ঢাকা ০৭:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
২৯৯ আসনের ফলাফল: বিএনপি ২১১, জামায়াত ৬৮ গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রী পেতে যাচ্ছে কক্সবাজার গুলশান কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সালাহউদ্দিন আহমদ-“আওয়ামীলীগের বিচার শুরু হবে বলে আশা করছি” কবে গঠিত হবে নতুন সরকার? চট্টগ্রামে ১৬টির মধ্যে ১৪ আসন বিএনপির, কে কত ভোট পেলেন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জিতেছে, কী কী বদল আসবে গোপালগঞ্জে শেখ হাসিনার আসনে জয় পেয়েছে বিএনপির জিলানী কক্সবাজারের চার আসনের পূর্ণাঙ্গ ফলাফল; কে কতো ভোটে জিতলেন কত ভোট পেলেন তাসনিম জারা সরকার গঠনে জোট করার প্রশ্নই আসে না: সালাহউদ্দিন তারেক রহমানকে ঐতিহাসিক বিজয়ের শুভেচ্ছা, কাজ করতে আগ্রহী যুক্তরাষ্ট্র: মার্কিন দূতাবাস তারেক রহমানকে মোদির অভিনন্দন রুমিন ফারহানা–তাহসিনা রুশদীর–শামা ওবায়েদসহ জয়ী হলেন ৭ নারী পোস্টাল ব্যালটের চূড়ান্ত হিসাব জানালো ইসি সারা দেশে ভোট পড়েছে ৫৯.৪৪ শতাংশ: ইসি

নিষেধাজ্ঞা শেষ : বৈরী আবহাওয়ায় হতাশ জেলেরা

দীর্ঘ ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে গেলেও বৈরী আবহাওয়ার কারণে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পাচ্ছেন না উপকূলের জেলেরা। বুকভরা আশা নিয়ে ১১ জুন মধ্যরাতে সাগরে পাড়ি জমালেও সমুদ্রের উত্তাল ঢেউ ও প্রতিকূল আবহাওয়া তাদের পথের বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সোমবার (১৬ জুন) সরেজমিনে কক্সবাজার ফিশারী ঘাট ঘুরে দেখা যায়, এখনো অধিকাংশ গভীর সমুদ্রগামী ট্রলার ফিরে আসেনি। তবে নদী ও উপকূলীয় এলাকায় মাছ ধরতে যাওয়া কিছু ট্রলার ইতোমধ্যে ঘাটে ফিরতে শুরু করেছে। এসব ট্রলারে ইলিশ বা বড় আকারের মাছ খুব একটা দেখা না মিললেও চিংড়ি, লইট্টা, ছুরি, শাপলা, কালো চাঁদা ও রূপচাঁদা মাছ কিছুটা পরিমাণে পাওয়া গেছে।

জেলেরা জানান, বৈরী আবহাওয়ার কারণে গভীর সমুদ্রে অবস্থান করা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অনেক ট্রলার নির্ধারিত সময়ের আগেই ফিরে আসছে। মাছ ধরতে না পারায় অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়ছেন তারা।

ফিশারীঘাটের ব্যবসায়ী মাহবুব আলম বলেন, “নিষেধাজ্ঞার সময় আবহাওয়া খুবই ভালো ছিল। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পর থেকেই সাগরে বৈরী আবহাওয়া বিরাজ করছে। এ কারণে জেলেরা ইলিশ ধরতে পারছে না। তবে কিছু ট্রলারে চিংড়ি ও লইট্টা মাছ ধরা পড়ছে।”

জেলে রহিম উদ্দিন বলেন, “বড় ঢেউ আর বাতাসের কারণে সাগরে দীর্ঘ সময় থাকা যাচ্ছে না। অনেক ট্রলার ফিরে আসছে খালি হাতে। অনেকেই এখনো মাছ ধরতে যেতেও পারেননি।”

কক্সবাজার মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের সহকারী হিসাব নিয়ন্ত্রক আশীষ কুমার বৈদ্য টিটিএন-কে জানান, নিষেধাজ্ঞা পরবর্তী সময়ে ১১ থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত প্রায় ৪ টন ইলিশসহ বিভিন্ন প্রজাতির মোট ৪৮ টন মাছ অবতরণ হয়েছে, যার বাজারমূল্য আনুমানিক ৪২ লাখ টাকা। এ সময়ে রাজস্ব খাতে আয় হয়েছে ৪৬ হাজার টাকা।

