছেন। সোমবার সন্ধ্যায় নিজ বাড়িতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

মঙ্গলবার দুপুরে রামুর দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়নের পানেরছড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ সংলগ্ন মাঠে নূর আহমদের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। ঠিক একই মাঠে গত শনিবার দুপুরে তাঁদের মা মোস্তফা বেগমের জানাজা হয়। সেই দিনই বাবার শঙ্কার কথা জানিয়েছিল কারাবন্দি ছেলেরা।

জানা গেছে, ফরিদুল ও ইসমাইল দীর্ঘদিন ধরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যুক্ত। তাদের বিরুদ্ধে রামু থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। এসব মামলায় দুজন প্রায় আড়াই মাস ধরে কক্সবাজার কারাগারে। গত শনিবার সকালে তাদের মা মারা যান। এরপর ফরিদুল ও ইসমাইলের প্যারোলে মুক্তির জন্য আবেদন করেন স্বজনেরা। বেলা ১১টার দিকে প্যারোলে মুক্তি পেয়ে বাড়ি গিয়ে মায়ের মরদেহ দেখেন তারা। এরপর খাটিয়া কাঁধে বহন করে দাফনের জন্য নিয়ে যান। এ সময় দুজনের হাতে হাতকড়া ছিল। হাতকড়ার একটি অংশ দড়ি লাগিয়ে পুলিশের হাতে দেখা যায়।

জানাজায় অঝোরে কাঁদেন ফরিদুল ও ইসমাইল। তারা বলেন, ‘আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হয়েছে।

স্বজন ও স্থানীয়রা জানান, প্রথমে খুঁনিয়াপালং ইউনিয়নের একটি মামলায় ফরিদুল ও ইসমাইলকে আটক করে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। সেই মামলায় জামিন হওয়ার পর দক্ষিণ মিঠাছড়ির একটি মামলায় ফের আটক দেখানো হয়। সেটার জামিন হলে রামুর বিএনপি নেতা মাহিন চৌধুরীর করা মামলায় আবারও গ্রেপ্তার হয়ে দুই ভাইকে কারাভোগ করতে হচ্ছে আড়াই মাস ধরে।

ইসমাইলের স্ত্রী কুলছুমা বেগম বলেন, ‘আমার স্বামী নির্দোষ। সে কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নয়। তাদেরকে অহেতুক মামলায় জড়িয়ে জেল খাটানো হচ্ছে।’ মা ও বাবা দুজনই মারা গেলেন। অথচ সন্তান হিসাবে শেষ সেবাটুকু করতে পারলেন না।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

রামুতে হাতকড়া পরে মায়ের জানাজায় আসা সেই দুই সহোদর হারালেন বাবাকেও

আপডেট সময় : ১১:৩২:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আড়াই মাস ধরে কারাগারে বন্দি রামুর দক্ষিন মিঠাছড়ি ইউনিয়নের আপন দুই ভাই ফরিদুল আলম (৪৩) ও মোহাম্মদ ইসমাইল (৩৮)। বার্ধক্যজনিত কারণে গত শনিবার সকালে তাদের মা মোস্তফা বেগমের (৮০) মৃত্যু হয়। মায়ের জানাজা ও দাফনে অংশ নিতে পাঁচ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি মেলে। পুলিশি পাহারায় মাকে শেষবিদায় জানান দুই ভাই। তারা মায়ের জানাজা ও দাফনে হাতকড়া পরেই অংশ নেন। এর পর ফের কারাগারে পাঠানো হয়।

মায়ের জানাজা পড়ার দুই দিনের ব্যবধানে এবার তাঁদের বাবা নুর আহমদও (৯০) মারা গেছেন। সোমবার সন্ধ্যায় নিজ বাড়িতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

মঙ্গলবার দুপুরে রামুর দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়নের পানেরছড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ সংলগ্ন মাঠে নূর আহমদের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। ঠিক একই মাঠে গত শনিবার দুপুরে তাঁদের মা মোস্তফা বেগমের জানাজা হয়। সেই দিনই বাবার শঙ্কার কথা জানিয়েছিল কারাবন্দি ছেলেরা।

জানা গেছে, ফরিদুল ও ইসমাইল দীর্ঘদিন ধরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যুক্ত। তাদের বিরুদ্ধে রামু থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। এসব মামলায় দুজন প্রায় আড়াই মাস ধরে কক্সবাজার কারাগারে। গত শনিবার সকালে তাদের মা মারা যান। এরপর ফরিদুল ও ইসমাইলের প্যারোলে মুক্তির জন্য আবেদন করেন স্বজনেরা। বেলা ১১টার দিকে প্যারোলে মুক্তি পেয়ে বাড়ি গিয়ে মায়ের মরদেহ দেখেন তারা। এরপর খাটিয়া কাঁধে বহন করে দাফনের জন্য নিয়ে যান। এ সময় দুজনের হাতে হাতকড়া ছিল। হাতকড়ার একটি অংশ দড়ি লাগিয়ে পুলিশের হাতে দেখা যায়।

জানাজায় অঝোরে কাঁদেন ফরিদুল ও ইসমাইল। তারা বলেন, ‘আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হয়েছে।

স্বজন ও স্থানীয়রা জানান, প্রথমে খুঁনিয়াপালং ইউনিয়নের একটি মামলায় ফরিদুল ও ইসমাইলকে আটক করে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। সেই মামলায় জামিন হওয়ার পর দক্ষিণ মিঠাছড়ির একটি মামলায় ফের আটক দেখানো হয়। সেটার জামিন হলে রামুর বিএনপি নেতা মাহিন চৌধুরীর করা মামলায় আবারও গ্রেপ্তার হয়ে দুই ভাইকে কারাভোগ করতে হচ্ছে আড়াই মাস ধরে।

ইসমাইলের স্ত্রী কুলছুমা বেগম বলেন, ‘আমার স্বামী নির্দোষ। সে কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নয়। তাদেরকে অহেতুক মামলায় জড়িয়ে জেল খাটানো হচ্ছে।’ মা ও বাবা দুজনই মারা গেলেন। অথচ সন্তান হিসাবে শেষ সেবাটুকু করতে পারলেন না।