ঢাকা ০৩:০৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সৈকতে গান, জাদু ও কমেডিতে অনলাইন সহিংসতাবিরোধী প্রচারণা মেরিনড্রাইভে প্রাইভেট বিচ নাম দিয়ে সৈকত দখলে বেলাভূমি রিসোর্ট! পেকুয়ায় ক্যামব্রিয়ান স্কুলে মুক্ত আলোচনা সভা : মানসম্মত শিক্ষা ও নৈতিক মূল্যবোধের উপর গুরুত্বারোপ ‎কুতুবদিয়ায় জাতীয় জুনিয়র অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়ন শাহাব উদ্দিনকে সংবর্ধনা কুতুবদিয়ায় অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির ত্রাণ সহায়তা, পাশে থাকার আশ্বাস এটিএম নুরুল বশর চৌধুরীর গেল ১ যুগে সড়কে প্রাণ গেছে ১ লাখ ২৫ হাজার মানুষের : দূর্ঘটনা ঘটেছে ৭২ হাজার সাগরে নিখোঁজ নিবিড়ের মরদেহ ভেসে এলো : এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাড়ালো ৫ ​‘বজ্রপাত’ বলতে গিয়ে ‘বীর্যপাত’! বললেন সাবরাংয়ের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মান্নান চট্টগ্রামে চালককে অচেতন করে চিনি ছিনতাই, লামায় উদ্ধার ১৪৪ বস্তা জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবসে সেন্ট্রাল ডাটাবেজ করার দাবি তরুণদের দেড় মিনিটে মন্ত্রীকে ৩৫ বার ‘স্যার’ বলে ভাইরাল ইউএনও অগ্নিকাণ্ডের পর ইকো রিসোর্ট এড়িয়ে চলছেন পর্যটকরা প্রথমে শাস্তি মনে হয়েছিল, পরে বুঝলাম রক্ষা পেয়েছি: পদত্যাগ প্রসঙ্গে ইশরাক জীবনানন্দ দাশের ৭২তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ বঙ্গোপসাগরে ফের লঘুচাপ সৃষ্টির শঙ্কা, সারা দেশে বৃষ্টির আভাস

মাতারবাড়ি সংযোগ সড়ক: প্রতি কিলোমিটার বানাতে খরচ ৪৭৬ কোটি টাকা

মাতারবাড়ি বন্দরের জন্য ২৭ কিলোমিটার সংযোগ সড়কে খরচ হচ্ছে প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকা। গত সরকারের আমলে জাইকার অর্থায়নে নেওয়া এ প্রকল্পের প্রতি কিলোমিটারে খরচ হচ্ছে রেকর্ড ৪৭৬ কোটি টাকা। যোগাযোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জিটুজি চুক্তিতে দ্বিপাক্ষিক ঋণের শর্তের বেড়াজালই মূল কারণ। ঠিকাদার, পরামর্শক নিয়োগে প্রতিযোগিতার অভাবে বেড়েছে খরচ।

মহেশখালীর মাতারবাড়িতে নির্মাণাধীন দেশের প্রথম গভীর সমুদ্র বন্দরকে কক্সবাজারের সঙ্গে যুক্ত করতে ২৭ দশমিক ২ কিলোমিটার সড়ক তৈরি করা হচ্ছে। যার ২৬ কিলোমিটারই হবে ২ লেনের। তবে, কিলোমিটার প্রতি ব্যয়ের পরিমাণ পৌনে ৫০০ কোটি টাকার বেশি। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে জমি অধিগ্রহণে বড় অঙ্কের খরচ না হলেও, সড়কটির নির্মাণ ব্যয় ঢাকা-ভাঙ্গা ৪ লেনের এক্সপ্রেসওয়ের চেয়ে আড়াইগুণ। দেশের অন্যান্য মহাসড়কের তুলনায় প্রতিকিলোমিটারে ব্যয় বেশি ৪-৫ গুণ।

যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ এম শামসুল হক বলেন, ‘এটাতো এক্সপ্রেসওয়ে হচ্ছে না। কোনো একটা অংশ ২৬ কিলোমিটারে দুই লেনেরই থাকছে। হতে পারে ক্রস ড্রেনে স্ট্যাকচার ফ্রিকোয়েন্সি বেশি সে কারণে কিন্তু এক্সাভেটিংলি এ পরিমাণ খরচটা আসা উচিত না।’

দু’দফা সময়ের সঙ্গে প্রকল্পে ব্যয় বেড়ে হয়েছে ১২ হাজার ৯৪২ কোটি টাকা। যার ৯ হাজার ৩৯৭ কোটি টাকাই জাপানী সংস্থা-জাইকার ঋণ। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, জিটুজি ঋণ সহজ শর্তের মোড়কে এক রকম ফাঁদ। তাদের মতে, সরকারি ক্রয় নীতিমালা অনুযায়ী জাইকার প্রকল্পে পুনরায় নিলামের সুযোগ থাকে না। অংশ নেয় কেবল জাপানের ঠিকাদার, পরামর্শক সিন্ডিকেট।

