ঢাকা ০১:৩৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
অন্যের দুর্দশার খবর লিখি, আমাদের দুর্দশা লিখবে কে? তাজমিনের মৃত্যু :রাজুর বিরুদ্ধে মামলা রেকর্ডের নির্দেশ আদালতের রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান চায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি ভূমধ্যসাগরীয় খাবার নিয়ে ওশ্যান প্যারাডাইসে ১০ দিনের ‘মেডিটেরেনিয়ান ফুড ফেস্টিভ্যাল’ ঈদগাঁওয়ে অগ্নিকাণ্ডে ৩ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভস্মীভূত, ক্ষতি অর্ধকোটি টাকা লোহাগাড়ায় ব্যবসায়ীকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ, স্বামীকে অক্ষত ফেরত চেয়ে স্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন শারদীয় দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে কক্সবাজার বিশেষ নিরাপত্তা জোরদার করেছে এসআরবি-১৫ টেকনাফ ও উখিয়ার সীমান্তবর্তী পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে রামুর সেক্টর কমান্ডার শারদীয় দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে কক্সবাজার বিশেষ নিরাপত্তা জোরদার করেছে এসআরবি-১৫ লামায় বিদায়ী ইউএনও মঈন উদ্দিনকে প্রেসক্লাবের বিদায় সংবর্ধনা প্রশাসন-গণমাধ্যমের সমন্বয়ে জনসেবা গতিশীল হবে- উখিয়া প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দের সঙ্গে ইউএনওর মতবিনিময় পেকুয়ায় করাতকলে অভিযান, মেশিন ও গাছ জব্দ কয়েক যুগেও লাগেনি উন্নয়নের ছোঁয়া , দুর্ভোগে দুই গ্রামের হাজার মানুষ পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রণালয় পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী বিশ্ববাজারে কমলো জ্বালানি তেলের দাম

বিষপান করে উখিয়া হাসপাতালে দিনমজুর মমতাজ : অ্যাম্বুলেন্স দিল না হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ

ধানক্ষেতে কীটনাশক ছিটানোকে কেন্দ্র করে অপমানের শিকার হয়ে বিষপান করেছেন মমতাজ (৪৫) নামের এক দিনমজুর।

আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হয়। সেখানে তারা চিকিৎসা দিতে গড়িমসি করে। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে রেফার করেন।

কিন্তু মুর্মূর্ষু মমতাজকে কক্সবাজার নিয়ে যাওয়ার জন্য তারা কোনো অ্যাম্বুলেন্স দেয়নি। দিনমজুর মমতাজের স্ত্রীর কাছেও কক্সবাজার নিয়ে যাওয়ার জন্য কোনো টাকা না থাকায় তাকে স্ট্রেচারে ফেলে রাখা হয় উখিয়া হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে। হাসপাতালের সামনে পড়ে থাকা মমতাজ ও তার বৃদ্ধা স্ত্রীর আহাজারিতে এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় উখিয়া হাসপাতাল প্রাঙ্গণে।

পরে সেখানে যান সাংবাদিক রফিক মাহমুদ ও এইচকে রফিক। তারা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে কোনো উপায়ান্তর না দেখে নিজেরা কিছু টাকা দিয়ে মমতাজকে একটি সিএনজি ভাড়া করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।

সাংবাদিক রফিক মাহমুদ জানান, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে অন্য একজন রোগীকে নিয়ে উখিয়া হাসপাতালের জরুরি বিভাগে গেলে সেখানে জরুরি বিভাগের সামনে মমতাজের স্ট্রেচারের পাশে তার বৃদ্ধা স্ত্রীকে কাঁদতে দেখা যায়। পরে উখিয়া হাসপাতালের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এহেছান উল্লাহ সিকদারকে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তিনিও তাৎক্ষণিক ফোন রিসিভ না করে হোয়াটসঅ্যাপে একটি খুদে বার্তা পাঠিয়ে হাসপাতালের দায়িত্বরত চিকিৎসকদের বিষয়টির কথা বলেন।

তিনি খুদে বার্তায় লেখেন— “ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসার জানিয়েছেন, ওপিসি (রোগীর ভাষ্যমতে) পয়জনিংয়ের একজন রোগীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে রেফার করা হয়েছে। কর্তব্যরত চিকিৎসকের সাথে কথা বলে বিষয়টা বিষদভাবে জেনে নিতে পারেন। ধন্যবাদ, আপনার মানবিক কনসার্নের জন্য।”

কিন্তু রেফার করে রোগীকে কীভাবে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যাবেন সেটি তিনি জানাননি আর।

সাংবাদিক রফিক মাহমুদ আরও জানান, এক পর্যায়ে দু’জন সাংবাদিকের সহযোগিতায় মমতাজকে একটি সিএনজি ভাড়া করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।

উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এহেছান উল্লাহ সিকদার মুঠোফোনে জানান, দুটি অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যে একটি অ্যাম্বুলেন্স রোগী নিয়ে অন্যত্র গেছে, আরেকটি অ্যাম্বুলেন্স ম্যানেজ করতে করতে সাংবাদিকরা ছবি তুলে ফেসবুকে দিয়ে দিছে- এমনটা জানিয়েছেন তিনি।

এদিকে দিনমজুর মমতাজের সাথে তার স্ত্রী ছাড়া আর কেউ ছিল না। তিনি জানান, মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের উলুবনিয়া এলাকায় ঘটনাটি ঘটে।

ভুক্তভোগী মমতাজ ওই এলাকার আলী আকবরের ছেলে। তিনি পেশায় দিনমজুর এবং পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি।

