ঢাকা ০৫:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন যারা বাংলাদেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, শপথ সম্পন্ন মন্ত্রিসভায় থাকছেন ৩ নারী ‘বাটোয়ারার নির্বাচন মেনে নিয়ে বিরোধিতার নাটক বন্ধ করুন’: মাহফুজ আলম মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান বর্জন করছে এনসিপি গণভোটের ফল বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে রিট নতুন সরকারে কে কোন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে সালাহউদ্দিন আহমদ হচ্ছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ঢাকায় এসেছেন ভারতের লোকসভার স্পিকার ও পররাষ্ট্র সচিব ২৫ মন্ত্রী ও ২৪ প্রতিমন্ত্রী হিসেবে ডাক পেলেন যাঁরা লেবুর দামে আগুন রাষ্ট্রের ক্ষমতাকেন্দ্রে জিয়া পরিবারের তৃতীয় ব্যক্তি দুটো শপথই নিলেন এনসিপির নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচিত সদস্যদের ৭৬ শতাংশই নতুন সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নিলেন না রুমিন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচিত সদস্যদের ৭৬ শতাংশই নতুন

  • টিটিএন ডেস্ক:
  • আপডেট সময় : ০১:৩৮:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • 48

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ৭৬ শতাংশ সদস্যই নতুন। ভোটের ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ২২৭ জন প্রথমবারের মতো সংসদে যাচ্ছেন। এর মধ্যে বিএনপির ১৪৮ জন। জামায়াতে ইসলামীর ৬৩ জন।

জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে গত বৃহস্পতিবার ভোট গ্রহণ করা হয়। একজন প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে শেরপুর-৩ আসনে ভোট গ্রহণ হয়নি। আর দুটি আসনে ফলাফলের গেজেট প্রকাশে আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এই দুটি আসনেও বিএনপির প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন।

নির্বাচনে বিএনপি এককভাবে ২১১ আসনে জয়ী হয়েছে। দলটির জোটসঙ্গী গণ অধিকার পরিষদ, গণসংহতি আন্দোলন এবং বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) তিনজন প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন। সব মিলিয়ে বিএনপি জোটের আসন ২১৪টি। এর মধ্যে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন ১৫০ জন (জোটের হিসাবে)। অর্থাৎ বিএনপি জোট থেকে যাঁরা সংসদে যাচ্ছেন, তাঁদের ৭০ শতাংশই নতুন।

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে ৬৮টি আসন। তাদের জোটসঙ্গী এনসিপি ছয়টি আসনে জয়ী হয়েছে। এই ছয়জনের সবাই প্রথম কোনো নির্বাচনে অংশ নিয়ে সংসদ সদস্য হয়েছেন। জামায়াতের জোটসঙ্গীদের মধ্যে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের দুজন এবং খেলাফত মজলিসের একজন ভোটে জয়ী হয়েছেন। সব মিলিয়ে জামায়াত জোটের আসন ৭৭টি। এর মধ্যে নতুন সংসদ সদস্য হয়েছেন অন্তত ৭২ জন। অর্থাৎ এই জোটের যাঁরা সংসদে যাচ্ছেন, তাঁদের ৯৫ শতাংশই নতুন।

দলীয় প্রধানেরাও প্রথমবার

ত্রয়োদশ সংসদে একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, গণসংহতি আন্দোলন, গণ অধিকার পরিষদ ও এনসিপি—এই পাঁচ দলের প্রধানেরা এই প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান, গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবারই প্রথম সংসদ নির্বাচন করেছেন।

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বগুড়া-৬ ও ঢাকা-১৭ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে দুটিতেই জয়ী হয়েছেন। গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক পটুয়াখালী-৩ আসন থেকে নির্বাচন করে জয় পেয়েছেন। এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ঢাকা-১১ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয় পেয়েছেন।

জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান ও গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি এর আগেও সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। তবে দুজনই এবারই প্রথম জয় পেয়েছেন।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য বলছে, এবার স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন ২৭৩ জন। জয় পেয়েছেন ৭ জন। তাঁদের মধ্যে পাঁচজন প্রথমবার সংসদে যাচ্ছেন।

কার্যকর সংসদের আশা

ত্রয়োদশ সংসদের ৭৬ শতাংশ সদস্য নতুন হওয়া প্রসঙ্গে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক আল মাসুদ হাসানউজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, সবাই একটা পরিবর্তন চাচ্ছিল। রূপান্তর চাচ্ছিল। রাজনৈতিক দলগুলোও অনেক নতুন মুখকে মনোনয়ন দিয়েছিল। এই নির্বাচনটাই পরিবর্তনের নির্বাচন। নতুনেরা সেই পরিবর্তন আনতে সক্ষম বলে প্রত্যাশা করেন তিনি।

