ঢাকা ০৯:৩৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে বিএনসিসি এর দায়িত্ব পালন শাহজাহান-আনোয়ারীর লড়াই জমালো যে ‘ভোটব্যাংক’ তারেক রহমানের সাথে আলমগীর ফরিদের শুভেচ্ছা বিনিময় উখিয়ায় নির্বাচন পরবর্তী রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বন্ধে এনসিপির আহবান কক্সবাজারের চারটি আসনে ১০ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত চকরিয়ার ফুলের রাজ্যে ২ কোটি টাকার ফুল বিক্রি ঢাকায় সালাহউদ্দিনের সাথে আলমগীর ফরিদ, ‘জয়ের আনন্দ ভাগাভাগি’ মুক্তিযুদ্ধ ও নারী অধিকার: রাষ্ট্রের প্রশ্নে আপসহীনতা মহেশখালীর সাতদিনব্যাপী আদিনাথ মেলা শুরু আগামীকাল থেকে কক্সবাজার ৪ সহ ৩০টি আসনে জয়ীদের শপথ স্থগিতে আইনী পদক্ষেপ নেবে জামায়াত প্রতিটি অঙ্গীকার পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করব: তারেক রহমান চাঁদাবাজদের পুলিশে দিন,সাহসিকতার জন্যে দেয়া হবে পুরস্কার- লুৎফুর রহমান কাজল তারেকের শপথে মোদীকে আমন্ত্রণ জানাবে বিএনপি: ডব্লিউআইওএন কক্সবাজারে বিএনপির দাপট: সালাহউদ্দিন ৪, ফরিদ ৩, কাজল ২ ও শাহজাহান ৫ বার এমপি জনরায় মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করবে নতুন সরকার: ড. আলী রিয়াজ
বিদেশ যাওয়ার প্রলোভন:

৩৯ জন নারী শিশু আটকে ছিলো পাহাড়ে!

অস্ত্রের মুখে জিম্মি, মুক্তিপণের দাবিতে পাহাড়ে আটকে রাখা হয়েছিল নারী ও শিশুসহ ৩৯ জনকে। বিদেশে পাঠানোর প্রলোভনে যারা ধরা দিয়েছিল মানবপাচারকারীদের ফাঁদে। অবশেষে রাতের আঁধারে বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের উদ্ধার করেছে নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ড। এসময় পাচারচক্রের দুই সদস্যকে আটক করা হয়।

নৌবাহিনী জানায়, বুধবার গভীর রাতে গোপন সংবাদে বাহারছড়া ইউনিয়নের দুর্গম কচ্ছপিয়া পাহাড়ে অভিযান চালানো হয়। পাহাড়ি আঁকাবাঁকা পথে প্রবেশ করে নৌবাহিনীর বিশেষায়িত ফোর্স সোয়াডস কমান্ডো দল এবং কোস্টগার্ডের সদস্যরা। অভিযানের উপস্থিতি টের পেয়ে পাচারকারীরা পালানোর চেষ্টা করলে দুইজনকে ধাওয়া করে আটক করা হয়।

পরে গহীন অরণ্যে চালানো হয় চিরুনি অভিযান। অন্ধকার পাহাড়ে ছড়িয়ে থাকা নারী-পুরুষ-শিশুরা আতঙ্কে লুকিয়ে ছিলেন। সেনাদের দেখা পেয়ে অনেকে কান্নায় ভেঙে পড়েন। একে একে উদ্ধার করা হয় ১৮ জন রোহিঙ্গা নারী, ১১ জন রোহিঙ্গা পুরুষ, ৮ জন রোহিঙ্গা শিশু ও ২ জন বাঙালি পুরুষকে।

উদ্ধার হওয়া ভুক্তভোগীরা জানান, পাচারকারীরা প্রথমে বিদেশে পাঠানোর আশ্বাস দেয়। পরে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে পাহাড়ে নিয়ে যায়। কারো কারো কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থও হাতিয়ে নেয় তারা।

