ঢাকা ০৭:৪০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬, ২৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গর্জনিয়ায় মোটরসাইকেল চালক সমিতির ইফতার মাহফিল চকরিয়ায় গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে স্থলমাইন বিস্ফোরণ : উড়ে গেল কাঠুরিয়ার পা ভিন্ন আবহে আরেকটি ৭ মার্চ মাল্টিমিডিয়া জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন কক্সবাজারের আহবায়ক কমিটি গঠিত – আহবায়ক: মোজাম্মেল হক, সদস্য সচিব: আরোজ ফারুক ‘আমার মত অনেক মেয়ে আপেল মাহমুদের কাছে নির্যাতিত’ -লাইলা পরী পেকুয়ায় মা–মেয়ের এক মাসের কারাদণ্ডের অন্তরালে “নব্য জাহেলিয়াত থেকে মুক্তির জন্য ইসলামী অনুশাসনের বিকল্প নেই – আনোয়ারী সিবিআইইউতে বিবিএ ডিপার্টমেন্টের উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত জ্বালানি তেল বিক্রির সীমা বেঁধে দিল বিপিসি রামুতে সরঞ্জাম ও জাল টাকাসহ যুবক আটক সাগরপাড়ে প্রশান্তির ইফতার রত্নগর্ভা রিজিয়া আহমেদ স্মরণে ফেইম ফাউন্ডেশনের ইফতার ও ঈদসামগ্রী বিতরণ ইফতারে দই-চিড়া কেন খাবেন? আরকান আর্মির হাতে আটক তিন বাংলাদেশিকে ফেরত আনল বিজিবি

শাহজাহান-আনোয়ারীর লড়াই জমালো যে ‘ভোটব্যাংক’

শুধু কক্সবাজারই নয়, কম ব্যবধানে নির্ধারিত ভোটের ফলাফলের কারণে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সারাদেশে আলোচনায় রয়েছে নানা কারণে গুরুত্বপূর্ণ উখিয়া ও টেকনাফ নিয়ে গঠিত কক্সবাজার-৪ আসন।

শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত নির্বাচন কমিশনের গেজেটে সংসদীয় আসন নং ২৯৭ তথা কক্সবাজার-৪ এ নির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে রয়েছে শাহজাহান চৌধুরীর নাম, এবার সহ তিনি ৫ম বার নির্বাচিত হলেন।

১২ ই ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে জেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান চৌধুরী পোস্টাল ব্যালটসহ ১১৬টি কেন্দ্রে  পেয়েছেন ১ লাখ ২৩ হাজার ৫৮২ ভোট। প্রতিদ্বন্দ্বী জেলা জামায়াতের আমির নুর আহমদ আনোয়ারী পেয়েছেন ১ লাখ ২২ হাজার ৩৩ ভোট।

এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৭৫ হাজার ৬৮৮ জন, রিটার্নিং কর্মকর্তা কার্যালয়ের তথ্য বলছে শান্তিপূর্ণ ও সংঘাতবিহীনভাবে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে যেখানে মোট ভোট পড়েছে ৬৭ দশমিক ৯৪ শতাংশ।

সেনাবাহিনীর কঠোর অবস্থান ও প্রশাসনের সমন্বয়ে এমন ভোট উখিয়া-টেকনাফের ইতিহাসে এর আগে পরিলক্ষিত হয়নি বলে অভিমত জানিয়েছেন সচেতন ভোটাররা।

ফলাফলে মাত্র ১৫৪৯ ভোটের ব্যবধান তৈরি করা এই হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে নেপথ্যের ‘ভোট ব্যাংক’ এখন সীমান্ত উপজেলা দুটির আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

উপজেলা ভিত্তিক ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে,  উখিয়ায় শাহজাহান চৌধুরী পেয়েছেন ৬০ হাজার ৬ শত ৮৪ ভোট, দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে আনোয়ারী পেয়েছেন ৫৮ হাজার ৯ শত ৯২ ভোট।

নিজের উপজেলায় ১ হাজার ৬ শত ৯২ ভোট বেশি পাওয়া শাহজাহান চৌধুরী টেকনাফে পেয়েছেন ৬২ হাজার ৩ শত ৩৭ ভোট। অন্যদিকে এই উপজেলার বাসিন্দা আনোয়ারী ৬১ হাজার ১ শত ৪ ভোট অর্থাৎ প্রতিপক্ষের চেয়ে ১ হাজার ২ শত ৩৩ ভোট কম পেয়েছেন।

দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন জেলা বিএনপির অর্থ সম্পাদক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ। তবে তিনি ও তাঁর অনুসারীদের বড় একটি ভোট ব্যাংক টেকনাফে ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে প্রচারণায় সক্রিয় ছিলো।

টেকনাফের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জাফর আহমদের একটি অডিও রেকর্ড ভোটের আগের দিন রাতে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।

কথোপকথনে তিনি ধানের শীষের পক্ষে থাকতে অজ্ঞাত এক নারীকে অনুরোধ করেন এছাড়াও তার মেয়ে শাহজাহান চৌধুরীর পুত্রবধু এবং তার ভাই এবং ছেলে নির্বাচনের মাঠে বিএনপির সাথে সক্রিয় ছিলেন।

হ্নীলায় সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলীর পরিবারের প্রকাশ্য সমর্থন দেখা না গেলেও এই পরিবারের সর্মথক থাকা কেন্দ্রগুলোতে ধানের শীষ জয় পেয়েছে।

অন্যদিকে উখিয়ায় জেলা জামায়াতের সাবেক সেক্রেটারি শাহজালাল চৌধুরী দলের পক্ষে ভোটের প্রচারে ছিলেন এবং উখিয়ার পালংখালীর চেয়ারম্যান গফুর উদ্দিন চৌধুরী নির্বাচনের শেষ দিকে আনোয়ারীকে সমর্থন দেন, তাদের দুই জনেরই ভোট ব্যাংক ছিলো দাঁড়িপাল্লার পক্ষে। এছাড়াও টেকনাফের ব্যবসায়ী ইয়াহিয়া ও আনোয়ারীর প্রচারণায় ছিলেন।

সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুর রহমান বদির সমর্থকদের অবস্থান নিয়ে ভোটের আগের দিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা লেখালেখি হয়৷ বদির আপন ভাইয়েরা ধানের শীষের পক্ষে সক্রিয় ছিল এবং একসময়ের কিছু বদি সমর্থক দাঁড়িপাল্লার পক্ষে কাজ করেছেন বলে স্থানীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

শপথ নিতে বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন শাহজাহান চৌধুরী এবং নির্বাচনের পরদিন শুক্রবার সংবাদ সম্মেলন করে ভোট পুনরায় গণনার দাবি করেছেন আনোয়ারী।

ট্যাগ :
আপলোডকারীর তথ্য

Mohammad Noman

মোহাম্মেদ নোমান কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলার একজন তরুণ ও প্রতিশ্রুতিশীল সাংবাদিক। তিনি স্থানীয় সংবাদমাধ্যম টিটিএন কক্সবাজার এর মাধ্যমে সাংবাদিকতায় যুক্ত হয়ে মাঠপর্যায়ে বিভিন্ন সামাজিক, মানবিক ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে প্রতিবেদন করে পরিচিতি অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি দেশের জনপ্রিয় টেলিভিশন চ্যানেল এনটিভি অনলাইন এর টেকনাফ প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সাংবাদিকতার মাধ্যমে সীমান্তাঞ্চল টেকনাফের জনজীবন, উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও মানবিক বিষয়গুলো জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরার ক্ষেত্রে তিনি সক্রিয় ভূমিকা রেখে চলেছেন। সততা, দায়িত্ববোধ ও মাঠভিত্তিক অনুসন্ধানী কাজের মাধ্যমে তিনি স্থানীয় সাংবাদিকতায় একটি সম্ভাবনাময় নাম হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার পথে এগিয়ে চলেছেন।

গর্জনিয়ায় মোটরসাইকেল চালক সমিতির ইফতার মাহফিল

শাহজাহান-আনোয়ারীর লড়াই জমালো যে ‘ভোটব্যাংক’

আপডেট সময় : ০২:১৫:০৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

শুধু কক্সবাজারই নয়, কম ব্যবধানে নির্ধারিত ভোটের ফলাফলের কারণে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সারাদেশে আলোচনায় রয়েছে নানা কারণে গুরুত্বপূর্ণ উখিয়া ও টেকনাফ নিয়ে গঠিত কক্সবাজার-৪ আসন।

শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত নির্বাচন কমিশনের গেজেটে সংসদীয় আসন নং ২৯৭ তথা কক্সবাজার-৪ এ নির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে রয়েছে শাহজাহান চৌধুরীর নাম, এবার সহ তিনি ৫ম বার নির্বাচিত হলেন।

