ঢাকা ০৮:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬, ১৭ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শহরে ৬ ছিনতাইকারী গ্রেফতার অজ্ঞাত পরিচয়ে স্বপ্নচূড়ার সভাপতিকে হুমকি, থানায় জিডি র‍্যাবের অভিযান: উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে বিপুল অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম উদ্ধার এপ্রিলে বাড়ছে না জ্বালানি তেলের দাম সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৩ দিন অনলাইনে ক্লাস নেয়া হবে রামুতে ২৩ পাহাড়খেকোর বিরুদ্ধে মামলা : স্কেভেটর-ডাম্পার জব্দ কক্সবাজারে হামের উপসর্গ নিয়ে এক শিশুর মৃত্যু, ভর্তি ১১৯ রামুতে বিজিবির অভিযান: ৯০ লাখ টাকার ইয়াবা উদ্ধার সারাদেশে জ্বালানি তেলের মজুদ রয়েছে ১ লাখ ৯৩ হাজার টন মালয়েশিয়া থেকে ২৭ হাজার টন ডিজেল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংগীত শিক্ষক নিয়োগের প্রস্তাব অনলাইন-অফলাইন সমন্বিত শিক্ষা ব্যবস্থা চালুর চিন্তা করা হচ্ছে মাঠে নামছে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা উত্তরণ এলাকা থেকে স্কুলছাত্রীকে প্রকাশ্যে অপহরণের অভিযোগ.. হাইকোর্টের বিচারপতি রেজাউল হাসানের পদত্যাগ

উখিয়ায় নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা অ্যাজেন্ডা স্থানীয়করণ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

তৃণমূল পর্যায়ে নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা বিষয়ক জাতীয় কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে উখিয়ায় একটি সচেতনতামূলক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি ২০২৬) ইউএন উইমেন বাংলাদেশের সহযোগিতায় বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘ-(বিএনপিএস) এর উদ্যোগে উখিয়ার গ্লোবাল ট্রেনিং সেন্টারে দিনব্যাপী এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।

কর্মশালায় জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের রেজুলেশন ১৩২৫ এবং বাংলাদেশে প্রণীত নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা বিষয়ক জাতীয় কর্মপরিকল্পনা (NAP 2022–2025) নিয়ে আলোচনা করা হয়। আলোচনায় নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতা, দুর্যোগকালীন ঝুঁকি, বাস্তুচ্যুতি, মাদক ও পাচার, জলবায়ু পরিবর্তনসহ স্থানীয় বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ তুলে ধরা হয়।

কর্মশালায় নারী নেত্রী, যুব প্রতিনিধি, কমিউনিটি ফোরাম, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সুশীল সমাজের অন্যান্য প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

আলোচনায় কুতুপালং উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা শম্পা চৌধুরী বলেন,”নারী ও শিশুদের প্রতি অবহেলার অন্যতম কারণ আইন সম্পর্কে অজ্ঞতা। এ ক্ষেত্রে শিক্ষিত ও দায়িত্বশীলদের এগিয়ে এসে আইন বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।”

আদিবাসী ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন কক্সবাজার এবং স্থানীয় নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা বিষয়ক কমিটির সদস্য মাটিন টিন বলেন,”উপকূলীয় এলাকায় বিশেষ করে দুর্যোগের সময় সাইক্লোন সেন্টারগুলোতে নারী ও কিশোরীদের জন্য আলাদা ও নিরাপদ ব্যবস্থা না থাকায় নানা ঝুঁকি তৈরি হয়। নারী ও কিশোরীবান্ধব সাইক্লোন শেল্টার নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।”

কর্মশালায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রতিবন্ধী দুঃস্থ ও মহিলা সংস্থার সংগঠক নুসরাত জাহান মেরী বলেন, “নারী, শিশু ও প্রতিবন্ধীরা এখনও সর্বত্র অবহেলিত। একজন প্রতিবন্ধী নারী হিসেবে আমি জানি প্রতিদিন টিকে থাকার সংগ্রাম কতটা কঠিন। তাই আমাদের সবাইকে নিজ নিজ জায়গা থেকে এই জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়াতে হবে।”