নৌবাহিনীর টেকনাফ কন্টিনজেন্ট কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার এম মোহাইমিনুল হক মাহিম বলেন, “মানবপাচারকারীরা দীর্ঘদিন ধরেই সীমান্ত এলাকায় সক্রিয়। তথ্য পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অভিযান পরিচালনা করা হয়। আমাদের লক্ষ্য, মানবপাচার ও মাদকসহ যেকোনো অপরাধমূলক কার্যক্রম সম্পূর্ণ নির্মূল করা।”

উদ্ধার হওয়া সবাইকে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। আটক দুই পাচারকারীর বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

নৌবাহিনী জানিয়েছে, ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে ২ অক্টোবর পর্যন্ত যৌথ অভিযানে মোট ১৩৪ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। সীমান্ত এলাকায় মানবপাচার রোধে এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে বিএনসিসি এর দায়িত্ব পালন

This will close in 6 seconds

বিদেশ যাওয়ার প্রলোভন:

৩৯ জন নারী শিশু আটকে ছিলো পাহাড়ে!

আপডেট সময় : ০৪:৫০:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ অক্টোবর ২০২৫

অস্ত্রের মুখে জিম্মি, মুক্তিপণের দাবিতে পাহাড়ে আটকে রাখা হয়েছিল নারী ও শিশুসহ ৩৯ জনকে। বিদেশে পাঠানোর প্রলোভনে যারা ধরা দিয়েছিল মানবপাচারকারীদের ফাঁদে। অবশেষে রাতের আঁধারে বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের উদ্ধার করেছে নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ড। এসময় পাচারচক্রের দুই সদস্যকে আটক করা হয়।

নৌবাহিনী জানায়, বুধবার গভীর রাতে গোপন সংবাদে বাহারছড়া ইউনিয়নের দুর্গম কচ্ছপিয়া পাহাড়ে অভিযান চালানো হয়। পাহাড়ি আঁকাবাঁকা পথে প্রবেশ করে নৌবাহিনীর বিশেষায়িত ফোর্স সোয়াডস কমান্ডো দল এবং কোস্টগার্ডের সদস্যরা। অভিযানের উপস্থিতি টের পেয়ে পাচারকারীরা পালানোর চেষ্টা করলে দুইজনকে ধাওয়া করে আটক করা হয়।

পরে গহীন অরণ্যে চালানো হয় চিরুনি অভিযান। অন্ধকার পাহাড়ে ছড়িয়ে থাকা নারী-পুরুষ-শিশুরা আতঙ্কে লুকিয়ে ছিলেন। সেনাদের দেখা পেয়ে অনেকে কান্নায় ভেঙে পড়েন। একে একে উদ্ধার করা হয় ১৮ জন রোহিঙ্গা নারী, ১১ জন রোহিঙ্গা পুরুষ, ৮ জন রোহিঙ্গা শিশু ও ২ জন বাঙালি পুরুষকে।

উদ্ধার হওয়া ভুক্তভোগীরা জানান, পাচারকারীরা প্রথমে বিদেশে পাঠানোর আশ্বাস দেয়। পরে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে পাহাড়ে নিয়ে যায়। কারো কারো কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থও হাতিয়ে নেয় তারা।

নৌবাহিনীর টেকনাফ কন্টিনজেন্ট কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার এম মোহাইমিনুল হক মাহিম বলেন, “মানবপাচারকারীরা দীর্ঘদিন ধরেই সীমান্ত এলাকায় সক্রিয়। তথ্য পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অভিযান পরিচালনা করা হয়। আমাদের লক্ষ্য, মানবপাচার ও মাদকসহ যেকোনো অপরাধমূলক কার্যক্রম সম্পূর্ণ নির্মূল করা।”

উদ্ধার হওয়া সবাইকে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। আটক দুই পাচারকারীর বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

নৌবাহিনী জানিয়েছে, ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে ২ অক্টোবর পর্যন্ত যৌথ অভিযানে মোট ১৩৪ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। সীমান্ত এলাকায় মানবপাচার রোধে এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে।