ঢাকা ০৬:১৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬, ২৮ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
হ্নীলা মডেল ফারিয়া’র সভাপতি নির্বাচিত হলেন মোকতার হোসাইন সোহেল নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে ৫টি আইইডিসহ বিপুল বিস্ফোরক দ্রব্য উদ্ধার নাকফুল হারালেন পরীমনি! সিটের নিচে ৩০ হাজার ইয়াবা, সিএনজি চালক আটক রামুর বিজিবি কোয়ার্টারে এক নারীর আত্মহত্যা চকরিয়ায় অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর সহায়তা টেকনাফের নিখোঁজ কিশোরীকে চট্টগ্রাম থেকে উদ্ধার করলো র‍্যাব ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী কক্সবাজার আসছেন শনিবার টেকনাফে মুরগির খামার থেকে ৫ লাখ ইয়াবা উদ্ধার, মালিক পলাতক শহরে কিস্তির টাকার বিরোধে প্রতিবেশীকে খুন, যুবক আটক রোহিঙ্গা যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার মাছ ধরতে গিয়ে মাইন বিস্ফোরণে উড়ে গেল রোহিঙ্গা যুবকের পা সংকটে কাজে আসছেনা: মহেশখালীতে তেল খালাস ও পরিবহনে নির্মিত এসপিএম প্রকল্প পড়ে আছে প্রাইভেটকারের তেলের ট্যাংকে ৪২ হাজার ইয়াবা, আটক ৩ মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর উদ্যোগ সরকারের, দু’দেশের যৌথ বিবৃতি স্বাক্ষর

রোহিঙ্গা সশস্ত্র গ্রুপের গোলাগুলি: গুলি এসে পড়লো পুলিশ ক্যাম্পে

কক্সবাজারের টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্প সংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে।

এসময় বাংলাদেশের আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) ক্যাম্পে এসে পড়েছে কয়েকটি গুলি। পরে পাল্টা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় এপিবিএন সদস্যরা।

রোববার (৯ নভেম্বর) টেকনাফের নয়াপাড়া মৌচনী রেজিস্ট্রার্ড ক্যাম্পে রাত সাড়ে ১০টা থেকে প্রায় দুই ঘণ্টা ব্যাপী গোলাগুলির এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় ক্যাম্প সূত্রে জানা যায়, টেকনাফ নয়াপাড়া রেজিস্ট্রার ক্যাম্প, মৌচনী, জাদিমুড়া, লেদা ক্যাম্পসহ কয়েকটি ক্যাম্পে সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের মধ্যে প্রায় গোলাগুলির ঘটনা ঘটছে। ক্যাম্পগুলোর পার্শ্ববর্তী পাহাড় থেকে প্রায় সময় গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়। রোববার রাতে মৌচনী রেজিস্ট্রার ক্যাম্পে দুপক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। গুলির শব্দে ক্যাম্পে অবস্থানরত সাধারণ রোহিঙ্গা ও স্থানীয় গ্রামবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আতঙ্কে অনেকেই নির্ঘুম রাত কাটিয়েছেন।

নয়াপাড়া ক্যাম্পের সলিমুল্লাহ জানান, রাতে খাবার শেষে ঘুমিয়ে ছিলাম। হঠাৎ গুলির শব্দে ঘুম ভেঙে গেল। থেমে থেমে গুলির শব্দ আসতে থাকে। পরিবারের সবাই ঘুম থেকে উঠে যায়। ছোট বাচ্চারা ভয়ে কান্না করতে শুরু করে। আতঙ্কে এভাবে রাত কাটিয়েছি।

নয়াপাড়ার স্থানীয় বাসিন্দা সিরাজ মিয়া জানান, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সঙ্গে আমার ঘর হওয়াতে খুব চিন্তায় আছি। রোহিঙ্গা সশস্ত্র ডাকাত গ্রুপের ভয়ে রাতে ঠিকমত ঘুমাতে পারি না। তারা সুযোগ পেলে ঘরে ঢুকে অস্ত্র ঠেকিয়ে মারধর করে ধরে নিয়ে যায়। মাঝে মধ্যে ক্যাম্পে ও পার্শ্ববর্তী পাহাড়ে দিনে দুপুরে ও রাতে গোলাগুলি করে এলাকা ও ক্যাম্পে আতঙ্ক সৃষ্টি করে।

তিনি আরও জানান, রোববার রাতে রোহিঙ্গা ডাকাত নুর কামাল, সাদ্দাম গ্রুপ ও সালেহ গ্রুপের মধ্যে এ গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এসময় ক্যাম্প ও পাশের পাহাড়ি এলাকায় থেমে থেমে কয়েক ঘণ্টা সময় ধরে গোলাগুলির শব্দ শোনা গেছে।

