রোববার দুপুরে গাজীপুর মহানগর আদালতের পরিদর্শক আহসানুল্লাহ চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, টঙ্গীর মধ্য আউচপাড়া এলাকার ক্বারীউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার প্রথম শ্রেণির এক ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠে প্রতিষ্ঠানটির উপাধ্যক্ষ মোসলেম উদ্দিনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। পরে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে বৃহস্পতিবার তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়। একই দিন আদালতে শিশুটির জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।
আদালত পুলিশের পরিদর্শক মো. আহসান উল্লাহ চৌধুরী জানান, অভিযোগ তদন্তের অংশ হিসেবে মাদ্রাসা থেকে সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজসহ বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পর্যালোচনা করে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। তবে তদন্ত এখনো চলমান।
এর আগে গত বুধবার শিশুটির বাবা মেয়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার ব্যাখ্যা জানতে মাদ্রাসায় যান। একপর্যায়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে মারধরের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়। পরে এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
এদিকে, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে হামলা, ভাঙচুর, শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মারধর এবং ১৭ লাখ টাকা ও পাঁচটি মুঠোফোন লুটের অভিযোগ করা হয়েছে। এসব অভিযোগে শিশুটির বাবা ও তাঁর সঙ্গে থাকা কয়েকজনের বিরুদ্ধে পৃথক মামলা করা হয়েছে।
তবে শিশুটির বাবা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, মেয়ের প্রতি কথিত নিপীড়নের বিচার চাইতেই তিনি মাদ্রাসায় গিয়েছিলেন। হামলা বা লুটপাটের কোনো উদ্দেশ্য তাঁর ছিল না। তিনি নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং মেয়ের প্রতি নিপীড়নের ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।
টঙ্গী পশ্চিম থানা-পুলিশ জানিয়েছে, শিশু নিপীড়নের অভিযোগ এবং মাদ্রাসায় হামলা-ভাঙচুরের ঘটনায় দায়ের করা পৃথক দুটি মামলার তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।
টিটিএন ডেস্ক: 





















