ঢাকা ০৪:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চাঁদাবাজদের পুলিশে দিন,সাহসিকতার জন্যে দেয়া হবে পুরস্কার- লুৎফুর রহমান কাজল তারেকের শপথে মোদীকে আমন্ত্রণ জানাবে বিএনপি: ডব্লিউআইওএন কক্সবাজারে বিএনপির দাপট: সালাহউদ্দিন ৪, ফরিদ ৩, কাজল ২ ও শাহজাহান ৫ বার এমপি জনরায় মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করবে নতুন সরকার: ড. আলী রিয়াজ টেকনাফে উদ্ধার কিশোর,১ রোহিঙ্গাসহ চক্রের ৪ জন আটক প্রধান উপদেষ্টার বার্তা: নির্বাচনী আচরণে প্রশংসিত জামায়াত আমির শপথ ১৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই: প্রেস সচিব ‘আপনার নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় হবে’: তারেককে অভিনন্দন জানিয়ে ইউনূস পিএসজির শিরোপা স্বপ্নে বড় ধাক্কা ২৯৭ আসনে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের গেজেট প্রকাশ ইসির ফল মেনে নিয়ে দায়িত্বশীল বিরোধী দল হিসেবে কাজ করার ঘোষণা জামায়াত আমিরের বিশ্ব ভালোবাসা দিবস আজ, ইতিহাস জানেন? নতুন সরকার গঠন সোম বা মঙ্গলবার আজ পয়লা ফাল্গুন, বসন্ত এসে গেছে… ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬: বিজয়–পরাজয়ের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক মানচিত্র

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মদিন আজ

আজ ২৫শে বৈশাখ, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৪তম জন্মবার্ষিকী। ১২৬৮ বঙ্গাব্দের এই দিনে, কলকাতার জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের উজ্জ্বলতম নক্ষত্র রবীন্দ্রনাথ। তার অসামান্য সৃষ্টি গল্প, কবিতা, উপন্যাস, নাটক এবং হাজারো গান- বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে বিশ্বদরবারে পরিচিত করে তুলেছে। তিনি শুধু একজন কবিই নন, ছিলেন একাধারে সংগীতস্রষ্টা, দার্শনিক ও মানবতাবাদী চিন্তক।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ব্রাহ্ম ধর্মগুরু দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ও সারদাসুন্দরী দেবীর ঘরে। মাত্র আট বছর বয়সে তিনি কবিতা লেখা শুরু করেন। ১৮৯১ সাল থেকে পিতার আদেশে তিনি নদীয়া, পাবনা, রাজশাহী ও ওড়িশার জমিদারি তদারকির দায়িত্ব নেন এবং কুষ্টিয়ার শিলাইদহের কুঠিবাড়িতে দীর্ঘ সময় কাটান। ১৯০১ সালে তিনি সপরিবারে চলে যান বীরভূমের বোলপুর শহরের উপকণ্ঠে শান্তিনিকেতনে, যেখানে গড়ে তোলেন এক অনন্য শিক্ষানিকেতন।

তার জীবদ্দশায় এবং মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয়েছে ৫২টি কাব্যগ্রন্থ, ৩৮টি নাটক, ১৩টি উপন্যাস, ৩৬টি প্রবন্ধ ও বহু গদ্য সংকলন। সাহিত্যের এই অমর পুরুষ, যিনি বাংলা ভাষাকে পৌঁছে দিয়েছেন বিশ্বসাহিত্যের উচ্চতায়, আজ তার জন্মদিনে নানা কর্মসূচির মধ্যদিয়ে স্মরণ করছেন অগণিত ভক্ত ও অনুরাগী।

এ বছর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৪তম জন্মবার্ষিকীর প্রধান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে কুষ্টিয়ার শিলাইদহে, যেখানে কবি দীর্ঘ সময় কাটিয়েছিলেন জমিদারি তদারকির কাজে। পাশাপাশি, বিশ্বকবির স্মৃতিবিজড়িত স্থান- নওগাঁর পতিসর, সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর এবং খুলনার দক্ষিণডিহি ও পিঠাভোগেও নানা আয়োজনে দিনটি উদ্‌যাপন করা হবে। এসব স্থানে অনুষ্ঠিত হবে রবীন্দ্রমেলা, রবীন্দ্রবিষয়ক আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

এবারের রবীন্দ্র জন্মবার্ষিকীর প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে- ‘রবীন্দ্রনাথ ও বাংলাদেশ’। দিবসটি উপলক্ষে ঢাকার বিভিন্ন সড়কদ্বীপ ও দেশের সব জেলা শহরে বিশ্বকবির ছবি, কবিতা, পরিচিতি ও চিত্রকর্ম প্রদর্শনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি তিন দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র ও চিত্রশিল্প প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে। বাংলা একাডেমি ও সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানেও আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের আয়োজন করা হয়েছে।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্যজগৎ ছিল বৈচিত্র্যে ভরপুর- বর্ণ, মানসিকতা ও চেতনার অনন্য সংমিশ্রণে গঠিত। তার সৃষ্ট চরিত্রগুলো আজও জীবন্ত; নিঃসঙ্গতার প্রতিচ্ছবি ‘চারুলতা’, সামাজিক বাধা পেরিয়ে আত্মসচেতন হয়ে ওঠা ‘বিনোদিনী’, কিংবা স্বদেশপ্রেম ও জাতিসত্তার দ্বন্দ্বে জর্জরিত ‘গোরা’র মাঝে পাঠক এখনো খুঁজে ফেরে নিজের প্রতিচ্ছবি। বাংলার মাটিতে যেমন তিনি গৌরবের প্রতীক, তেমনি তার সাহিত্য দীপ্ত হয়ে উঠেছে বিশ্বমঞ্চেও। সাহিত্যে অনন্য অবদানের জন্য ১৯১৩ সালে এই নবজাগরণের পথপ্রদর্শককে প্রদান করা হয় নোবেল পুরস্কার, যা আজও বাঙালির এক গর্বিত ঐতিহ্য। দিনটি উদযাপনে দেশের বিভিন্ন স্থানে আয়োজন করা হয়েছে নানা কর্মসূচি।