স্থানীয় ও স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, সোমবার বিকেল ৫টার দিকে স্থানীয় প্রভাবশালী এক ব্যক্তির ধানক্ষেতে দিনমজুর হিসেবে কাজ করতে যান মমতাজ। কাজের একপর্যায়ে ধানক্ষেতে কীটনাশক প্রয়োগ সঠিক হয়নি- এমন অভিযোগ তুলে মালিকপক্ষের লোকজন তাকে অপমান করেন এবং কাজের টাকা দেবে না বলে তিরস্কার করে। এই অপমান ও ক্ষোভ সহ্য করতে না পেরে পরবর্তীতে মমতাজ বিষপান করেন বলে দাবি তার পরিবারের। তবে কোন প্রভাবশালী ব্যক্তির ধানক্ষেতে মমতাজ কাজ করতে গিয়েছিলেন, তার নাম প্রকাশ করেনি মমতাজের স্ত্রী।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

অন্যের দুর্দশার খবর লিখি, আমাদের দুর্দশা লিখবে কে?

বিষপান করে উখিয়া হাসপাতালে দিনমজুর মমতাজ : অ্যাম্বুলেন্স দিল না হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ

আপডেট সময় : ১০:২৯:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ধানক্ষেতে কীটনাশক ছিটানোকে কেন্দ্র করে অপমানের শিকার হয়ে বিষপান করেছেন মমতাজ (৪৫) নামের এক দিনমজুর।

আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হয়। সেখানে তারা চিকিৎসা দিতে গড়িমসি করে। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে রেফার করেন।

কিন্তু মুর্মূর্ষু মমতাজকে কক্সবাজার নিয়ে যাওয়ার জন্য তারা কোনো অ্যাম্বুলেন্স দেয়নি। দিনমজুর মমতাজের স্ত্রীর কাছেও কক্সবাজার নিয়ে যাওয়ার জন্য কোনো টাকা না থাকায় তাকে স্ট্রেচারে ফেলে রাখা হয় উখিয়া হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে। হাসপাতালের সামনে পড়ে থাকা মমতাজ ও তার বৃদ্ধা স্ত্রীর আহাজারিতে এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় উখিয়া হাসপাতাল প্রাঙ্গণে।

পরে সেখানে যান সাংবাদিক রফিক মাহমুদ ও এইচকে রফিক। তারা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে কোনো উপায়ান্তর না দেখে নিজেরা কিছু টাকা দিয়ে মমতাজকে একটি সিএনজি ভাড়া করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।

সাংবাদিক রফিক মাহমুদ জানান, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে অন্য একজন রোগীকে নিয়ে উখিয়া হাসপাতালের জরুরি বিভাগে গেলে সেখানে জরুরি বিভাগের সামনে মমতাজের স্ট্রেচারের পাশে তার বৃদ্ধা স্ত্রীকে কাঁদতে দেখা যায়। পরে উখিয়া হাসপাতালের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এহেছান উল্লাহ সিকদারকে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তিনিও তাৎক্ষণিক ফোন রিসিভ না করে হোয়াটসঅ্যাপে একটি খুদে বার্তা পাঠিয়ে হাসপাতালের দায়িত্বরত চিকিৎসকদের বিষয়টির কথা বলেন।

তিনি খুদে বার্তায় লেখেন— “ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসার জানিয়েছেন, ওপিসি (রোগীর ভাষ্যমতে) পয়জনিংয়ের একজন রোগীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে রেফার করা হয়েছে। কর্তব্যরত চিকিৎসকের সাথে কথা বলে বিষয়টা বিষদভাবে জেনে নিতে পারেন। ধন্যবাদ, আপনার মানবিক কনসার্নের জন্য।”

কিন্তু রেফার করে রোগীকে কীভাবে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যাবেন সেটি তিনি জানাননি আর।

সাংবাদিক রফিক মাহমুদ আরও জানান, এক পর্যায়ে দু’জন সাংবাদিকের সহযোগিতায় মমতাজকে একটি সিএনজি ভাড়া করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।

উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এহেছান উল্লাহ সিকদার মুঠোফোনে জানান, দুটি অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যে একটি অ্যাম্বুলেন্স রোগী নিয়ে অন্যত্র গেছে, আরেকটি অ্যাম্বুলেন্স ম্যানেজ করতে করতে সাংবাদিকরা ছবি তুলে ফেসবুকে দিয়ে দিছে- এমনটা জানিয়েছেন তিনি।

এদিকে দিনমজুর মমতাজের সাথে তার স্ত্রী ছাড়া আর কেউ ছিল না। তিনি জানান, মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের উলুবনিয়া এলাকায় ঘটনাটি ঘটে।

ভুক্তভোগী মমতাজ ওই এলাকার আলী আকবরের ছেলে। তিনি পেশায় দিনমজুর এবং পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি।

স্থানীয় ও স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, সোমবার বিকেল ৫টার দিকে স্থানীয় প্রভাবশালী এক ব্যক্তির ধানক্ষেতে দিনমজুর হিসেবে কাজ করতে যান মমতাজ। কাজের একপর্যায়ে ধানক্ষেতে কীটনাশক প্রয়োগ সঠিক হয়নি- এমন অভিযোগ তুলে মালিকপক্ষের লোকজন তাকে অপমান করেন এবং কাজের টাকা দেবে না বলে তিরস্কার করে। এই অপমান ও ক্ষোভ সহ্য করতে না পেরে পরবর্তীতে মমতাজ বিষপান করেন বলে দাবি তার পরিবারের। তবে কোন প্রভাবশালী ব্যক্তির ধানক্ষেতে মমতাজ কাজ করতে গিয়েছিলেন, তার নাম প্রকাশ করেনি মমতাজের স্ত্রী।