এছাড়া শান্তি ও নিরাপত্তা প্রক্রিয়ার সব পর্যায়ে নারীর অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত হলে টেকসই ও জেন্ডার সমতাভিত্তিক সমাজ গঠন সম্ভব হবে বলে মনে করেন আলোচকরা।

কর্মশালাটি পরিচালনা করেন সেজুতি ধর, শফিকুল ইসলাম ফরাজী ও নাসিমা আকতার।তারা জানান, ভবিষ্যতে দেশের বিভিন্ন জেলায় ধারাবাহিকভাবে এ ধরনের কর্মশালার মাধ্যমে নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা অ্যাজেন্ডার বাস্তবায়ন আরও জোরদার করা হবে।

ট্যাগ :

উখিয়ায় নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা অ্যাজেন্ডা স্থানীয়করণ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

আপডেট সময় : ১২:৫৩:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬

তৃণমূল পর্যায়ে নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা বিষয়ক জাতীয় কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে উখিয়ায় একটি সচেতনতামূলক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি ২০২৬) ইউএন উইমেন বাংলাদেশের সহযোগিতায় বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘ-(বিএনপিএস) এর উদ্যোগে উখিয়ার গ্লোবাল ট্রেনিং সেন্টারে দিনব্যাপী এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।

কর্মশালায় জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের রেজুলেশন ১৩২৫ এবং বাংলাদেশে প্রণীত নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা বিষয়ক জাতীয় কর্মপরিকল্পনা (NAP 2022–2025) নিয়ে আলোচনা করা হয়। আলোচনায় নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতা, দুর্যোগকালীন ঝুঁকি, বাস্তুচ্যুতি, মাদক ও পাচার, জলবায়ু পরিবর্তনসহ স্থানীয় বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ তুলে ধরা হয়।

কর্মশালায় নারী নেত্রী, যুব প্রতিনিধি, কমিউনিটি ফোরাম, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সুশীল সমাজের অন্যান্য প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

আলোচনায় কুতুপালং উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা শম্পা চৌধুরী বলেন,”নারী ও শিশুদের প্রতি অবহেলার অন্যতম কারণ আইন সম্পর্কে অজ্ঞতা। এ ক্ষেত্রে শিক্ষিত ও দায়িত্বশীলদের এগিয়ে এসে আইন বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।”

আদিবাসী ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন কক্সবাজার এবং স্থানীয় নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা বিষয়ক কমিটির সদস্য মাটিন টিন বলেন,”উপকূলীয় এলাকায় বিশেষ করে দুর্যোগের সময় সাইক্লোন সেন্টারগুলোতে নারী ও কিশোরীদের জন্য আলাদা ও নিরাপদ ব্যবস্থা না থাকায় নানা ঝুঁকি তৈরি হয়। নারী ও কিশোরীবান্ধব সাইক্লোন শেল্টার নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।”

কর্মশালায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রতিবন্ধী দুঃস্থ ও মহিলা সংস্থার সংগঠক নুসরাত জাহান মেরী বলেন, “নারী, শিশু ও প্রতিবন্ধীরা এখনও সর্বত্র অবহেলিত। একজন প্রতিবন্ধী নারী হিসেবে আমি জানি প্রতিদিন টিকে থাকার সংগ্রাম কতটা কঠিন। তাই আমাদের সবাইকে নিজ নিজ জায়গা থেকে এই জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়াতে হবে।”

এছাড়া শান্তি ও নিরাপত্তা প্রক্রিয়ার সব পর্যায়ে নারীর অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত হলে টেকসই ও জেন্ডার সমতাভিত্তিক সমাজ গঠন সম্ভব হবে বলে মনে করেন আলোচকরা।

কর্মশালাটি পরিচালনা করেন সেজুতি ধর, শফিকুল ইসলাম ফরাজী ও নাসিমা আকতার।তারা জানান, ভবিষ্যতে দেশের বিভিন্ন জেলায় ধারাবাহিকভাবে এ ধরনের কর্মশালার মাধ্যমে নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা অ্যাজেন্ডার বাস্তবায়ন আরও জোরদার করা হবে।