ঢাকা ০৭:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
দেশে ‘মব কালচার শেষ’: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফুটবলার মেসুত ওজিল ও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট পুত্র বিলাল কক্সবাজার আসছেন বৃহস্পতিবার কক্সবাজারের আকাশে দেখা গেলো রমজানের চাঁদ : রোজা শুরু বৃহস্পতিবার উখিয়ায় ধুয়ে মুছে পরিষ্কার করা হলো কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের অফিস সাগরে পথে সিমেন্ট পাচারকালে আটক ১১ ভাই সম্বোধন করে প্রধানমন্ত্রীর কাছে সাবেক ছাত্রদল নেতা এনামের খোলা চিঠি অটোরিকশা থেকে ২ লাখ ৭০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার দেড় কিলোমিটার ধাওয়া করে দেড় লাখ ইয়াবা উদ্ধার, গ্রেপ্তার ১ যত দ্রুত সম্ভব পৌর-সিটি ও উপজেলা নির্বাচনের ব্যবস্থা করবো: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী টেকনাফে ট্রলারসহ ৫ জেলে ধরে নিয়ে গেল আরাকান আর্মি জুলাই জাতীয় সনদের কার্যকারিতা স্থগিত চেয়ে রিট আইনশৃংখলা বাহিনীর হাতে গুম হওয়া সালাহউদ্দিন আহমদ এখন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী! সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার ফেসবুক পেইজ বন্ধ ঘোষণা

সোনাদিয়ায় অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নিতে উপজেলা প্রশাসনের কঠোর নির্দেশ

মহেশখালীর সোনাদিয়ায় অবৈধভাবে সরকারি জায়গায় গড়ে ওঠা রিসোর্ট ও বিভিন্ন স্থাপনা দ্রুত সরিয়ে নিতে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমরান মাহমুদ ডালিম।

বুধবার (১০ ডিসেম্বর) এ সংক্রান্ত নির্দেশনা প্রচারনায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হয়।

এই বিষয় জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরান মাহমুদ ডালিম টিটিএন-কে জানান, “মহেশখালীর দায়িত্বভার গ্রহণ করেছি কিছুদিন হচ্ছে, তবে আমার কাছে তথ্য রয়েছে সোনাদিয়ায় সরকারি জমি দখল করে কটেজ নির্মাণ এবং প্যারাবন কাটা হচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে এইসব স্থাপনা সরিয়ে না নিলে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নিবে উপজেলা প্রশাসন। এছাড়া প্যারাবন কাটার সাথে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিচ্ছে উপজেলা প্রশাসন।”

সোনাদিয়ার পূর্ব ও পশ্চিম পাড়ায় ঝাউবন কেটে ইতোমধ্যে কয়েকটি রিসোর্ট নির্মাণ করা হয়েছে এবং আরও চার-পাঁচটি নির্মাণ কাজ চলছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ঝাউবন কেটেই এসব রিসোর্ট নির্মাণ করা হয়েছে।

এই সোনাদিয়া দ্বীপে রয়েছে প্রায় নয় হাজার একর উপকূলীয় ও প্যারাবন (ম্যানগ্রোভ)। চিংড়িঘের সম্প্রসারণ এবং লবণমাঠে পরিণত করতে বনের জমি দ্রুত দখল হয়ে যাচ্ছে, পাশাপাশি রয়েছে দূষণ। এসব বন্ধে প্রশাসন কার্যকরী উদ্যোগ না নিলে জীববৈচিত্র্যের জন্য চরম হুমকির আশংকা করছেন পরিবেশবিদরা। তারা জানান, সাগরের তীরবর্তী সোনাদিয়ার উপকূলীয় এই বন এলাকা পরিবেশগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল।

কিন্তু সৈকতে রাত কাটাতে এসব রিসোর্ট থেকে পর্যটকদের তাঁবু ভাড়াও দেওয়া হয়। রাতে লাল-নীল আলো জ্বালিয়ে রাখতে তারা জেনারেটর ও সোলার প্যানেল ব্যবহার করেন। সংরক্ষণবিদদের মতে, ডিম পাড়তে আসা সামুদ্রিক কচ্ছপ ও পাখিদের জীবনযাত্রাকে এসব ব্যাহত করছে।

এসব রিসোর্ট নির্মাণ, উচ্চ শব্দ ও উজ্জ্বল আলো সামুদ্রিক কচ্ছপের ডিম পাড়ার স্থানগুলোকে হুমকির মুখে ফেলছে। কচ্ছপের ডিম পাড়ার মৌসুম ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে, এসব প্রতিবন্ধকতা দূর করা সম্ভব না হলে তারা সৈকতে আসা বন্ধও করে দিতে পারে। শুধু তাই নয়, শীতে সোনাদিয়া দ্বীপে আসা হাজার প্রজাতির অতিথি পাখির জন্যও এইসব উচ্চ শব্দ এবং বৈদ্যুতিক আলো ঝুঁকিপূর্ণ।

পরিবেশবিদদের মতে, প্রায় ১৭০ প্রজাতির পরিযায়ী পাখি সোনাদিয়াকে পথ হিসেবে ব্যবহার করে এবং দ্বীপটিতে প্রায় ২৫০ প্রজাতির মাছ ও ৪০ প্রজাতির কাঁকড়া রয়েছে। অবৈধ পর্যটন কার্যক্রমের কারণে এই জীববৈচিত্র্য মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

