ঢাকা ০২:১৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আরো ১০ ছিনতাইকারী আটক, ২৪ ঘন্টায় আটক ১৪ জন ট্রাকে করে পাচারের জন্য যাচ্ছিলো ১৫ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার, ইউএনওর অভিযানে জব্দ খুরুশকুল নতুন ব্রীজ এলাকা থেকে দেশী অস্ত্রসহ ৪ ছিনতাইকারী গ্রেফতারl আজিম মেম্বার এখন পেকুয়ার বিএনপির সুসময়ের বন্ধু! লামায় জব্দ করা ৮ লাখ ৭০ হাজার ঘনফুট বালুর নিলাম : সরকারি কোষাগারে জমা ২০ লাখ ২২ হাজার টাকা বমু বিলছড়ি ইউনিয়ন বিএনপির সম্মেলন : সভাপতি-সম্পাদকসহ গুরুত্বপূর্ণ পদে ১০ প্রার্থীর লড়াই সিটি কর্পোরেশন হলে কক্সবাজার সদর উপজেলা থাকবে না উখিয়ায় নিখোঁজের ২ ঘণ্টার মধ্যে উদ্ধার ৭ বছর বয়সী পূর্ণ বড়ুয়া, পরিবারের কাছে হস্তান্তর উখিয়ায় মানসিক রোগী তিন সন্তানের জননী নিখোঁজ, সন্ধান চায় পরিবার রামুতে ​মা ও নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় শেফা ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধের নির্দেশ জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা ১৫টি জেলে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হলো নতুন নৌকা কক্সবাজার সিটি কলেজ এলাকায় গুলিবর্ষণের ঘটনায় মুবিন আটক রোহিঙ্গা ইস্যুতে মানবিকতার সঙ্গে নিরাপত্তার ভারসাম্য জরুরি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দূষণমুক্ত নদী ও বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে কাজ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার পথে পানিতে পড়ে নিখোঁজ, ১৮ ঘণ্টা পর শামীমের মরদেহ উদ্ধার

কারাগারে আতাউল্লাহ – আরসার দায়িত্ব  পলাতক ‘মুখপাত্র’ শেখ বোরহানের হাতে!

নারায়ণগঞ্জে সহযোগীদের নিয়ে গোপন বৈঠকের সময় র‍্যাবের হাতে ধরা পড়েন রোহিঙ্গা সশস্ত্র সংগঠন আরকান রোহিঙ্গা সালভেশন আর্মি- আরসা’র প্রধান আতাউল্লাহ আবু আম্মার জুনুনি।

মঙ্গলবার, দুইটি পৃথক মামলায় দশ দিনের রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করে আতাউল্লাহ’কে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।

রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ , সিক্স মার্ডার ও ডিজিএফআই কর্মকর্তা হত্যায় দায়ের করা চাঞ্চল্যকর তিনটি মামলায় অভিযুক্ত আতাউল্লাহ গ্রেফতারের আগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী’র তালিকায় ছিলেন ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ আসামী।

আতাউল্লাহ এতোদিন কোথায় ছিলেন? সে প্রশ্নের সঠিক উত্তর পাওয়া কঠিন হলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মাঝে মধ্যে মিলতো তার অডিও-ভিডিও বার্তা।

আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় প্রেরিত বার্তাগুলোতে তিনি রোহিঙ্গাদের ‘ আরকানে আরসা জান্তা ও আরকান আর্মি’র বিরুদ্ধে লড়াই করছে ‘ জানিয়ে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করতেন।

আতাউল্লাহ’র বিশ্বস্ত সহচর হিসেবে পরিচিত আরসা’র সেকেন্ড ইন কমান্ড মৌলভী মোস্তাক আহমেদ ও একই সময়ে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে আছেন।

এখন প্রশ্ন উঠছে, আরসার গোপন তৎপরতা কোন পথে এগুচ্ছে  এবং কে দিবেন দুই শীর্ষ নেতার অবর্তমানে নেতৃত্ব?

