ঢাকা ০৮:৪৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রাডো জিপে কক্সবাজার থেকে নিয়ে যাচ্ছিলো ৩ লাখ ইয়াবা : কুমিল্লায় আটক ২ মিয়ানমারের বিবৃতির প্রতিবাদে ইউসিআর -“রোহিঙ্গারা বাঙালি নয়, তারা রাখাইন রাজ্যের অধিবাসী” শহরের লাইট হাউজ এলাকায় রিসোর্ট দখলের ঘটনায় আল-আমিনসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা : আটক ১ লোহাগাড়ায় স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়া থেকে বেরিয়ে এলো জালনোটের কারবার : জালনোটসহ ‘কারবারি’ শাহ আলম আটক পর্যটন শহর কক্সবাজারের দোকান-শপিংমল রাত ৯ টা পর্যন্ত খোলা রাখার প্রস্তাব ব্যবসায়ীদের পেকুয়ায় মাদকবিরোধী র‍্যালী ও সমাবেশ জুন-জুলাইয়ের বদলে এপ্রিল-মার্চে অর্থবছর চালুর সিদ্ধান্ত বিলুপ্ত হচ্ছে র‍্যাব, পুলিশের অধীনে হবে এসআরবি মাদক ব্যবসায়ীদের তথ্য দিন পরিচয় গোপন রাখা হবে প্লট দখল নিয়ে প্রোপাগাণ্ডার বিরুদ্ধে সাংবাদিক ছফওয়ানের বিবৃতি, আইনি ব্যবস্থার হুশিয়ারি লোহাগাড়ায় ভোররাতে ডাকাতি, অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ১৮ লাখ টাকার স্বর্ণ-টাকা ও মালামাল লুট গর্জনিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি মনোনীত হলেন মুহিববুল্লাহ সৌদিয়া হোটেল থেকে হানিফ মিয়ার মরদেহ উদ্ধার ‘সৌরবিদ্যুতে চার্জ না দিলে মিলবে না ব্যাটারিচালিত রিকশার নিবন্ধন’ তারেক রহমানের ভারত সফর দ্রুত হওয়া উচিত : দীনেশ ত্রিবেদী

মাতারবাড়ি সংযোগ সড়ক: প্রতি কিলোমিটার বানাতে খরচ ৪৭৬ কোটি টাকা

মাতারবাড়ি বন্দরের জন্য ২৭ কিলোমিটার সংযোগ সড়কে খরচ হচ্ছে প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকা। গত সরকারের আমলে জাইকার অর্থায়নে নেওয়া এ প্রকল্পের প্রতি কিলোমিটারে খরচ হচ্ছে রেকর্ড ৪৭৬ কোটি টাকা। যোগাযোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জিটুজি চুক্তিতে দ্বিপাক্ষিক ঋণের শর্তের বেড়াজালই মূল কারণ। ঠিকাদার, পরামর্শক নিয়োগে প্রতিযোগিতার অভাবে বেড়েছে খরচ।

মহেশখালীর মাতারবাড়িতে নির্মাণাধীন দেশের প্রথম গভীর সমুদ্র বন্দরকে কক্সবাজারের সঙ্গে যুক্ত করতে ২৭ দশমিক ২ কিলোমিটার সড়ক তৈরি করা হচ্ছে। যার ২৬ কিলোমিটারই হবে ২ লেনের। তবে, কিলোমিটার প্রতি ব্যয়ের পরিমাণ পৌনে ৫০০ কোটি টাকার বেশি। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে জমি অধিগ্রহণে বড় অঙ্কের খরচ না হলেও, সড়কটির নির্মাণ ব্যয় ঢাকা-ভাঙ্গা ৪ লেনের এক্সপ্রেসওয়ের চেয়ে আড়াইগুণ। দেশের অন্যান্য মহাসড়কের তুলনায় প্রতিকিলোমিটারে ব্যয় বেশি ৪-৫ গুণ।

যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ এম শামসুল হক বলেন, ‘এটাতো এক্সপ্রেসওয়ে হচ্ছে না। কোনো একটা অংশ ২৬ কিলোমিটারে দুই লেনেরই থাকছে। হতে পারে ক্রস ড্রেনে স্ট্যাকচার ফ্রিকোয়েন্সি বেশি সে কারণে কিন্তু এক্সাভেটিংলি এ পরিমাণ খরচটা আসা উচিত না।’

দু’দফা সময়ের সঙ্গে প্রকল্পে ব্যয় বেড়ে হয়েছে ১২ হাজার ৯৪২ কোটি টাকা। যার ৯ হাজার ৩৯৭ কোটি টাকাই জাপানী সংস্থা-জাইকার ঋণ। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, জিটুজি ঋণ সহজ শর্তের মোড়কে এক রকম ফাঁদ। তাদের মতে, সরকারি ক্রয় নীতিমালা অনুযায়ী জাইকার প্রকল্পে পুনরায় নিলামের সুযোগ থাকে না। অংশ নেয় কেবল জাপানের ঠিকাদার, পরামর্শক সিন্ডিকেট।

