ঢাকা ০৩:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গর্জনিয়ার পোয়াংগেরখিলে দাতা সদস্য নির্বাচিত হলেন সাংবাদিক হাফিজ গর্জনিয়ার সাবেক চেয়ারম্যান পুত্র ওয়াসিম নাপিতেরচর স্কুলে দাতা সদস্য নির্বাচিত ‘আমাকে মিস করছেন?’ বেসামরিক জনগণের সুরক্ষা ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জোরালো বৈশ্বিক পদক্ষেপের আহ্বান পুরোনো ছকে ফিরছে ব্রাজিল স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জোট নয়, এককভাবে অংশ নেবে এনসিপি এক রেলপথে যুক্ত হচ্ছে সৌদি, কুয়েত ও কাতারসহ ৬ দেশ কেমন ছিল বিশ্বকাপের প্রথম কিস্তি? মাতামুহুরীতে জামায়াতের জেলা আমীর নুর আহমদ আনোয়ারী- জননিরাপত্তা নিশ্চিতে পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ ও ব্যাখ্যা শিক্ষক রেজাউল করিমের মায়ের অনুপস্থিতিতে ১২ বছর বয়সী নিজের মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগ বাবার বিরুদ্ধে রাস্তা পার হওয়ার সময় আইওএমের গাড়ির ধাক্কা, শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু কুতুবদিয়ায় গ্রাম আদালতের সচেতনতা বৃদ্ধিতে কর্মশালা টেকনাফে স্বামীর নির্যাতনে গৃহবধূর মৃত্যু, বিচার দাবিতে পরিবারের আহাজারি যুদ্ধ থেমেছে, ক্ষতের চিহ্ন কি মুছবে?
বিদেশ যাওয়ার প্রলোভন:

৩৯ জন নারী শিশু আটকে ছিলো পাহাড়ে!

অস্ত্রের মুখে জিম্মি, মুক্তিপণের দাবিতে পাহাড়ে আটকে রাখা হয়েছিল নারী ও শিশুসহ ৩৯ জনকে। বিদেশে পাঠানোর প্রলোভনে যারা ধরা দিয়েছিল মানবপাচারকারীদের ফাঁদে। অবশেষে রাতের আঁধারে বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের উদ্ধার করেছে নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ড। এসময় পাচারচক্রের দুই সদস্যকে আটক করা হয়।

নৌবাহিনী জানায়, বুধবার গভীর রাতে গোপন সংবাদে বাহারছড়া ইউনিয়নের দুর্গম কচ্ছপিয়া পাহাড়ে অভিযান চালানো হয়। পাহাড়ি আঁকাবাঁকা পথে প্রবেশ করে নৌবাহিনীর বিশেষায়িত ফোর্স সোয়াডস কমান্ডো দল এবং কোস্টগার্ডের সদস্যরা। অভিযানের উপস্থিতি টের পেয়ে পাচারকারীরা পালানোর চেষ্টা করলে দুইজনকে ধাওয়া করে আটক করা হয়।

পরে গহীন অরণ্যে চালানো হয় চিরুনি অভিযান। অন্ধকার পাহাড়ে ছড়িয়ে থাকা নারী-পুরুষ-শিশুরা আতঙ্কে লুকিয়ে ছিলেন। সেনাদের দেখা পেয়ে অনেকে কান্নায় ভেঙে পড়েন। একে একে উদ্ধার করা হয় ১৮ জন রোহিঙ্গা নারী, ১১ জন রোহিঙ্গা পুরুষ, ৮ জন রোহিঙ্গা শিশু ও ২ জন বাঙালি পুরুষকে।

উদ্ধার হওয়া ভুক্তভোগীরা জানান, পাচারকারীরা প্রথমে বিদেশে পাঠানোর আশ্বাস দেয়। পরে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে পাহাড়ে নিয়ে যায়। কারো কারো কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থও হাতিয়ে নেয় তারা।