আল মাসুদ হাসানউজ্জামান বলেন, সংসদের কার্যপ্রণালি, বিধিবিধান, স্থায়ী কমিটির কাজ, আইন প্রণয়নের জটিল প্রক্রিয়া—এসব ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতার অভাব একটি বড় বিষয় হয়ে দাঁড়াতে পারে। কার্যকর সংসদ করতে হলে অভিজ্ঞ সংসদ সদস্যদের সহযোগিতাও প্রয়োজন হবে। নতুনদের মধ্যে একধরনের উদ্যম থাকে। পুরোনোদের মধ্যে থাকে অভিজ্ঞতা। এ দুইয়ের সমন্বয় করা গেলে সংসদকে প্রাণবন্ত ও কার্যকর করা যাবে।

সূত্র: প্রথম আলো

 

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

This will close in 6 seconds

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচিত সদস্যদের ৭৬ শতাংশই নতুন

আপডেট সময় : ০১:৩৮:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ৭৬ শতাংশ সদস্যই নতুন। ভোটের ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ২২৭ জন প্রথমবারের মতো সংসদে যাচ্ছেন। এর মধ্যে বিএনপির ১৪৮ জন। জামায়াতে ইসলামীর ৬৩ জন।

জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে গত বৃহস্পতিবার ভোট গ্রহণ করা হয়। একজন প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে শেরপুর-৩ আসনে ভোট গ্রহণ হয়নি। আর দুটি আসনে ফলাফলের গেজেট প্রকাশে আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এই দুটি আসনেও বিএনপির প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন।

নির্বাচনে বিএনপি এককভাবে ২১১ আসনে জয়ী হয়েছে। দলটির জোটসঙ্গী গণ অধিকার পরিষদ, গণসংহতি আন্দোলন এবং বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) তিনজন প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন। সব মিলিয়ে বিএনপি জোটের আসন ২১৪টি। এর মধ্যে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন ১৫০ জন (জোটের হিসাবে)। অর্থাৎ বিএনপি জোট থেকে যাঁরা সংসদে যাচ্ছেন, তাঁদের ৭০ শতাংশই নতুন।

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে ৬৮টি আসন। তাদের জোটসঙ্গী এনসিপি ছয়টি আসনে জয়ী হয়েছে। এই ছয়জনের সবাই প্রথম কোনো নির্বাচনে অংশ নিয়ে সংসদ সদস্য হয়েছেন। জামায়াতের জোটসঙ্গীদের মধ্যে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের দুজন এবং খেলাফত মজলিসের একজন ভোটে জয়ী হয়েছেন। সব মিলিয়ে জামায়াত জোটের আসন ৭৭টি। এর মধ্যে নতুন সংসদ সদস্য হয়েছেন অন্তত ৭২ জন। অর্থাৎ এই জোটের যাঁরা সংসদে যাচ্ছেন, তাঁদের ৯৫ শতাংশই নতুন।

দলীয় প্রধানেরাও প্রথমবার

ত্রয়োদশ সংসদে একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, গণসংহতি আন্দোলন, গণ অধিকার পরিষদ ও এনসিপি—এই পাঁচ দলের প্রধানেরা এই প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান, গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবারই প্রথম সংসদ নির্বাচন করেছেন।

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বগুড়া-৬ ও ঢাকা-১৭ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে দুটিতেই জয়ী হয়েছেন। গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক পটুয়াখালী-৩ আসন থেকে নির্বাচন করে জয় পেয়েছেন। এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ঢাকা-১১ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয় পেয়েছেন।

জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান ও গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি এর আগেও সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। তবে দুজনই এবারই প্রথম জয় পেয়েছেন।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য বলছে, এবার স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন ২৭৩ জন। জয় পেয়েছেন ৭ জন। তাঁদের মধ্যে পাঁচজন প্রথমবার সংসদে যাচ্ছেন।

কার্যকর সংসদের আশা

ত্রয়োদশ সংসদের ৭৬ শতাংশ সদস্য নতুন হওয়া প্রসঙ্গে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক আল মাসুদ হাসানউজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, সবাই একটা পরিবর্তন চাচ্ছিল। রূপান্তর চাচ্ছিল। রাজনৈতিক দলগুলোও অনেক নতুন মুখকে মনোনয়ন দিয়েছিল। এই নির্বাচনটাই পরিবর্তনের নির্বাচন। নতুনেরা সেই পরিবর্তন আনতে সক্ষম বলে প্রত্যাশা করেন তিনি।

আল মাসুদ হাসানউজ্জামান বলেন, সংসদের কার্যপ্রণালি, বিধিবিধান, স্থায়ী কমিটির কাজ, আইন প্রণয়নের জটিল প্রক্রিয়া—এসব ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতার অভাব একটি বড় বিষয় হয়ে দাঁড়াতে পারে। কার্যকর সংসদ করতে হলে অভিজ্ঞ সংসদ সদস্যদের সহযোগিতাও প্রয়োজন হবে। নতুনদের মধ্যে একধরনের উদ্যম থাকে। পুরোনোদের মধ্যে থাকে অভিজ্ঞতা। এ দুইয়ের সমন্বয় করা গেলে সংসদকে প্রাণবন্ত ও কার্যকর করা যাবে।

সূত্র: প্রথম আলো