তিনি আরও বলেন, “সাগরে আবহাওয়া স্বাভাবিক না থাকায় মাছ ধরা ব্যাহত হচ্ছে। তবে আবহাওয়ার উন্নতি হলে মাছের পরিমাণ বাড়বে বলে আমরা আশা করছি।”

উল্লেখ্য, ইলিশের প্রজনন নিশ্চিত করতে প্রতিবছরের মতো এবারও ১৫ এপ্রিল থেকে ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা ছিল গভীর সমুদ্র ও উপকূলীয় অঞ্চলে সব ধরনের মাছ ধরায়। নিষেধাজ্ঞা শেষে জেলেরা মাছ শিকারে গেলেও প্রকৃতির রুদ্ররূপ তাদের স্বপ্নভঙ্গ করছে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

This will close in 6 seconds

নিষেধাজ্ঞা শেষ : বৈরী আবহাওয়ায় হতাশ জেলেরা

আপডেট সময় : ০৪:২১:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ জুন ২০২৫

দীর্ঘ ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে গেলেও বৈরী আবহাওয়ার কারণে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পাচ্ছেন না উপকূলের জেলেরা। বুকভরা আশা নিয়ে ১১ জুন মধ্যরাতে সাগরে পাড়ি জমালেও সমুদ্রের উত্তাল ঢেউ ও প্রতিকূল আবহাওয়া তাদের পথের বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সোমবার (১৬ জুন) সরেজমিনে কক্সবাজার ফিশারী ঘাট ঘুরে দেখা যায়, এখনো অধিকাংশ গভীর সমুদ্রগামী ট্রলার ফিরে আসেনি। তবে নদী ও উপকূলীয় এলাকায় মাছ ধরতে যাওয়া কিছু ট্রলার ইতোমধ্যে ঘাটে ফিরতে শুরু করেছে। এসব ট্রলারে ইলিশ বা বড় আকারের মাছ খুব একটা দেখা না মিললেও চিংড়ি, লইট্টা, ছুরি, শাপলা, কালো চাঁদা ও রূপচাঁদা মাছ কিছুটা পরিমাণে পাওয়া গেছে।

জেলেরা জানান, বৈরী আবহাওয়ার কারণে গভীর সমুদ্রে অবস্থান করা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অনেক ট্রলার নির্ধারিত সময়ের আগেই ফিরে আসছে। মাছ ধরতে না পারায় অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়ছেন তারা।

ফিশারীঘাটের ব্যবসায়ী মাহবুব আলম বলেন, “নিষেধাজ্ঞার সময় আবহাওয়া খুবই ভালো ছিল। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পর থেকেই সাগরে বৈরী আবহাওয়া বিরাজ করছে। এ কারণে জেলেরা ইলিশ ধরতে পারছে না। তবে কিছু ট্রলারে চিংড়ি ও লইট্টা মাছ ধরা পড়ছে।”

জেলে রহিম উদ্দিন বলেন, “বড় ঢেউ আর বাতাসের কারণে সাগরে দীর্ঘ সময় থাকা যাচ্ছে না। অনেক ট্রলার ফিরে আসছে খালি হাতে। অনেকেই এখনো মাছ ধরতে যেতেও পারেননি।”

কক্সবাজার মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের সহকারী হিসাব নিয়ন্ত্রক আশীষ কুমার বৈদ্য টিটিএন-কে জানান, নিষেধাজ্ঞা পরবর্তী সময়ে ১১ থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত প্রায় ৪ টন ইলিশসহ বিভিন্ন প্রজাতির মোট ৪৮ টন মাছ অবতরণ হয়েছে, যার বাজারমূল্য আনুমানিক ৪২ লাখ টাকা। এ সময়ে রাজস্ব খাতে আয় হয়েছে ৪৬ হাজার টাকা।

তিনি আরও বলেন, “সাগরে আবহাওয়া স্বাভাবিক না থাকায় মাছ ধরা ব্যাহত হচ্ছে। তবে আবহাওয়ার উন্নতি হলে মাছের পরিমাণ বাড়বে বলে আমরা আশা করছি।”

উল্লেখ্য, ইলিশের প্রজনন নিশ্চিত করতে প্রতিবছরের মতো এবারও ১৫ এপ্রিল থেকে ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা ছিল গভীর সমুদ্র ও উপকূলীয় অঞ্চলে সব ধরনের মাছ ধরায়। নিষেধাজ্ঞা শেষে জেলেরা মাছ শিকারে গেলেও প্রকৃতির রুদ্ররূপ তাদের স্বপ্নভঙ্গ করছে।