ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদীর মৃত্যুতে শুক্রবার সমুদ্র শহরের প্রতিটি মসজিদে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করা হয়। জুমার নামাজ শেষে মুসল্লিদের অংশগ্রহণে মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করে এ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
প্রতিটি মসজিদে হাজার হাজার মুসল্লিদের সমাগম দেখায় গেছে শহরজুড়ে। এসময় কান্নায় ভেঙে পড়েছেন অনেকেই। ওসমান হাদী এবং তার শোকাহত পরিবারের জন্য সকলে দোয়া করেন।
জুম্মার নামাজের পরে ফ্যাসিবাদ বিরোধী ঐক্য মঞ্চের ব্যানারে শহরের প্রধান সড়কে বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করা হয়। এতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত হয়। মিছিলটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে গুণগাছ তলা এলাকায় গিয়ে শেষ হয়।
মিছিল পরবর্তী আয়োজিত সমাবেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা বক্তব্য দেন। বক্তারা ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদীর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং তার রাজনৈতিক ভূমিকা ও আন্দোলন সংগ্রামের কথা তুলে ধরেন।
সমাবেশে বক্তারা দাবি করেন, ভারতের আগ্রাসন এবং আওয়ামী ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কথা বলার কারণেই শরীফ ওসমান হাদীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তারা বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে দেশের সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার নিয়ে আপসহীন অবস্থান গ্রহণ করেছিলেন। এই অবস্থান তাকে বিভিন্ন গোষ্ঠীর রোষানলে ফেলেছিল।
বক্তারা আরও বলেন, শরীফ ওসমান হাদী ছিলেন সাহসী ও স্পষ্টভাষী।তিনি ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে কখনো নীরব থাকেননি। তার মৃত্যু কোনো স্বাভাবিক ঘটনা নয়, এটি রাজনৈতিক দমন–পীড়নের অংশ বলেও তারা অভিযোগ করেন।
সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা হাদি হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন। পাশাপাশি তারা বলেন, শরীফ ওসমান হাদীর আদর্শ ও সংগ্রাম নতুন প্রজন্মের রাজনৈতিক কর্মীদের অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। তার দেখানো পথে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন আরও জোরদার করার আহ্বান জানানো হয়।
আহসানুল হক 






















