ঢাকা ০৩:০৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কক্সবাজারে আড়ং ও স্বপ্ন সুপার শপে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, ১০ হাজার টাকা জরিমানা ‎৩ দিন ধরে নির্যাতনের পর পাহাড়তলী টমটম গ্যারেজ থেকে আব্দুল হাকিমের লাশ উদ্ধার উখিয়া ভূমি অফিসে সেবাপ্রার্থীদের হয়রানির অভিযোগ প্রদীপের বিরুদ্ধে সৈকতে ৫০ ফুট উচ্চতার ৫ টনের প্লাস্টিক দানব! শান্তিপূর্ণ দুর্গোৎসব উদযাপনে সহযোগীতা করুন- লোহাগাড়ায় চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার রাজুকে ফেরত দিলো কুমিল্লা পুলিশ, ৫৪ ধারায় কক্সবাজার আদালতে প্রেরণ সেন্টমার্টিনে পর্যটক গমন,জাহাজ ছাড়ার স্থান ও সংখ্যা নিয়ে পরিবর্তন আসছে সারা দেশে দুইদিন এলপিজি বিক্রি বন্ধ ঘোষণা কক্সবাজারে সিএনজি থেকে ৩ লাখ ইয়াবা উদ্ধার চট্টগ্রামে ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রোটনের দাফন সম্পন্ন নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্বোধন ইউপি নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা, পাঁচ ধাপে হবে ভোটগ্রহণ প্রমাণ ছাড়া কেবল পলাতক থাকলেই কাউকে সাজা দেওয়া যায়না : হাইকোর্ট রিয়াদে বিমানবন্দরে হামলায় ২৪ বাংলা‌দে‌শি আহত বাড়িতে স্ত্রীর লাশ রেখে মসজিদে গিয়ে মুয়াজ্জিনের মৃত্যু
ফেইসবুকে হচ্ছে সম্পর্ক: বাড়ছে বাল্যবিয়ে

সবচেয়ে বেশি হচ্ছে উখিয়া টেকনাফে

  • আফজারা রিয়া
  • আপডেট সময় : ১০:৫৯:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ অগাস্ট ২০২৫
  • 1038

কক্সবাজারে বাল্যবিবাহের হার জাতীয় গড়ের তুলনায় এখনও বেশি এবং এর পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে এসেছে শিশুদের ফেইসবুকের মতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার।

আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ওয়ার্ল্ড ভিশনের শিশু সুরক্ষা নেট প্রকল্পের আওতায় গবেষণা প্রতিষ্ঠান “সেন্টার ফর কোয়ালিটেটিভ রিসার্চ” পরিচালিত সাম্প্রতিক এক জরিপে এমন তথ্য উঠে এসেছে। জরিপটি কক্সবাজারের সদর, রামু, উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলায় পরিচালিত হয়।

জরিপের ফলাফলে দেখা গেছে, জাতীয়ভাবে বাল্যবিবাহের হার যেখানে ৫১%, সেখানে কক্সবাজারে এই হার ৫৮%। এরমধ্যে ১৯-৪৯ বছর বয়সী নারীদের মধ্যে এ হার ৫৫%। তবে ১৯-২৪ বছর বয়সী তরুণীদের ক্ষেত্রে এ হার আরও উদ্বেগজনক—৬৯%।

তথ্য বলছে, জেলার ৪০% কিশোর-কিশোরী সমবয়সীদের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে এবং অনেকে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করে, যা শেষ পর্যন্ত বাল্যবিবাহে পরিণত হয়। উপজেলা ভিত্তিক পরিসংখ্যানে উখিয়া ও টেকনাফে এ হার ৪৫%, আর সবচেয়ে কম কক্সবাজার সদরে, মাত্র ২৬.২%।

সমবয়সীদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে ওঠার পেছনে মূলত ফেসবুকের মতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যবহার বেশি হওয়াকেই কারন হিসেবে বলছেন গবেষণা প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা মো: মাহবুবুল ইসলাম ভূঁইয়া।

মি. ভূঁইয়া বলেন,”সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে অতিরিক্ত সময় কাটানোর ফলে বিপরীত লিঙ্গের প্রতি আগ্রহ সময়ের আগেই বেড়ে যায়। প্রযুক্তি নির্ভর বর্তমান সমাজে এ প্রবণতা আরও তীব্র হচ্ছে”।