নৌবাহিনীর টেকনাফ কন্টিনজেন্ট কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার এম মোহাইমিনুল হক মাহিম বলেন, “মানবপাচারকারীরা দীর্ঘদিন ধরেই সীমান্ত এলাকায় সক্রিয়। তথ্য পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অভিযান পরিচালনা করা হয়। আমাদের লক্ষ্য, মানবপাচার ও মাদকসহ যেকোনো অপরাধমূলক কার্যক্রম সম্পূর্ণ নির্মূল করা।”

উদ্ধার হওয়া সবাইকে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। আটক দুই পাচারকারীর বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

নৌবাহিনী জানিয়েছে, ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে ২ অক্টোবর পর্যন্ত যৌথ অভিযানে মোট ১৩৪ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। সীমান্ত এলাকায় মানবপাচার রোধে এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

গর্জনিয়ার পোয়াংগেরখিলে দাতা সদস্য নির্বাচিত হলেন সাংবাদিক হাফিজ

বিদেশ যাওয়ার প্রলোভন:

৩৯ জন নারী শিশু আটকে ছিলো পাহাড়ে!

আপডেট সময় : ০৪:৫০:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ অক্টোবর ২০২৫

অস্ত্রের মুখে জিম্মি, মুক্তিপণের দাবিতে পাহাড়ে আটকে রাখা হয়েছিল নারী ও শিশুসহ ৩৯ জনকে। বিদেশে পাঠানোর প্রলোভনে যারা ধরা দিয়েছিল মানবপাচারকারীদের ফাঁদে। অবশেষে রাতের আঁধারে বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের উদ্ধার করেছে নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ড। এসময় পাচারচক্রের দুই সদস্যকে আটক করা হয়।

নৌবাহিনী জানায়, বুধবার গভীর রাতে গোপন সংবাদে বাহারছড়া ইউনিয়নের দুর্গম কচ্ছপিয়া পাহাড়ে অভিযান চালানো হয়। পাহাড়ি আঁকাবাঁকা পথে প্রবেশ করে নৌবাহিনীর বিশেষায়িত ফোর্স সোয়াডস কমান্ডো দল এবং কোস্টগার্ডের সদস্যরা। অভিযানের উপস্থিতি টের পেয়ে পাচারকারীরা পালানোর চেষ্টা করলে দুইজনকে ধাওয়া করে আটক করা হয়।

পরে গহীন অরণ্যে চালানো হয় চিরুনি অভিযান। অন্ধকার পাহাড়ে ছড়িয়ে থাকা নারী-পুরুষ-শিশুরা আতঙ্কে লুকিয়ে ছিলেন। সেনাদের দেখা পেয়ে অনেকে কান্নায় ভেঙে পড়েন। একে একে উদ্ধার করা হয় ১৮ জন রোহিঙ্গা নারী, ১১ জন রোহিঙ্গা পুরুষ, ৮ জন রোহিঙ্গা শিশু ও ২ জন বাঙালি পুরুষকে।

উদ্ধার হওয়া ভুক্তভোগীরা জানান, পাচারকারীরা প্রথমে বিদেশে পাঠানোর আশ্বাস দেয়। পরে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে পাহাড়ে নিয়ে যায়। কারো কারো কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থও হাতিয়ে নেয় তারা।

নৌবাহিনীর টেকনাফ কন্টিনজেন্ট কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার এম মোহাইমিনুল হক মাহিম বলেন, “মানবপাচারকারীরা দীর্ঘদিন ধরেই সীমান্ত এলাকায় সক্রিয়। তথ্য পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অভিযান পরিচালনা করা হয়। আমাদের লক্ষ্য, মানবপাচার ও মাদকসহ যেকোনো অপরাধমূলক কার্যক্রম সম্পূর্ণ নির্মূল করা।”

উদ্ধার হওয়া সবাইকে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। আটক দুই পাচারকারীর বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

নৌবাহিনী জানিয়েছে, ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে ২ অক্টোবর পর্যন্ত যৌথ অভিযানে মোট ১৩৪ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। সীমান্ত এলাকায় মানবপাচার রোধে এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে।