ঢাকা ০২:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬, ২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাংলাদেশ-ভারত অর্থনৈতিক ও জ্বালানি সহযোগিতা জোরদারের আলোচনা তেলের সংকট নেই, দাম বাড়ছে না: সেতুমন্ত্রী আজ পবিত্র শবে কদর হঠাৎ বৃষ্টি পর্যটন শহরে বিএসপিএ কক্সবাজার শাখার কার্যনির্বাহী সদস্য হলেন তারেক অসুস্থ রোগীদের মাঝে ইফতার বিতরণ করলেন ছাত্রদল নেতা জনি বিএসপিএ কক্সবাজারের পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন: মাহবুবসভাপতি, সুমন সম্পাদক টিটিএনের প্রতিনিধি সম্মেলন: নব উদ্যমে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় জেলা পরিষদের প্রশাসক হলেন কুতুবদিয়ার নুরুল বশর চৌধুরী উঠে গেলো সৈকতের বালিয়াড়ীর দোকান: পুনর্বাসনের আকুতি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ​ ২ হাজার কোটি টাকার রাষ্ট্রীয় সম্পদ নামমাত্র মূল্যে বিক্রির অভিযোগ: বিআইডব্লিউটিএর কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকের তদন্ত শুরু পর্যটক এক্সপ্রেসে পাথর নিক্ষেপে যাত্রী আহত, কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার অভিযোগ মাতারবাড়ি থেকে অস্ত্রসহ যুবক আটক সংবিধান অনুযায়ী সংস্কার পরিষদের কোনো অস্তিত্ব নেই : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতার বেঁচে থাকা নিয়ে সংশয় ট্রাম্পের

মায়ের পর বাবার জানাজায় প্যারোলে মুক্তি নিয়ে দুই ভাই : নিজেদের নির্দোষ দাবি

  • ​আনিস নাঈম
  • আপডেট সময় : ০১:৫৬:০১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • 515

মায়ের কবরের মাটি এখনো শুকায়নি, এরই মধ্যে বিদায় নিলেন বাবাও। মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে মা-বাবাকে হারিয়ে দিশেহারা দুই সহোদর ফরিদুল আলম ও মোঃ ইসলাম।

রামুর দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়নের পানেরছড়া গ্রামে এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটেছে। কারাগারে বন্দি থাকায় দুই ভাইকেই প্যারোলে মুক্তি নিয়ে হাতকড়া পরা অবস্থায় অংশ নিতে হয়েছে বাবার জানাজায়। মাত্র ৩ দিন আগে কারাগার থেকে প্যারোলে মুক্তি নিয়ে মায়ের জানাজায় এসেছিলেন তারা। মায়ের জানাজায় বাবাকে নিয়ে শংকার কথা বলে দোয়াও চেয়েছিলেন দুই ভাই।

​গত ২১শে ফেব্রুয়ারি কারাগারে বন্দি ফরিদুল ইসলাম ও মোহাম্মদ ইসলামের মা মোস্তফা বেগম ইন্তেকাল করেন। সেদিন কারাগার থেকে প্যারোলে মুক্তি পেয়ে হাতে হাতকড়া এবং রশিতে বাঁধা অবস্থায় মায়ের খাটিয়া কাঁধে নিয়েছিলেন ফরিদুল ও ইসলাম। ঠিক তিন দিনের মাথায় ২৫শে ফেব্রুয়ারি দুপুরে বাবা নুর আহমদও পাড়ি জমালেন না ফেরার দেশে।

​ বুধবার (২৪ ফেব্রুয়ারী) দুপুরে বাবার জানাজায় অংশ নিতে দ্বিতীয়বারের মতো প্যারোলে মুক্তি পান দুই ভাই।