২০১৭ সালে সোনাদিয়ায় ইকোট্যুরিজম পার্ক নির্মাণে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) এক হাজার এক টাকার বিনিময়ে দ্বীপের নয় হাজার ৪৬৭ একর জমি নেয়। এরপর চিংড়িঘের স্থাপন ও ব্যাপক হারে প্যারাবনের গাছ কাটার ফলে পরিবেশের ভয়াবহ ক্ষতি হয়। পরিবেশ অধিদপ্তর বেশ কয়েকটি মামলাও করে।

চলতি বছরের ৫ মে ভূমি মন্ত্রণালয় বেজার ওই বরাদ্দ বাতিল করে বন বিভাগকে এই জমি ফিরিয়ে দেয়।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

দেশে ‘মব কালচার শেষ’: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

This will close in 6 seconds

সোনাদিয়ায় অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নিতে উপজেলা প্রশাসনের কঠোর নির্দেশ

আপডেট সময় : ০৫:৩৪:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫

মহেশখালীর সোনাদিয়ায় অবৈধভাবে সরকারি জায়গায় গড়ে ওঠা রিসোর্ট ও বিভিন্ন স্থাপনা দ্রুত সরিয়ে নিতে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমরান মাহমুদ ডালিম।

বুধবার (১০ ডিসেম্বর) এ সংক্রান্ত নির্দেশনা প্রচারনায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হয়।

এই বিষয় জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরান মাহমুদ ডালিম টিটিএন-কে জানান, “মহেশখালীর দায়িত্বভার গ্রহণ করেছি কিছুদিন হচ্ছে, তবে আমার কাছে তথ্য রয়েছে সোনাদিয়ায় সরকারি জমি দখল করে কটেজ নির্মাণ এবং প্যারাবন কাটা হচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে এইসব স্থাপনা সরিয়ে না নিলে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নিবে উপজেলা প্রশাসন। এছাড়া প্যারাবন কাটার সাথে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিচ্ছে উপজেলা প্রশাসন।”

সোনাদিয়ার পূর্ব ও পশ্চিম পাড়ায় ঝাউবন কেটে ইতোমধ্যে কয়েকটি রিসোর্ট নির্মাণ করা হয়েছে এবং আরও চার-পাঁচটি নির্মাণ কাজ চলছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ঝাউবন কেটেই এসব রিসোর্ট নির্মাণ করা হয়েছে।

এই সোনাদিয়া দ্বীপে রয়েছে প্রায় নয় হাজার একর উপকূলীয় ও প্যারাবন (ম্যানগ্রোভ)। চিংড়িঘের সম্প্রসারণ এবং লবণমাঠে পরিণত করতে বনের জমি দ্রুত দখল হয়ে যাচ্ছে, পাশাপাশি রয়েছে দূষণ। এসব বন্ধে প্রশাসন কার্যকরী উদ্যোগ না নিলে জীববৈচিত্র্যের জন্য চরম হুমকির আশংকা করছেন পরিবেশবিদরা। তারা জানান, সাগরের তীরবর্তী সোনাদিয়ার উপকূলীয় এই বন এলাকা পরিবেশগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল।

কিন্তু সৈকতে রাত কাটাতে এসব রিসোর্ট থেকে পর্যটকদের তাঁবু ভাড়াও দেওয়া হয়। রাতে লাল-নীল আলো জ্বালিয়ে রাখতে তারা জেনারেটর ও সোলার প্যানেল ব্যবহার করেন। সংরক্ষণবিদদের মতে, ডিম পাড়তে আসা সামুদ্রিক কচ্ছপ ও পাখিদের জীবনযাত্রাকে এসব ব্যাহত করছে।

এসব রিসোর্ট নির্মাণ, উচ্চ শব্দ ও উজ্জ্বল আলো সামুদ্রিক কচ্ছপের ডিম পাড়ার স্থানগুলোকে হুমকির মুখে ফেলছে। কচ্ছপের ডিম পাড়ার মৌসুম ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে, এসব প্রতিবন্ধকতা দূর করা সম্ভব না হলে তারা সৈকতে আসা বন্ধও করে দিতে পারে। শুধু তাই নয়, শীতে সোনাদিয়া দ্বীপে আসা হাজার প্রজাতির অতিথি পাখির জন্যও এইসব উচ্চ শব্দ এবং বৈদ্যুতিক আলো ঝুঁকিপূর্ণ।

পরিবেশবিদদের মতে, প্রায় ১৭০ প্রজাতির পরিযায়ী পাখি সোনাদিয়াকে পথ হিসেবে ব্যবহার করে এবং দ্বীপটিতে প্রায় ২৫০ প্রজাতির মাছ ও ৪০ প্রজাতির কাঁকড়া রয়েছে। অবৈধ পর্যটন কার্যক্রমের কারণে এই জীববৈচিত্র্য মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

২০১৭ সালে সোনাদিয়ায় ইকোট্যুরিজম পার্ক নির্মাণে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) এক হাজার এক টাকার বিনিময়ে দ্বীপের নয় হাজার ৪৬৭ একর জমি নেয়। এরপর চিংড়িঘের স্থাপন ও ব্যাপক হারে প্যারাবনের গাছ কাটার ফলে পরিবেশের ভয়াবহ ক্ষতি হয়। পরিবেশ অধিদপ্তর বেশ কয়েকটি মামলাও করে।

চলতি বছরের ৫ মে ভূমি মন্ত্রণালয় বেজার ওই বরাদ্দ বাতিল করে বন বিভাগকে এই জমি ফিরিয়ে দেয়।