সমুদ্র, পাহাড় আর নদী বেস্টিত অপরুপ নিসর্গের টেকনাফ। সীমান্তের এই জনপদের প্রতিটি পরতে পরতে সুন্দরের স্পর্শ। কিন্তু এই সুন্দরের ভেতরেও আছে অসুন্দরের গল্প।
টেকনাফ বিখ্যাত ছিলো মাদকের কারণে। সান্প্রতিক সময়ে মাদকের চেয়েও ভয়াবহ সমস্যা হলো অপহরণ। রাতের অন্ধকার বা দিনের আলোয় কেউ নিরাপদ নয়।বিশেষ করে পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারি স্থানীয়রাই অপহরণের শিকার হচ্ছে বেশী। উপজেলার বাহারছড়া,হ্নীলা ও সদর ইউনিয়নের পাহাড় লাগোয়া গ্রাম গুলো এখন অপহরণ চক্রের অন্যতম টার্গেট এরিয়া। সম্প্রতি গভীর রাতে হ্নীলার পশ্চিম লেদার বাসিন্দা নুরুল আলম নুরু কে ফিল্মী কায়দায় গুলি করে বাড়ী,টিনের ছাউনী কেটে বাড়ীর দরোজা ভেঙ্গে অপহরণ করে নিয়ে যায় অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা। ৭ দিন পর নুরু কে ছেড়ে দেয়। দিতে হয় মোটা অংকের মুক্তিপণ। এরপর সবশেষ ৩০ নভেম্বর সন্ধ্যায় বাহারছড়ার দক্ষিণ শীলখালীর ৪ কিশোর কে ধরে নিয়ে যায় অপহরণকারীরা। ৬ দিন পর তাদের ফেরত দেয়া হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে মুক্তিপণ চায়নি বলে জানালেও এ নিয়ে এলাকায় চলছে নানান গুঞ্জন। এ ছাড়াও প্রায়শ ঘটছে অপহরণের ঘটনা।
এমন উদ্বেগজন পরিস্থিতিতে টেকনাফে অপহরণ বন্ধে কাজ করছে ঢাকাসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের শিক্ষার্থীরা।
তারা ক্রমবর্ধমান অপহরণ পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত কার্যকর ও দৃশ্যমান উদ্যোগ গ্রহণের দাবিতে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে।
রোববার দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে তারা এ স্মারকলিপি জেলা প্রশাসক মো.আ.মান্নানের হাতে তুলে দেন।
স্মারকলিপি প্রদানকালে বাহারছড়ার ছাত্রজনতার পক্ষে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যাসোসিয়েশন অব উখিয়া–টেকনাফের সভাপতি জয়নাল আবেদীন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র ও শামলাপুর দারুল ইসলাম দাখিল মাদ্রাসার প্রাক্তন শিক্ষার্থী পরিষদের সভাপতি রহিম উল্লাহ আল নোমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগ (২০২২–২৩ সেশন) তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী করিম উল্লাহ, এবং আরবি বিভাগ (২০২৪–২৫ সেশন) প্রথম সেমিস্টারের শিক্ষার্থী মুহাম্মদ রিদুয়ান।
স্মারকলিপিতে সাম্প্রতিক সময়ে টেকনাফ, বিশেষ করে বাহারছড়া এলাকায় অপহরণের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে চলমান পরিস্থিতি স্থানীয় শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। এ অবস্থায় অপহরণ চক্রের বিরুদ্ধে টহল জোরদার, নজরদারি বৃদ্ধি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকরী ভূমিকা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
প্রতিনিধি দল আশা প্রকাশ করে বলেন, অবিলম্বে প্রশাসনের দৃশ্যমান পদক্ষেপই এলাকায় স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে পারে।
নোমান অরুপ 






















