ঢাকা ০১:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২৬, ২২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কুয়েতে মাইন বিস্ফোরণে বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যু ফেব্রুয়ারিতে দেশে ৪৪৮ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪৪৭ জন চুক্তি করতে যুক্তরাষ্ট্রকে ডাকছে ইরান: ট্রাম্প আল আকসা মসজিদে জুমার নামাজে নিষেধাজ্ঞা দিল ইসরাইল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্রথমবার ইরানকে তাক করে টর্পেডো ছুড়ল যুক্তরাষ্ট্র উখিয়ার রেজুখালে রাতভর প্রার্থনার পর সকালে মিলল কিশোরের মরদেহ আজান পর্যন্ত সেহরি খেলে রোজা হবে কি না, জেনে নিন চট্টগ্রামে দরবেশকাটা সমিতির দোয়া ও ইফতার মাহফিল রাশিয়ার ফাঁদে ট্রাম্প! মধ্যপ্রাচ্যের নতুন ‘বাদশা’ ইরান? কলাতলীর সংঘর্ষের কারণ কি? সেন্ট মার্টিনের কাছে ধরা পড়ল পাঁচ মণ ওজনের বোল মাছ, বিক্রি ২ লাখ ৫৫ হাজার টাকায় রো‌হিঙ্গা‌দের ২৬ লাখ মার্কিন ডলারের সহায়তা দি‌চ্ছে জাপান নিজের পুরস্কার উৎসর্গ করলেন দর্শকদের উখিয়া–টেকনাফ জাতীয়তাবাদী ছাত্র ফোরামের ইফতার ও দোয়া মাহফিল সাবেক এমপি আবদুর রহমান বদির জামিন স্থগিত

হেফাজতের দাবি ‘মঙ্গল’ নয়, নাম হোক ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’

ইউনেস্কোর স্বীকৃতির পুনর্বিবেচনা ও ভুল সংশোধনের জন্য সংস্থাটিকে চিঠি দেওয়ার জন্য সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন হেফাজত নেতারা

পহেলা বৈশাখের কেন্দ্রীয় আয়োজন “মঙ্গল শোভাযাত্রা” থেকে “মঙ্গল” শব্দটি বাদ দিয়ে “আনন্দ” শব্দ ব্যবহারের দাবি জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। “মঙ্গল শোভাযাত্রা”কে জন্মাষ্টমীর সঙ্গে সম্পৃক্ত একটি হিন্দু ধর্মীয় রীতি বলে আখ্যায়িত করেছে সংগঠনটি।

বৃহস্পতিবার (১০ এপ্রিল) সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ দাবি জানায় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ।

বিবৃতিতে হেফাজতের আমির মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব সাজেদুর রহমান বলেন, “মঙ্গল শোভাযাত্রা হিন্দু ঐতিহ্যের অংশ, যা সাংস্কৃতিক সাম্যের নামে জনগণের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।”

তাদের বক্তব্যে বলা হয়, এই শোভাযাত্রা মূলত জন্মাষ্টমী উপলক্ষে প্রতিবছর হিন্দু সম্প্রদায় যে ধরনের আয়োজন করে, তারই প্রতিফলন।

সংগঠনটির যুগ্ম মহাসচিব আজিজুল হক ইসলামাবাদীর পাঠানো বিবৃতিতে বলা হয়, “বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায় প্রতিবছরই তাদের দেবতা শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমীতে সাড়ম্বরে মঙ্গল শোভাযাত্রা পালন করে থাকে। সংখ্যালঘুর যে কোনো ধর্মীয় উৎসব পালনের স্বাধীনতা ও অধিকারের প্রতি আমরা প্রতিশ্রুতিশীল। কিন্তু পহেলা বৈশাখ উদযাপনে হিন্দু সম্প্রদায়ের এই ধর্মাচারকে তথাকথিত ‘সর্বজনীনতা’র নামে সবার ওপর চাপিয়ে দিয়েছে ফ্যাসিবাদী সেক্যুলার বাঙালি জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠী। মূলত আমাদের জাতীয় চেতনা ও ঐতিহ্য থেকে মুসলিম সংস্কৃতি ও ভাবধারাকে বিচ্ছিন্ন করে রাখতে এই সেক্যুলার সাংস্কৃতিক ফ্যাসিবাদ কায়েম করা হয়েছে।”

তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদকে এই সংস্কৃতির উৎসস্থল হিসেবে চিহ্নিত করে দাবি করে তারা বলেন, “১৯৮৯ সালের পহেলা বৈশাখে প্রথম পালিত আনন্দ শোভাযাত্রাকে পরে মঙ্গল শোভাযাত্রায় রূপ দেওয়াকে আমরা ভারতীয় ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখি। ঢাবির চারুকলা সবসময় মঙ্গল শোভাযাত্রার আয়োজন করলেও পতিত ফ্যাসিস্ট হাসিনার শাসনামলে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের আবেদনের ভিত্তিতে ২০১৬ সালে জাতিসংঘের ইউনেস্কো পহেলা বৈশাখের বানোয়াট মঙ্গল শোভাযাত্রাকে ‘অধরা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।”

ইউনেস্কোর স্বীকৃতির পুনর্বিবেচনা ও ভুল সংশোধনের জন্য সংস্থাটিকে চিঠি দেওয়ার জন্য সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন হেফাজত নেতারা।

“মঙ্গল” শব্দ বাদ দেওয়ার দাবি জানিয়ে হেফাজত নেতারা বলেন, “প্রাথমিক সমাধান হিসেবে ‘মঙ্গল’ শব্দ পরিবর্তন করে পহেলা বৈশাখের আদি ও আসল ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’ ফিরিয়ে আনতে ভূমিকা রাখতে পারে সরকার। আনন্দ শোভাযাত্রা অন্তত সাম্প্রদায়িক ছিল না। জাতীয় উৎসব উদযাপনে যেকোনো ধরনের মূর্তিবাদী সংস্কৃতির আমরা বিরোধিতা করি। সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানের দেশে জাতীয় কোনো উৎসবে ইসলামের তৌহিদি চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক এমন কোনো চিহ্ন রাখা যাবে না। সেক্যুলারদের বৈশাখী মঙ্গল শোভাযাত্রা হিন্দুদের বিভিন্ন দেবতা ও ধর্মীয় পশু-পাখির মূর্তি ও প্রতিকৃতিতে সয়লাব থাকে। অথচ সেক্যুলার হয়েও তাদের এতে কোনো সমস্যা হয় না। কিন্তু নানাভাবে ইসলামবিদ্বেষ প্রকাশে ঠিকই তারা তৎপর। হাজার বছরের সংস্কৃতির মিথ্যা দাবিতে তারা সবসময় মঙ্গল শোভাযাত্রার দালালি করেছে।”

সুত্র: বাংলা ট্রিবিউন

ট্যাগ :

হেফাজতের দাবি ‘মঙ্গল’ নয়, নাম হোক ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’

আপডেট সময় : ১২:৪৭:৪০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১১ এপ্রিল ২০২৫

ইউনেস্কোর স্বীকৃতির পুনর্বিবেচনা ও ভুল সংশোধনের জন্য সংস্থাটিকে চিঠি দেওয়ার জন্য সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন হেফাজত নেতারা

পহেলা বৈশাখের কেন্দ্রীয় আয়োজন “মঙ্গল শোভাযাত্রা” থেকে “মঙ্গল” শব্দটি বাদ দিয়ে “আনন্দ” শব্দ ব্যবহারের দাবি জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। “মঙ্গল শোভাযাত্রা”কে জন্মাষ্টমীর সঙ্গে সম্পৃক্ত একটি হিন্দু ধর্মীয় রীতি বলে আখ্যায়িত করেছে সংগঠনটি।

বৃহস্পতিবার (১০ এপ্রিল) সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ দাবি জানায় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ।

বিবৃতিতে হেফাজতের আমির মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব সাজেদুর রহমান বলেন, “মঙ্গল শোভাযাত্রা হিন্দু ঐতিহ্যের অংশ, যা সাংস্কৃতিক সাম্যের নামে জনগণের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।”