এম শামসুল হক বলেন, ‘যদি ১৫ শতাংশের বেশি চলে আসে তাহলে কিন্তু পিপিআরের গাইডলাইনের আওতায় আমরা কিন্তু পুনরায় নিলামে চলে যায়, যৌক্তিকীকরণের জন্য। জাইকা প্রকল্পে তাও করা যায় না। যার কারণে নিলাম পর্যায়ে খরচটা বেড়ে যায়। যেহেতু রিট্রেন্ডার করা যাচ্ছে না, পুনরায় নিলাম করা যাচ্ছে না, পাশাপাশি এর ওভারহেডগুলি অনেক বেশি।’

পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, ‘সহজ শর্তে ঋণ পেতে গেলে কিছু বোঝা আমাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়। আমরা যদি বলি নেব না, আমাদের নিজেদেরই আছে, তাহলে বলে প্রজেক্টা নিও না।’

ভবিষ্যতে যৌক্তিক খরচে বড় অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে দ্বিপাক্ষিক ঋণের পরবির্তে এডিবি, বিশ্বব্যাংকের মত বহুপাক্ষিক সংস্থার ঋণ এবং পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপকে উৎসাহিত করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

প্রাডো জিপে কক্সবাজার থেকে নিয়ে যাচ্ছিলো ৩ লাখ ইয়াবা : কুমিল্লায় আটক ২

মাতারবাড়ি সংযোগ সড়ক: প্রতি কিলোমিটার বানাতে খরচ ৪৭৬ কোটি টাকা

আপডেট সময় : ০৭:৫৭:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ মে ২০২৫

মাতারবাড়ি বন্দরের জন্য ২৭ কিলোমিটার সংযোগ সড়কে খরচ হচ্ছে প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকা। গত সরকারের আমলে জাইকার অর্থায়নে নেওয়া এ প্রকল্পের প্রতি কিলোমিটারে খরচ হচ্ছে রেকর্ড ৪৭৬ কোটি টাকা। যোগাযোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জিটুজি চুক্তিতে দ্বিপাক্ষিক ঋণের শর্তের বেড়াজালই মূল কারণ। ঠিকাদার, পরামর্শক নিয়োগে প্রতিযোগিতার অভাবে বেড়েছে খরচ।

মহেশখালীর মাতারবাড়িতে নির্মাণাধীন দেশের প্রথম গভীর সমুদ্র বন্দরকে কক্সবাজারের সঙ্গে যুক্ত করতে ২৭ দশমিক ২ কিলোমিটার সড়ক তৈরি করা হচ্ছে। যার ২৬ কিলোমিটারই হবে ২ লেনের। তবে, কিলোমিটার প্রতি ব্যয়ের পরিমাণ পৌনে ৫০০ কোটি টাকার বেশি। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে জমি অধিগ্রহণে বড় অঙ্কের খরচ না হলেও, সড়কটির নির্মাণ ব্যয় ঢাকা-ভাঙ্গা ৪ লেনের এক্সপ্রেসওয়ের চেয়ে আড়াইগুণ। দেশের অন্যান্য মহাসড়কের তুলনায় প্রতিকিলোমিটারে ব্যয় বেশি ৪-৫ গুণ।

যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ এম শামসুল হক বলেন, ‘এটাতো এক্সপ্রেসওয়ে হচ্ছে না। কোনো একটা অংশ ২৬ কিলোমিটারে দুই লেনেরই থাকছে। হতে পারে ক্রস ড্রেনে স্ট্যাকচার ফ্রিকোয়েন্সি বেশি সে কারণে কিন্তু এক্সাভেটিংলি এ পরিমাণ খরচটা আসা উচিত না।’

দু’দফা সময়ের সঙ্গে প্রকল্পে ব্যয় বেড়ে হয়েছে ১২ হাজার ৯৪২ কোটি টাকা। যার ৯ হাজার ৩৯৭ কোটি টাকাই জাপানী সংস্থা-জাইকার ঋণ। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, জিটুজি ঋণ সহজ শর্তের মোড়কে এক রকম ফাঁদ। তাদের মতে, সরকারি ক্রয় নীতিমালা অনুযায়ী জাইকার প্রকল্পে পুনরায় নিলামের সুযোগ থাকে না। অংশ নেয় কেবল জাপানের ঠিকাদার, পরামর্শক সিন্ডিকেট।

এম শামসুল হক বলেন, ‘যদি ১৫ শতাংশের বেশি চলে আসে তাহলে কিন্তু পিপিআরের গাইডলাইনের আওতায় আমরা কিন্তু পুনরায় নিলামে চলে যায়, যৌক্তিকীকরণের জন্য। জাইকা প্রকল্পে তাও করা যায় না। যার কারণে নিলাম পর্যায়ে খরচটা বেড়ে যায়। যেহেতু রিট্রেন্ডার করা যাচ্ছে না, পুনরায় নিলাম করা যাচ্ছে না, পাশাপাশি এর ওভারহেডগুলি অনেক বেশি।’

পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, ‘সহজ শর্তে ঋণ পেতে গেলে কিছু বোঝা আমাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়। আমরা যদি বলি নেব না, আমাদের নিজেদেরই আছে, তাহলে বলে প্রজেক্টা নিও না।’

ভবিষ্যতে যৌক্তিক খরচে বড় অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে দ্বিপাক্ষিক ঋণের পরবির্তে এডিবি, বিশ্বব্যাংকের মত বহুপাক্ষিক সংস্থার ঋণ এবং পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপকে উৎসাহিত করছেন বিশেষজ্ঞরা।