টেকনাফ ১৬ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক (অতিরিক্ত ডিআইজি) মো. কাউছার সিকদার জানান, নয়াপাড়া মৌচনী  রেজিস্ট্রার ক্যাম্প সংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় রোববার রাতে রোহিঙ্গা ডাকাত নুর কামাল, সাদ্দাম ও সালেহ গ্রুপের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও গোলাগুলি হয়। সংঘর্ষের সময় তাদের ছোড়া কয়েকটি গুলি এপিবিএনের মৌচনী ক্যাম্পে এসে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে।

পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও জানান, এই সশস্ত্র গ্রুপগুলো পাহাড়ে অবস্থান করছে। তাই তাদেরকে সহজে আটক করা সম্ভব হয়না। তবুও এবিপিএন পুলিশ সেখানে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

রোহিঙ্গা সশস্ত্র গ্রুপের গোলাগুলি: গুলি এসে পড়লো পুলিশ ক্যাম্পে

আপডেট সময় : ০৯:০৭:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ নভেম্বর ২০২৫

কক্সবাজারের টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্প সংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে।

এসময় বাংলাদেশের আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) ক্যাম্পে এসে পড়েছে কয়েকটি গুলি। পরে পাল্টা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় এপিবিএন সদস্যরা।

রোববার (৯ নভেম্বর) টেকনাফের নয়াপাড়া মৌচনী রেজিস্ট্রার্ড ক্যাম্পে রাত সাড়ে ১০টা থেকে প্রায় দুই ঘণ্টা ব্যাপী গোলাগুলির এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় ক্যাম্প সূত্রে জানা যায়, টেকনাফ নয়াপাড়া রেজিস্ট্রার ক্যাম্প, মৌচনী, জাদিমুড়া, লেদা ক্যাম্পসহ কয়েকটি ক্যাম্পে সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের মধ্যে প্রায় গোলাগুলির ঘটনা ঘটছে। ক্যাম্পগুলোর পার্শ্ববর্তী পাহাড় থেকে প্রায় সময় গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়। রোববার রাতে মৌচনী রেজিস্ট্রার ক্যাম্পে দুপক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। গুলির শব্দে ক্যাম্পে অবস্থানরত সাধারণ রোহিঙ্গা ও স্থানীয় গ্রামবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আতঙ্কে অনেকেই নির্ঘুম রাত কাটিয়েছেন।

নয়াপাড়া ক্যাম্পের সলিমুল্লাহ জানান, রাতে খাবার শেষে ঘুমিয়ে ছিলাম। হঠাৎ গুলির শব্দে ঘুম ভেঙে গেল। থেমে থেমে গুলির শব্দ আসতে থাকে। পরিবারের সবাই ঘুম থেকে উঠে যায়। ছোট বাচ্চারা ভয়ে কান্না করতে শুরু করে। আতঙ্কে এভাবে রাত কাটিয়েছি।

নয়াপাড়ার স্থানীয় বাসিন্দা সিরাজ মিয়া জানান, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সঙ্গে আমার ঘর হওয়াতে খুব চিন্তায় আছি। রোহিঙ্গা সশস্ত্র ডাকাত গ্রুপের ভয়ে রাতে ঠিকমত ঘুমাতে পারি না। তারা সুযোগ পেলে ঘরে ঢুকে অস্ত্র ঠেকিয়ে মারধর করে ধরে নিয়ে যায়। মাঝে মধ্যে ক্যাম্পে ও পার্শ্ববর্তী পাহাড়ে দিনে দুপুরে ও রাতে গোলাগুলি করে এলাকা ও ক্যাম্পে আতঙ্ক সৃষ্টি করে।

তিনি আরও জানান, রোববার রাতে রোহিঙ্গা ডাকাত নুর কামাল, সাদ্দাম গ্রুপ ও সালেহ গ্রুপের মধ্যে এ গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এসময় ক্যাম্প ও পাশের পাহাড়ি এলাকায় থেমে থেমে কয়েক ঘণ্টা সময় ধরে গোলাগুলির শব্দ শোনা গেছে।

টেকনাফ ১৬ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক (অতিরিক্ত ডিআইজি) মো. কাউছার সিকদার জানান, নয়াপাড়া মৌচনী  রেজিস্ট্রার ক্যাম্প সংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় রোববার রাতে রোহিঙ্গা ডাকাত নুর কামাল, সাদ্দাম ও সালেহ গ্রুপের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও গোলাগুলি হয়। সংঘর্ষের সময় তাদের ছোড়া কয়েকটি গুলি এপিবিএনের মৌচনী ক্যাম্পে এসে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে।

পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও জানান, এই সশস্ত্র গ্রুপগুলো পাহাড়ে অবস্থান করছে। তাই তাদেরকে সহজে আটক করা সম্ভব হয়না। তবুও এবিপিএন পুলিশ সেখানে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।