তাদের বক্তব্যে বলা হয়, এই শোভাযাত্রা মূলত জন্মাষ্টমী উপলক্ষে প্রতিবছর হিন্দু সম্প্রদায় যে ধরনের আয়োজন করে, তারই প্রতিফলন।

সংগঠনটির যুগ্ম মহাসচিব আজিজুল হক ইসলামাবাদীর পাঠানো বিবৃতিতে বলা হয়, “বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায় প্রতিবছরই তাদের দেবতা শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমীতে সাড়ম্বরে মঙ্গল শোভাযাত্রা পালন করে থাকে। সংখ্যালঘুর যে কোনো ধর্মীয় উৎসব পালনের স্বাধীনতা ও অধিকারের প্রতি আমরা প্রতিশ্রুতিশীল। কিন্তু পহেলা বৈশাখ উদযাপনে হিন্দু সম্প্রদায়ের এই ধর্মাচারকে তথাকথিত ‘সর্বজনীনতা’র নামে সবার ওপর চাপিয়ে দিয়েছে ফ্যাসিবাদী সেক্যুলার বাঙালি জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠী। মূলত আমাদের জাতীয় চেতনা ও ঐতিহ্য থেকে মুসলিম সংস্কৃতি ও ভাবধারাকে বিচ্ছিন্ন করে রাখতে এই সেক্যুলার সাংস্কৃতিক ফ্যাসিবাদ কায়েম করা হয়েছে।”

তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদকে এই সংস্কৃতির উৎসস্থল হিসেবে চিহ্নিত করে দাবি করে তারা বলেন, “১৯৮৯ সালের পহেলা বৈশাখে প্রথম পালিত আনন্দ শোভাযাত্রাকে পরে মঙ্গল শোভাযাত্রায় রূপ দেওয়াকে আমরা ভারতীয় ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখি। ঢাবির চারুকলা সবসময় মঙ্গল শোভাযাত্রার আয়োজন করলেও পতিত ফ্যাসিস্ট হাসিনার শাসনামলে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের আবেদনের ভিত্তিতে ২০১৬ সালে জাতিসংঘের ইউনেস্কো পহেলা বৈশাখের বানোয়াট মঙ্গল শোভাযাত্রাকে ‘অধরা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।”

ইউনেস্কোর স্বীকৃতির পুনর্বিবেচনা ও ভুল সংশোধনের জন্য সংস্থাটিকে চিঠি দেওয়ার জন্য সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন হেফাজত নেতারা।

“মঙ্গল” শব্দ বাদ দেওয়ার দাবি জানিয়ে হেফাজত নেতারা বলেন, “প্রাথমিক সমাধান হিসেবে ‘মঙ্গল’ শব্দ পরিবর্তন করে পহেলা বৈশাখের আদি ও আসল ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’ ফিরিয়ে আনতে ভূমিকা রাখতে পারে সরকার। আনন্দ শোভাযাত্রা অন্তত সাম্প্রদায়িক ছিল না। জাতীয় উৎসব উদযাপনে যেকোনো ধরনের মূর্তিবাদী সংস্কৃতির আমরা বিরোধিতা করি। সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানের দেশে জাতীয় কোনো উৎসবে ইসলামের তৌহিদি চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক এমন কোনো চিহ্ন রাখা যাবে না। সেক্যুলারদের বৈশাখী মঙ্গল শোভাযাত্রা হিন্দুদের বিভিন্ন দেবতা ও ধর্মীয় পশু-পাখির মূর্তি ও প্রতিকৃতিতে সয়লাব থাকে। অথচ সেক্যুলার হয়েও তাদের এতে কোনো সমস্যা হয় না। কিন্তু নানাভাবে ইসলামবিদ্বেষ প্রকাশে ঠিকই তারা তৎপর। হাজার বছরের সংস্কৃতির মিথ্যা দাবিতে তারা সবসময় মঙ্গল শোভাযাত্রার দালালি করেছে।”

সুত্র: বাংলা ট্রিবিউন