আরসার একটি অসমর্থিত সূত্র বলছে,  আতাউল্লাহ’র আরেক বিশ্বস্ত সহযোগী ও কথিত কমান্ডার শেখ বোরহান সংগঠনের হাল ধরার চেষ্টা করতে পারেন।

বোরহান কোথায় অবস্থান করছেন সে স্পষ্ট তথ্য না মিললেও আত্মগোপনে থেকে সর্বশেষ ১০ মার্চ রমজান উপলক্ষে রোহিঙ্গাদের উদ্দেশ্যে আতাউল্লাহ’র নির্দেশে একটি অডিও বার্তা দিয়েছিলেন তিনি।

এছাড়াও ঘন জঙ্গলে দাঁড়িয়ে অস্ত্রধারী অজ্ঞাত দুইজনকে পাশে রেখে গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর ভিডিও বার্তা দেন বোরহান, ইউটিউব ও ফেসবুকে রোহিঙ্গা ভিত্তিক বিভিন্ন আইডি থেকে যেগুলো প্রচারিত হয়।

বাংলাদেশে প্রকাশ্যে কার্যক্রম না চালালেও রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে আরসার উপস্থিতির তথ্য পাওয়া যায়, ক্যাম্পকেন্দ্রিক অপরাধ-নাশকতায় খবরের শিরোনামে প্রায়ই উঠে আসে বিদ্রোহী সংগঠনটির নাম।

অপতৎপরতায় অতিষ্ঠ ও নির্যাতনের শিকার সাধারণ রোহিঙ্গারা আতাউল্লাহ আইনের আওতায় আসায় বাংলাদেশের প্রশাসন’কে ধন্যবাদ জানিয়ে দাবী করছে তাঁর বিচার।

প্রত্যাবাসনের পক্ষে জনমত তৈরি ও বৈশ্বিক দৃষ্টি আকর্ষণে কাজ করতে গিয়ে নিহত রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ’র হত্যাকান্ডের পেছনে দায়ী করা হয় আরসাকে।

মুহিবুল্লাহ’র সংগঠন এআরএসপিএইচ এর এক সদস্য বলেন, ” আমার মনে আছে মাষ্টার সাহেব আমাদের কে মৃত্যু’র আগে জুনুনিযে অডিও পাঠিয়ে হুমকি দিতেন সেগুলো শুনিয়েছিলেন। আরসা চায় না আমরা আরকানে ফিরি,বাংলাদেশের কাছে আতাউল্লাহ’র সর্বোচ্চ শাস্তি দাবী করছি।”

বিবিসির এক প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী ‘বিতর্কিত’ সংগঠন হলেও আরসা’র প্রতি কিছু রোহিঙ্গার সহানুভূতি আছে।

আতাউল্লাহ গ্রেফতারের পর অনেক আরসা সদস্য-সমর্থক’কে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার মুক্তি চেয়ে পোস্ট/কমেন্ট করতে দেখা গেছে।

উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বসবাসরত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরসা সমর্থক এক রোহিঙ্গা যুবক বলেন, ” বাংলাদেশ আমাদের আশ্রয় দিয়েছে আমরা কৃতজ্ঞ, কিন্তু আতাউল্লাহও আমাদের স্বপ্ন দেখিয়েছে আমরা তার মুক্তি চাই।”

আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা ‘ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ’ তাদের এক রিপোর্টের তথ্যমতে আরসা মূলত গড়ে উঠেছে সৌদি আরবে চলে যাওয়া রোহিঙ্গাদের মাধ্যমে।

২০১২ সালে আতাউল্লাহ সৌদি আরব থেকে অদৃশ্য হয়ে যান। এরপর আরাকানে নতুন করে সহিংসতা শুরু হওয়া হলে তাঁর নাম শোনা যায়। ২০১৬ সালের দিকে তিনি আরসা গড়ে তোলেন বলে মনে করা হয়।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

আরো ১০ ছিনতাইকারী আটক, ২৪ ঘন্টায় আটক ১৪ জন

কারাগারে আতাউল্লাহ – আরসার দায়িত্ব  পলাতক ‘মুখপাত্র’ শেখ বোরহানের হাতে!

আপডেট সময় : ০৩:২৫:৫৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ মার্চ ২০২৫

নারায়ণগঞ্জে সহযোগীদের নিয়ে গোপন বৈঠকের সময় র‍্যাবের হাতে ধরা পড়েন রোহিঙ্গা সশস্ত্র সংগঠন আরকান রোহিঙ্গা সালভেশন আর্মি- আরসা’র প্রধান আতাউল্লাহ আবু আম্মার জুনুনি।

মঙ্গলবার, দুইটি পৃথক মামলায় দশ দিনের রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করে আতাউল্লাহ’কে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।

রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ , সিক্স মার্ডার ও ডিজিএফআই কর্মকর্তা হত্যায় দায়ের করা চাঞ্চল্যকর তিনটি মামলায় অভিযুক্ত আতাউল্লাহ গ্রেফতারের আগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী’র তালিকায় ছিলেন ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ আসামী।

আতাউল্লাহ এতোদিন কোথায় ছিলেন? সে প্রশ্নের সঠিক উত্তর পাওয়া কঠিন হলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মাঝে মধ্যে মিলতো তার অডিও-ভিডিও বার্তা।

আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় প্রেরিত বার্তাগুলোতে তিনি রোহিঙ্গাদের ‘ আরকানে আরসা জান্তা ও আরকান আর্মি’র বিরুদ্ধে লড়াই করছে ‘ জানিয়ে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করতেন।

আতাউল্লাহ’র বিশ্বস্ত সহচর হিসেবে পরিচিত আরসা’র সেকেন্ড ইন কমান্ড মৌলভী মোস্তাক আহমেদ ও একই সময়ে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে আছেন।

এখন প্রশ্ন উঠছে, আরসার গোপন তৎপরতা কোন পথে এগুচ্ছে  এবং কে দিবেন দুই শীর্ষ নেতার অবর্তমানে নেতৃত্ব?

আরসার একটি অসমর্থিত সূত্র বলছে,  আতাউল্লাহ’র আরেক বিশ্বস্ত সহযোগী ও কথিত কমান্ডার শেখ বোরহান সংগঠনের হাল ধরার চেষ্টা করতে পারেন।

বোরহান কোথায় অবস্থান করছেন সে স্পষ্ট তথ্য না মিললেও আত্মগোপনে থেকে সর্বশেষ ১০ মার্চ রমজান উপলক্ষে রোহিঙ্গাদের উদ্দেশ্যে আতাউল্লাহ’র নির্দেশে একটি অডিও বার্তা দিয়েছিলেন তিনি।

এছাড়াও ঘন জঙ্গলে দাঁড়িয়ে অস্ত্রধারী অজ্ঞাত দুইজনকে পাশে রেখে গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর ভিডিও বার্তা দেন বোরহান, ইউটিউব ও ফেসবুকে রোহিঙ্গা ভিত্তিক বিভিন্ন আইডি থেকে যেগুলো প্রচারিত হয়।

বাংলাদেশে প্রকাশ্যে কার্যক্রম না চালালেও রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে আরসার উপস্থিতির তথ্য পাওয়া যায়, ক্যাম্পকেন্দ্রিক অপরাধ-নাশকতায় খবরের শিরোনামে প্রায়ই উঠে আসে বিদ্রোহী সংগঠনটির নাম।

অপতৎপরতায় অতিষ্ঠ ও নির্যাতনের শিকার সাধারণ রোহিঙ্গারা আতাউল্লাহ আইনের আওতায় আসায় বাংলাদেশের প্রশাসন’কে ধন্যবাদ জানিয়ে দাবী করছে তাঁর বিচার।

প্রত্যাবাসনের পক্ষে জনমত তৈরি ও বৈশ্বিক দৃষ্টি আকর্ষণে কাজ করতে গিয়ে নিহত রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ’র হত্যাকান্ডের পেছনে দায়ী করা হয় আরসাকে।

মুহিবুল্লাহ’র সংগঠন এআরএসপিএইচ এর এক সদস্য বলেন, ” আমার মনে আছে মাষ্টার সাহেব আমাদের কে মৃত্যু’র আগে জুনুনিযে অডিও পাঠিয়ে হুমকি দিতেন সেগুলো শুনিয়েছিলেন। আরসা চায় না আমরা আরকানে ফিরি,বাংলাদেশের কাছে আতাউল্লাহ’র সর্বোচ্চ শাস্তি দাবী করছি।”

বিবিসির এক প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী ‘বিতর্কিত’ সংগঠন হলেও আরসা’র প্রতি কিছু রোহিঙ্গার সহানুভূতি আছে।

আতাউল্লাহ গ্রেফতারের পর অনেক আরসা সদস্য-সমর্থক’কে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার মুক্তি চেয়ে পোস্ট/কমেন্ট করতে দেখা গেছে।

উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বসবাসরত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরসা সমর্থক এক রোহিঙ্গা যুবক বলেন, ” বাংলাদেশ আমাদের আশ্রয় দিয়েছে আমরা কৃতজ্ঞ, কিন্তু আতাউল্লাহও আমাদের স্বপ্ন দেখিয়েছে আমরা তার মুক্তি চাই।”

আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা ‘ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ’ তাদের এক রিপোর্টের তথ্যমতে আরসা মূলত গড়ে উঠেছে সৌদি আরবে চলে যাওয়া রোহিঙ্গাদের মাধ্যমে।

২০১২ সালে আতাউল্লাহ সৌদি আরব থেকে অদৃশ্য হয়ে যান। এরপর আরাকানে নতুন করে সহিংসতা শুরু হওয়া হলে তাঁর নাম শোনা যায়। ২০১৬ সালের দিকে তিনি আরসা গড়ে তোলেন বলে মনে করা হয়।