“যথাযথ দিকনির্দেশনা ও উপযুক্ত শিক্ষার ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক কিশোর-কিশোরীদের জন্য একধরনের ‘ভবিষ্যতের দরজা’ হতে পারে” বলেন এই গবেষক।

এছাড়া বাল্যবিবাহের অন্যান্য কারণ হিসেবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে দারিদ্র্যতা, শিক্ষার অভাব ও সামাজিক কুসংস্কার। জরিপ অনুযায়ী, জেলার ২৫% বাল্যবিবাহ ঘটছে দারিদ্র্য ও শিক্ষা অভাবে, আর ২৩% ক্ষেত্রে এটি সমাজে প্রচলিত “প্রথা” হিসেবে বিবেচনায় সম্পন্ন হয়।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ওয়ার্ল্ড ভিশনের এই পরিসংখ্যান কক্সবাজারের নারী উন্নয়ন, শিশু সুরক্ষা এবং সামাজিক বাস্তবতা বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

কক্সবাজারে আড়ং ও স্বপ্ন সুপার শপে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, ১০ হাজার টাকা জরিমানা

ফেইসবুকে হচ্ছে সম্পর্ক: বাড়ছে বাল্যবিয়ে

সবচেয়ে বেশি হচ্ছে উখিয়া টেকনাফে

আপডেট সময় : ১০:৫৯:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ অগাস্ট ২০২৫

কক্সবাজারে বাল্যবিবাহের হার জাতীয় গড়ের তুলনায় এখনও বেশি এবং এর পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে এসেছে শিশুদের ফেইসবুকের মতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার।

আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ওয়ার্ল্ড ভিশনের শিশু সুরক্ষা নেট প্রকল্পের আওতায় গবেষণা প্রতিষ্ঠান “সেন্টার ফর কোয়ালিটেটিভ রিসার্চ” পরিচালিত সাম্প্রতিক এক জরিপে এমন তথ্য উঠে এসেছে। জরিপটি কক্সবাজারের সদর, রামু, উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলায় পরিচালিত হয়।

জরিপের ফলাফলে দেখা গেছে, জাতীয়ভাবে বাল্যবিবাহের হার যেখানে ৫১%, সেখানে কক্সবাজারে এই হার ৫৮%। এরমধ্যে ১৯-৪৯ বছর বয়সী নারীদের মধ্যে এ হার ৫৫%। তবে ১৯-২৪ বছর বয়সী তরুণীদের ক্ষেত্রে এ হার আরও উদ্বেগজনক—৬৯%।

তথ্য বলছে, জেলার ৪০% কিশোর-কিশোরী সমবয়সীদের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে এবং অনেকে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করে, যা শেষ পর্যন্ত বাল্যবিবাহে পরিণত হয়। উপজেলা ভিত্তিক পরিসংখ্যানে উখিয়া ও টেকনাফে এ হার ৪৫%, আর সবচেয়ে কম কক্সবাজার সদরে, মাত্র ২৬.২%।

সমবয়সীদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে ওঠার পেছনে মূলত ফেসবুকের মতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যবহার বেশি হওয়াকেই কারন হিসেবে বলছেন গবেষণা প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা মো: মাহবুবুল ইসলাম ভূঁইয়া।

মি. ভূঁইয়া বলেন,”সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে অতিরিক্ত সময় কাটানোর ফলে বিপরীত লিঙ্গের প্রতি আগ্রহ সময়ের আগেই বেড়ে যায়। প্রযুক্তি নির্ভর বর্তমান সমাজে এ প্রবণতা আরও তীব্র হচ্ছে”।

“যথাযথ দিকনির্দেশনা ও উপযুক্ত শিক্ষার ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক কিশোর-কিশোরীদের জন্য একধরনের ‘ভবিষ্যতের দরজা’ হতে পারে” বলেন এই গবেষক।

এছাড়া বাল্যবিবাহের অন্যান্য কারণ হিসেবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে দারিদ্র্যতা, শিক্ষার অভাব ও সামাজিক কুসংস্কার। জরিপ অনুযায়ী, জেলার ২৫% বাল্যবিবাহ ঘটছে দারিদ্র্য ও শিক্ষা অভাবে, আর ২৩% ক্ষেত্রে এটি সমাজে প্রচলিত “প্রথা” হিসেবে বিবেচনায় সম্পন্ন হয়।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ওয়ার্ল্ড ভিশনের এই পরিসংখ্যান কক্সবাজারের নারী উন্নয়ন, শিশু সুরক্ষা এবং সামাজিক বাস্তবতা বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।