১২ ই ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে জেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান চৌধুরী পোস্টাল ব্যালটসহ ১১৬টি কেন্দ্রে  পেয়েছেন ১ লাখ ২৩ হাজার ৫৮২ ভোট। প্রতিদ্বন্দ্বী জেলা জামায়াতের আমির নুর আহমদ আনোয়ারী পেয়েছেন ১ লাখ ২২ হাজার ৩৩ ভোট।

এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৭৫ হাজার ৬৮৮ জন, রিটার্নিং কর্মকর্তা কার্যালয়ের তথ্য বলছে শান্তিপূর্ণ ও সংঘাতবিহীনভাবে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে যেখানে মোট ভোট পড়েছে ৬৭ দশমিক ৯৪ শতাংশ।

সেনাবাহিনীর কঠোর অবস্থান ও প্রশাসনের সমন্বয়ে এমন ভোট উখিয়া-টেকনাফের ইতিহাসে এর আগে পরিলক্ষিত হয়নি বলে অভিমত জানিয়েছেন সচেতন ভোটাররা।

ফলাফলে মাত্র ১৫৪৯ ভোটের ব্যবধান তৈরি করা এই হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে নেপথ্যের ‘ভোট ব্যাংক’ এখন সীমান্ত উপজেলা দুটির আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

উপজেলা ভিত্তিক ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে,  উখিয়ায় শাহজাহান চৌধুরী পেয়েছেন ৬০ হাজার ৬ শত ৮৪ ভোট, দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে আনোয়ারী পেয়েছেন ৫৮ হাজার ৯ শত ৯২ ভোট।

নিজের উপজেলায় ১ হাজার ৬ শত ৯২ ভোট বেশি পাওয়া শাহজাহান চৌধুরী টেকনাফে পেয়েছেন ৬২ হাজার ৩ শত ৩৭ ভোট। অন্যদিকে এই উপজেলার বাসিন্দা আনোয়ারী ৬১ হাজার ১ শত ৪ ভোট অর্থাৎ প্রতিপক্ষের চেয়ে ১ হাজার ২ শত ৩৩ ভোট কম পেয়েছেন।

দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন জেলা বিএনপির অর্থ সম্পাদক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ। তবে তিনি ও তাঁর অনুসারীদের বড় একটি ভোট ব্যাংক টেকনাফে ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে প্রচারণায় সক্রিয় ছিলো।

টেকনাফের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জাফর আহমদের একটি অডিও রেকর্ড ভোটের আগের দিন রাতে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।

কথোপকথনে তিনি ধানের শীষের পক্ষে থাকতে অজ্ঞাত এক নারীকে অনুরোধ করেন এছাড়াও তার মেয়ে শাহজাহান চৌধুরীর পুত্রবধু এবং তার ভাই এবং ছেলে নির্বাচনের মাঠে বিএনপির সাথে সক্রিয় ছিলেন।

হ্নীলায় সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলীর পরিবারের প্রকাশ্য সমর্থন দেখা না গেলেও এই পরিবারের সর্মথক থাকা কেন্দ্রগুলোতে ধানের শীষ জয় পেয়েছে।

অন্যদিকে উখিয়ায় জেলা জামায়াতের সাবেক সেক্রেটারি শাহজালাল চৌধুরী দলের পক্ষে ভোটের প্রচারে ছিলেন এবং উখিয়ার পালংখালীর চেয়ারম্যান গফুর উদ্দিন চৌধুরী নির্বাচনের শেষ দিকে আনোয়ারীকে সমর্থন দেন, তাদের দুই জনেরই ভোট ব্যাংক ছিলো দাঁড়িপাল্লার পক্ষে। এছাড়াও টেকনাফের ব্যবসায়ী ইয়াহিয়া ও আনোয়ারীর প্রচারণায় ছিলেন।

সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুর রহমান বদির সমর্থকদের অবস্থান নিয়ে ভোটের আগের দিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা লেখালেখি হয়৷ বদির আপন ভাইয়েরা ধানের শীষের পক্ষে সক্রিয় ছিল এবং একসময়ের কিছু বদি সমর্থক দাঁড়িপাল্লার পক্ষে কাজ করেছেন বলে স্থানীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

শপথ নিতে বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন শাহজাহান চৌধুরী এবং নির্বাচনের পরদিন শুক্রবার সংবাদ সম্মেলন করে ভোট পুনরায় গণনার দাবি করেছেন আনোয়ারী।