সূত্র : কালবেলা

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

চাঁদাবাজদের পুলিশে দিন,সাহসিকতার জন্যে দেয়া হবে পুরস্কার- লুৎফুর রহমান কাজল

This will close in 6 seconds

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মদিন আজ

আপডেট সময় : ১২:৫৪:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ মে ২০২৫

আজ ২৫শে বৈশাখ, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৪তম জন্মবার্ষিকী। ১২৬৮ বঙ্গাব্দের এই দিনে, কলকাতার জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের উজ্জ্বলতম নক্ষত্র রবীন্দ্রনাথ। তার অসামান্য সৃষ্টি গল্প, কবিতা, উপন্যাস, নাটক এবং হাজারো গান- বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে বিশ্বদরবারে পরিচিত করে তুলেছে। তিনি শুধু একজন কবিই নন, ছিলেন একাধারে সংগীতস্রষ্টা, দার্শনিক ও মানবতাবাদী চিন্তক।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ব্রাহ্ম ধর্মগুরু দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ও সারদাসুন্দরী দেবীর ঘরে। মাত্র আট বছর বয়সে তিনি কবিতা লেখা শুরু করেন। ১৮৯১ সাল থেকে পিতার আদেশে তিনি নদীয়া, পাবনা, রাজশাহী ও ওড়িশার জমিদারি তদারকির দায়িত্ব নেন এবং কুষ্টিয়ার শিলাইদহের কুঠিবাড়িতে দীর্ঘ সময় কাটান। ১৯০১ সালে তিনি সপরিবারে চলে যান বীরভূমের বোলপুর শহরের উপকণ্ঠে শান্তিনিকেতনে, যেখানে গড়ে তোলেন এক অনন্য শিক্ষানিকেতন।

তার জীবদ্দশায় এবং মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয়েছে ৫২টি কাব্যগ্রন্থ, ৩৮টি নাটক, ১৩টি উপন্যাস, ৩৬টি প্রবন্ধ ও বহু গদ্য সংকলন। সাহিত্যের এই অমর পুরুষ, যিনি বাংলা ভাষাকে পৌঁছে দিয়েছেন বিশ্বসাহিত্যের উচ্চতায়, আজ তার জন্মদিনে নানা কর্মসূচির মধ্যদিয়ে স্মরণ করছেন অগণিত ভক্ত ও অনুরাগী।

এ বছর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৪তম জন্মবার্ষিকীর প্রধান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে কুষ্টিয়ার শিলাইদহে, যেখানে কবি দীর্ঘ সময় কাটিয়েছিলেন জমিদারি তদারকির কাজে। পাশাপাশি, বিশ্বকবির স্মৃতিবিজড়িত স্থান- নওগাঁর পতিসর, সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর এবং খুলনার দক্ষিণডিহি ও পিঠাভোগেও নানা আয়োজনে দিনটি উদ্‌যাপন করা হবে। এসব স্থানে অনুষ্ঠিত হবে রবীন্দ্রমেলা, রবীন্দ্রবিষয়ক আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

এবারের রবীন্দ্র জন্মবার্ষিকীর প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে- ‘রবীন্দ্রনাথ ও বাংলাদেশ’। দিবসটি উপলক্ষে ঢাকার বিভিন্ন সড়কদ্বীপ ও দেশের সব জেলা শহরে বিশ্বকবির ছবি, কবিতা, পরিচিতি ও চিত্রকর্ম প্রদর্শনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি তিন দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র ও চিত্রশিল্প প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে। বাংলা একাডেমি ও সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানেও আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের আয়োজন করা হয়েছে।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্যজগৎ ছিল বৈচিত্র্যে ভরপুর- বর্ণ, মানসিকতা ও চেতনার অনন্য সংমিশ্রণে গঠিত। তার সৃষ্ট চরিত্রগুলো আজও জীবন্ত; নিঃসঙ্গতার প্রতিচ্ছবি ‘চারুলতা’, সামাজিক বাধা পেরিয়ে আত্মসচেতন হয়ে ওঠা ‘বিনোদিনী’, কিংবা স্বদেশপ্রেম ও জাতিসত্তার দ্বন্দ্বে জর্জরিত ‘গোরা’র মাঝে পাঠক এখনো খুঁজে ফেরে নিজের প্রতিচ্ছবি। বাংলার মাটিতে যেমন তিনি গৌরবের প্রতীক, তেমনি তার সাহিত্য দীপ্ত হয়ে উঠেছে বিশ্বমঞ্চেও। সাহিত্যে অনন্য অবদানের জন্য ১৯১৩ সালে এই নবজাগরণের পথপ্রদর্শককে প্রদান করা হয় নোবেল পুরস্কার, যা আজও বাঙালির এক গর্বিত ঐতিহ্য। দিনটি উদযাপনে দেশের বিভিন্ন স্থানে আয়োজন করা হয়েছে নানা কর্মসূচি।

সূত্র : কালবেলা