কক্সবাজারের উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অভিযান চালিয়ে বিদেশি মুদ্রা, ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র, জাল সনদপত্র ও বিভিন্ন সন্দেহজনক নথিসহ মোহাম্মদ তোহা নামে এক রোহিঙ্গাকে আটক করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) গোপন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে তাকে আটক করা হয়। আটক তোহা লাম্বাশিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকার ক্যাম্প-১ ইস্টের ডি-৫ ব্লকের বাসিন্দা।
আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় ১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অধিনায়ক মোহাম্মদ সিরাজ আমীন এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
তার ভাষ্য, প্রাথমিক তদন্তে মোহাম্মদ তোহার বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং, মানবপাচার, ভুয়া পাসপোর্ট তৈরির চক্র এবং বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর অর্থদাতা হিসেবে সম্পৃক্ত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।
সিরাজ আমীন জানিয়েছেন, চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারে এসে লিংক রোড এলাকায় পুরবী বাস থেকে নেমে টেকনাফগামী সী-লাইন বাসে ওঠার সময় তাকে সন্দেহজনক গতিবিধির কারণে আটক করা হয়। পরে তাকে ক্যাম্প-১ ইস্টের ডি-৫ ব্লকে অবস্থিত তার শেল্টারে নেওয়া হয়। হেড মাঝির উপস্থিতিতে চালানো তল্লাশিতে বিপুল পরিমাণ দেশি-বিদেশি মুদ্রা, জাল কাগজপত্র ও ডিজিটাল ডকুমেন্ট উদ্ধার করা হয়।
জব্দ করা মালামালের মধ্যে রয়েছে, বাংলাদেশি নগদ ৫৩ হাজার টাকা, সৌদি রিয়াল ৩ হাজার ২৫০, মালয়েশিয়ান রিংগিত ৩ হাজার ৩০০ এবং ৬০০ মার্কিন ডলার। এছাড়া তার নামে তৈরি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের জাতীয় সনদপত্র, মেয়ের জন্ম সনদ, একটি বেসরকারী ব্যাংকের চেক বইয়ের পাতা, অনলাইন এনআইডির কপি এবং ব্যবহৃত একটি ভিভো মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। ফোনে তার নামে নিবন্ধিত দুটি মোবাইল সিমও পাওয়া যায়।
এপিবিএন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মোহাম্মদ তোহা প্রতারণার মাধ্যমে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের মাস্টারপাড়া এলাকার ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করে বাংলাদেশি জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করেন। পরে তিনি নিজেকে বাংলাদেশি নাগরিক পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন আর্থিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করতেন।
এপিবিএন অধিনায়ক মোহাম্মদ সিরাজ আমীনের দাবি, প্রাথমিক তদন্তে রোহিঙ্গা ক্যাম্পকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা একটি আন্তঃদেশীয় মানবপাচার সিন্ডিকেটের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে জানা গেছে। বিশেষ করে মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে রোহিঙ্গাদের অবৈধভাবে পাঠানোর কাজে তিনি অর্থ সংগ্রহ, যোগাযোগ ও নথি প্রস্তুতের দায়িত্ব পালন করতেন। তোহা দীর্ঘদিন ধরে ক্যাম্প এলাকায় অবৈধ অর্থ লেনদেন ও মানিলন্ডারিং কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন। এছাড়া জঙ্গি ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর অর্থ জোগানদাতা এবং ভুয়া পাসপোর্ট তৈরির সঙ্গে জড়িত চক্রের মূল সমন্বয়কারী হিসেবেও তার ভূমিকা থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। জব্দ করা বৈদেশিক মুদ্রাগুলো শুল্ক ও কর ফাঁকি দিয়ে পার্শ্ববর্তী দেশে পাচারের উদ্দেশ্যে সংরক্ষণ করা হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
তিনি নিশ্চিত করেন, এ ঘটনায় উখিয়া থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুজিবুর রহমান জানিয়েছেন, আটক তোহার সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের শনাক্তে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
বিশেষ প্রতিবেদক: 






