এম শামসুল হক বলেন, ‘যদি ১৫ শতাংশের বেশি চলে আসে তাহলে কিন্তু পিপিআরের গাইডলাইনের আওতায় আমরা কিন্তু পুনরায় নিলামে চলে যায়, যৌক্তিকীকরণের জন্য। জাইকা প্রকল্পে তাও করা যায় না। যার কারণে নিলাম পর্যায়ে খরচটা বেড়ে যায়। যেহেতু রিট্রেন্ডার করা যাচ্ছে না, পুনরায় নিলাম করা যাচ্ছে না, পাশাপাশি এর ওভারহেডগুলি অনেক বেশি।’

পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, ‘সহজ শর্তে ঋণ পেতে গেলে কিছু বোঝা আমাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়। আমরা যদি বলি নেব না, আমাদের নিজেদেরই আছে, তাহলে বলে প্রজেক্টা নিও না।’

ভবিষ্যতে যৌক্তিক খরচে বড় অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে দ্বিপাক্ষিক ঋণের পরবির্তে এডিবি, বিশ্বব্যাংকের মত বহুপাক্ষিক সংস্থার ঋণ এবং পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপকে উৎসাহিত করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

সৈকতে গান, জাদু ও কমেডিতে অনলাইন সহিংসতাবিরোধী প্রচারণা

মাতারবাড়ি সংযোগ সড়ক: প্রতি কিলোমিটার বানাতে খরচ ৪৭৬ কোটি টাকা

আপডেট সময় : ০৭:৫৭:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ মে ২০২৫

মাতারবাড়ি বন্দরের জন্য ২৭ কিলোমিটার সংযোগ সড়কে খরচ হচ্ছে প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকা। গত সরকারের আমলে জাইকার অর্থায়নে নেওয়া এ প্রকল্পের প্রতি কিলোমিটারে খরচ হচ্ছে রেকর্ড ৪৭৬ কোটি টাকা। যোগাযোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জিটুজি চুক্তিতে দ্বিপাক্ষিক ঋণের শর্তের বেড়াজালই মূল কারণ। ঠিকাদার, পরামর্শক নিয়োগে প্রতিযোগিতার অভাবে বেড়েছে খরচ।

মহেশখালীর মাতারবাড়িতে নির্মাণাধীন দেশের প্রথম গভীর সমুদ্র বন্দরকে কক্সবাজারের সঙ্গে যুক্ত করতে ২৭ দশমিক ২ কিলোমিটার সড়ক তৈরি করা হচ্ছে। যার ২৬ কিলোমিটারই হবে ২ লেনের। তবে, কিলোমিটার প্রতি ব্যয়ের পরিমাণ পৌনে ৫০০ কোটি টাকার বেশি। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে জমি অধিগ্রহণে বড় অঙ্কের খরচ না হলেও, সড়কটির নির্মাণ ব্যয় ঢাকা-ভাঙ্গা ৪ লেনের এক্সপ্রেসওয়ের চেয়ে আড়াইগুণ। দেশের অন্যান্য মহাসড়কের তুলনায় প্রতিকিলোমিটারে ব্যয় বেশি ৪-৫ গুণ।

যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ এম শামসুল হক বলেন, ‘এটাতো এক্সপ্রেসওয়ে হচ্ছে না। কোনো একটা অংশ ২৬ কিলোমিটারে দুই লেনেরই থাকছে। হতে পারে ক্রস ড্রেনে স্ট্যাকচার ফ্রিকোয়েন্সি বেশি সে কারণে কিন্তু এক্সাভেটিংলি এ পরিমাণ খরচটা আসা উচিত না।’

দু’দফা সময়ের সঙ্গে প্রকল্পে ব্যয় বেড়ে হয়েছে ১২ হাজার ৯৪২ কোটি টাকা। যার ৯ হাজার ৩৯৭ কোটি টাকাই জাপানী সংস্থা-জাইকার ঋণ। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, জিটুজি ঋণ সহজ শর্তের মোড়কে এক রকম ফাঁদ। তাদের মতে, সরকারি ক্রয় নীতিমালা অনুযায়ী জাইকার প্রকল্পে পুনরায় নিলামের সুযোগ থাকে না। অংশ নেয় কেবল জাপানের ঠিকাদার, পরামর্শক সিন্ডিকেট।

এম শামসুল হক বলেন, ‘যদি ১৫ শতাংশের বেশি চলে আসে তাহলে কিন্তু পিপিআরের গাইডলাইনের আওতায় আমরা কিন্তু পুনরায় নিলামে চলে যায়, যৌক্তিকীকরণের জন্য। জাইকা প্রকল্পে তাও করা যায় না। যার কারণে নিলাম পর্যায়ে খরচটা বেড়ে যায়। যেহেতু রিট্রেন্ডার করা যাচ্ছে না, পুনরায় নিলাম করা যাচ্ছে না, পাশাপাশি এর ওভারহেডগুলি অনেক বেশি।’

পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, ‘সহজ শর্তে ঋণ পেতে গেলে কিছু বোঝা আমাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়। আমরা যদি বলি নেব না, আমাদের নিজেদেরই আছে, তাহলে বলে প্রজেক্টা নিও না।’

ভবিষ্যতে যৌক্তিক খরচে বড় অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে দ্বিপাক্ষিক ঋণের পরবির্তে এডিবি, বিশ্বব্যাংকের মত বহুপাক্ষিক সংস্থার ঋণ এবং পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপকে উৎসাহিত করছেন বিশেষজ্ঞরা।