মেসুত ওজিল এবং নেকমেতিন বিলাল এরদোয়ান–এর নেতৃত্বে একটি তুর্কি প্রতিনিধি দল কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থী আশ্রয়শিবির পরিদর্শন করেছে। একদিনের এ সফরে তারা রোহিঙ্গাদের বর্তমান পরিস্থিতি, শিক্ষা কার্যক্রম ও মানবিক সহায়তার বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করেন এবং রোহিঙ্গাদের সহায়তায় এগিয়ে আসতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টায় ঢাকার একটি ব্যক্তিগত উড়োজাহাজে তারা কক্সবাজার বিমানবন্দরে পৌঁছান। এ সময় জেলা প্রশাসক আ. মান্নান, পুলিশ সুপার এ.এন.এম. সাজেদুর রহমান এবং শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান তাদের স্বাগত জানান।
১১ সদস্যের প্রতিনিধি দলে তুর্কি সহযোগিতা ও সমন্বয় সংস্থা (টিকা)’র সভাপতি আব্দুল্লাহ এরেন, বাংলাদেশে নিযুক্ত তুরস্কের রাষ্ট্রদূত রামিস সেনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নে গুরুত্বারোপ
মতবিনিময় সভায় বিলাল এরদোয়ান বলেন, “রোহিঙ্গারা দীর্ঘ সময় ধরে মৌলিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত। ভবিষ্যতে নিজ দেশে সম্মানের সঙ্গে ফিরে যেতে হলে এখন থেকেই তাদের শিক্ষা ও কারিগরি দক্ষতা অর্জন জরুরি।”
তিনি আরও বলেন, “বর্তমানে রোহিঙ্গাদের জন্য বৈশ্বিক সহায়তা কমে গেছে। মেসুত ওজিলের মতো বিশ্বখ্যাত ব্যক্তিত্বের সফরের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা ও বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আবারও এই মানবিক সংকটের দিকে আকৃষ্ট হবে বলে আমরা আশা করি।”
মাঠপর্যায়ের বাস্তব পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং শিক্ষা ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রম জোরদার করাই তাদের সফরের মূল লক্ষ্য।
শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, “তুর্কিদের সংস্কৃতি অনুযায়ী রমজানের প্রথম ইফতার পরিবারের সঙ্গে করার প্রচলন রয়েছে। রোহিঙ্গাদেরও তারা নিজেদের পরিবারের সদস্য মনে করেই তাদের সঙ্গে ইফতার করেছেন তাঁরা।”
তিনি আরও বলেন, “গত আট বছর ধরে রোহিঙ্গারা প্রত্যাবাসনের অপেক্ষায় থাকলেও আর্থিক সংকটের কারণে তা সম্ভব হয়নি। ফলে তাদের নানা দুর্ভোগ তৈরি হয়েছে। তুর্কি প্রতিনিধি দল বিশ্ববাসীকে রোহিঙ্গা সংকট ভুলে না যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে এবং বাংলাদেশ সরকারকে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে।”
প্রতিনিধি দলের সদস্যরা টিকা পরিচালিত মাল্টিপারপাস এডুকেশন অ্যান্ড কালচারাল সেন্টার, তুর্কি ফিল্ড হাসপাতাল, টিকা মিউজিক স্টুডিও এবং কম্পিউটার ও রোবটিক্স ল্যাব উদ্বোধন করেন।
পরিদর্শনকালে তারা শরণার্থীদের বসবাসের পরিবেশ, শিক্ষা কার্যক্রম, স্বাস্থ্যসেবা ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রম ঘুরে দেখেন এবং রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলেন।
চ্যারিটি ফুটবল ম্যাচে অংশগ্রহণ
বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উখিয়ার ৪ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্প মাঠে আয়োজিত প্রতীকী প্রীতি ফুটবল ম্যাচে অংশ নেন মেসুত ওজিল। এ সময় বিলাল এরদোয়ান মঞ্চে বসে খেলা উপভোগ করেন। মাঠভরা দর্শক “ওজিল, ওজিল” ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে। ম্যাচটি ক্যাম্পের শিশু-কিশোরদের মধ্যে উৎসাহ, আনন্দ ও অনুপ্রেরণা সৃষ্টি করে।
দিনের শেষ পর্যায়ে প্রতিনিধি দল রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সঙ্গে ইফতার মাহফিলে অংশ নেয় এবং সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে শিবির ত্যাগ করে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। সফর শেষে রাতে তারা ঢাকায় ফিরে বিভিন্ন কূটনীতিকের সঙ্গে রোহিঙ্গা ইস্যুসহ নানা বিষয়ে আলোচনা করবেন বলে জানা গেছে।
শামীমুল ইসলাম ফয়সাল: 






