এবার কোমরে দড়ি না থাকলেও হাতে ছিল সেই চিরচেনা হাতকড়া। জানাজার আগে সমবেতদের উদ্দেশ্যে ফরিদুল ও ইসলাম কান্নাবিজড়িত কণ্ঠে বলেন:
​”আমরা প্রতিহিংসার শিকার। মৃত বাবা-মায়ের নামে শপথ করে বলছি, আমরা নির্দোষ”।

​স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, ফরিদুল ও ইসলাম গত আড়াই মাস ধরে কারাগারে আছেন। প্রথমে খুনিয়াপালং ইউনিয়নের একটি মামলায় তারা আটক হন। সেই মামলায় জামিন পেলেও নতুন মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

স্থানীয়রা বলছেন, ​তারা এলাকায় শান্তিপ্রিয় মানুষ হিসেবে পরিচিত। ​রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাদের বারবার হয়রানি করা হচ্ছে।
​সন্তান হয়েও বাবা-মায়ের শেষ সেবাটুকু করতে না পারলো না।

ট্যাগ :

মায়ের পর বাবার জানাজায় প্যারোলে মুক্তি নিয়ে দুই ভাই : নিজেদের নির্দোষ দাবি

আপডেট সময় : ০১:৫৬:০১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মায়ের কবরের মাটি এখনো শুকায়নি, এরই মধ্যে বিদায় নিলেন বাবাও। মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে মা-বাবাকে হারিয়ে দিশেহারা দুই সহোদর ফরিদুল আলম ও মোঃ ইসলাম।

রামুর দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়নের পানেরছড়া গ্রামে এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটেছে। কারাগারে বন্দি থাকায় দুই ভাইকেই প্যারোলে মুক্তি নিয়ে হাতকড়া পরা অবস্থায় অংশ নিতে হয়েছে বাবার জানাজায়। মাত্র ৩ দিন আগে কারাগার থেকে প্যারোলে মুক্তি নিয়ে মায়ের জানাজায় এসেছিলেন তারা। মায়ের জানাজায় বাবাকে নিয়ে শংকার কথা বলে দোয়াও চেয়েছিলেন দুই ভাই।

​গত ২১শে ফেব্রুয়ারি কারাগারে বন্দি ফরিদুল ইসলাম ও মোহাম্মদ ইসলামের মা মোস্তফা বেগম ইন্তেকাল করেন। সেদিন কারাগার থেকে প্যারোলে মুক্তি পেয়ে হাতে হাতকড়া এবং রশিতে বাঁধা অবস্থায় মায়ের খাটিয়া কাঁধে নিয়েছিলেন ফরিদুল ও ইসলাম। ঠিক তিন দিনের মাথায় ২৫শে ফেব্রুয়ারি দুপুরে বাবা নুর আহমদও পাড়ি জমালেন না ফেরার দেশে।

​ বুধবার (২৪ ফেব্রুয়ারী) দুপুরে বাবার জানাজায় অংশ নিতে দ্বিতীয়বারের মতো প্যারোলে মুক্তি পান দুই ভাই।

এবার কোমরে দড়ি না থাকলেও হাতে ছিল সেই চিরচেনা হাতকড়া। জানাজার আগে সমবেতদের উদ্দেশ্যে ফরিদুল ও ইসলাম কান্নাবিজড়িত কণ্ঠে বলেন:
​”আমরা প্রতিহিংসার শিকার। মৃত বাবা-মায়ের নামে শপথ করে বলছি, আমরা নির্দোষ”।

​স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, ফরিদুল ও ইসলাম গত আড়াই মাস ধরে কারাগারে আছেন। প্রথমে খুনিয়াপালং ইউনিয়নের একটি মামলায় তারা আটক হন। সেই মামলায় জামিন পেলেও নতুন মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

স্থানীয়রা বলছেন, ​তারা এলাকায় শান্তিপ্রিয় মানুষ হিসেবে পরিচিত। ​রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাদের বারবার হয়রানি করা হচ্ছে।
​সন্তান হয়েও বাবা-মায়ের শেষ সেবাটুকু করতে না পারলো না।